সালাম
৩৯/১. অধ্যায়ঃ
আরোহী পায়ে চলা ব্যক্তিকে এবং অল্প সংখ্যক বেশি সংখ্যককে সালাম দিবে।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৯৬
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُسَلِّمُ الرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي، وَالْمَاشِي عَلَى الْقَاعِدِ، وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আরোহী ব্যক্তি পদচারীকে, পদচারী ব্যক্তি উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যককে সালাম করবে।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৯; অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ৫, হাঃ ৬২৩২; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ১, হাঃ ২১৬০
৩৯/৩. অধ্যায়ঃ
একজন মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের হক হচ্ছে সালামের উত্তর দেয়া।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৯৭
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ: رَدُّ السَّلاَمِ، وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি যে, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্ পাঁচটিঃ১. সালামের জওয়াব দেয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেয়া ৩. জানাযার পশ্চাদানুসরণ করা।৪. দা’ওয়াত কবূল করা ।৫. হাঁচিদাতাকে খুশী করা (আল-হামদু লিল্লাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৩ ; জানাযা, অধ্যায় ২, হাঃ ১২৪০; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ৩, হাঃ ২১৬২
৩৯/৪. অধ্যায়ঃ
আহলে কিতাবদেরকে প্রথমে সালাম দেয়া নিষিদ্ধ এবং তাদেরকে কীভাবে তাদের সালামের উত্তর দিবে।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৯৮
حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ، فَقُولُوا: وَعَلَيْكُمْ
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন আহলে কিতাব তোমাদের সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৯: অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ২২, হাঃ ৬২৫৮; মুসলিম, পর্ব ৩৯; সালাম, অধ্যায় ৪, হাঃ ২১৬৩
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৩৯৯
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمُ الْيَهُودُ فَإِنَّمَا يَقُولُ أَحَدُهُمُ: السَّامُ عَلَيْكَ فَقُلْ: وَعَلَيْكَ
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ) বললেনঃ ইয়াহূদী তোমাদের সালাম করলে তাদের কেউ অবশ্যই বলবেঃ আস্সামু আলাইকা। তখন তোমরা জবাবে ‘ওয়াআলাইকা’ বলবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৯ : অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ২২, হাঃ ৬২৫৭; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ৪, হাঃ ২১৬৪
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪০০
حديث عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: دَخَلَ رَهْطٌ مِنَ الْيَهُودِ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: السَّامُ عَلَيْكَ فَفَهِمْتُهَا، فَقُلْتُ: عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَهْلاً، يَا عَائِشَةُ فَإِنَّ اللهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَوَ لَمْ تَسْمَعْ مَا قَالوا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَقَدْ قُلْتُ: وَعَلَيْكُمْ
বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)
একবার একদল ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললঃ আস্সামু আলাইকা। (তোমার মৃত্যু হোক, নাউযুবিল্লাহ)। আমি এ কথার মর্ম বুঝে বললামঃ আলাইকুমুস্ সামু ওয়াল লানাতু। (তোমাদের উপর মৃত্যু ও লা‘নাত)। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ! তুমি থামো। আল্লাহ সর্বাবস্থায়ই বিনয় পছন্দ করেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! তারা যা বললোঃ তা কি আপনি শুনেননি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ জন্যই আমিও বলেছি, ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৯; অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ২২, হাঃ ৬২৫৬; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ৪, হাঃ ২১৬৫
৩৯/৫. অধ্যায়ঃ
বালকদেরকে সালাম দেয়া মুস্তাহাব।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪০১
حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، أَنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانٍ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَقَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَفْعَلُهُ
