মানত ও কসম সম্পর্কিত অধ্যায়
২২/১. অধ্যায়ঃ
কোথাও হেঁটে যাওয়ার মানত করা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ اسْتَفْتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ وَلَمْ تَقْضِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْضِهِ عَنْهَا.
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রা)
সা’দ ইবনু উবাদা (রা) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, আমার মাতার ইন্তেকাল হয়ে গিয়েছে। তিনি একটা মানত করেছিলেন, কিন্তু পূর্ণ করে যেতে পারেননি। এখন কি করা যায়? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁর তরফ হতে তুমিই উহা আদায় করে দাও। (বুখারী ২৭৬১, মুসলিম ১৬৩৮)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمَّتِهِ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ عَنْ جَدَّتِهِ أَنَّهَا كَانَتْ جَعَلَتْ عَلَى نَفْسِهَا مَشْيًا إِلَى مَسْجِدِ قُبَاءٍ فَمَاتَتْ وَلَمْ تَقْضِهِ فَأَفْتَى عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ ابْنَتَهَا أَنْ تَمْشِيَ عَنْهَا ১৭১২-قَالَ يَحْيَى و سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ لَا يَمْشِي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ.
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ বাকর (রা)
তার ফুফু বর্ণনা করেছেন, তাঁর দাদী মসজিদ-ই কোবায় হেঁটে যাওয়ার মানত করেছিলেন, কিন্তু ইহা পূরণ করার পূর্বেই তাঁর ইন্তেকাল হয়ে যায়। তখন আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) ঐ মানত [১] আদায় করে দেওয়ার জন্য তাঁর কন্যাকে নির্দেশ দেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, কারো তরফ হতে হেঁটে যাওয়ার মানত পূরণ করা জরুরী নয়।
[১] মসজিদ-ই কোবা মদীনা হতে তিন মাইল দূরে অবস্থিত। রসূলুল্লাহ্ (সা) পদব্রজে ও আরোহী অবস্থায় সেখানে গমন করতেন। আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) এ দিকে লক্ষ্য করে মানত পুরা করার নির্দেশ দিয়াছিলেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ قَالَ: قُلْتُ لِرَجُلٍ وَأَنَا حَدِيثُ السِّنِّ مَا عَلَى الرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ عَلَيَّ مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللهِ وَلَمْ يَقُلْ عَلَيَّ نَذْرُ مَشْيٍ فَقَالَ لِي رَجُلٌ هَلْ لَكَ أَنْ أُعْطِيَكَ هَذَا الْجِرْوَ لِجِرْوِ قِثَّاءٍ فِي يَدِهِ وَتَقُولُ عَلَيَّ مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللهِ قَالَ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقُلْتُهُ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ ثُمَّ مَكَثْتُ حَتَّى عَقَلْتُ فَقِيلَ لِي إِنَّ عَلَيْكَ مَشْيًا فَجِئْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لِي عَلَيْكَ مَشْيٌ فَمَشَيْتُ قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا.
