শিকার, যবহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়

৩৪/১. অধ্যায়ঃ

প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা শিকার করা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৫৪

حديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا نُرْسِلُ الْكِلاَبَ الْمُعَلَّمَةَ، قَالَ: كُلْ مَا أَمْسَكْنَ عَلَيْكَ قُلْتُ: وَإِنْ قَتَلْنَ قَالَ: وَإِنْ قَتَلْنَ قُلْتُ: وَإِنَّا نَرْمِي بِالْمِعْرَاضِ، قَالَ: كُلْ مَا خَزَقَ، وَمَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَلاَ تَأْكُلْ

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! আমরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকে শিকারে পাঠিয়ে থাকি। তিনি বললেনঃ কুকুরগুলো তোমার জন্য যেটি ধরে রাখে সেটি খাও। আমি বললামঃ যদি ওরা হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেনঃ যদি ওরা হত্যাও করে ফেলে।আমি বললামঃ আমরা তো ফলকের সাহায্যেও শিকার করে থাকি। তিনি বললেনঃ সেটি খাও, যেটি তীরে যখম করেছে; আর যেটি তীরের পার্শ্বের আঘাতে মারা গেছে সেটি খেও না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭২ : যব্‌হ ও শিকার, অধ্যায় ৩, হাঃ ৫৪৭৭; মুসলিম, পর্ব ৩৪ : শিকার, যব্‌হ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৫৫

حديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُلْتُ: إِنَّا قَوْمٌ نَصِيدُ بِهذِهِ الْكِلاَبِ فَقَالَ: إِذَا أَرْسَلْتَ كِلاَبَكَ الْمُعَلَّمَةَ، وَذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ فَكُلْ مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَإِنْ قَتَلْنَ، إِلاَّ أَنْ يَأْكُلَ الْكَلْبُ، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَكُونَ إِنَّمَا أَمْسَكَهُ عَلَى نَفْسِهِ، وَإِنْ خَالَطَهَا كِلاَبٌ مِنْ غَيْرِهَا فَلاَ تَأْكُلْ

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলামঃ আমরা এমন সম্প্রদায়, যারা এ সকল কুকুরের দ্বারা শিকার করে থাকি। তিনি বললেনঃ তুমি যদি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলোকে বিসমিল্লাহ পড়ে পাঠিয়ে থাক তাহলে ওরা যেগুলো তোমাদের জন্য ধরে রাখে, তা খাও; যদিও শিকারকে কুকুর হত্যা করে ফেলে।তবে যদি কুকুর শিকারের কিছুটা খেয়ে ফেলে (তাহলে খাবে না)। কেননা, তখন আমার আশঙ্কা হয় যে, সে শিকার নিজেরই উদ্দেশে ধরেছে।আর যদি তার সঙ্গে অন্য কুকুর মিলে যায়, তাহলে খাবে না।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭২: যব্‌হ ও শিকার, অধ্যায় ৭, হাঃ ৫৪৮৩; মুসলিম, পর্ব ৩৪: শিকার, যব্‌হ ও কোন্ প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৫৬

حديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمِعْرَاضِ، فَقَالَ: إِذَا أَصَابَ بِحَدِّهِ فَكُلْ، وَإِذَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّهُ وَقِيْذٌ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أُرْسِلُ كَلْبِي وَأُسَمِّي، فَأَجِدُ مَعَهُ عَلَى الصَّيْدِ كَلْبًا آخَرَ لَمْ أُسَمِّ عَلَيْهِ، وَلاَ أَدْرِي أَيُّهُمَا أَخَذَ قَالَ: لاَ تَأْكُلْ إِنَّمَا سَمَّيْتَ عَلَى كَلْبِكَ، وَلَمْ تُسَمِّ عَلَى الآخَرِ