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একবার তিনি একদল শিশুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদের সালাম করে বললেন যে, নবী (ﷺ)-ও তা করতেন।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭৯ : অনুমতি প্রার্থনা, অধ্যায় ১৫, হাঃ ৬২৪৭; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধায় ৫, হাঃ ২১৬৮
৩৯/৭. অধ্যায়ঃ
মানবিক প্রয়োজনে মহিলাদের বাইরে বের হওয়া বৈধ।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪০২
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَرَجَتْ سَوْدَةُ بَعْدَمَا ضُرِبَ الْحِجَابُ، لِحَاجَتِهَا؛ وَكَانَتِ امْرَأَةً جَسِيمَةً لاَ تَخْفَى عَلَى مَنْ يَعْرِفُهَا؛ فَرَآهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: يَا سَوْدَةُ أَمَا وَاللهِ مَا تَخْفَيْنَ عَلَيْنَا، فَانْظُرِي كَيْفَ تَخْرُجِينَ قَالَتْ: فَانْكَفَأَتْ رَاجِعَةً [ص: 54] وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي بَيْتِي، وَإِنَّهُ لَيَتَعَشَّى، وَفِي يَدِهِ عَرْقٌ فَدَخَلَتْ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي خَرَجْتُ لِبَعْضِ حَاجَتِي، فَقَالَ لِي عُمَرُ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ: فَأَوْحى اللهُ إِلَيْهِ ثُمَّ رُفِعَ عَنْهُ وَإِنَّ الْعَرْقَ فِي يَدِهِ، مَا وَضَعَهُ فَقَالَ: إِنَّه قَدْ أُذِنَ لَكُنَّ أَنْ تَخْرُجْنَ لِحَاجَتِكُنَّ أخرجه البخاري في 65 كتاب التفسير: 13 سورة الأحزاب: 8 باب قوله (لا تدخلوا بيوت النبي)
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পর সাওদাহ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলেন। সাওদাহ এমন স্থূল শরীরের অধিকারিণী ছিলেন যে, পরিচিত লোকদের থেকে তিনি নিজেকে গোপন রাখতে পারতেন না। ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে দেখে বললেন, হে সাওদাহ! জেনে রেখ, আল্লাহ্র কসম, আমাদের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকতে পারবে না। এখন দেখ তো, কীভাবে বাইরে যাবে? ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদাহ (রাঃ) ফিরে আসলেন। আর এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার ঘরে রাতের খানা খাচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল টুকরা হাড়। সাওদাহ (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করে বললেন, আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম। তখন ‘উমার (রাঃ) আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নিকট ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়া শেষ হল, হাড় টুকরা তখনও তাঁর হাতেই ছিল, তিনি তা রেখে দেননি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, অবশ্যই দরকার হলে তোমাদেরকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৮, হাঃ ৪৭৯৫; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ৭, হাঃ ২১৭০
৩৯/৮. অধ্যায়ঃ
অপরিচিত মহিলার নিকট একাকীত্বে অবস্থান এবং তার নিকট প্রবেশ করা হারাম।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪০৩
حديث عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاء فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ، يَا رَسولَ اللهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ: الحَمْوُ المَوْتُ
বর্ণনাকারী উকবাহ ইব্নু আমির (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনসার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! দেবরদের ব্যাপারে কি নির্দেশ? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৭: বিবাহ, অধ্যায় ১১২, হাঃ ৫২৩২; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ৮, হাঃ ২১৭২
৩৯/৯. অধ্যায়ঃ
কোন লোককে তার স্ত্রী বা কোন মাহরামার সঙ্গে একাকীত্বে দেখা গেলে তাদের সন্দেহ দূর করার জন্য ‘এ মহিলা আমার উমুক হয়’ বলে পরিচয় তুলে ধরা মুস্তাহাব।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪০৪