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ হাবীবা (রা)
আমার বয়স তখন অল্প। এক ব্যক্তিকে বললাম : “বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার নযর বা মানত করলাম” কোন ব্যক্তি এই কথা না বলে “বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া আমার উপর ওয়াজিব” এইরূপ বললে এতে কোন দোষ নেই। ঐ ব্যক্তি আমাকে তখন বলল, আমার হাতে এই শসাটি তুমি নিয়ে যাও, আর এইটুকু বল দেখি, “বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া আমার উপর ওয়াজিব।” আমি বললাম। হ্যাঁ, বলতেছি এবং ঐ কথা বলে দিলাম। তখন আমি অল্প বয়ষ্ক ছিলাম। তাই প্রথমে কিছু চিন্তা করিনি। কিন্তু পরে বুঝ হওয়ার পর চিন্তা হল। অন্য লোকেরা বলতে লাগল : এখন তোমার উপর বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া ওয়াজিব হয়েছে। শেষে সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রা)-কে আমি এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও আমাকে বললেন, হ্যাঁ, বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত তোমাকে হেঁটে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমি বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যেয়ে এই নযর পুরা করলাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, আমার মতেও হুকুম এটাই।২২ - بَاب مَا جَاءَ فِيمَنْ نَذَرَ مَشْيًا إِلَى بَيْتِ اللهِ فَعَجَزَ
২২/২. অধ্যায়ঃ
বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার মানত করা এবং পরে অক্ষম হওয়া
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عُرْوَةَ بْنِ أُذَيْنَةَ اللَّيْثِيِّ أَنَّهُ قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ جَدَّةٍ لِي عَلَيْهَا مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ عَجَزَتْ فَأَرْسَلَتْ مَوْلًى لَهَا يَسْأَلُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ فَخَرَجْتُ مَعَهُ فَسَأَلَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ مُرْهَا فَلْتَرْكَبْ ثُمَّ لْتَمْشِ مِنْ حَيْثُ عَجَزَتْ، قَالَ يَحْيَى و سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ وَنَرَى عَلَيْهَا مَعَ ذَلِكَ الْهَدْيَ.و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَأَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَا يَقُولَانِ مِثْلَ قَوْلِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ
বর্ণনাকারী উরওয়াহ্ ইবনু ‘উযাইনী লাইসী (রা)
আমার দাদী বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার মানত করেছিলেন। তিনি যখন মানত পূরণ করতে যাত্রা করেন আমিও তাঁর সাথে চললাম। শেষে হাঁটতে হাঁটতে অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে তিনি স্বীয় গোলামকে আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা)-এর নিকট এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে প্রেরণ করেন। আমিও তার সাথে গেলাম। আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) জবাবে বললেন, এখন সে কিছুতে আরোহণ করে যাক। পরে যে স্থান হতে আরোহণ করেছিল সেই স্থান হতে পুনরায় তাঁকে হেঁটে যেতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, এই ধরনের ব্যক্তিকে এর সাথে একটি কুরবানীও করতে হবে।