যাকাত
৬/০. অধ্যায়ঃ
যাকাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭২-[১]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: «إِنَّكَ تَأتِىْ قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ. فَادْعُهُمْ إِلى شَهَادَةِ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللّهِ. فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لذَلِكَ. فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللّهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ. فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لذلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَن الله قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنَ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِىْ فُقَرَائِهِمْ. فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ. فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّه لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الله حِجَابٌ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠাবার সময় বললেন,মু’আয! তুমি আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী ও খৃস্টান) নিকট যাচ্ছো। প্রথমতঃ তাদেরকে এ লক্ষ্যে দ্বীনের প্রতি আহবান করবে,এক আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,আর মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এটা মেনে নেয় তাহলে তাদের সামনে এই ঘোষণা দেবে যে,নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফার্য করেছেন। তারা এটা মেনে নিলে তাদেরকে জানাবে,নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর যাকাত ফার্য করেছেন। তাদের ধনীদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করে তাদের গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যদি তারা এ হুকুমের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তাহলে তুমি (তাদের) ভাল ভাল মাল গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে,মাযলূমের ফরিয়াদ হতে বাঁচার চেষ্টা করবে। কেননা মাযলূমের ফরিয়াদ আর আল্লাহ তা’আলার মধ্যে কোন আড়াল থাকে না। (বুখারী,মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ২১৪৯৬, মুসলিম ১৯, আবূ দাঊদ ১৫৮৪, আত্ তিরমিযী ৬২৫, নাসায়ী ২৫২২, ইবনু মাজাহ্ ১৭৮৩, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২২৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭২৭৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৫৭, ইরওয়া ৭৮২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২২৯৮।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭৩-[২]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَا مِنْ صَاحِبِ ذَهَبٍ وَلَا فِضَّةٍ لَا يُؤَدِّىْ مِنْهَا حَقَّهَا إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ صُفِّحَتْ لَه صَفَائِحُ مِنْ نَارٍ فَأُحْمِيَ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَيُكْوى بِهَا جَنْبُه وَجَبِيْنُه وَظَهْرُه كُلَمَّا بَرَدَتْ أُعِيْدَتْ لَه فِىْ يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُه خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتّى يُقْضى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرى سَبِيلُه إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللّهِ فَالْإِبِلُ؟ قَالَ: «وَلَاصَاحِبُ إِبِلٍ لَا يُؤَدِّىْ مِنْهَا حَقَّهَا وَمِنْ حَقِّهَا حَلْبُهَا يَوْمَ وِرْدِهَا إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ أَوْفَرَ مَا كَانَت لَا يَفْقِدُ مِنْهَا فَصِيْلًا وَاحِدًا تَطَؤُه بِأَخْفَافِهَا وَتَعَضُّه بِأَفْوَاهِهَا كُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ أُوَلَاهَا رُدَّ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا فِىْ يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُه خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتّى يُقْضى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرى سَبِيلُه إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّار» قيل: يَا رَسُوْلَ الله فَالْبَقَرُ وَالْغَنَمُ؟ قَالَ: «وَلَا صَاحِبُ بَقْرٍ وَلَا غَنَمٍ لَا يُؤَدِّىْ مِنْهَا حَقَّهَا إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ لَا يَفْقِدُ مِنْهَا شَيْئًا لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلَا جَلْحَاءُ وَلَا عَضْبَاءُ تَنْطِحُه بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُه بِأَظْلَافِهَا كُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ أُولَاهَا رُدَّ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا فِىْ يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُه خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتّى يُقْضى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرى سَبِيلُه إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ» . قِيلَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ فَالْخَيْلُ؟ قَالَ: «الْخَيْلُ ثَلَاثَةٌ: هِيَ لِرَجُلٍ وِزْرٌ وَهِيَ لِرَجُلٍ سِتْرٌ وَهِيَ لِرَجُلٍ أَجْرٌ. فَأَمَّا الَّتِىْ هِيَ لَه وِزْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا رِيَاءً وَفَخْرًا وَنِوَاءً عَلَى اهْلِ الْإِسْلَامِ فَهِيَ لَه وِزْرٌ. وَأَمَّا الَّتِىْ لَه سِتْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِىْ سَبِيلِ اللّهِ ثُمَّ لَمْ يَنْسَ حَقَّ اللّهِ فِي ظُهُورِهَا وَلَا رِقَابِهَا فَهِيَ لَه سِتْرٌ. وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَه أَجْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِىْ سَبِيلِ الله لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ فِي مَرَجٍ أَو رَوْضَةٍ فَمَا أَكَلَتْ مِنْ ذلِكَ الْمَرْجِ أَوِ الرَّوْضَةِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا كُتِبَ لَه عَدَدَ مَا أَكَلَتْ حَسَنَاتٌ وَكُتِبَ لَه عَدَدَ أَرْوَاثِهَا وَأَبْوَالِهَا حَسَنَاتٌ وَلَا تَقْطَعُ طِوَلَهَا فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ إِلَّا كَتَبَ اللّهُ لَه عَدَدَ اثَارِهَا وَأَوْرَاثِهَا حَسَنَاتٍ وَلَا مَرَّ بِهَا صَاحِبُهَا عَلى نَهْرٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلَا يُرِيْدُ أَنْ يَسْقِيَهَا إِلَّا كَتَبَ اللّهُ لَه عَدَدَ مَا شَرِبَتْ حَسَنَاتٍ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللّهِ فَالْحُمُرُ؟ قَالَ: مَا أُنْزِلَ عَلَيَّ فِي الْحُمُرِ شَيْءٌ إِلَّا هذِهِ الْايَةُ الْفَاذَّةُ الْجَامِعَةُ ﴿فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَهٗ - وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَهٗ﴾ [الزلزلة 99 : 7-8]. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি সোনা রূপার (নিসাব পরিমাণ) মালিক হবে অথচ তার হাক্ব (যাকাত) আদায় করবে না তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন (তা দিয়ে) আগুনের পাত বানানো হবে। এগুলোকে জাহান্নামের আগুনে এমন ভাবে গরম করা হবে যেন তা আগুনেরই পাত। সে পাত দিয়ে তার পাঁজর,কপাল ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। তারপর এ পাত পৃথক করা হবে। আবার আগুনে উত্তপ্ত করে তার শরীরে লাগানো হবে। আর লাগানোর সময়ের মেয়াদ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। (এ অবস্থা চলবে) বান্দার (জান্নাত জাহান্নামের) ফায়সালা হওয়া পর্যন্ত। তারপর তাকে নেয়া হবে জান্নাত অথবা জাহান্নামে।