حديث صَفِيَّةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا جَاءَتْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تَزُورُهُ فِي اعْتِكَافِهِ، فِي الْمَسْجِدِ، فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَهُ سَاعَةً، ثُمَّ قَامَتْ تَنْقَلِبُ فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَهَا يَقْلِبُهَا، حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ بَابَ المَسْجِدِ، عِنْدَ بَابِ أُمِّ سَلَمَةَ، مَرَّ رَجُلاَنِ مِنَ الأَنْصَارِ فَسَلَّمَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لَهُمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلَى رِسْلِكُمَا، إِنَّمَا هِيَ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ فَقَالاَ: سُبْحَانَ اللهِ، يَا رَسُولَ اللهِ وَكَبُرَ عَلَيْهِمَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ يَبْلُغُ مِنَ الإِنْسَانِ مَبْلَغَ الدَّمِ، وَإِنِّي خَشِيْتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَيْئًا
বর্ণনাকারী সাফীয়্যাহ (রাঃ)
একদা তিনি রামযানের শেষ দশকে মসজিদে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ই‘তিকাফরত ছিলেন। সাফিয়্যা তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। অতঃপর ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান। নবী (ﷺ) তাঁকে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি (উম্মুল মু’মিনীন) উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর গৃহ সংলগ্ন মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন দুইজন আনসারী সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা উভয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে সালাম করলেন। তাঁদের দুইজনকে নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা দুইজন থাম। ইনি তো (আমার স্ত্রী) সফীয়্যাহ বিনতু হুয়ায়্যী। এতে তাঁরা দুইজনে ‘সুবহানাল্লাহ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)’ বলে উঠলেন এবং তাঁরা বিব্রত বোধ করলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় চলাচল করে। আমি ভয় করলাম যে, সে তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৩: ইতিকাফ, অধ্যায় ৮, হাঃ ২০৩৫; মুসলিম, পর্ব ৩৯; সালাম, অধ্যায় ৯, হাঃ ২১৭৫
৩৯/১০. অধ্যায়ঃ
কেউ যদি কোন মজলিসে এসে খালি স্থান পায় তাহলে সেখানে বসবে অথবা মজলিসের পিছনে বসবে।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ১৪০৫
حديث أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ، وَالنَّاسُ مَعَهُ، إِذْ أَقْبَلَ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ، فَأَقْبَلَ اثْنَانِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَهَبَ وَاحِدٌ [ص: 56] قَالَ: فَوَقَفَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَرَأَى فُرْجَةً فِي الْحَلْقَةِ، فَجَلَسَ فِيهَا وَأَمَّا الآخَرُ فَجَلَسَ خَلْفَهُمْ وَأَمَّا الثَّالِثُ فَأَدْبَرَ ذَاهِبًا فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَلاَ أُخْبِرُكُمْ عَنِ النَّفَرِ الثَّلاَثَةِ أَمَّا أَحَدُهُمْ فَأَوَى إِلَى اللهِ فَآوَاهُ اللهُ؛ وَأَمَّا الآخَرُ فَاسْتَحْيَا فَاسْتَحْيَا اللهُ مِنْهُ؛ وَأَمَّا الآخَرُ فَأَعْرَضَ فَأَعْرَضَ اللهُ عَنْهُ
বর্ণনাকারী আবূ ওয়াকিদ আল-লায়সী (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-একদা মসজিদে বসে ছিলেন, তাঁর সাথে আরও লোকজন ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক আসলো। তন্মধ্যে দুইজন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর দিকে এগিয়ে আসলেন এবং একজন চলে গেলেন। আবূ ওয়াকিদ (রাঃ) বলেন, তাঁরা দুইজন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তাঁদের একজন মাজলিসের মধ্যে কিছুটা খালি জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লেন এবং অপরজন তাদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয় ব্যক্তি ফিরে গেল। যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) অবসর হলেন (সাহাবীদের লক্ষ্য করে) বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলব না? তাদের একজন আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করল, আল্লাহ্ তাকে আশ্রয় দিলেন। অন্যজন লজ্জাবোধ করল, তাই আল্লাহ্ও তার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করলেন। আর অপরজন (মাজলিসে হাযির হওয়া থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিলেন, তাই আল্লাহ্ও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
সহীহুল বুখারী, পূর্ব ৩: ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান), অধ্যায় ৮, হাঃ ৬৬; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ১০, হাঃ ৬১৭৬