কাসামাহ

২৮/১. অধ্যায়ঃ

আল-কাসামাহ

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৮৫

حديث رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عَنْ بُشَيْرٍ بْنِ يَسَارِ، مَوْلَى الأَنْصَارِ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ: أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ أَتَيَا خَيْبَرَ، فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ، فَقُتِلَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَهْلٍ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنُ سَهْلٍ، وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ، فَبَدَأَ عَبْدُ الرَّحْمنِ، وَكَانَ أَصْغَرَ الْقَوْمِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَبِّرِ الْكُبْرَ (قَالَ يَحْيى أَحَدُ رِجَالِ السَّنَدِ: لِيَلِيَ الْكَلاَمَ الأَكْبَرُ) فَتَكلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَسْتَحِقُّون قَتِيلَكُمْ أُوْ قَالَ صَاحِبَكُمْ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْكُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ أَمْرٌ لَمْ نَرَهُ قَالَ: فَتُبْرِئُكُمْ يَهُودُ فِي أَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ فَوَدَاهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قِبَلِهقَالَ سَهْلٌ: فَأَدْرَكْتُ نَاقَةً مِنْ تِلْكَ الإِبِلِ، فَدَخَلَتْ مِرْبَدًا لَهُمْ فَرَكَضَتْنِي بِرِجْلِهَا

বর্ণনাকারী সাহ্‌ল ইবনু আবূ হাস্‌মাহ (রাঃ)

একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহ্‌ল ও মুহাইসাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) খাইবারে পৌঁছে উভয়েই খেজুরের বাগানের ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেলেন। সেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহ্‌ল (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহ্‌ল ও ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর দুই ছেলে হুওয়াইসাহ(রাঃ) ও মুহাইসাহ (রাঃ) নবী (ﷺ) -এর কাছে এলেন এবং তাঁর কাছে নিহত ব্যক্তির কথা বলতে লাগলেন। ‘আবদুর রহমান (রাঃ) কথা শুরু করলেন। তিনি ছোট ছিলেন, নবী (ﷺ) তাদের বললেনঃ তুমি বড়দের সম্মান করবে। বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া বলেনঃ কথা বলার দায়িত্ব যেন বড়রা পালন করে। তখন তারা তাদের লোক সম্পর্কে কথা বললেন। নবী (ﷺ) তাদের বললেনঃ তোমাদের পঞ্চাশ জন লোক কসমের মাধ্যমে তোমাদের নিহত ভাইয়ের হত্যার হক প্রমাণ কর। তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! ওরা তো কাফির সম্প্রদায়। তারপর নবী (ﷺ) নিজের তরফ থেকে তাদের নিহত ব্যক্তির ফিদ্ইয়া দিয়ে দিলেন।সাহ্‌ল (রাঃ) বললেনঃ আমি সেই উটগুলো থেকে একটি উট পেলাম। সেটি নিয়ে আমি যখন আস্তাবলে গেলাম তখন উটনীটি তার পা দিয়ে আমাকে লাথি মারলো।

[কাসামা হল একটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বাদীর পক্ষ হয়ে ৫০ জন লোকের শপথ গ্রহণে যখন কোন সাক্ষী পাওয়া যায় না।] - সহীহুল বুখারী, পূর্ব ৭৮: আদব-আচার, অধ্যায় ৮৯, হাঃ ৬১৪২-৬১৪৩; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কাসামাহ, অধ্যায় ১, হাঃ ১৬৬৯

২৮/২. অধ্যায়ঃ

ধর্মত্যাগী মুরতাদ ও যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের বিধান।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৮৬

حَدِيث أَنَسٍ: أَنَّ نَفَرًا مِنْ عُكْلٍ ثَمَانِيَةً، قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَايَعُوهُ عَلَى الإِسْلاَمِ، فَاسْتَوْخَمُوا الأَرْضَ فَسَقِمَتْ أَجْسَامُهُمْ، فَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " أَفَلاَ تَخْرُجُونَ مَعَ رَاعِينَا فِي إِبِلِهِ، فَتُصِيبُونَ مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا " قَالُوا: بَلَى، فَخَرَجُوا فَشَرِبُوا مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا، فَصَحُّوا، فَقَتَلُوا رَاعِيَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَطْرَدُوا النَّعَمَ، فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَرْسَلَ فِي آثَارِهِمْ، فَأُدْرِكُوا فَجِيءَ بِهِمْ، فَأَمَرَ بِهِمْ فَقُطِّعَتْ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ، وَسَمَرَ أَعْيُنَهُمْ، ثُمَّ نَبَذَهُمْ فِي الشَّمْسِ حَتَّى مَاتُوا

