স্বপ্ন

৪২/০. অধ্যায়ঃ

স্বপ্ন

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৫৬

حديث أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: الرُّؤْيَا مِنَ اللهِ وَالْحُلُمُ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَنْفِثْ، حِينَ يَسْتَيْقِظ، ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، وَيَتَعَوّذْ مِنْ شَرِّهَا، فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ

বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ)

আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ ভাল স্বপ্ন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ মনে হয়, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর অনিষ্ট থেকে পানাহ চায়। কেননা, তা হলে এ তার কোন ক্ষতি করবে না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৬ : চিকিৎসা, অধ্যায় ৩৯, হাঃ ৫৭৪৭; মুসলিম, পৰ্ব ৪২ : স্বপ্ন, অধ্যায় হাঃ ২২৬১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৫৭

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَان لَمْ تَكَدْ تَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ، وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন ক্বিয়ামাত নিকটবর্তী হয়ে যাবে তখন মু’মিনের স্বপ্ন খুব কমই অবাস্তবায়িত থাকবে। আর মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯১ ; স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা, অধ্যায় ২৬, হাঃ ৭০১৭; মুসলিম, পর্ব ৪২ : স্বপ্ন, অধ্যায় হাঃ ২২৬৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৫৮

حديث عُبَادَة بْنِ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ

বর্ণনাকারী ‘উবাদাহ ইব্‌নু সামিত (রাঃ)

তিনি বলেছেনঃ মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯১: স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা, অধ্যায় ৪, হাঃ ৬৯৮৭; মুসলিম, পর্ব ৪১ : স্বপ্ন, অধ্যায় হাঃ ২২৬৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৫৯

حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِين جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯১: স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা, অধ্যায় ৪, হাঃ ৬৯৮৭; মুসলিম, পর্ব ৪১ : স্বপ্ন, অধ্যায় হাঃ ২২৬৪

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৬০

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মু’মিনের স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯১: স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা, অধ্যায় ৪, হাঃ ৬৯৮৮; মুসলিম, পর্ব ৪২: স্বপ্ন, অধ্যায় হাঃ ২২৬৩

৪২/১. অধ্যায়ঃ

নবী (ﷺ)-এর বাণী: যে স্বপ্নে আমাকে দেখল সে প্রকৃতপক্ষেই আমাকে দেখল।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৬১

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَسَيَرَانِي فِي الْيَقَظَةِ، وَلاَ يَتَمَثَّلُ الشَّيْطَانُ بِي

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে সে অচিরেই জাগ্রতাবস্থায়ও আমাকে দেখবে। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯১ : স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা, অধ্যায় ১০, হাঃ ৬৯৯৩; মুসলিম, পর্ব ৪২: স্বপ্ন, অধ্যায় ১, হাঃ ২২৬৬

৪২/৩. অধ্যায়ঃ

স্বপ্নের ব্যাখ্যা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৬২

حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً أَتى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ فِي الْمَنَامِ ظُلَّةً تَنْطُفُ السَّمْنَ وَالْعَسَلَ، فَأَرَى النَّاسَ يَتَكَفَّفُونَ مِنْهَا فَالْمُسْتَكْثِرُ وَالْمُسْتَقِلُّ وَإِذَا سَبَبٌ وَاصِلٌ مِنَ الأَرْضِ إِلَى السَّمَاءِ، فَأَرَاكَ أَخَذْتَ بِهِ فَعَلَوْتَ، ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَعَلاَ بِهِ، ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَعَلاَ بِهِ، ثُمَ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَانْقَطَعَ ثُمَّ وُصِلَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللهِ بِأَبى أَنْتَ، وَاللهِ لَتَدَعَنِّي فَأَعْبُرَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اعْبُرْ قَالَ: أَمَّا الظُّلَّةُ فَالإِسْلاَمُ، وَأَمَّا الَّذِي يَنْطُفُ مِنَ الْعَسَلِ وَالسَّمْنِ فَالْقُرْآن، حَلاَوَتُهُ تَنْطِفُ فَالْمُسْتَكْثِرُ مِنَ الْقُرْآنِ وَالْمُسْتَقِلُّ وَأَمَّا السَّبَبُ الْوَاصِلُ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ فَالْحَقُّ الَّذِي أَنْتَ عَلَيْهِ؛ تَأْخُذُ بِهِ فَيُعْلِيكَ اللهُ، ثُمَّ يَأْخُذُ بِهِ رَجُلٌ مِنْ بَعْدِكَ فَيَعْلُو بِهِ، ثُمَّ يَأْخُذُ رَجُلٌ آخَرُ فَيَعْلُو بِهِ ثُمَّ يَأْخُذُ رَجُلٌ آخَرُ فَيَنْقَطِعُ بِهِ، ثُمَّ يُوَصَّل لَهُ فَيَعْلُو بِهِ فَأَخْبِرْنِي، يَا رَسُولَ اللهِ، بِأَبِي أَنْتَ، [ص: 82] أَصَبْتُ أَمْ أَخْطَاْتُ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَصَبْتَ بَعْضًا وأَخطَأْتَ بَعْضًا قَالَ: فَوَاللهِ لَتُحَدِّثنِي بِالَّذِي أَخْطَأْتُ قَالَ: لاَ تُقْسِمْ

