সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার

৪৫/১. অধ্যায়ঃ

মাতাপিতার প্রতি সদাচরণ এবং তাঁরা দুইজনই এর বেশি হকদার।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫২

حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ الله! مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي؟ قَالَ: «أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: «أُمُّكَ» قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ «ثُمَّ أَبُوكَ» .

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার কাছে কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেনঃ তোমার মা। লোকটি বললঃ তারপর কে? নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার মা। সে বললঃ তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বললঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ তারপর তোমার আব্বা।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮ : আদব-আচার, অধ্যায় ২, হাঃ ৫৯৭১; মুসলিম, পর্ব ৪৫: সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ১, হাঃ ২৫৪৮

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫৩

حَديثُ عَبْدِ الله بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما، قَالَ: جاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَأْذَنَهُ فِي الجِهَادِ. فَقَالَ: «أَحَيُّ وَالِدَاكَ؟» قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: «فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ» .

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)

এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে জিহাদে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বললেন, তোমার পিতামাতা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেন, ‘তবে তাঁদের খিদমতের চেষ্টা কর।’

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ১৩৮, হাঃ ৩০০৪; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ১, হাঃ ২৫৪৯

৪৫/২. অধ্যায়ঃ

নফল সালাত বা এ জাতীয় ইবাদতের উপর মাতাপিতার প্রতি সদাচরণকে অগ্রাধিকার দেয়া।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫৪

حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَمْ يَتَكَلَّمْ فِي المَهْدِ إِلاَّ ثَلاَثَةٌ: عِيساى.وَكَانَ فِي بَنِي إِسْرَائيلَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: جُرَيْجٌ، كَانَ يُصَلِّي. جَاءَتْهُ أُمُّهُ فَدَعَتْه، فَقَالَ: أُجِيبُهَا أَوْ أُصلِّي؟ فَقَالَتْ: اللهُمَّ! لاَ تُمِتْهُ حَتَّى تُرِيَهُ وُجُوهَ المُومِسَاتِ. وَكَانَ جُرَيْجٌ فِي صَوْمَعَتِهِ، فَتَعَرَّضَتْ لَهُ امْرَأَةٌ، وَكَلَّمَتْهُ، فَأَبى. فَأَتَتْ رَاعِيًا، فَأَمْكَنَتْهُ مِنْ نَفْسِهَا، فَوَلَدَتْ غُلاَمًا. فَقَالَتْ: مِنْ جُرَيْجٍ. فَأَتَوْهُ فَكَسَرُوا صَوْمَعَتَهُ، وَأَنْزَلُوهُ، وَسَبُّوهُ. فَتَوَضَّأَ وَصَلُّى. ثُمَّ أَتى الغُلاَمَ. فَقَالَ: مَنْ أَبُوكَ يَا غُلاَمُ؟ قَالَ: الرَّاعِي. قَالوا: نَبْنِي صَوْمَعَتَكَ مِنْ ذَهَبٍ. قَالَ: لاَ. إِلاَّ مِنْ طِينٍ.وَكَانَتِ امْرَأَة تُرضِعُ ابْنًا لَهَا، مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ. فَمَرَّ بِهَا رَجُلٌ رَكِبٌ ذو شَارَةٍ. فَقَالَت: اللهُمَّ! اجْعَلِ ابْنِي مِثْلَهُ. فَتَرَكَ ثَدْيَهَا وَأَقْبَلَ عَلَى الرَّاكِبِ، فَقَالَ: اللهُمَّ! لاَ تَجْعَلْنِي مِثْلَهُ. ثُمَّ أَقْبَل عَلَى ثَدْيِهَا يَمَصُّهُ» .قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: كَأَنِّي أَنْظر إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَمَصُّ إِصْبَعَهُ [ص: 187] .«ثمَّ مُرَّ بِأَمَةٍ. فَقَالَتْ: اللهُمَّ! لاَ تَجْعَلِ ابْنِي مِثْلَ هاذِهِ. فَتَركَ ثَدْيَهَا، فَقَالَ: اللهُمَّ! اجْعَلْنِي مِثْلَهَا فَقَالَتْ: لِمَ ذَاكَ؟ فَقَالَ: الرَّاكِبُ جَبَّارٌ مِنَ الجَبَابِرَةِ. وَهاذِهِ الأَمَةُ، يَقُولُونَ: سَرَقْتِ، زَنَيْتِ. وَلَمْ تَفْعَلْ» .