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

‘উক্‌ল গোত্রের আটজন লোক রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এল। তারা তাঁর হাতে ইসলামের বায়‘আত গ্রহণ করল। কিন্তু সে এলাকার আবহাওয়া তাদের অনুকূলে হল না এবং তাদের শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ল। তারা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এর অভিযোগ করল। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা কি আমার রাখালের সঙ্গে তার উটপালের কাছে গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করবে না? তারা বলল, হ্যাঁ। তারপর তারা তথায় গিয়ে সেগুলোর দুধ ও পেশাব পান করল। ফলে তারা সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে চলল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদের পশ্চাদ্ধাবনের লক্ষ্যে লোক পাঠালেন। তারা ধরা পড়ল এবং তাদেরকে নিয়ে আসা হল। তাদের সম্বন্ধে নির্দেশ প্রদান করা হল। তাদের হাত-পা কাটা হল, লৌহশলাকা দ্বারা তাদের চক্ষু ফুঁড়ে দেয়া হল। এরপর উত্তপ্ত রৌদ্রে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। অবশেষে তারা মারা গেল।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৭: দিয়াত বা রক্তপণ, অধ্যায় ২২, হাঃ ৬৮৯৯; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কামাহ, অধ্যায় ২, হাঃ ১৬৭১

২৮/৩. অধ্যায়ঃ

পাথর বা কোন ভারী জিনিস দ্বারা কেউ নিহত হলে কিসাস নেয়ার প্রমাণ এবং মহিলাকে হত্যা করার অপরাধে পুরুষকে হত্যা করা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৮৭

حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: عَدَا يَهُودِيٌّ، فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَلَى جَارِيَةٍ، فَأَخَذَ أَوْضَاحًا كَانَتْ عَلَيْهَا، وَرَضَخَ رَأْسَهَا؛ فَأَتَى بِهَا أَهْلُهَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ فِي آخِرِ رَمَقٍ، وَقَدْ أُصْمِتَتْ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَتَلَكِ، فُلاَنٌ لِغَيْرِ الَّذِي قَتَلَهَا، فَأَشَارَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ لاَ قَالَ، فَقَالَ لِرَجُلٍ آخَرَ غَيْرِ الَّذِي قَتَلَهَا فَأَشَارَتْ أَنْ لاَ، فَقَالَ: فَفُلاَنٌ لِقَاتِلِهَا فَأَشَارَتْ أَنْ نَعَمْ؛ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُضِخَ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْن

বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এক ইয়াহূদী একটি বালিকার উপর নির্যাতন করে তার অলঙ্কারাদি ছিনিয়ে নেয়। আর (পাথর দ্বারা) তার মস্তক চূর্ণ করে। সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্তে তার পরিবারের লোকেরা তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে আসে। তখন সে নিশ্চুপ ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একজন নির্দোষ ব্যক্তির নাম উল্লেখ পূর্বক) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাকে সে হত্যা করেছে? অমুক? সে মাথার ইশারায় বললঃ না। তিনি অন্য এক নিরপরাধ ব্যক্তির নাম ধরে বললেন, তবে কি অমুক? সে ইশারায় জানাল, না। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যাকারীর নাম উল্লেখ করে বললেনঃ তবে অমুক ব্যক্তি মেরেছে কি? সে মাথা নেড়ে বললঃ জি, হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশ উক্ত ব্যক্তির মাথা দুইপাথরের মাঝখানে রেখে চূর্ণ করা হলো।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৮ : ত্বালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ), অধ্যায় ২৪, হাঃ ৫২৯৫; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কামাহ, অধ্যায় ৩, হাঃ ৮৫২

