বিবাহ

১৩/০. অধ্যায়ঃ

বিবাহ - প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮০-[১]

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ»

বর্ণনাকারী ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন অবশ্যই বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি অবনত করে ও লজ্জাস্থানের অধিক অধিক হিফাযাত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম (রোযা) রাখে। কেননা, সাওম তার জন্য ঢালস্বরূপ (অর্থাৎ- অবৈধ যৌনচাহিদা থেকে বিরত রাখে)। (বুখারী ও মুসলিম)

[১] সহীহ : বুখারী ৫০৬৬, মুসলিম ১৪০০, নাসায়ী ৩২১০, তিরমিযী ১০৮১, আহমাদ ৪০২৩, ইরওয়া ১৭৮১, সহীহ আল জামি‘ ৭৯৭৫।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮১-[২]

وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: رَدَّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عُثْمَان ابْن مَظْعُونٍ التَّبَتُّلَ وَلَوْ أَذِنَ لَهُ لَاخْتَصَيْنَا

বর্ণনাকারী সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেন উসমান ইবনু মায়ূ’উন (রাঃ)-এর বিবাহ না করার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করার। যদি তিনি (ﷺ) -ও তাঁকে এরূপ অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরা সকলে খোজা বা খাসি হয়ে যেতাম।

[১] সহীহ : বুখারী ৫০৭৩, মুসলিম ১৪০২, নাসায়ী ৩২১২, তিরমিযী ১০৮৩, ইবনু মাজাহ ১৮৪৩, আহমাদ ১৫১৪, দারিমী ২২১৩।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮২-[৩]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَات الدّين تربت يداك

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : (মূলত) চারটি গুণের কারণে নারীকে বিবাহ করা হয়- নারীর ধন-সম্পদ, অথবা বংশ-মর্যাদা, অথবা রূপ-সৌন্দর্য, অথবা তার ধর্মভীরুর কারণে। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন) সুতরাং ধর্মভীরুকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহ করে সফল হও। আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমার দু' হাত ধূলায় ধূসরিত হোক (ধর্মভীরু মহিলাকে প্রাধান্য না দিলে ধ্বংস অবধারিত)।

[১] সহীহ : বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ী ৩২৩০, আবূ দাঊদ ২০৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৫৮, আহমাদ ৯৫২১, ইরওয়া ১৭৮৩, সহীহ আল জামি‘ ৩০০৩।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮৩-[৪]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدُّنْيَا كُلُّهَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَة الصَّالِحَة» . رَوَاهُ مُسلم

বর্ণনাকারী ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : দুনিয়ার সমস্ত কিছুই (তুচ্ছ ও ক্ষণস্থায়ী) ধন-সম্পদ। (তন্মধ্যে) মুসলিম সতীসাধ্বী রমণী সর্বশ্রেষ্ঠ ধন।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৪৬৭, নাসায়ী ৩২৩২, আহমাদ ৬৫৬৭, সহীহ আল জামি‘ ৩৪১৩।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮৪-[৫]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ نسَاء ركبن الْإِبِل صَالح نسَاء قُرَيْش أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ»

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : উট আরোহণকারিণীদের মধ্যে সর্বোত্তম নারী কুরায়শ বংশের নারীগণ, তারা শৈশবকালে সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহপরায়ণা হয় এবং স্বামীর ধন-সম্পদের উত্তম রক্ষণাবেক্ষণকারিণী হয়।

[১] সহীহ : বুখারী ৫০৮২, মুসলিম ২৫২৭, সহীহাহ্ ১০৫২, সহীহ আল জামি‘ ৩৩২৯।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮৫-[৬]

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ من النِّسَاء»

বর্ণনাকারী উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমার (ইন্তিকালের) পরে আমার উম্মাতের পুরুষদের জন্য নারী অপেক্ষা অধিক ফিতনার শঙ্কা আর কিছুতেই রেখে যাইনি।

[১] সহীহ : বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম ২৭৪০, তিরমিযী ২৭৮০, ইবনু মাজাহ ৩৯৯৮, সহীহাহ্ ২৭০১, সহীহ আল জামি‘ ৫৫৯৭।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮৬-[৭]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاء» . رَوَاهُ مُسلم

বর্ণনাকারী আবূ সা'ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : দুনিয়া হলো চিত্তাকর্ষক সবুজের সমারোহ। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমরা কিরূপে আ'মাল কর। সুতরাং (দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে) আল্লাহর ভয় কর এবং নারীদের ব্যাপারে সাবধান থাক। কেননা, বানী ইসরাঈলদের মধ্যে সর্বপ্রথম নারীদের মধ্যেই ফিতনাহ সংঘটিত হয়েছিল।

