তাহারাত (পবিত্রতা)

২/১. অধ্যায়ঃ

ওযূর ফযিলত

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২২

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبَانٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، أَنَّ زَيْدًا، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَلاَّمٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ ‏.‏ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلآنِ - أَوْ تَمْلأُ - مَا بَيْنَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَالصَّلاَةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী আবূ মালিক আল আশ’আরী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মীজানের পরিমাপকে পরিপূর্ণ করে দিবে এবং “সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ” আসমান ও জমীনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দিবে। ‘সালাত’ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। ‘সাদাকা’ হচ্ছে দলিল। ‘ধৈর্য’ হচ্ছে জ্যোতির্ময়। আর ‘আল কুরআন’ হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণস্বরূপ। বস্তুতঃ সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে আমলের বিনিময়ে বিক্রি করে। তার আমল দ্বারা সে নিজেকে (আল্লাহর আজাব থেকে) মুক্ত করে অথবা সে তার নিজের ধ্বংস সাধন করে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২য় খন্ড, ৪২৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪১

২/২. অধ্যায়ঃ

সলাত আদায়ের জন্যে পবিত্রতার আবশ্যকতা

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২৩

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ - وَاللَّفْظُ لِسَعِيدٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ دَخَلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَلَى ابْنِ عَامِرٍ يَعُودُهُ وَهُوَ مَرِيضٌ فَقَالَ أَلاَ تَدْعُو اللَّهَ لِي يَا ابْنَ عُمَرَ ‏.‏ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلاَ صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ ‏"‏ ‏.‏ وَكُنْتَ عَلَى الْبَصْرَةِ ‏.

বর্ণনাকারী মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ)

আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) অসুস্থ ইবন আমিরকে দেখতে গিয়েছিলেন। তখন ইবন আমির তাঁকে বললেন, হে ইবন উমর! আপনি কি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন না? ইবন উমর বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তাহারাত ব্যতিরেকে সালাত কবুল হয় না এবং খিয়ানতের সম্পদ থেকে সদকা‌ও কবুল হয় না। আর তুমি তো ছিলে বাসরার শাসনকর্তা।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪২

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَوَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ، كُلُّهُمْ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী শু’বাহ (রহঃ)

অন্য সূত্রে আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রাঃ) .... ইসরাঈল (রহঃ) থেকে, সকলেই সিমাক ইবনু হারব (রহঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৩

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَخِي وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تُقْبَلُ صَلاَةُ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্(রাঃ)

তিনি আল্লাহর রসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) থেকে কতগুলো হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্য থেকে একটি হাদিস তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো ওজু নষ্ট হলে পুনরায় ওজু না করা পর্যন্ত তার সালাত কবুল হয় না।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৪

২/৩. অধ্যায়ঃ

ওযূ করার নিয়ম ও ওযূর পূর্ণতা

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২৬

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ اللَّيْثِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ - رضى الله عنه - دَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ غَسَلَ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ عُلَمَاؤُنَا يَقُولُونَ هَذَا الْوُضُوءُ أَسْبَغُ مَا يَتَوَضَّأُ بِهِ أَحَدٌ لِلصَّلاَةِ ‏.‏

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)

তিনি ওযুর পানি চাইলেন। এরপর তিনি ওযু করতে আরম্ভ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি [উসমান (রাঃ)] তিন বার তাঁর হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুয়েছেন, এরপর কুলি করলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিন বার তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন এবং ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিন বার ধুলেন। অতঃপর বাম হাত অনুরূপভাবে ধুলেন। অতঃপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তাঁর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিন বার ধুলেন – অতঃপর তদ্রূপভাবে বাম পা ধুলেন তারপর বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমার এ ওযুর করার ন্যায় ওযু করতে দেখেছি এবং ওযু শেষে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ ওযুর ন্যায় ওযু করবে এবং একান্ত মনোযোগের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, সে ব্যক্তির পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।ইবন শিহাব বলেন, আমাদের আলিমগণ বলতেন যে, সালাতের জন্য কারোর এ নিয়মের ওযুই হল পরিপূর্ণ ওযু।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৫

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২৭

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ دَعَا بِإِنَاءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ فَغَسَلَهُمَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ‘উসমান এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান (রাযিঃ)

তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-কে দেখেছেন তিনি ওযুর জন্য একটি পাত্র পানি আনিয়ে দুই হাতের উপর ঢেলে তিনবার ধুলেন। তারপর ডানহাত পানির পাত্রে প্রবেশ করিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন, এরপর তিনবার মুখমণ্ডল এবং তিনবার দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়েছিলেন। তারপর মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর উভয় পা (গোড়ালি পর্যন্ত) তিনবার ধুয়ে বললেন, রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ ওযুর ন্যায় ওযু করার পর এমনভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে যাতে তার অন্তরে কোন কল্পনার উদয় হয়নি; তবে তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩০, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৬

২/৪. অধ্যায়ঃ

ওযূ এবং ওযূর পরপরই সলাত আদায়ের ফযিলত

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، وَهُوَ بِفِنَاءِ الْمَسْجِدِ فَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ عِنْدَ الْعَصْرِ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ لأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا لَوْلاَ آيَةٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا حَدَّثْتُكُمْ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ فَيُصَلِّي صَلاَةً إِلاَّ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الَّتِي تَلِيهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত দাস হুমরান

আমি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি মসজিদের বারান্দায় ছিলেন। এমন সময় আসর সালাতের জন্য মুয়ায্জিন তাঁর নিকট আসলে তিনি ওজুর পানি চাইলেন এবং ওজু করে বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাদেরকে একটি হাদীস শুনাব, যদি আল্লাহর কিতাবে একটি আয়াত না থাকতো তাহলে আমি তোমাদেরকে হাদীসটি শুনাতাম না।(অতঃপর তিনি বললেন) আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে সালাত আদায় করবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৭

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪২৯

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، جَمِيعًا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ ‏ "‏ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী আবূ কুরায়ব, আবূ উসামাহ হতে, অন্য সূত্রে যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব ওয়াকী’ (রহঃ) হতে – অন্য সূত্রে ইবনু আবূ ‘উমার থেকে আবার সকলে হিশামের

উপরোক্ত সূত্রেও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবূ উসামার সূত্রে অতিরিক্ত বলা হয়েছে যে, ‘অতঃপর তার ওজুকে সুন্দরভাবে করে তারপর ফরজ সালাত আদায় করে।’

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৮

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪৩০

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَلَكِنْ عُرْوَةُ يُحَدِّثُ عَنْ حُمْرَانَ، أَنَّهُ قَالَ فَلَمَّا تَوَضَّأَ عُثْمَانُ قَالَ وَاللَّهِ لأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا وَاللَّهِ لَوْلاَ آيَةٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏"‏ لاَ يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلاَةَ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الَّتِي تَلِيهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عُرْوَةُ الآيَةُ ‏{‏ إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏ اللاَّعِنُونَ‏}

বর্ণনাকারী হুমরান (রহঃ)

উসমান (রাঃ) ওজু শেষে বললেন যে, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে একটি হাদিস শুনাব। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহর কিতাবের মধ্যে একটি আয়াত না থাকত তাহলে আমি তোমাদেরকে কখনই হাদিসটি শুনাতাম না। আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যখন ওজু করে এবং উত্তমরূপে ওজু করে (অর্থাৎ ভালভাবে ওজুর স্থানগুলি ভিজায়) তারপর সালাত আদায় করে তখন তার এ সালাত ও পিছনের সালাতের মধ্যবর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।উরওয়াহ বলেন, আয়াতটি হলঃ “আমি যেসকল স্পষ্ট নিদর্শন ও পথনির্দেশ অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্য কিতাবে তা সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়ার পরেও যারা তা গোপন রাখে, আল্লাহ তাদেরকে লা’নত দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাদেরকে অভিশাপ দেয়” –(সূরা আল-বাকারা ২:১৫৯)।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৪৯

সহিহ মুসলিম

হাদিস নং ৪৩১

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ، قَالَ عَبْدٌ حَدَّثَنِي أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ عُثْمَانَ فَدَعَا بِطَهُورٍ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاَةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلاَّ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী ‘আমর ইবনু সা’ঈদ ইবনুল ‘আস (রাযিঃ)

আমি উসমান (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তিনি পানি আনার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন মুসলিমের যখন কোন ফরজ সালাতের ওয়াক্ত হয় আর সে উত্তমরূপে সালাতের ওজু করে, সালাতের নিয়ম ও রুকুকে উত্তমরূপে আদায় করে, তাহলে যতক্ষণ না সে কোন কবিরা গুনাহে লিপ্ত হবে, তার এ সালাত তার পিছনের সকল গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৩৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৪৫০

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18