২৮/৪. অধ্যায়ঃ

কোন আক্রান্ত ব্যক্তি কোন আক্রমণকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে আক্রমণকারী যদি মারা যায় অথবা তার অঙ্গহানি হয় তাহলে কোন দায়-দায়িত্ব নেই।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৮৮

حديث عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً عَضَّ يَدَ رَجُل، فَنَزَعَ يَدَهُ مِنْ فَمِهِ فَوَقَعَتْ ثَنِيَّتَاهُ فَاخْتَصَمُوا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَعَضُّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ كَمَا يَعَضُّ الْفَحْلُ لاَ دِيَةَ لَكَ

বর্ণনাকারী ইমরান ইব্‌নু হুসায়ন (রাঃ)

এক ব্যক্তির হাত দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। সে তার হাত ঐ ব্যক্তির মুখ থেকে টেনে বের করল। ফলে তার দুইটি দাঁত উপড়ে গেল। তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট তাদের মুকাদ্দমা পেশ করল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইকে কি কামড়াবে যেমন উট কামড়ে থাকে? তোমার জন্য কোন রক্তপণ নেই।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৮৭: দিয়াত বা রক্তপণ, অধ্যায় ১৮, হাঃ ৬৮৯২; মুসলিম, পৰ্ব ২৮ : কামাহ, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৬৭৩

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৮৯

حديث يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ رضي الله عنه، قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ، فَكَانَ مِنْ أَوْثَقِ أَعْمَالِي فِي نَفْسِي، فَكَانَ لِي أَجِيرٌ، فَقَاتَلَ إِنْسَانًا، فَعَضَّ أَحَدُهُمَا إِصْبَعَ صَاحِبهِ، فَانْتَزَعَ إِصْبَعَهُ، فَأَنْدَرَ ثَنِيَّتَهُ فَسَقَطَتْ فَانْطَلَقَ إِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَهْدَرَ ثَنِيَّتَهُ، وَقَالَ: أَفَيَدَعُ إِصْبَعَهُ فِي فِيكَ تقْضَمُهَا قَالَ أَحْسِبُهُ قَالَ: كَمَا يَقْضَمُ الْفَحْلُ اخرجه البخاري في: 37 كتاب الإجارة: 5 باب الأجير في الغزو

বর্ণনাকারী ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ)

আমি নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে জাইশ্‌ল উসরাত অর্থাৎ তাবূকের যুদ্ধে লড়াই করেছিলাম। আমার ধারণায় এটাই ছিল আমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘আমাল। আমার একজন মজদুর ছিল। সে একজন লোকের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং তাদের একজন আরেক জনের আঙ্গুল দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে। (বের করার জন্য) সে আঙ্গুল টান দেয়। এতে তার (প্রতিপক্ষের) একটি সামনের দাঁত পড়ে যায়। তখন লোকটি (অভিযোগ নিয়ে) নবী (ﷺ) -এর নিকট গেল। কিন্তু তিনি [নবী (ﷺ)] তার দাঁতের ক্ষতি পূরণের দাবী বাতিল করে দিলেন এবং বললেন সে কি তোমার মুখে তার আঙ্গুল ছেড়ে রাখবে, আর তুমি তা (দাঁত দিয়ে) চিবুতে থাকবে? বর্ণনাকারী [ইয়া‘লা (রাঃ)] বলেন, আমার মনে পড়ে তিনি [নবী (ﷺ)] বলেছেন, যেমন উট চিবায়।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৭ : ইজারা, অধ্যায় ৫, হাঃ ২২৬৫; মুসলিম, পর্ব ২৮: কামাহ, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৬৭৪

২৮/৫. অধ্যায়ঃ

দাঁত ও এ জাতীয় ক্ষতি যাতে কিসাসের হুকুম বিদ্যমান।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৯০

حديث أَنَسٍ، قَالَ: كَسَرَتِ الرُّبيِّعُ، وَهِيَ عَمَّةُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَطَلَبَ الْقَوْمُ الْقِصَاصَ، فَأَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص: 181] بِالْقِصَاصِ؛ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ، عَمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: لاَ وَاللهِ لاَ تُكْسَرُ سِنُّهَا يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا أَنَسُ كِتَابُ اللهِ الْقِصَاصُ فَرَضِيَ الْقَوْمُ وَقَبِلُوا الأَرْشَ؛ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لأَبَرَّهُ