মালিক (র) জ্ঞাত হয়েছেন, সা’ঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রা) এবং আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমানও এই বিষয়ে আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা)-এর মতো অভিমত ব্যক্ত করেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ: كَانَ عَلَيَّ مَشْيٌ فَأَصَابَتْنِي خَاصِرَةٌ فَرَكِبْتُ حَتَّى أَتَيْتُ مَكَّةَ فَسَأَلْتُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ وَغَيْرَهُ فَقَالُوا عَلَيْكَ هَدْيٌ فَلَمَّا قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ سَأَلْتُ عُلَمَاءَهَا فَأَمَرُونِي أَنْ أَمْشِيَ مَرَّةً أُخْرَى مِنْ حَيْثُ عَجَزْتُ فَمَشَيْتُ ১৭১৭-قَالَ يَحْيَى و سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ فَالْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ يَقُولُ عَلَيَّ مَشْيٌ إِلَى بَيْتِ اللهِ أَنَّهُ إِذَا عَجَزَ رَكِبَ ثُمَّ عَادَ فَمَشَى مِنْ حَيْثُ عَجَزَ فَإِنْ كَانَ لَا يَسْتَطِيعُ الْمَشْيَ فَلْيَمْشِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ ثُمَّ لْيَرْكَبْ وَعَلَيْهِ هَدْيُ بَدَنَةٍ أَوْ بَقَرَةٍ أَوْ شَاةٍ إِنْ لَمْ يَجِدْ إِلَّا هِيَ ১৭১৮-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الرَّجُلِ يَقُولُ لِلرَّجُلِ أَنَا أَحْمِلُكَ إِلَى بَيْتِ اللهِ فَقَالَ مَالِك إِنْ نَوَى أَنْ يَحْمِلَهُ عَلَى رَقَبَتِهِ يُرِيدُ بِذَلِكَ الْمَشَقَّةَ وَتَعَبَ نَفْسِهِ فَلَيْسَ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَلْيَمْشِ عَلَى رِجْلَيْهِ وَلْيُهْدِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ نَوَى شَيْئًا فَلْيَحْجُجْ وَلْيَرْكَبْ وَلْيَحْجُجْ بِذَلِكَ الرَّجُلِ مَعَهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ قَالَ أَنَا أَحْمِلُكَ إِلَى بَيْتِ اللهِ فَإِنْ أَبَى أَنْ يَحُجَّ مَعَهُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ.১৭১৯-قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِك عَنْ الرَّجُلِ يَحْلِفُ بِنُذُورٍ مُسَمَّاةٍ مَشْيًا إِلَى بَيْتِ اللهِ أَنْ لَا يُكَلِّمَ أَخَاهُ أَوْ أَبَاهُ بِكَذَا وَكَذَا نَذْرًا لِشَيْءٍ لَا يَقْوَى عَلَيْهِ وَلَوْ تَكَلَّفَ ذَلِكَ كُلَّ عَامٍ لَعُرِفَ أَنَّهُ لَا يَبْلُغُ عُمْرُهُ مَا جَعَلَ عَلَى نَفْسِهِ مِنْ ذَلِكَ فَقِيلَ لَهُ هَلْ يُجْزِيهِ مِنْ ذَلِكَ نَذْرٌ وَاحِدٌ أَوْ نُذُورٌ مُسَمَّاةٌ فَقَالَ مَالِك مَا أَعْلَمُهُ يُجْزِئُهُ مِنْ ذَلِكَ إِلَّا الْوَفَاءُ بِمَا جَعَلَ عَلَى نَفْسِهِ فَلْيَمْشِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ مِنْ الزَّمَانِ وَلْيَتَقَرَّبْ إِلَى اللهِ تَعَالَى بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ الْخَيْرِ.
বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনু সা’ঈদ (রা)
আমি বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার মানত করেছিলাম, কিন্তু কোমরের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পড়ি। তাই বাহনে চড়ে আমাকে মক্কায় আসতে হল। আতা ইবনু আবূ রাবাহ (র) অন্যদেরকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বললেন, তোমাকে একটা কুরবানী দিতে হবে। মদীনায় এসে সেখানকার আলিমদের নিকটও এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা বললেন, যে স্থান হতে সওয়ার হয়েছিলে সেই স্থান হতে তোমাকে আবার হেঁটে যেতে হবে। শেষে আমি তাই করলাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন, বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়া আমার ওপর ওয়াজিব। এই কথা বলে যদি কেউ হেঁটে যাত্রা শুরু করে এবং পরে অপারগ হয়ে যায় তবে সে সওয়ার হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সময়ে যে স্থান হতে সে অপারগ হয়েছিল সেই স্থান হতে পুনরায় হেঁটে যাবে। হেঁটে না পারলে যতদূর সামর্থ্যে কুলায় হেঁটে যাবে আর বাকীটুকু সওয়ার হয়ে যাবে এবং একটি উট বা গরু কুরবানী করবে। সম্ভব না হলে একটি বকরী কুরবানী করবে।মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যদি কেউ অন্য একজনকে বলে : তোমাকে আমি বায়তুল্লাহ্ পর্যন্ত বহন করে নিয়ে যাব, তবে কি হুকুম হবে? তিনি বললেন, যদি এই কথা বলার সময় কথকের এই নিয়্যত হয়ে থাকে যে, তার ঘাড়ে উঠিয়ে নিয়ে যাবে এবং এভাবে নিজেকে কষ্টে ফেলে তার উদ্দেশ্য হয়, তবে তার উপর কিছুই ওয়াজিব হবে না বরং সে পায়ে হেঁটে যাবে এবং একটি কুরবানী দিবে। আর বলার সময় যদি তার কিছু নিয়্যত না থাকে, তবে সে সওয়ার হয়ে যাবে এবং ঐ ব্যক্তিকেও সঙ্গে নিয়ে যাবে। কারণ সে তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। ঐ ব্যক্তি যদি সঙ্গে যেতে না চায় তবে তার উপর কিছুই ওয়াজিব হবে না। কেননা সে আপন অঙ্গীকার রক্ষা করেছে।মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- কেউ যদি নির্দিষ্ট কতিপয় মানতের শপথ করে যা প্রতি বৎসর চেষ্টা করলেও সারা জীবনে পূরণ করা অসম্ভব, যেমন সে বলল, পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ্ যাব বা এক হাজার বার হজ্জ করব, ভাই অথবা পিতার সাথে কথা বলব না ইত্যাদি। সে কি একটি মানতই পূরণ করবে না সবগুলোই তাকে পূরণ করতে হবে?মালিক (র) বললেন, আমার মতে সবগুলোই তাকে পূরণ করতে হবে, যতদিন এবং যতদূর পর্যন্ত সম্ভব হয় সে উহা পূরণ করতে থাকবে এবং নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে যাবে।
২২/৪. অধ্যায়ঃ
পাপকার্যে মানত বৈধ নয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ وَثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَحَدُهُمَا يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَلَى صَاحِبِهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا قَائِمًا فِي الشَّمْسِ فَقَالَ مَا بَالُ هَذَا فَقَالُوا نَذَرَ أَنْ لَا يَتَكَلَّمَ وَلَا يَسْتَظِلَّ مِنْ الشَّمْسِ وَلَا يَجْلِسَ وَيَصُومَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرُوهُ فَلْيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظِلَّ وَلْيَجْلِسْ وَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ ১৭২৪-قَالَ مَالِك وَلَمْ أَسْمَعْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ بِكَفَّارَةٍ وَقَدْ أَمَرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتِمَّ مَا كَانَ لِلَّهِ طَاعَةً وَيَتْرُكَ مَا كَانَ لِلَّهِ مَعْصِيَةً.
বর্ণনাকারী মালিক (র)
হুমায়দ ইবনু কায়স (রা) এবং সাউর ইবন দীলী (রা) তাঁরা দু’জনে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাঁর নিকট রেওয়ায়ত বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একবার রৌদ্রে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, এই ব্যক্তির কি হয়েছে? তাঁরা বললেন, এই ব্যক্তি মানত করেছে যে, সে কারো সাথে কথা বলবে না, ছায়ায় দাঁড়াবে না, কোথাও বসবে না এবং সর্বদাই সে রোযা রাখবে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, তাঁকে বলে দাও, সে যেন কথা বলে, ছায়ায় দাঁড়ায় ও বসে, আর যেন রোযা পুরা করে নেয়। (সহীহ, ইমাম বুখারী ইবনু আব্বাস থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন, বুখারী ৬৭০৪, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মরসাল)মালিক (র) বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাফ্ফারার নির্দেশ দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি। তিনি তাঁকে যা ইবাদত তা পূরণ করা এবং যা নাফরমানী তা বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ أَتَتْ امْرَأَةٌ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَتْ إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَنْحَرَ ابْنِي فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا تَنْحَرِي ابْنَكِ وَكَفِّرِي عَنْ يَمِينِكِ فَقَالَ شَيْخٌ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَكَيْفَ يَكُونُ فِي هَذَا كَفَّارَةٌ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ { وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ } مِنْكُمْ { مِنْ نِسَائِهِمْ } ثُمَّ جَعَلَ فِيهِ مِنْ الْكَفَّارَةِ مَا قَدْ رَأَيْتَ.
বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনু সাইদ (র)
কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (র)-কে বলতে শুনেছেন ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (র)-এর নিকট একজন মহিলা এসে বলল, আমার পুত্রকে কুরবানী দেওয়ার মানত করেছি। তিনি বললেন, পুত্রকে জবাই করো না এবং তোমার কসমের কাফ্ফারা দিয়ে দাও। এক ব্যক্তি তখন বলে উঠল : কাফ্ফারা কি করে হতে পারে? ইবনু ‘আব্বাস বললেন, স্ত্রীর সাথে যিহার করাও গুনাহ। উহাতেও আল্লাহ্ তা’আলা কাফ্ফারার বিধান রেখেছেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মালিক (র)-এর মতে এইখানে কাফ্ফারা অর্থ কোন বকরী ইত্যাদি ফিদয়া দেওয়া। ইমাম আবূ ইউসুফ ও শাফিঈ (র)-এর মতে ইহা মানত হবে না। কেননা গুনাহ্র কাজে মানত করা ধর্তব্য নয়। সুতরাং এর কাফ্ফারাও ওয়াজিব হবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْأَيْلِيِّ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ ابْنِ الصِّدِّيقِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللهَ فَلَا يَعْصِهِ ১৭২৭-قَالَ يَحْيَى و سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ مَعْنَى قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللهَ فَلَا يَعْصِهِ أَنْ يَنْذِرَ الرَّجُلُ أَنْ يَمْشِيَ إِلَى الشَّامِ أَوْ إِلَى مِصْرَ أَوْ إِلَى الرَّبَذَةِ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِمَّا لَيْسَ لِلَّهِ بِطَاعَةٍ إِنْ كَلَّمَ فُلَانًا أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ شَيْءٌ إِنْ هُوَ كَلَّمَهُ أَوْ حَنِثَ بِمَا حَلَفَ عَلَيْهِ لِأَنَّهُ لَيْسَ لِلَّهِ فِي هَذِهِ الْأَشْيَاءِ طَاعَةٌ وَإِنَّمَا يُوَفَّى لِلَّهِ بِمَا لَهُ فِيهِ طَاعَةٌ.
বর্ণনাকারী আয়িশা (রা)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে সে অবশ্যই তাঁর আনুগত্য করবে আর যে আল্লাহর নাফরমানী করবে সে তার নাফরমানী করবে না। (সহীহ, বুখারী ৬৬৯৬, ৬৭০০)মালিক (র) বলেন : গুনাহর কাজ করার মানত যদি কেউ করে তবে সে যেন ঐ গুনাহ না করে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই কথার মর্ম হল, যে সমস্ত কাজের সওয়াব নাই তেমন কাজে মানত করিয়া উহা ভাঙ্গিয়া ফেলিলে তবে তার উপর কিছুই ওয়াজিব হবে না। যেমন কেউ শাম বা মিসর বা রাবাযা যাওয়ার মানত করিল। তদ্রুপ কাহারও সঙ্গে কথা না বলার মানত করিল অথবা মন্দ কাজ করার কসম করিল, যেহেতু এইসব কাজে আল্লাহর ফরমানবরদারী নাই। এইগুলি পুরণ না করিলে কিছুই ওয়াজিব হবে না। যে কাজে আল্লাহর আনুগত্য রয়েছে সেই ধরনের কাজে মানত করিলে ইহা পুরণ করা জরুরী হয়।
২২/৫. অধ্যায়ঃ
নিরর্থক কসমের বিবরণ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০০৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ لَغْوُ الْيَمِينِ قَوْلُ الْإِنْسَانِ لَا وَاللهِ لَا وَاللهِ ১৭৩০-قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي هَذَا أَنَّ اللَّغْوَ حَلِفُ الْإِنْسَانِ عَلَى الشَّيْءِ يَسْتَيْقِنُ أَنَّهُ كَذَلِكَ ثُمَّ يُوجَدُ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ اللَّغْوُ ১৭৩১-قَالَ مَالِك وَعَقْدُ الْيَمِينِ أَنْ يَحْلِفَ الرَّجُلُ أَنْ لَا يَبِيعَ ثَوْبَهُ بِعَشَرَةِ دَنَانِيرَ ثُمَّ يَبِيعَهُ بِذَلِكَ أَوْ يَحْلِفَ لَيَضْرِبَنَّ غُلَامَهُ ثُمَّ لَا يَضْرِبُهُ وَنَحْوَ هَذَا فَهَذَا الَّذِي يُكَفِّرُ صَاحِبُهُ عَنْ يَمِينِهِ وَلَيْسَ فِي اللَّغْوِ كَفَّارَةٌ ১৭৩২-قَالَ مَالِك فَأَمَّا الَّذِي يَحْلِفُ عَلَى الشَّيْءِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ آثِمٌ وَيَحْلِفُ عَلَى الْكَذِبِ وَهُوَ يَعْلَمُ لِيُرْضِيَ بِهِ أَحَدًا أَوْ لِيَعْتَذِرَ بِهِ إِلَى مُعْتَذَرٍ إِلَيْهِ أَوْ لِيَقْطَعَ بِهِ مَالًا فَهَذَا أَعْظَمُ مِنْ أَنْ تَكُونَ فِيهِ كَفَّارَةٌ.