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেন, তিনজন শিশু ছাড়া আর কেউ দোলনায় থেকে কথা বলেনি। বানী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি যাকে ‘জুরাইজ’ নামে ডাকা হতো।একদা ‘ইবাদাতে রত থাকা অবস্থায় তার মা এসে তাকে ডাকল। সে ভাবল আমি কি তার ডাকে সাড়া দেব, না সলাত আদায় করতে থাকব। তার মা বলল, হে আল্লাহ্! ব্যভিচারিণীর মুখ না দেখা পর্যন্ত তুমি তাকে মৃত্যু দিও না। জুরাইজ তার ‘ইবাদাত খানায় থাকত।একবার তার নিকট একটি নারী আসল। তার সঙ্গে কথা বলল। কিন্তু জুরাইজ তা অস্বীকার করল। অতঃপর নারীটি একজন রাখালের নিকট গেল এবং তাকে দিয়ে মনোবাসনা পূর্ণ করল। পরে সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো। এটি কার থেকে? স্ত্রী লোকটি বলল, জুরাইজ থেকে। লোকেরা তার নিকট আসল এবং তার ‘ইবাদাতখানা ভেঙ্গে দিল। আর তাকে নীচে নামিয়ে আনল ও তাকে গালি গালাজ করল। তখন জুরাইজ ওজু সেরে ‘ইবাদাত করল।অতঃপর নবজাত শিশুটির নিকট এসে তাকে জিজ্ঞেস করল। হে শিশু! তোমার পিতা কে? সে জবাব দিল সেই রাখাল। তারা বলল, আমরা আপনার ‘ইবাদাতখানাটি সোনা দিয়ে তৈরি করে দিচ্ছি। সে বলল, না। তবে মাটি দিয়ে।বনী ইসরাঈলের একজন নারী তার শিশুকে দুধ পান করাচ্ছিল। তার কাছ দিয়ে একজন সুদর্শন পুরুষ আরোহী চলে গেল। নারীটি দু‘আ করল, হে আল্লাহ্! আমার ছেলেটি তার মত বানাও। শিশুটি তখনই তার মায়ের স্তন ছেড়ে দিল এবং আরোহীটির দিকে মুখ ফিরালো। আর বলল, হে আল্লাহ্! আমাকে তার মত কর না। অতঃপর মুখ ফিরিয়ে স্তন্য পান করতে লাগল।আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, নবী (ﷺ)-কে দেখতে পাচ্ছি তিনি আঙ্গুল চুষছেন।অতঃপর সেই নারীটির পার্শ্ব দিয়ে একটি দাসী চলে গেল। নারীটি বলল, হে আল্লাহ! আমার শিশুটিকে এর মত করো না। শিশুটি তাৎক্ষণিক তার মায়ের স্তন্য ছেড়ে দিল। আর বলল, হে আল্লাহ্! আমাকে তার মত কর। তার মা বলল, তা কেন? শিশুটি বলল, সেই আরোহীটি ছিল যালিমদের একজন। আর এ দাসীটির ব্যাপারে লোকে বলেছে তুমি চুরি করেছ, যিনা করেছ। অথচ সে (দাসীটি) কিছুই করেনি।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬০: নাবীগণের (আঃ) হাদীসসমূহ, অধ্যায় ৪৮, হাঃ ৩৪৩৬; মুসলিম, পর্ব ৪৫: সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ২, হাঃ ২৫৫০

৪৫/৬. অধ্যায়ঃ

আত্মীয়তার সম্পর্ক ও তা বিচ্ছিন্ন করা হারাম।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫৫

حَديثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رضيَ الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «خَلَقَ الله الخَلْقَ. فَلَمَّا فَرَغَ منْهُ، قَامَتِ الرَّحِمُ، فَأَخَذَتْ بِحَقُوِ الرَّحْمانِ، فَقَالَ لَهُ: مَهْ. قَالَتْ: هاذَا مَقَامُ العَائِذِ بِكَ مِنَ القَطِيعَةِ. قَالَ: أَلارَ تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلعى يَا رَبِّ! قَالَ: فَذَاكِ» .[ص: 188] قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: اقْرَؤُوا إِن شِئْتُمْ {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ} .

