দাসমুক্তি

২১/১. অধ্যায়ঃ

দাসের প্রয়োজন পূরণের বর্ণনা

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قُلْتُ لِمَالِكٍ حَدَّثَكَ نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأُعْطِيَ شُرَكَاؤُهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শরীক (যৌথ মালিকানাধীন) ক্রীতদাসের বেলায় তার নিজের অংশটুকু মুক্ত করে দেয় এবং তার (মুক্তিদাতার) কাছে এ পরিমাণ ধন-সম্পদ থাকে যা উক্ত ক্রীতদাসের মূল্য সমান হয়- তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্য নিরূপণ করবে এবং বাকি অংশীদারদের অংশের মূল্যও তাকে পরিশোধ করতে হবে। আর ক্রীতদাসটি পুরোপুরি ভাবে তার পক্ষ থেকেই মুক্ত করা হবে। তবে যদি সে (পুরো অংশের মূল্য পরিশোধে) সক্ষম না হয় তাহলে সে যতটুকু অংশ মুক্ত করেছে ততটুকু মুক্ত হয়ে যাবে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬২৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬২৮

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬৩

وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، جَمِيعًا عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، وَأَبُو كَامِلٍ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ، الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ، الأَيْلِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، كُلُّ هَؤُلاَءِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، بِمَعْنَى حَدِيثِ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ.‏

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)

কুতাইবা ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ, শাইবান ইবনু ফাররূখ, আবু রাবী, আবু কামিল, ইবনু নুমাইর, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইসহাক ইবনু মানসুর, হারুন ইবনে সাঈদ আইলী ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। মালিক (রহঃ) নাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬২৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬২৯

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬৪

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْمَمْلُوكِ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ فَيُعْتِقُ أَحَدُهُمَا قَالَ ‏ "‏ يَضْمَنُ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবু হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ক্রীতদাসটি দুইজনের মালিকানাধীন, তার একজন নিজের অংশ মুক্ত করে দিলে অপরজনের অংশেরও সে যিম্মাদার হবে (যদি সে বিত্তবান হয়)।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩০,ই.সে ৩৬৩০

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬৫

وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ أَعْتَقَ شِقْصًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَخَلاَصُهُ فِي مَالِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ اسْتُسْعِيَ الْعَبْدُ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথ মালিকানাধীন ক্রীতদাসের বেলায় নিজের অংশ মুক্ত করে দিবে বাকি অংশ তার সম্পদ দ্বারাই মুক্ত করবে। আর যদি সে বিত্তশালী না হয় তাহলে সে ক্রীতদাসকে উপার্জনের মাধ্যমে মুক্ত হওয়ার চেষ্টায় নিযুক্ত করতে হবে। তবে তার উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপানো যাবে না।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩১

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬৬

وَحَدَّثَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ، أَبِي عَرُوبَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ ‏ "‏ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ قُوِّمَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ قِيمَةَ عَدْلٍ ثُمَّ يُسْتَسْعَى فِي نَصِيبِ الَّذِي لَمْ يُعْتِقْ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সা’ঈদ ইবনু আবূ ‘আরূবাহ্ (রহঃ)

সাঈদ ইবন আবূ আরূবাহ (রহঃ) হতে সানাদে বর্ণিত। তবে তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বেশী উল্লেখ করেছেন যে, "যদি সে মুক্তিদাতা বিত্তবান না হয় তখন ঐ ক্রীতদাসের প্রচলিত মূল্য স্থির করতে হবে। এরপর সে (দাস) তার অবশিষ্টাংশ মুক্ত করার লক্ষ্যে উপার্জনে নিয়োজিত হবে। তবে এ ব্যাপারে তাকে (মুক্তিদাতাকে) সাধ্যাতীত কষ্টে ফেলা যাবে না।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩২,ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩২

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬৭

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ بِهَذَا الإِسْنَادِ بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ وَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ عَدْلٍ

বর্ণনাকারী ওয়াহ্‌ব ইবনু জারীর (রহঃ)

আমি কাতাদা (রহঃ)-কে এ সানাদে ইবনু আবু আরুবা-র হাদীসের মর্মানুযায়ী হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেন, “ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নিরূপণ করতে হবে।”

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩৩

২১/২. অধ্যায়ঃ

প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬৮

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ، جَارِيَةً تُعْتِقُهَا فَقَالَ أَهْلُهَا نَبِيعُكِهَا عَلَى أَنَّ وَلاَءَهَا لَنَا ‏.‏ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ لاَ يَمْنَعُكِ ذَلِكَ فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)