সহাবীগণ আরয করলেন,হে আল্লাহর রাসূল! উটের বিষয়টি (যাকাত না দেবার পরিণাম) কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ উটের মালিক যদি এর হাক্ব (যাকাত) আদায় না করে- যেদিন উটকে পানি খাওয়ানো হবে সেদিন তাকে দুহানোও তার একটা হাক্ব - ক্বিয়ামাতের দিন ওই ব্যক্তিকে সমতল ভূমিতে উটের সামনে মুখের উপর উপুড় করে ফেলা হবে।তার সবগুলো উট গুণে গুণে (আনা হবে) মোটা তাজা একটি বাচ্চাও কম হবে না। এসব উট মালিককে পায়ের নিচে ফেলে পিষতে থাকবে, দাঁত দিয়ে কামড়াবে। এ উটগুলো চলে গেলে,আবার আর একদল উট আসবে। যে দিন এমন ঘটবে,সে দিনের মেয়াদ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এমনকি বান্দার হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে যাবে। তারপর ঐ ব্যক্তি জান্নাত অথবা জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হবে।সহাবীগণ আরয করলেন,হে আল্লাহর রাসূল! গরু-ছাগলের যাকাত আদায় না করলে (মালিকদের) কি অবস্থা হবে? তিনি বললেন,যে ব্যক্তি গরু-ছাগলের মালিক হয়ে এর হাক্ব (যাকাত) আদায় করে না ক্বিয়ামাতের দিন তাকে সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলা হবে।তার সব গরু ও ছাগলকে (ওখানে আনা হবে) একটুও কম-বেশি হবে না। গরু-ছাগলের শিং বাঁকা কিংবা ভঙ্গ হবে না। শিং ছাড়াও কোনটা হবে না। এসব গরু ছাগল শিং দিয়ে মালিককে গুতো মারতে থাকবে,খুর দিয়ে পিষবে। এভাবে একদলের পর আর একদল আসবে। এ সময়ের মেয়াদও হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এর মধ্যে বান্দার হিসাব-নিকাশ হয়ে যাবে। তারপর ঐ ব্যক্তি জান্নাত অথবা জাহান্নামে তার গন্তব্য দেখতে পাবে।সহাবীগণ আরয করলেন,হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়ার অবস্থা কি হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ঘোড়া তিন প্রকারের।প্রথমতঃ যা মানুষের জন্য গুনাহের কারণ হয়।দ্বিতীয়তঃ যা মানুষের জন্য পর্দা।আর তৃতীয়তঃ মানুষের জন্য সাওয়াবের কারণ।গুনাহের কারণ ঘোড়া হলো ঐ মালিকের,যেগুলোকে সে মুসলিমদের ওপর গৌরব,অহংকার ও শৌর্যবীর্য দেখাবার জন্য পালন করে। আর যেগুলো মালিক-এর জন্য পর্দা হবে,সেগুলো ঐ ঘোড়া,যে সবের ঘোড়ার মালিক আল্লাহর পথে লালন পালন করে। সেগুলোর পিঠ ও গর্দানের ব্যাপারে আল্লাহর হাক্ব ভুলে যায় না।মানুষের জন্য সাওয়াবের কারণ ঘোড়া ব্যক্তির যে মালিক আল্লাহর পথের মুসলিমদের জন্য তা’ পালে। এদেরকে সবুজ মাঠে রাখে। এসব ঘোড়া যখন আসে ও চারণ ভুমিতে ঘাস খায়,তখন ওই (ঘাসের সংখ্যার সমান) সাওয়াব তার মালিক-এর জন্য লিখা হয়। এমনকি এদের গোবর ও পেশাবের পরিমাণও তার জন্য সাওয়াব হিসেবে লিখা হয়।সেই ঘোড়া রশি ছিঁড়ে যদি এক বা দুইটি ময়দান দৌড়ে ফিরে,তখন আল্লাহ তা’য়ালা এদের কদমের চিহ্ন ও গোবরের (যা দৌড়াবার সময় করে) সমান সাওয়াব তার জন্য লিখে দেন। এসব ঘোড়াকে পানি পান করাবার জন্য নদীর কাছে নেয়া হয়,আর নদী হতে পানি পান করে,তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা ঘোড়াগুলোর পান করা পানির পরিমাণ সাওয়াব ওই ব্যক্তির জন্য লিখে দেন। যদি মালিক-এর পানি পান করাবার ইচ্ছা নাও থাকে।সহাবীগণ আরয করলেন,হে আল্লাহর রাসূল! গাধার ব্যাপারে কি হুকুম? তিনি বললেন গাধার ব্যাপারে আমার ওপর কোন হুকুম নাযিল হয়নি। সকল নেক কাজের ব্যাপারে এ আয়াতটিই যথেষ্ট “যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ নেক ‘আমাল করবে তা সে দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ বদ ‘আমাল করবে তাও সে দেখতে পাবে”- (সূরাহ্ আয্ যিলযাল ৯৯ : ৭-৮)।[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৯৮৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৪১৮, সহীহ আত্ তারগীব ৭৫৪, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৭২৯।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭৪-[৩]