বর্ণনাকারী ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, আমি গত রাতে স্বপ্নে একখণ্ড মেঘ দেখতে পেলাম, যা থেকে ঘি ও মধু ঝরছে। আমি লোকদেরকে দেখলাম তারা তা থেকে তুলে নিচ্ছে। কেউ অধিক পরিমাণ আবার কেউ কম পরিমাণ। আর দেখলাম, একটা রশি যমীন থেকে আসমান পর্যন্ত মিলে রয়েছে। আমি দেখলাম আপনি তা ধরে উপরে চড়ছেন। তারপর অপর এক ব্যক্তি তা ধরল ও এর সাহায্যে উপরে উঠে গেল। এরপর আরেক জন তা ধরে এর দ্বারা উপরে উঠে গেল। এরপর আরেকজন তা ধরল। কিন্তু তা ছিঁড়ে গেল। পুনরায় তা জোড়া লেগে গেল। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান হোক! আল্লাহ্‌র কসম! আপনি অবশ্যই আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান করার সুযোগ দিবেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি এর ব্যাখ্যা প্রদান কর। আবূ বকর বললেন, মেঘের ব্যাখ্যা হল ইসলাম। আর তার থেকে যে ঘি ও মধু ঝরছে তা হল কুরআন যার সুমিষ্টতা ঝরছে। কুরআন থেকে কেউ অধিক আহরণ করছে, আর কেউ কম। আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত ঝুলন্ত রশিটি হচ্ছে ঐ হক (মহা সত্য) যার উপর আপনি প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। আপনি তা ধরবেন, আর আল্লাহ্ আপনাকে উচ্চে আরোহণ করাবেন। আপনার পরে আরেকজন তা ধরবে। ফলে এর দ্বারা সে উচ্চে আরোহণ করবে। অতঃপর আরেকজন তা ধরে এর মাধ্যমে সে উচ্চে আরোহণ করবে। এরপর আরেকজন তা ধরবে। কিন্তু তা ছিঁড়ে যাবে। পুনরায় তা জোড়া লেগে যাবে, ফলে সে এর দ্বারা উচ্চে আরোহণ করবে। হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)। আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। আমাকে বলুন, আমি ঠিক বলেছি, না ভুল? নবী (ﷺ) বললেনঃ কিছু তো ঠিক বলেছ। আর কিছু ভুল বলেছ। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ্‌র কসম! আপনি অবশ্যই আমাকে বলে দিবেন যা আমি ভুল করেছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ কসম দিও না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯১ : স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা, অধ্যায় ৪৭, হাঃ ৭০৪৬; মুসলিম, পূর্ব ৪২ : স্বপ্ন, অধ্যায় ৩, হাঃ ২২৬৯

৪২/৪. অধ্যায়ঃ

নবী (ﷺ)-এর স্বপ্ন।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৬৩

حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَرَانِي أَتَسَوَّكُ بِسِوَاكٍ، فَجَاءَنِي رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الآخَرِ فَنَاوَلْتُ السِّوَاكَ الأَصْغَرَ مِنْهُمَا، فَقِيلَ لِي كَبِّرْ، فَدَفَعْتُهُ إِلَى الأَكْبَرِ مِنْهُمَا

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি (স্বপ্নে) দেখলাম যে, আমি মিসওয়াক করছি। আমার নিকট দুই ব্যক্তি এলেন। একজন অপরজন হতে বয়সে বড়। অতঃপর আমি তাদের মধ্যে কনিষ্ঠ ব্যক্তিকে মিসওয়াক দিতে গেলে আমাকে বলা হলো, ‘বড়কে দাও’। তখন আমি তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে দিলাম। আবূ ‘আবদুল্লাহ বলেন, ‘নু‘আয়ম, ইবনুল মুবারাক সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৪ : উযূ, অধ্যায় ৭৪, হাঃ ২৪৬; মুসলিম, পর্ব ৪২: স্বপ্ন, অধ্যায় ৪, হাঃ ১২৭১

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৬৪

حديث أَبِي مُوسى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أُهَاجِرُ مِنْ مَكَّةَ إِلَى أَرْضٍ بِهَا نَخْلٌ، فَذَهَبَ وَهَلِي إِلَى أَنَّهَا الْيَمَامَةُ أَوْ هَجَرُ فَإِذَا هِيَ الْمَدِينَةُ، يَثْرِبُ وَرَأَيْتُ فِي رُؤْيَايَ هذِهِ أَنِّي هَزَزْتُ سَيْفًا فَانْقَطَعَ صَدْرُهُ، فَإِذَا هُوَ مَا أُصِيبَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، يَوْمَ أُحُدٍ ثُمَّ هَزَزْتُهُ بِأُخْرَى، فَعَادَ أَحْسَنَ مَا كَانَ، فَإِذَا هُوَ مَا جَاءَ اللهُ بِهِ مِنَ الْفَتْحِ وَاجْتِمَاعِ الْمُؤْمِنِينَ وَرَأَيْتُ فِيهَا بَقَرًا، وَاللهُ خَيْرٌ، فَإِذَا هُمُ الْمُؤْمِنُونَ يَوْمَ أُحُدٍ، وَإِذَا الْخَيْرُ مَا جَاءَ اللهُ، مِنَ الْخَيْرِ، وَثَوَابِ الصِّدْقِ الَّذِي آتَانَا اللهُ بَعْدَ يَوْمِ بَدْرٍ

বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি মাক্কাহ হতে হিজরাত করে এমন জায়গায় যাচ্ছি যেখানে বহু খেজুর গাছ রয়েছে। তখন আমার ধারণা হল, এ স্থানটি ইয়ামামা অথবা হাযর হবে। স্থানটি মাদীনাহ ছিল। যার পূর্বনাম ইয়াস্‌রিব। স্বপ্নে আমি আরো দেখতে পেলাম যে আমি একটি তলোয়ার হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছি। হঠাৎ তার অগ্রাংশ ভেঙ্গে গেল। উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের যে বিপদ ঘটেছিল এটা তা-ই। অতঃপর দ্বিতীয় বার তলোয়ারটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলাম তখন সেটি আগের চেয়েও আরো উত্তম হয়ে গেল। এটা হল যে, আল্লাহ্ মুসলিমগণকে বিজয়ী ও একত্রিত করে দিবেন। আমি স্বপ্নে আরো দেখতে পেলাম একটি গরু এবং শুনতে পেলাম আল্লাহ্ যা করেন সবই ভাল। এটাই হল উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের শাহাদাত বরণ। আর খায়ের হল-আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে ঐ সকল কল্যাণ এবং সত্যবাদিতার পুরস্কার যা আল্লাহ্ আমাদেরকে বদর দিবসের পর দান করেছেন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬১; মর্যাদা ও গুণাবলী, অধ্যায় ২৫, হাঃ ৩৬২২; মুসলিম, পর্ব ৪২; স্বপ্ন, অধ্যায় ৪, হাঃ, ২২৭২

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১৪৬৫

حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ مُسَيْلِمَةُ الْكَذَّابُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَعَلَ يَقُولُ: إِنْ جَعَلَ لِي مُحَمَّدٌ مِنْ بَعْدِهِ تَبِعْتُهُ وَقَدِمَهَا فِي بَشَرٍ كَثِيرٍ مِنْ قَوْمِه فَأَقْبَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَعَهُ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَفِي يَدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قِطْعَةُ جَرِيدٍ، حَتَّى وَقَفَ عَلَى مُسَيْلِمَةَ، فِي أَصْحَابِهِ فَقَالَ: لَوْ سَأَلْتَنِي هذِهِ الْقِطْعَةَ مَا أَعْطَيْتُكَهَا وَلَنْ تَعْدُوَ أَمْرَ اللهِ فِيكَ؛ وَلَئِنْ أَدْبَرْتَ لَيَعْقِرَنَّكَ اللهُ وَإِنِّي لأَرَاكَ الَّذِي أُرِيتُ فِيه مَا رَأَيْتُ وَهذَا ثَابِتٌ يُجِيبُكَ عَنِّي ثُمَّ انْصَرَفَ عَنْهقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَسَأَلْتُ عَنْ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّكَ أُرَى الَّذِي أُرِيتُ فِيهِ مَا رَأَيْتُ

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)

নবী (ﷺ)-এর যুগে একবার মিথ্যুক মুসাইলামাহ (মাদীনায়) এসেছিল।সে বলতে লাগল, মুহাম্মাদ (ﷺ) যদি আমাকে তাঁর পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে যান তাহলে আমি তাঁর অনুগত হয়ে যাব। সে তার গোত্রের বহু লোকজনসহ এসেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাবিত ইবনু কাইস ইবনু সাম্মাসকে সঙ্গে নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে ছিল একটি খেজুরের ডাল। মুসাইলামাহ তার সঙ্গী-সাথীদের মাঝে ছিল, এই অবস্থায় তিনি তার কাছে পৌঁছলেন। তিনি বললেন, যদি তুমি আমার কাছে এ ডালটিও চাও তবে তাও আমি তোমাকে দেব না। তোমার ব্যাপারে আল্লাহ্‌র নির্দেশ কক্ষনো লঙ্ঘিত হবে না। যদি তুমি আমার আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করে দিবেন। আমি তোমাকে ঠিক তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমনটি আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হয়েছে। এই সাবিত আমার পক্ষ থেকে তোমাকে জবাব দেবে। এরপর তিনি তার নিকট হতে চলে আসলেন।ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উক্তি “আমি তোমাকে তেমনই দেখতে পাচ্ছি যেমন আমাকে দেখানো হয়েছিল”- এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৭২, হাঃ ৪৩৭৩-৪৩৭৪; মুসলিম, পর্ব ৪২ : স্বপ্ন, অধ্যায় ৪, হাঃ ২২৭৩

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18