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

রুবাঈ- যিনি আনাস (রাঃ)-এর ফুফু এক আনসার মহিলার সামনের একটি বড় দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। এরপর আহত মহিলার গোত্র এর কিসাস দাবী করে। তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট এলো, নবী (ﷺ) কিসাসের নির্দেশ দিলেন, আনাস ইবনু মালিকের চাচা আনাস ইবনু নযর বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ্‌র শপথ রুবাঈ-এর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। রাসূল (ﷺ) বললেন, হে আনাস! আল্লাহ্‌র কিতাব তো “বদলা”র বিধান দেয়। পরবর্তীতে বিরোধীপক্ষ রাযী হয়ে মুক্তিপণ বা দিয়ত গ্রহণ করল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্‌র কতক বান্দা আছে যারা আল্লাহ্‌র নামে কসম করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের কসম সত্যে পরিণত করেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৫; তাফসীর, অধ্যায় ৫, হাঃ ৪৬১১; মুসলিম, পৰ্ব ২৮ : কামাহ, অধ্যায় ৫, হাঃ ১৯০৩

২৮/৬. অধ্যায়ঃ

কোন কোন ক্ষেত্রে মুসলিমের রক্ত বৈধ।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৯১

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِىءٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ: النَّفْسُ بِالنَّفْسِ، وَالثَّيِّبُ الزَّانِي، وَالْمَارِقُ مِنَ الدِّينِ التَّارِكُ الْجَمَاعَةَ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি যিনি সাক্ষ্য দেন যে আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহ্‌র রাসূল, তিন-তিনটি কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। (যথা) প্রাণের বদলে প্রাণ। বিবাহিত ব্যভিচারী। আর আপন দ্বীন পরিত্যাগকারী মুসলিম জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮৭: দিয়াত বা রক্তপণ, অধ্যায় ৬, হাঃ ৬৮৭৮; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কামাহ, অধ্যায় ৬, হাঃ ১৬৭৬

২৮/৭. অধ্যায়ঃ

হত্যার প্রথম প্রচলনকারীর পাপের বর্ণনা।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৯২

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ ُتقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلاَّ كَانَ عَلَى ابْنِ آدمَ الأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا، لأَنَّهُ أَوَّلُ مَن سَنَّ الْقَتْلَ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে, তার এ খুনের পাপের অংশ আদাম (‘আ.)-এর প্রথম ছেলের (কাবিলের) উপর বর্তায়। কারণ সেই সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন ঘটায়।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬০ ; নবীগণের (আঃ) হাদীসসমূহ, অধ্যায় ১, হাঃ ৩৩৩৫; মুসলিম, পর্ব ২৮: কাসামাহ, অধ্যায় ৭, হাঃ ১৬৭৭

২৮/৮. অধ্যায়ঃ

কেয়ামতের দিন রক্তের (বিনিময়ে) রক্ত দ্বারা প্রতিশোধ গ্রহণ এবং সেদিন মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম রক্তের বিষয়ে ফয়সালা করা হবে।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৯৩

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوَّلُ مَا يُقْضى بَيْنَ النَّاسِ بِالدِّمَاءِ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম হত্যার বিচার করা হবে।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮১; সদয় হওয়া, অধ্যায় ৪৮, হাঃ ৬৫৩৩; মুসলিম, পর্ব ২৮: কামাহ, অধ্যায় ৮, হাঃ ১৬৭৮

২৮/৯. অধ্যায়ঃ

মুসলিমদের রক্ত, সমভ্রম ও সম্পদ (বিনষ্ট করা) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

১একটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বাদীর পক্ষ হয়ে ৫০ জন লোকের শপথ গ্রহণে যখন কোন সাক্ষী পাওয়া যায় না।