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ اتَاهُ اللّهُ مَالًا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَه مُثِّلَ لَه مَالُه شُجَاعًا أَقْرَعَ لَه زَبِيْبَتَانِ يُطَوَّقُه يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ - يَعْنِىْ بِشِدْقَيْهِ - يَقُولُ: أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ». ثُمَّ تَلَا هذِه الْايَة: ﴿وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَا اتَاهُمُ اللّهُ مِنْ فَضْلِه﴾. [آل عمران 3 : 180]. إِلى اخر الْايَة. رَوَاهُ البُخَارِيُّ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন,অথচ সে ঐ ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করেনি,সে ধন-সম্পদকে ক্বিয়ামাতের দিন টাকমাথা সাপে পরিণত হবে। এ সাপের দুইচোখের উপর দুইটি কালো দাগ থাকবে (অর্থাৎ বিষাক্ত সাপ)। এরপর ঐ সাপ গলার মালা হয়ে ব্যক্তির দুইচোয়াল আঁকড়ে ধরে বলবে,আমিই তোমার সম্পদ,আমি তোমার সংরক্ষিত ধন-সম্পদ। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন,অর্থাৎ “যারা কৃপণতা করে,তারা যেন মনে না করে এটা তাদের জন্য উত্তম বরং তা তাদের জন্য মন্দ। ক্বিয়ামতের দিন অচিরেই যা নিয়ে তারা কৃপণতা করছে তা তাদের গলায় বেড়ী করে পরিয়ে দেয়া হবে”। (সূরাহ্ আল ‘ইমরান ৩ : ১৮০) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (বুখারী) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪০৩, আহমাদ ৮৬৬১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩১১৩, সহীহ আত্ তারগীব ৭৬১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৬০।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭৫-[৪]
عَنْ أَبِىْ ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يَكُونُ لَه إِبِلٌ أَوْ بَقَرٌ أَوْ غَنَمٌ لَا يُؤَدِّىْ حَقَّهَا إِلَّا أَتى بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا يَكُوْنُ وَأَسْمَنَه تَطَؤُه بِأَخْفَافِهَا وَتَنْطِحُه بِقُرُوْنِهَا كُلَّمَا جَازَتْ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا حَتّى يُقْضى بَيْنَ النَّاسِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির উট,গরু ও ছাগল থাকবে,আর সে এসবের হাক্ব (যাকাত) আদায় করবে না। ক্বিয়ামাতের দিন এসব জন্তু খুব তরতাজা মোটাসোটা করে আনা হবে এবং তারা তাদের পা দিয়ে তাদের পিষবে। তাদের শিং দিয়ে গুতোবে। শেষ দলটি পিষে যাবার পর আবার প্রথম দলটি আসবে হিসাব-নিকাশ হওয়া পর্যন্ত (এভাবে চলতে থাকবে)। (বুখারী,মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪৬০, মুসলিম ৯৯০, আত্ তিরমিযী ৬১৭, নাসায়ী ২৪৪০, আহমাদ ২১৪৯১।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭৬-[৫]
وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدُ اللّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: إِذا أَتَاكُمُ الْمُصَدِّقُ فَلْيَصْدُرْ عَنْكُمْ وَهُوَ عَنْكُمْ رَاضٍ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
বর্ণনাকারী জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী যখন তোমাদের নিকট যাকাত আদায় করতে আসে তখন যেন তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে (যাকাত উসূল করে) ফিরে যায়। আর তোমরাও যেন সন্তুষ্ট ও খুশী থাকো। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৯৮৯, নাসায়ী ২৪৬১, আহমাদ ১৯১৮৭।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭৭-[৬]
وَعَنْ عَبْدُ اللّهِ بْنِ أَبِىْ أَوْفى رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ: اللّهُمَّ صَلِّى عَلى الِ فلَانٍ . فَأَتَاهُ أَبِىْ بِصَدَقَتِه فَقَالَ: اللّهُمَّ صَلِّ عَلى ال أَبِىْ أوْفى. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)وَفِي رِوَايَة: إِذا أَتَى الرَّجُلُ النَّبِيَّ بِصَدَقَتِه قَالَ: اللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)