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন। এ থেকে তিনি নিস্ক্রান্ত হলে ‘রাহিম’ (রক্ত সম্পর্কে) দাঁড়িয়ে পরম করুণাময়ের আঁচল টেনে ধরল। তিনি তাকে বললেন, থামো। সে বলল, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী লোক থেকে আশ্রয় চাওয়ার জন্যই আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ্ বললেন, যে তোমাকে সম্পর্কযুক্ত রাখে, আমিও তাকে সম্পর্কযুক্ত রাখব; আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমিও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব এতে কি তুমি খুশী নও? সে বলল, নিশ্চয়ই, হে আমার প্রভু। তিনি বললেন, যাও তোমার জন্য তাই করা হল।আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ইচ্ছে হলে তোমরা পড়, “ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বাঁধন ছিন্ন করবে।”

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৪৭, হাঃ ৪৮৩০; মুসলিম, পর্ব ৪৫: সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৬, হাঃ ২৫৫৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫৬

حدِيثُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِم، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لاَ يَدْخُلُ الجَنَةَ قَاطِعٌ» .

বর্ণনাকারী যুবায়র ইবনু মুত‘ইম (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৮ ; আদব-আচার, অধ্যায় ১১, হাঃ ৫৯৮৪; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৬, হাঃ ২৫৫৬

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫৭

حَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ رِزْقُهُ، أَو يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ» .

বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৪ : ক্ৰয়-বিক্ৰয়, অধ্যায় ১৩, হাঃ ২০৬৭; মুসলিম, পর্ব ৪৫: সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৬, হাঃ ২৫৫৭

৪৫/৭. অধ্যায়ঃ

হিংসা, ঘৃণা ও কথা বলা নিষেধ।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫৮

حَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا. وَكُونُوا عِبَادَ الله إِخْوَاناً. وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ» .

বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করো না। তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র বান্দা ভাই ভাই হয়ে থেকো। কোন মুসলিমের জন্য তিন দিনের অধিক তার ভাইকে পরিত্যাগ করে থাকা জায়িয নয়।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৫৭, হাঃ ৬০৬৫; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৭, হাঃ ২৫৫৯

৪৫/৮. অধ্যায়ঃ

শরয়ী ওজর ব্যতীত কারো সাথে তিনদিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা হারাম।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৫৯

حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَحِل لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ. يَلْتَقِيَانِ، فَيُعْرِضُ هاذَا، وَيُعْرِضُ هاذَا. [ص: 190] وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ» .

বর্ণনাকারী আবূ আইউব আনসারী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য হালাল নয় যে, সে তার ভাই-এর সাথে তিন দিনের অধিক এমনভাবে সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে যে, দুইজনে সাক্ষাৎ হলেও একজন এদিকে আর অপরজন সে দিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের মধ্যে যে সর্বপ্রথম সালামের সূচনা করবে, সেই উত্তম ব্যক্তি।

সহীহ বুখারী, পূর্ব ৭৮; আদব-আচার, অধ্যায় ৬২, হাঃ ৬০৭৭; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৮, হাঃ ২৫৬০

৪৫/৯. অধ্যায়ঃ

কারো প্রতি খারাপ ধারণা করা, গোয়েন্দাগিরি করা, দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করা ও দালালি করা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৬০

حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَن رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ. وَلاَ تَحَسَّسُوا، وَلاَ تَجَسَّسُوا، وَلاَ تَنَاجَشُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَبَاغُضُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا. وَكُونوا عِبَادَ الله إِخْوَانًا» .

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে থেকো। কারণ অনুমান বড় মিথ্যা ব্যাপার। আর কারো দোষ অনুসন্ধান করো না, গোয়েন্দাগিরী করো না, একে অন্যকে ধোঁকা দিও না, আর পরস্পর হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করো না এবং পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করো না। বরং সবাই আল্লাহ্‌র বান্দা ভাই ভাই হয়ে থেকো।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৮৫, হাঃ ৬০৬৬; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ৯ হাঃ ২৫৬৩

৪৫/১৪. অধ্যায়ঃ

মুমিন ব্যক্তি কোন অসুখে পড়লে অথবা চিন্তাগ্রস্ত হলে অথবা এ জাতীয় কোন বিপদে পড়লে এমনকি যদি তার কাঁটাও ফুটে তাহলে এর বিনিময়ে তাকে সওয়াব দেয়া হবে।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৬৬১

حَدِيثُ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشَدَّ عَلَيْهِ الوَجَعُ مِنْ رَسُولِ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেয়ে অধিক রোগ যাতনা ভোগকারী অন্য কাউকে দেখিনি।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৫ : রুগী, অধ্যায় ২, হাঃ ৫৬৪৬; মুসলিম, পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ১৪, হাঃ ২৫৭০

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18