পবিত্রতা অর্জন

২/১. অধ্যায়ঃ

অযূর পদ্ধতি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ نَعَمْ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدِهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ.

বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া মাযনী (র)-

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ওযূ করতেন আপনি আমাকে দেখাতে পারেন কি? আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ পারি। তারপর তিনি পানি আনাইলেন এবং তাঁর হাতের উপর পানি ঢাললেন। তিনি দুই দুইবার তাঁর উভয় হাত ধুইলেন, তারপর কুলি করলেন ও নাক পরিষ্কার করলেন তিনবার। তারপর মুখমণ্ডলকে তিনবার ধুলেন, তারপর কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধুলেন দুই দুইবার। পরে দুই হাত দ্বারা শির মাসেহ করলেন, দু হাত দিয়ে সম্মুখ হতে আরম্ভ করে পিছনের দিকে নিলেন এবং পিছনের দিক হতে আরম্ভ করে সামনের দিকে আনলেন। মাসেহ আরম্ভ করলেন মাথার সামনের দিক হতে। অতঃপর উভয় হাত মাথার পিছনের দিকে নিয়া গেলেন। তারপর উভয় হাত ফিরালেন এবং যে স্থান হতে শুরু করেছিলেন, পুরনায় সেই স্থানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর তাঁর দুই পা ধুলেন। (বুখারী ১৮৫, মুসলিম ২৩৫)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً ثُمَّ لِيَنْثِرْ وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ.

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যখন ওযূ করে, তখন সে যেন তার নাকে পানি দেয়, তারপর নাক পরিষ্কার করে, আর যে কুলুখ গ্রহণ করে সে যেন বেজোড় কুলুখ নেয়। (বুখারী ১৬২, মুসলিম ২৩৭)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ.

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ওযূ করে সে যেন নাক পরিষ্কার করে আর যে কুলুখ নেয় সে বেজোড় নেবে। (বুখারী ১৬১, মুসলিম ২৩৭)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩৪

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت قَوْله تَعَالَى يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْثِرُ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ إِنَّهُ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ.

বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া (রাঃ)

আমি মালিক (র)-কে বলতে শুনেছি, এক আজলা পানি দ্বারা যে কুলিও করে এবং নাকও পরিষ্কার করে, তার এইরূপ করাতে কোন ক্ষতি নাই। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ قَدْ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ مَاتَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ أَسْبِغْ الْوُضُوءَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ.

বর্ণনাকারী মালিক (র)-

নাবী রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) উপস্থিত হলেন, যেদিন সা’দ ইবনু আবূ ওয়াককাস (রাঃ) ইন্তিকাল করেন সেদিন। তারপর তিনি ওযূর পানি চাইলেন। আয়েশা (রাঃ) তাঁকে বললেন, পূর্ণভাবে ওযূ কর, কারণ আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ “পায়ের গিটসমূহের জন্য ধ্বংস নরকাগ্নির। [১] (সহীহ, মুসলিম ২৪০, আয়েশা (রাঃ) থেকে বরাতে বর্ণনা করেন, ইমাম মালিক (রঃ) যে সনদে বর্ণনা করেন সনদটি মুনকাতে মূলত হাদীসটি মুত্তাফাক আলাইহি। বুখারী ৬০, মুসলিম ২৪১)

[১] যে ব্যক্তি ওযূতে পায়ের গিট ধৌত করে না তাহাকে নরকাগ্নির ভয় দেখানো হয়েছে।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَحْلَاءَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَتَوَضَّأُ بِالْمَاءِ لِمَا تَحْتَ إِزَارِهِ.

বর্ণনাকারী আবদুর রহমান (র)

তিনি শুনেছেন উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) পানি দ্বারা তাঁর ইযারে’র (পায়জামা বা লুঙ্গী) নিচে ধুতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩৭

قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ فَنَسِيَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ قَبْلَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ أَوْ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَ وَجْهَهُ فَقَالَ أَمَّا الَّذِي غَسَلَ وَجْهَهُ قَبْلَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ فَلْيُمَضْمِضْ وَلَا يُعِدْ غَسْلَ وَجْهِهِ وَأَمَّا الَّذِي غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ قَبْلَ وَجْهِهِ فَلْيَغْسِلْ وَجْهَهُ ثُمَّ لْيُعِدْ غَسْلَ ذِرَاعَيْهِ حَتَّى يَكُونَ غَسْلُهُمَا بَعْدَ وَجْهِهِ إِذَا كَانَ ذَلِكَ فِي مَكَانِهِ أَوْ بِحَضْرَةِ ذَلِكَ.

বর্ণনাকারী মালিক (র)-

প্রশ্ন করা হল এমন এক লোক সম্পর্কে যে ওযূ করেছে এবং ভুলে কুলি করার আগে মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলেছে অথবা মুখমণ্ডল ধোয়ার আগে ধুয়েছে দুই হাত। তিনি (উত্তরে) বললেন, কুলি করার আগে যে ব্যক্তি মুখমণ্ডল ধুয়েছে সে কুলি করে নিবে এবং পুনরায় আর মুখমণ্ডল ধুবে না। আর যে ব্যক্তি মুখমণ্ডল ধোয়ার পূর্বে তাঁর হস্তদ্বয় ধুয়েছে সে মুখমণ্ডল ধুবে এবং পুনর্বার উভয় হাত ধুবে, যেন হস্তদ্বয় ধোয়ার কাজ মুখমণ্ডল ধোয়ার পরে হয়। তবে উহা তখন করবে যখন সে ওযূর স্থানে অথবা উহার নিকটবর্তী স্থানে থাকে।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩৮

قَالَ يَحْيَى و سُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ نَسِيَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ وَيَسْتَنْثِرَ حَتَّى صَلَّى قَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يُعِيدَ صَلَاتَهُ وَلْيُمَضْمِضْ وَيَسْتَنْثِرْ مَا يَسْتَقْبِلُ إِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يُصَلِّيَ.

বর্ণনাকারী মালিক (র)

এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, যে ব্যক্তি ভুলবশত কুলি করেনি অথবা নাক পরিষ্কার করেনি, এই অবস্থায় সে নামায আদায় করেছে। উত্তরে তিনি বললেন, সে লোকের পক্ষে নামায পুনরায় আদায় করতে হবে না। সে পরে অন্য নামায আদায়ের ইচ্ছা করলে তবে কুলি করিয়া লইবে এবং নাক পরিষ্কার করবে। [১]

[১] হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে।

২/২. অধ্যায়ঃ

ঘুম হতে জেগে ওযূ করে নামায আদায়ের ইচ্ছা করলে

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৩৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ.

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ ঘুম হতে জেগে উঠলে ওযূর পাত্রে হাত দেওয়ার আগে তাঁর হাত ধুয়ে নিবে, কেননা তার জানানাই তার হাত কোথায় রাত্রি যাপন করেছে। (বুখারী ১৬২, মুসলিম ২৭৮)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক

হাদিস নং ৪০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ، إِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ مُضْطَجِعًا فَلْيَتَوَضَّأْ ৮و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ تَفْسِيرَ هَذِهِ الْآيَةِ أَنَّ ذَلِكَ إِذَا قُمْتُمْ مِنْ الْمَضَاجِعِ يَعْنِي النَّوْمَ.

বর্ণনাকারী উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)

তোমাদের কেউ কোন বস্তুর সাথে ঠেস দিয়ে ঘুমালে ওযূ করবে।যায়দ ইবনু আসলাম (রা) এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ}.এটা সে সময়, যখন শয্যা অর্থাৎ নিদ্রা হতে তোমরা ওঠ। (হাদীসটি ইমাম মালিক একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18