কোন ক্বওম নবী (ﷺ)-এর কাছে তাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলতেন,“আল্ল-হুম্মা স-ল্লি ‘আলা- আ-লি ফুলা-ন” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ওপর রহ্মাত বর্ষণ করো)। আমার পিতাও যখন তার নিকট যাকাত নিয়ে এলেন তিনি বললেন,“আল্ল-হুম্মা সল্লি ‘আলা- আ-লি আবী আওফা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবূ আওফা ও তার বংশধরদের ওপর রহ্মাত বর্ষণ করো)। (বুখারী,মুসলিম) [১] অন্য এক বর্ণনায় এসেছে,যখন কোন ব্যক্তি তার নিজের যাকাত নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসতেন,তিনি বলতেন, اَللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ “হে আল্লাহ! এ ব্যক্তির ওপর রহ্মাত বর্ষণ করো।”
[১] সহীহ : বুখারী ১৪৯৭, ৬৩৫৯, মুসলিম ১০৭৮, আবূ দাঊদ ১৫৯০, নাসায়ী ২৪৫৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৬৫৭, ইরওয়া ৮৫৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৬৪৩।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭৮-[৭]
عَن أَبِىْ هُرَيْرَةَ. قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ عُمَرَ عَلَى الصَّدَقَةِ. فَقِيلَ: مَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَالْعَبَّاسُ. فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلَّا أَنَّه كَانَ فَقِيْرًا فَأَغْنَاهُ اللّهُ وَرَسُولُه. وَأَمَّا خَالِدٌ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا. قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَه وَأَعَتُدَه فِىْ سَبِيلِ اللّهِ. وَأَمَّا الْعَبَّاسُ فَهِيَ عَلَيَّ. وَمِثْلُهَا مَعَهَا» . ثُمَّ قَالَ: «يَا عُمَرُ أَمَا شَعَرْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوَ أَبِيْهِ؟». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাকাত আদায়ের জন্য উমর (রাঃ)-কে পাঠালেন। কেউ এসে খবর দিলো যে,ইবনু জামিল,খালিদ ইবনু ওয়ালীদ আর ‘আব্বাস (রাঃ) যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইবনু জামিল এজন্য যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন যে,(প্রথম দিকে) গরীব ছিল। এরপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে সম্পদশালী করেছেন। আর খালিদ ইবনু ওয়ালীদ-এর ব্যাপার হলো,তোমরা তার ওপর যুল্ম করছ। সে তো তার যুদ্ধসামগ্রী আল্লাহর পথে ওয়াক্ফ করে দিয়েছে (কাজেই তোমরা তার শুধু এ বছরই নয় বরং) এ রকম (আগামী বছর)ও। এরপর থাকে ‘আব্বাস-এর বিষয়। তার এ বছরের যাকাত এবং এর সমপরিমাণ আমার দায়িত্বে। অতঃপর তিনি বললেন,হে উমর! তুমি কি জানো না কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার মতই। (বুখারী,মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪৬৮, মুসলিম ৯৮৩, নাসায়ী ২৪৬৪, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৩৩০, ইবনু হিব্বান ৩২৭৩, আহমাদ ৮২৮৪, দারাকুত্বনী ২০০৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৯১৬।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৭৯-[৮]
عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ: اسْتَعْمَلَ النَّبِيُّ ﷺ رَجُلًا مِنَ الْأَزْدِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ الْلُتْبِيَّةِ الْأُتْبِيَّةِ عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ: هذَا لَكُمْ وَهذَا أُهْدِيَ لِىْ فَخَطَبَ النَّبِيُّ ﷺ فَحَمِدَ اللّهَ وَأُثْنى عَلَيْهِ وَقَالَ: «أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّىْ أَسْتَعْمِلُ رِجَالًا مِنْكُمْ عَلى أُمُوْرٍ مِمَّا وَلَانِي اللهُ فَيَأْتِىْ أَحَدُكُم فَيَقُوْلُ: هذَا لَكُمْ وَهذَا هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِىْ فَهَلَّا جَلَسَ فِىْ بَيْتِ أَبِيْهِ أَوْ بَيْتِ أُمِّه فَيَنْظُرُ أَيُهْدى لَه أَمْ لَا؟ وَالَّذِىْ نَفْسِىْ بِيَدِه لَا يَأْخُذُ أَحَدٌ مِنْهُ شَيْئًا إِلَّا جَاءَ بِه يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُه عَلى رَقَبَتِه إِنْ كَانَ بَعِيْرًا لَه رُغَاءٌ أَوْ بَقْرًا لَه خُوَارٌ أَوْ شَاةً تَيْعَرُ» ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتّى رَأَيْنَا عُفْرَةَ إِبِطَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «اللّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللّهُمَّ هَل بَلَّغْتُ» . قَالَ الْخَطَّابِيُّ: وَفِىْ قَوْلِه: «هَلَّا جَلَسَ فِي بَيْتِ أُمِّه أَوْ أَبِيهِ فَيَنْظُرُ أَيُهْدى إِلَيْهِ أَمْ لَا؟» دَلِيْلٌ عَلى أَنَّ كُلَّ أَمْرٍ يُتَذَرَّعُ بِه إِلى مَحْظُورٍ فَهُوَ مَحْظُورٌ وَكُلٌّ دَخَلَ فِي الْعُقُودِ يُنْظَرُ هَلْ يَكُونُ حُكْمُه عِنْدَ الِانْفِرَادِ كَحُكْمِه عِنْدَ الِاقْتِرَانِ أَمْ لَا؟ هَكَذَا فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ. (مُتَّفق عَلَيْهِ)
বর্ণনাকারী আবূ হুমায়দ আস্ সা‘ইদী (রহঃ)
একবার নবী (ﷺ) আয্দ গোত্রের ইবনুল লুত্বিয়াহ্ নামক ব্যক্তিকে যাকাত আদায় করার জন্য কর্মকর্তা নিযুক্ত করলেন। সে (যাকাত উসূল করে) মাদীনায় ফিরে এসে (মুসলিমদের নিকট) বলতে লাগল,এ পরিমাণ সম্পদ তোমাদের (যাকাত হিসেবে উসূল হয়েছে,তোমরা এর হাক্বদার)। আর এ পরিমাণ সম্পদ তুহফা হিসেবে আমাকে দেয়া হয়েছে (এটা আমার হাক্ব)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এসব কথা শুনে) লোকদের উদ্দেশে হাম্দ ও সানা পড়ে খুতবাহ্ দিলেন।তিনি (খুতবায়) বললেন,তোমাদের কিছু লোককে আমি ওসব কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছি যেসব কাজের জন্য আল্লাহ আমাকে হাকিম বানিয়েছেন। এখন তোমাদের এক ব্যক্তি এসে বলছে,এটা (যাকাত) তোমাদের জন্য,আর এটা হাদিয়্যাহ্। এ হাদিয়্যাহ্ আমাকে দেয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করো,সে ব্যক্তি তার পিতা অথবা মাতার বাড়িতে বসে রইল না কেন? তখন সে দেখত (তুহফা দানকারীরা) তাকে তার বাড়ীতেই তুহফা পৌঁছে দিয়ে যেত কিনা? ঐ মহান সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন। তোমাদের যে ব্যক্তি যে কোন জিনিস তদ্রুপ করবে তা ক্বিয়ামাতের দিন তার গর্দানের উপর বহন করে নিয়ে আসবে। যদি তা উট হয় তাহলে তার আওয়াজ উটের আওয়াজ হবে। যদি তা গরু হয় তাহলে তার আওয়াজ গরুর আওয়াজ হবে। যদি তা বকরী হয় তাহলে বকরীর আওয়াজ হবে। (অর্থাৎ দুনিয়ার কোন জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করলে,তা ক্বিয়ামাতের দিন তার ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কথা বলতে থাকবে)। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দুইহাত এত উপরে উঠালেন যে,আমরা তার বগলের নিচের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। এরপর তিনি বললেন,হে আল্লাহ! আমি মানুষের কাছে কি তা পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি (তোমার কথা) কি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি? (বুখারী,মুসলিম)[১]রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী,“তাকে জিজ্ঞেস করো,সে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার বাড়িতে বসে থাকল না কেন? তখন সে দেখত তুহফা তার বাড়ীতে পৌঁছে দিয়ে যায় কিনা?” এ সম্পর্কে খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেন,এ বাণী এ কথারই দলীল যে,কোন হারাম কাজের জন্য যে জিনিসকে উপায় বা ওয়াসিলা বানানো হয় সে উপায়ে বা ওয়াসিলাও হারাম। আরো বলা যায়,কোন একটি ব্যাপারকে অন্য একটি ব্যাপারের সাথে (যেমন-বেচাকেনা,বিয়ে-শাদী ইত্যাদি) সম্পর্কিত করলে দেখতে হবে,সে ব্যাপারগুলোর কোন পৃথক পৃথক হুকুম এদের এক সাথে সম্পর্কিত হুকুমের সদৃশ কি-না। হলে তা জায়িয। আর না হলে না জায়িয। (শারহুস্ সুন্নাহ্)