আল লু'লু ওয়াল মারজান

হাদিস নং ১০৯৪

حديث أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الزَّمَانُ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَةِ يَوْمَ خَلَقَ السَّموَاتِ وَالأَرْضَ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا؛ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاَثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ مَضَرَ، الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ؛ أَيُّ شَهْرٍ هذَا قُلْنَا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ، قَالَ: أَلَيْسَ ذُو الْحِجَّةِ قُلْنَا: بَلَى قَالَ: فَأَيُّ بَلَدٍ هذَا قُلْنَا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ [ص: 183] فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ، قَالَ: أَلَيْسَ الْبَلْدَةَ قُلْنَا: بَلَى قَالَ: فَأَيُّ يَوْمٍ هذَا قُلْنَا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغيْرِ اسْمِهِ قَالَ: أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ قُلْنَا: بَلَى قَالَ: فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ قَالَ مُحَمَّدٌ (أَحَدُ رِجَالِ السَّنَدِ) وَأَحْسِبُهُ قَالَ: وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هذَا فِي بَلَدِكُمْ هذَا في شَهْرِكُمْ هذَا؛ وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَسَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ، أَلاَ فَلاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي ضُلاَّلاً يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ، أَلاَ لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يُبَلَّغُهُ أَنْ يُكُونَ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضِ مَن سَمِعهُ فَكَانَ مُحَمَّدٌ إِذَا ذَكَرَهُ يَقُولُ: صَدَقَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ مَرَّتَيْنِ

বর্ণনাকারী আবূ বাকরাহ (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেন, সময় ও কাল আবর্তিত হয় নিজ চক্রে যেদিন থেকে আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এক বছর হয় বার মাসে। এর মধ্যে চার মাস সম্মানিত। তিনমাস ক্রমান্বয়ে আসে যেমন যিলকদ, যিলহাজ্জ ও মুহার্‌রম এবং রজব মুদার বা জমাদিউল আখির ও শাবান মাসের মাঝে হয়ে থাকে। (এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন) এটি কোন্ মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-ই অধিক জানেন। এরপর তিনি চুপ থাকলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, হয়তো তিনি এ মাসের অন্য কোন নাম রাখবেন। (তারপর) তিনি বললেন, এ কি যিলহাজ্জ মাস নয়? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন্ শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-ই অধিক জানেন। তারপর তিনি চুপ থাকলেন। আমরা ধারণা করলাম যে, হয়তো তিনি এ শহরের অন্য কোন নাম রাখবেন। তারপর তিনি বললেন, এটি কি (মাক্কাহ্) শহর নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-ই ভাল জানেন। তারপর তিনি চুপ থাকলেন। এতে আমরা মনে করলাম যে, তিনি এ দিনটির অন্য কোন নামকরণ করবেন। তারপর তিনি বললেন, এটি কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। এরপর তিনি বললেন, তোমাদের রক্ত তোমাদের সম্পদ। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি আরও বলেছিলেন, তোমাদের মান-ইজ্জত- তোমাদের উপর পবিত্র, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই শহর ও তোমাদের এই মাস। তোমরা শীঘ্রই তোমাদের রবের সঙ্গে মিলিত হবে। তখন তিনি তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। খবরদার! তোমরা আমার ইন্তিকালের পরে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ো না যে, একে অন্যের গর্দান উড়াবে। শোন, তোমাদের উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তিকে আমার পয়গাম পৌঁছে দেবে। অনেক সময় যে প্রত্যক্ষভাবে শ্রবণ করেছে তার থেকেও তার মাধ্যমে খবর-পাওয়া ব্যক্তি অধিকতর সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে। রাবী মুহাম্মাদ [ইবনু সীরীন (রহ.)] যখনই এ হাদীস বর্ণনা করতেন তখন তিনি বলতেন মুহাম্মাদ (ﷺ) সত্যই বলেছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা শোন, আমি কি (আল্লাহ্‌র পায়গাম) পৌঁছে দিয়েছি? এভাবে দুইবার বললেন।

সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৪; মাগাযী, অধ্যায় ৭৮ হাঃ ৪৪০৬; মুসলিম, পর্ব ২৮ : কাসামাহ, অধ্যায় ৯, হাঃ ১৬৭৯

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18