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭৪২, তিরমিযী ২১৯১, ইবনু মাজাহ ৪০০০।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮৭-[৮]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الشُّؤْمُ فِي الْمَرْأَةِ وَالدَّارِ وَالْفَرَسِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: الشُّؤْمُ فِي ثَلَاثَة: فِي الْمَرْأَة والمسكن وَالدَّابَّة

বর্ণনাকারী ইবনু 'উমার (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : অকল্যাণ নিহিত রয়েছে নারী ও আরোহণে (গাড়িতে)। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, অকল্যাণ তিন প্রকার জিনিসে- নারী, বাড়িতে ও আরোহণে (চতুস্পদ জন্তু হতে)।

[১] সহীহ : বুখারী ৫০৯৩, মুসলিম ২২২৫, নাসায়ী ৩৫৬৮, তিরমিযী ২৮২৪, আবূ দাঊদ ৩৯২২, আহমাদ ৬৪০৫, সহীহ আল জামি‘ ৩৭২৭।

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮৮-[৯]

وَعَنْ جَابِرٍ: قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ فَلَمَّا قَفَلْنَا كُنَّا قَرِيبًا مِنَ الْمَدِينَةِ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بعرس قَالَ: «تَزَوَّجْتَ؟» قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: «أَبِكْرٌ أَمْ ثَيِّبٌ؟» قُلْتُ: بَلْ ثَيِّبٌ قَالَ: «فَهَلَّا بِكْرًا تلاعبها وتلاعبك» . فَلَمَّا قدمنَا لِنَدْخُلَ فَقَالَ: «أَمْهِلُوا حَتَّى نَدْخُلَ لَيْلًا أَيْ عشَاء لكَي تمتشط الشعثة وتستحد المغيبة»

বর্ণনাকারী জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ)

আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে এক যুদ্ধে শারীক ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে ফেরার সময়) যখন আমরা মাদীনার নিকটবর্তী হলাম, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন সদ্যবিবাহিত। তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বিবাহ করেছ! উত্তরে বললাম, জী হ্যাঁ। (পুনরায়) তিনি (ﷺ) বললেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললাম, বিধবা। তিনি (ﷺ) বললেন, কুমারী বিবাহ করলে না কেন? তাহলে তুমিও তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে এবং সেও তোমার সাথে মন খুলে আমোদ-প্রমোদ করত। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা যখন মাদীনায় পৌঁছলাম, তখন আমরা নিজ ঘরে প্রবেশে উদ্যত হলাম। তখন তিনি (ﷺ) বলেছেন : থাম! রাত (সন্ধ্যা) পর্যন্ত অপেক্ষা কর (এখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করো না), আমরা রাতে নিজ নিজ ঘরে প্রবেশ করব। কেননা স্ত্রী তার অবিন্যস্ত চুল আঁচড়ে (পরিপাটি হতে) নিতে পারে এবং স্বামী বিচ্ছিন্না (প্রবাসী স্বামীর) নারী ক্ষুর ব্যবহার করে অবসর হয় (অর্থাৎ- নাভির নীচের চুল পরিষ্কার করে নিতে পারে)।

[১] সহীহ : বুখারী ৫২৪৭, মুসলিম ৭১৫, আবূ দাঊদ ২০৪৮, নাসায়ী ৩২১৯, তিরমিযী ১১০০, দারিমী ২২৬২, ইরওয়া ১৭৮৫, সহীহ আল জামি‘ ৪২৩৩।

১৩/০. অধ্যায়ঃ

বিবাহ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ

হাদিস নং ৩০৮৯-[১০]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثَلَاثَةٌ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَوْنُهُمْ: الْمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الْأَدَاءَ وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ الْعَفَافَ وَالْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই সাহায্য করেন। (প্রথমত) ক্রীতদাস- যে তার মুক্তিপণ পরিশোধ করে স্বাধীন হতে চায়। (দ্বিতীয়ত) বিবাহ উদ্যমী ব্যক্তি- যে স্বীয় চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশে হয়। (তৃতীয়ত) মুজাহিদ- যে আল্লাহর পথে জিহাদ করে।

[১] সহীহ : তিরমিযী ১৬৫৫, ইবনু মাজাহ ২৫১৮, নাসায়ী ৩২১৮।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18