[১] সহীহ : বুখারী ৭১৭৪, মুসলিম ১৮৩২, আবূ দাঊদ ২৯৪৬, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ২১৯৬২, আহমাদ ২৩৫৯৮, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৩৩৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৬৬৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৬৮।
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৮০-[৯]
وَعَنْ عَدِيِّ بْنِ عُمَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ مِنْكُم عَلى عَمَلٍ فَكَتَمَنَا مِخْيَطًا فَمَا فَوْقَه كَانَ غُلُولًا يَأْتِىْ بِه يَوْم الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
বর্ণনাকারী আদী ইবনু ‘উমায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের কাউকে কোন কাজের জন্য (যাকাত ইত্যাদি উসূল করার জন্য) নিয়োগ করলে,সে যদি একটি সূঁচ সমান বা এর চেয়ে ছোট বড় কোন জিনিস গোপন করে তা খিয়ানাত হবে। ক্বিয়ামাতের দিন তা (লাঞ্ছনা সহকারে) আনা হবে। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৮৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০৪৭৫, ইবনুর আবী শায়বাহ্ ২১৯৬৩, সহীহ আত্ তারগীব ৭৮১, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬০২৪।
৬/০. অধ্যায়ঃ
যাকাত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ
হাদিস নং ১৭৮১-[১০]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ ﴿وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ﴾ [التوبة 9 : 34] كَبُرَ ذلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ. فَقَالَ عُمَرُ أَنَا أُفَرِّجُ عَنْكُمْ فَانْطَلَقَ. فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللّهِ قَدْ كَبُرَ عَلى أَصْحَابِكَ هذِهِ الْايَةُ. فَقَالَ نَبِيُّ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ اللّهَ لَمْ يَفْرِضِ الزَّكَاةَ إِلَّا لِيُطَيِّبَ بهَا مَا بَقِيَ مِنْ أَمْوَالِكُمْ وَإِنَّمَا فَرَضَ الْمَوَارِيْثَ وَذَكَرَ كَلِمَةً لِتَكُوْنَ لِمَنْ بَعْدَكُمْ قَالَ فَكَبَّرَ عُمَرُ. ثُمَّ قَالَ لَه: «أَلَا أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفِظَتْهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
যখন এ আয়াত, وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ অর্থাৎ “যেসব লোক সোনা-রূপা জমা করে রাখে”-(সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩৪) আয়াতের শেষ পর্যন্ত নাযিল হল তখন সহাবীগণ চিন্তিত হয়ে পড়ল। উমর (রাঃ) বলেন,আমি তোমাদের এ দুশ্চিন্তা নিরসন করে দিচ্ছি। তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলেন। তাঁকে বললেন,হে আল্লাহর নবী! এ আয়াত তো আপনার সাথীদের জন্য ভারি বোঝা হয়েছে। (এ কথা শুনে) নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা (সকল ব্যয় নির্বাহের পর) অবশিষ্ট মাল পবিত্র করার ব্যবস্থা স্বরূপ তোমাদের ওপর যাকাত ফার্য করেছেন। আল্লাহ তা’আলা এজন্যই ওয়ারিস ঠিক করে দিয়েছেন। এরপর তিনি এ বাক্য উল্লেখ করলেন,যেন তোমাদের পরবর্তীরা যাতে এ মালের মালিক হয়ে যায়। ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন,এ কথা শুনে উমর ‘আল্ল-হু আকবার’ বলে উঠলেন।তারপর তিনি (ﷺ) উমরকে বললেন,আমি কি তোমাকে মানুষের সবচেয়ে উত্তম গচ্ছিত বস্তু সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হলো চরিত্রবান স্ত্রী। স্বামী যখন তার প্রতি দৃষ্টিপাত করবে খুশী হয়ে যাবে,তাকে কোন হুকুম করলে পালন করবে,সে ঘরে না থাকলে তার ধন-সম্পদের সুরক্ষা করবে। (আবূ দাঊদ) [১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১৬৬৪, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৮৭। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, হাদীসটির সানাদ বাহ্যিকভাবে সহীহ হলেও মূলত তা মা‘লুল। কারণ গায়লান এবং জা‘ফার ইবনু ইয়াস-এর মধ্যে অনুল্লোখিত একজন রাবী রয়েছে তিনি ‘উসমান আবুল ইয়াক্বযান যিনি একজন দুর্বল রাবী।