আয়িশা (রাঃ) একবার একটি ক্রীতদাসী ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দিবেন বলে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তখন সে ক্রীতদাসীর মনিবেরা তাকে জানালেন যে, আমরা আপনার এ শর্তে ক্রীতদাসীটি বিক্রয় করতে পারি যে, আমরাই হব তার ওয়ালার অধিকারী। এরপর বিষয়টি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত করলাম। তিনি বললেনঃ এ শর্ত তোমাকে ‘ওয়ালা’ থেকে বঞ্চিত করবে না। কেননা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতার জন্যই ‘ওয়ালার হক’ নির্ধারিত।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩৪[৬] (.........) আরবী শব্দ। এর অর্থ অধিকারী হওয়াস্বত্ববান হওয়া ইত্যাদি। ইসলামী বিধানের পরিভাষায় ক্রীতদাস-দাসীর অর্জিত সম্পদ ইত্যাদির অভিভাবকত্বকে ‘ওয়ালা’ বলা হয়। ক্রীতদাস-দাসীর মৃত্যুর পর তার মনিব তার ‘ওয়ালা’- এর উত্তরাধিকারী । আর আযাদকৃত দাসের ‘ওয়ালা’-এর অধিকারী হয় মুক্তিদাতা।

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৬৯

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ بَرِيرَةَ جَاءَتْ عَائِشَةَ تَسْتَعِينُهَا فِي كِتَابَتِهَا وَلَمْ تَكُنْ قَضَتْ مِنْ كِتَابَتِهَا شَيْئًا فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ ارْجِعِي إِلَى أَهْلِكِ فَإِنْ أَحَبُّوا أَنْ أَقْضِيَ عَنْكِ كِتَابَتَكِ وَيَكُونَ وَلاَؤُكِ لِي ‏.‏ فَعَلْتُ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ بَرِيرَةُ لأَهْلِهَا فَأَبَوْا وَقَالُوا إِنْ شَاءَتْ أَنْ تَحْتَسِبَ عَلَيْكِ فَلْتَفْعَلْ وَيَكُونَ لَنَا وَلاَؤُكِ ‏.‏ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ابْتَاعِي فَأَعْتِقِي ‏.‏ فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ مَا بَالُ أُنَاسٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَنِ اشْتَرَطَ شَرْطًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلَيْسَ لَهُ وَإِنْ شَرَطَ مِائَةَ مَرَّةٍ شَرْطُ اللَّهِ أَحَقُّ وَأَوْثَقُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাযিঃ)

বারিরা (রাঃ) তার লিখিত মুক্তিপণ পরিশোধের ব্যাপারে সাহায্যের জন্যে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এল। সে তার লিখিত মুক্তিপণের কিছুই আদায় করেনি। তখন আয়িশা (রাঃ) তাকে বললেনঃ তুমি তোমার মুনিবের কাছে ফিরে যাও। যদি তারা এ শর্তে রাজি হয় যে, আমি তোমার লিখিত মুক্তিপণের যাবতীয় পাওনা আদায় করলে তোমার ওয়ালা আমার প্রাপ্য হবে, তবে তা আমি করতে পারি।বারিরা তার মনিবের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করল। কিন্তু তারা সে প্রস্তাব মেনে নিল না এবং বলে দিল, যদি তিনি সওয়াবের আশায় তোমার লিখিত মুক্তিপণ আদায়ের দায়িত্ব নেন তাহলে নিতে পারেন, তবে তোমার ওয়ালা আমাদের জন্যই থাকবে।এরপর তিনি [আয়িশা (রাঃ)] বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উঠালেন। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দিতে পার, কেননা ওয়ালা মুক্তিদাতারই প্রাপ্য।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ লোকদের কী হয়েছে তারা এমন কিছু শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। যে ব্যক্তি এমন শর্তারোপ করবে যা আল্লাহর কিতাবে নেই- সে শর্তের কোন মূল্য নেই যদিও সে একশো বার শর্তারোপ করে। আল্লাহর শর্তই কেবল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩৫

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৭০

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْ بَرِيرَةُ إِلَىَّ فَقَالَتْ يَا عَائِشَةُ إِنِّي كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ ‏.‏ بِمَعْنَى حَدِيثِ اللَّيْثِ وَزَادَ فَقَالَ ‏"‏ لاَ يَمْنَعُكِ ذَلِكِ مِنْهَا ابْتَاعِي وَأَعْتِقِي ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَمَّا بَعْدُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ)

বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, হে আয়িশা! আমি আমার মুনিবের কাছে লিখিত চুক্তি করেছি যে, বছরে এক উকিয়া (চল্লিশ দিরহামে এক উকিয়া) করে নয় বছরে সর্বমোট নয় উকিয়া পরিশোধ করব। এরপর লায়স (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ আছে: “তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেন, তাদের এ শর্ত করা তোমাকে ওয়ালা প্রাপ্তি হতে বাধা দিবে না। তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দিতে পার।" উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) এ হাদীসে উল্লেখ করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে যান এবং আল্লাহর প্রশংসা ও তার মহিমা বর্ণনা করেন।

ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩৬,ই.সে ৩৬৩৬

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৩৬৭১

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ، بْنُ عُرْوَةَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَتْ عَلَىَّ بَرِيرَةُ فَقَالَتْ إِنَّ أَهْلِي كَاتَبُونِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي تِسْعِ سِنِينَ فِي كُلِّ سَنَةٍ أُوقِيَّةٌ ‏.‏ فَأَعِينِينِي ‏.‏ فَقُلْتُ لَهَا إِنْ شَاءَ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَدَّةً وَاحِدَةً وَأُعْتِقَكِ وَيَكُونَ الْوَلاَءُ لِي فَعَلْتُ ‏.‏ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لأَهْلِهَا فَأَبَوْا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لَهُمْ فَأَتَتْنِي فَذَكَرَتْ ذَلِكَ قَالَتْ فَانْتَهَرْتُهَا فَقَالَتْ لاَهَا اللَّهِ إِذَا قَالَتْ ‏.‏ فَسَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَنِي فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ ‏"‏ اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلاَءَ فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏ فَفَعَلْتُ - قَالَتْ - ثُمَّ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشِيَّةً فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ كِتَابُ اللَّهِ أَحَقُّ وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ مَا بَالُ رِجَالٍ مِنْكُمْ يَقُولُ أَحَدُهُمْ أَعْتِقْ فُلاَنًا وَالْوَلاَءُ لِي إِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)

একদিন বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, আমার মনিব আমাকে প্রতি বছর একটি করে নয় বছরে নয়টি উকিয়া (চল্লিশ দিরহামে এক উকিয়া) আদায় করার শর্তে আমাকে মুক্তি দানের ব্যাপারে লিখিত চুক্তি করেছে। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমি আয়িশা (রাঃ) তাকে বললাম, তোমার মনিব যদি এ শর্তে রাজি হয় যে তোমার মুক্তিপণ এক সঙ্গে আদায় করে দিলে তোমার ওয়ালা আমি পাব তাহলে আমি তোমাকে মুক্তির ব্যাপারে সাহায্য করতে চাই।তখন বারীরা (রাঃ) এ বিষয়টি তার মুনিবের কাছে উঠালে তাদের জন্য ওয়ালা ব্যতীত তারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। এরপর সে আমার আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এসে তাদের কথা বলল। আমি তাকে ধমক দিয়ে বললামঃ তাহলে আল্লাহর কসম! আমি রাজি নই।আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিষয়টি শুনলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। এরপর তিনি বললেনঃ হে আয়িশা! তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও এবং তাদের জন্যে ওয়ালার শর্ত করে দাও। তবে নিশ্চয়ই ওয়ালা সে পাবে যে মুক্তি দান করে। আমি (আয়িশা) তাই করলাম।রাবী বলেনঃ এরপর সন্ধ্যা বেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও তাঁর মহিমা ঘোষণা করলেন। এরপর বললেনঃ লোকের অবস্থা কেমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, তারা এমন সব শর্ত দেয় যা আল্লাহর কিতাবে নেই। স্মরণ রাখ, যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল বলে গণ্য, যদিও একশতবার শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর কিতাবের শর্তই যথার্থ সঠিক, আল্লাহর শর্তই সর্বাধিক সুদৃঢ়। তোমাদের মধ্যে কতক লোকের কী হয়েছে যে, তারা অপরকে বলে অমুককে মুক্ত করে দাও আর ওয়ালা গ্রহণ করব আমরা? অথচ ওয়ালা তো আসলে তারই পাওনা যে মুক্ত করে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬৩৭ ইসলামীক সেন্টারঃ ৩৬৩৭

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18