বর্ণনাকারী হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র)
যে, উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রা) বলতেন : কথায় কথায় লা ওয়াল্লাহি, বালা ওয়াল্লাহি (না, আল্লাহর কসম, হ্যাঁ আল্লাহর কসম) ধরনের কসম করা য়ামীন লাগব হবে (অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিতে উহা কসম বলে ধর্তব্য হবে না)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : য়ামীনে লাগব হল সত্য মনে কয়ে কোন বিষয়ে কসম করা অথচ পরে তা বিপরীত বলে সাব্যস্ত হয়। এই বিষয়ে এটাই উত্তম যা আমি শুনেছি।মালিক (র) বলেন : ভবিষ্যতে কোন কাজ করা না করা সম্পর্কে কসম করা হলে তা পূরণ করা বাধ্যতামূলক, যেমন কেউ বলল : আল্লাহর কসম, এই কাপড়টি আমি দশ দীনারে বিক্রয় করব না। কিন্তু পরে দশ দীনারে তা বিক্রয় করে দিল বা কেউ বলল : আল্লাহর কসম, এই ব্যক্তির গোলামকে আমি মারব, পরে মারল না ইত্যাদি। এই ধরনের কসমের কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়। আর য়ামীনে লাগব-এর জন্য কাফ্ফারা নেই।
২২/৬. অধ্যায়ঃ
যে ধরনের কসমে কাফ্ফারা ওয়াজিব হয় না
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
হাদিস নং ১০১০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ قَالَ وَاللهِ ثُمَّ قَالَ إِنْ شَاءَ اللهُ ثُمَّ لَمْ يَفْعَلْ الَّذِي حَلَفَ عَلَيْهِ لَمْ يَحْنَثْ ১৭৩৫-قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الثُّنْيَا أَنَّهَا لِصَاحِبِهَا مَا لَمْ يَقْطَعْ كَلَامَهُ وَمَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ نَسَقًا يَتْبَعُ بَعْضُهُ بَعْضًا قَبْلَ أَنْ يَسْكُتَ فَإِذَا سَكَتَ وَقَطَعَ كَلَامَهُ فَلَا ثُنْيَا لَهُ ১৭৩৬-قَالَ يَحْيَى و قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقُولُ كَفَرَ بِاللهِ أَوْ أَشْرَكَ بِاللهِ ثُمَّ يَحْنَثُ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ كَفَّارَةٌ وَلَيْسَ بِكَافِرٍ وَلَا مُشْرِكٍ حَتَّى يَكُونَ قَلْبُهُ مُضْمِرًا عَلَى الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ وَلْيَسْتَغْفِرْ اللهَ وَلَا يَعُدْ إِلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ وَبِئْسَ مَا صَنَعَ.
বর্ণনাকারী নাফি’ (র)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলতেন : যদি কেউ কসম করে ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চাহেন) বলে তবে কসমকৃত কাজটি না করলে এই কসম ভঙ্গ হবে না। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : ‘ইনশাআল্লাহ’ কসমের সঙ্গে সঙ্গে এবং কথার ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে বলতে হবে। কেউ কসম করে কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর যদি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে তবে আর উহা ধর্তব্য হবে না।মালিক (র) বলেন : কেউ বলল, আমি যদি এই কাজ করি তবে আমি কাফের বা মুশরিক। পরে যদি ঐ ব্যক্তি কাজটি করে ফেলে তবে তার কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে। কিন্তু অন্তরে শিরক কুফরীর আকীদা না হলে এতে কাফের বা মুশরিক হয়ে যাবে না। তবে গুনাহগার হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কিছু করবে না বলে তাকে তাওবা করতে হবে। এই ধরনের কসম অতি নিন্দনীয়।
[১] তা কসম বলে গণ্য হয় না এবং এতে কাফফারাও ওয়াজিব হয় না।