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি নবী (ﷺ)-কে পার্শ্বফলা বিহীন তীর (দ্বারা শিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, যদি তীরের ধারালো পার্শ্ব আঘাত করে, তবে সে (শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত) খাবে, আর যদি এর ধারহীন পার্শ্বের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাবে না। কেননা তা প্রহারের মৃত, যবহকৃত নয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি বিসমিল্লাহ পড়ে আমার (শিকারী) কুকুর ছেড়ে দিয়ে থাকি। পরে তার সাথে শিকারের কাছে (অনেক সময়) অন্য কুকুর দেখতে পাই যার উপর আমি বিসমিল্লাহ পড়িনি এবং আমি জানি না, উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে। তিনি বললেন, তুমি তা খাবে না। তুমি তো তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্যটির উপর পড়নি।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৪ : ক্ৰয়-বিক্ৰয়, অধ্যায় ৩, হাঃ ২০৫৪; মুসলিম, পর্ব ৩৪ : শিকার, যবহ ও কোন্ প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৫৭

حديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَيْدِ الْمِعْرَاضِ قَالَ: مَا أَصَابَ بِحَدِّهِ فَكُلْهُ، وَمَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَهُوَ وَقِيذٌ وَسَأَلْتُهُ عَنْ صَيْدِ الْكَلْبِ فَقَالَ: مَا أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَكُلْ، فَإِنَّ أَخْذَ الْكَلْبِ ذَكَاةٌ، وَإِنْ وَجَدْتَ مَعَ كَلْبِكَ أَوْ كِلاَبِكَ كَلْبًا غَيْرَهُ فَخَشِيتَ أَنْ يَكُونَ أَخَذَهُ مَعَهُ، وَقَدْ قَتَلَهُ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا ذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تَذْكُرْهُ عَلَى غَيْرِهِ

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)

আমি নবী (ﷺ)-কে তীরের ফলকের আঘাত দ্বারা লব্ধ শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে নবী (ﷺ) বললেন, তীরের ধারালো অংশের দ্বারা যেটি নিহত হয়েছে সেটি খাও। আর ফলকের বাঁটের আঘাতে যেটি নিহত হয়েছে সেটি ‘অকীয’ (অর্থাৎ থেতলে যাওয়া মৃতের অন্তর্ভুক্ত)।আমি তাঁকে কুকুরের দ্বারা লব্ধ শিকার সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, যে শিকারকে কুকুর তোমার জন্য ধরে রাখে সেটি খাও। কেননা, কুকুরের ঘায়েল করা যবাহর হুকুম রাখে। তবে তুমি যদি তোমার কুকুর বা কুকুরগুলোর সঙ্গে অন্য কুকুর পাও এবং তুমি আশঙ্কা কর যে, অন্য কুকুরটিও তোমার কুকুরের শিকার পাকড়াও করেছে এবং হত্যা করেছে, তা হলে তা খেও না। কেননা, তুমি তো কেবল নিজের কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলেছ। অন্যের কুকুরের ক্ষেত্রে তা বলনি।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭২: যব্‌হ ও শিকার, অধ্যায় ১, হাঃ ৫৪৭৫; মুসলিম, পৰ্ব ৩৪: শিকার, যব্‌হ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৫৮

حديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَسَمَّيْتَ فَأَمْسَكَ وَقَتَلَ فَكُلْ، وَإِنْ أَكَلَ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلَى نَفْسِهِ؛ وَإِذَا خَالَطَ كِلاَبًا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهِ عَلَيْهَا فَأَمْسَكْنَ وَقَتلْنَ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي أَيُّهَا قَتَلَ؛ وَإِنْ رَمَيْتَ الصَّيْدَ فَوَجَدْتَهُ بَعْدَ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ لَيْسَ بِهِ إِلاَّ أَثَرُ سَهْمِكَ فَكُلْ، وَإِنْ وَقَعَ فِي الْمَاءِ فَلاَ تَأْكُلْ

বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রহঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি যদি তোমার কুকুরকে বিসমিল্লাহ পড়ে পাঠাও, এরপর কুকুর শিকার পাকড়াও করে এবং মেরে ফেলে, তবে তুমি তা খেতে পার। আর যদি কুকুর কিছুটা খেয়ে ফেলে, তাহলে খাবে না। কেননা, সে তো নিজের জন্যই ধরেছে।আর যদি এমন কুকুরদের সঙ্গে মিশে যায়, যাদের উপর বিসমিল্লাহ পড়া হয়নি এবং সেগুলো শিকার ধরে মেরে ফেলে, তা হলে তা খাবে না। কেননা, তুমি তো জান না যে, কোন কুকুরটি হত্যা করেছে?আর যদি তুমি শিকারের প্রতি তীর নিক্ষেপ করে থাক; এরপর তা একদিন বা দুইদিন পর এমতাবস্থায় হাতে পাও যে, তার গায়ে তোমার তীরের আঘাত ব্যতীত অন্য কিছু নেই, তাহলে খাও। আর যদি তা পানির মধ্যে পড়ে থাকে, তা হলে তা খাবে না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭২: যব্‌হ ও শিকার, অধ্যায় ৮, হাঃ ৫৪৮৪; মুসলিম পর্ব ৩৪: শিকার, যহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৫৯

حديث أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، قَالَ: قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ إِنَّا بِأَرْضِ قَوْمٍ أَهْلِ الْكِتَابِ، أَفَنَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ وَبِأَرْضِ صَيْدٍ، أَصِيدُ بِقَوْسِي وَبِكَلْبِي الَّذِي لَيْسَ بِمُعَلَّمٍ وَبِكَلْبِي الْمُعَلَّمِ، فَمَا يَصْلُحُ لِي قَالَ: أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَإِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَهَا فَلاَ تَأْكُلُوا فِيهَا، وَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَاغْسِلوهَا وَكُلُوا فِيهَا، وَمَا صِدْتَ بِقَوْسِكَ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ فَكُلْ، وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ الْمُعَلَّمِ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ فَكُلْ وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ غَيْرَ مُعَلَّمٍ فَأَدْرَكْتَ ذَكَاتَهُ فَكُلْ

বর্ণনাকারী আবূ সা‘লাবা আল খুশানী (রাঃ)

আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর নবী (ﷺ)! আমরা আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের এলাকায় বসবাস করি। আমারা কি তাদের থালায় খেতে পারি? তাছাড়া আমরা শিকারের অঞ্চলে থাকি। তীর ধনুকের সাহায্যে শিকার করি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন কুকুর দিয়ে শিকার করে থাকি। এমতাবস্থায় আমার জন্য কোন্‌টা বৈধ হবে? উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেনঃ তুমি যে সকল আহলে কিতাবের কথা উল্লেখ করলে তাতে বিধান হলঃ যদি অন্য পাত্র পাও তাদের পাত্রে খাবে না। আর যদি না পাও, তাহলে তাদের পাত্রগুলো ধুয়ে নিয়ে তাতে আহার কর।আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার তীর ধনুকের সাহায্যে শিকার করেছ এবং বিসমিল্লাহ পড়েছ, সেটি খাও।আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা শিকার করেছ এবং বিসমিল্লাহ পড়েছ, সেটি খাও।আর যে প্রাণীকে তুমি তোমার প্রশিক্ষণবিহীন কুকুর দ্বারা শিকার করেছ, সেটি যদি যবহ করতে পার তবে তা খেতে পার।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭২: যব্‌হ ও শিকার, অধ্যায় ৮, হাঃ ৫৪৮৪; মুসলিম পর্ব ৩৪: শিকার, যহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯

৩৪/৩. অধ্যায়ঃ

প্রত্যেক বিষদাঁতবিশিষ্ট জন্তু ও প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট পাখি খাওয়া হারাম।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৬০

حديث أَبِي ثَعْلَبَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهى عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنْ السِّبَاعِ

বর্ণনাকারী আবূ সা‘লাবা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁত বিশিষ্ট সর্বপ্রকার হিংস্র জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭২; যবহ ও শিকার, অধ্যায় ৪ হাদীস নং ৫৪৭৮; মুসলিম পর্ব ৩৪ : শিকার, যব্‌হ ও কোন্ প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯৩০

৩৪/৪. অধ্যায়ঃ

সাগরের মৃত (বৈধ) জন্তু খাওয়া বৈধ।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৬১

حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: بَعَثَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثَمِائَةِ رَاكِبٍ، أَمِيرُنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، نَرْصُدُ عِيرَ قُرَيْشٍ، فَأَقَمْنَا بِالسَّاحِلِ نِصْفَ شَهْرٍ، فَأَصَابَنَا جُوعٌ شَدِيدٌ حَتَّى أَكَلْنَا الْخَبَطَ، فَسُمِّيَ ذَلِكَ الْجَيْشُ جَيْشَ الْخَبَطِ فَأَلْقَى لَنَا الْبحْرُ [ص: 268] دَابَّةً يُقَالُ لَهَا الْعَنْبَرُ، فَأَكَلْنَا مِنْهُ نِصْفَ شَهْرٍ، وَادَّهَنَّا مِنْ وَدَكِهِ، حَتَّى ثَابَتْ إِلَيْنَا أَجْسَامُنَا فَأَخَذَ أَبُو عُبَيْدَةَ ضِلَعًا مِنْ أَضْلاَعِهِ فَنَصَبَهُ، فَعَمَدَ إِلَى أَطْوَلِ رَجُلٍ مَعَهُ، وَأَخَذَ رَجُلاً وَبَعِيرًا فَمَرَّ تَحْتَهقَالَ جَابِرٌ: وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ نَحَرَ ثَلاَثَ جَزَائِرَ ثُمَّ إِنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ نَهَاهُ

বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তিনশ’ সওয়ারীর একটি সৈন্যবাহিনীকে কুরাইশদের একটি কাফেলার উপর সুযোগ মতো আক্রমণ চালানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন। আবূ ‘উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ্ (রাঃ) ছিলেন আমাদের সেনাপতি। আমরা অর্ধমাস সমুদ্র তীরে অবস্থান করলাম। ভয়ানক ক্ষুধা আমাদেরকে পেয়ে বসল। ক্ষুধার জ্বালায় গাছের পাতা খেতে থাকলাম। এ জন্যই এ সৈন্যবাহিনীর নাম রাখা হয়েছে জায়শুল খাবাত অর্থাৎ পাতাওয়ালা সেনাদল। এরপর সমুদ্র আমাদের জন্য আম্বর নামক একটি প্রাণী নিক্ষেপ করল। আমরা অর্ধমাস ধরে তা থেকে খেলাম। এর চর্বি শরীরে লাগালাম। ফলে আমাদের শরীর পূর্বের মত হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গেল। এরপর আবূ ‘উবাইদাহ(রাঃ) আম্বরটির শরীর থেকে একটি পাঁজর ধরে খাড়া করালেন। এরপর তাঁর সাথীদের মধ্যকার সবচেয়ে লম্বা লোকটিকে আসতে বললেন। সুফ্ইয়ান (রাঃ) আরেক বর্ণনায় বলেছেন, আবূ ‘উবাইদাহ (রাঃ) আম্বরটির পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্য থেকে একটি হাড় ধরে খাড়া করালেন এবং (ঐ) লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে এর নিচে দিয়ে অতিক্রম করালেন।জাবির বলেন, সেনাদলের এক ব্যক্তি (খাদ্যের অভাব দেখে) প্রথমে তিনটি উট যবেহ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবহ্ করেছিলেন, তারপর আরো তিনটি উট যবেহ করেছিলেন। এরপর আবূ ‘উবাইদাহ(রাঃ) তাকে (উট যবেহ করতে) নিষেধ করলেন।

সহীহুল বুখারী, পূর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৬৬, হাঃ ৪৩৬১; মুসলিম, পর্ব ৩৪: শিকার, যবহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৯৩৫

৩৪/৫. অধ্যায়ঃ

গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া হারাম।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৬২

حديث عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهى عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ، وَعَنْ أَكْلِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ

বর্ণনাকারী আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবার যুদ্ধের দিন মহিলাদের মুত‘আহ (নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিয়ে) করা থেকে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৩৯, হাঃ ৪২১৬; মুসলিম, পর্ব ৩৪ : শিকার, যবহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৪০৭

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১২৬৩

حديث أَبِي ثَعْلَبَةَ، قَالَ: حَرَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لُحُومَ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ

বর্ণনাকারী আবূ সা‘লাবা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহপালিত গাধার গোশ্‌ত খাওয়া হারাম করেছেন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭২: যব্‌হ ও শিকার, অধ্যায় ২৮, হাঃ ৫৫২৭; মুসলিম, পর্ব ৩৪: শিকার, যবহ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৯৩২

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18