যাকাত
১২/০. অধ্যায়ঃ
যাকাত
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৬৭
حديث أَبِي سَعِيدٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচ উকিয়ার কম সম্পদের উপর যাকাত (ফারয) নেই এবং পাঁচটি উটের কমের উপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক* এর কম উৎপন্ন দ্রব্যের উপর যাকাত নেই।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৪০৫; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ১, হাঃ ৯৭৯
১২/২. অধ্যায়ঃ
মুসলিমের উপর গোলাম এবং ঘোড়ার যাকাত নেই।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৬৮
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي فَرَسِهِ وَغُلامِهِ صَدَقَةٌ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমের উপর তার ঘোড়া ও গোলামের কোন যাকাত নেই।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৪৫, হাঃ ১৪৬৩; মুসলিম, পৰ্ব ১২ : যাকাত, অধ্যায় ২, হাঃ ৯৮২
১২/৩. অধ্যায়ঃ
অগ্রিম যাকাত আদায় করা ও যাকাত না দেয়ার বর্ণনা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৬৯
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: أَمَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالصَّدَقَةِ، فَقِيلَ: مَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ، وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ، وَعَبَّاسُ بْن عَبْدِ الْمُطَّلِبِ؛ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: [ص: 198] مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللهُ وَرَسُولُهُ وَأَمَّا خَالِدٌ، فَإِنَّكُمْ تَظْلمُونَ خَالِدًا، قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللهِ؛ وَأَمَّا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَعَمُّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَهِيَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ وَمِثْلَهَا مَعَهَا
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যাকাত দেয়ার নির্দেশ দিলে বলা হলো, ইব্নু জামীল, খালিদ ইব্নু ওয়ালীদ ও ‘আব্বাস ইব্নু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) যাকাত প্রদানে অস্বীকার করছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ ইব্নু জামীলের যাকাত না দেয়ার কারণ এ ছাড়া কিছু নয় যে, সে দরিদ্র ছিল, পরে আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর রাসূলের বরকতে সম্পদশালী হয়েছে। আর খালিদের ব্যাপার হলো তোমরা খালিদের উপর অন্যায় করেছ, কারণ সে তার বর্ম ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে আবদ্ধ রেখেছে। আর ‘আব্বাস ইব্নু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) তো আল্লাহর রাসূলের চাচা। তাঁর যাকাত তাঁর জন্য সদাকাহ এবং সমপরিমাণও তার জন্য সদাকাহ। ইব্নু আবুয্ যিনাদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনায় শু‘আইব (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর ইব্নু ইসহাক (রহ.) আবুয্ যিনাদ (রহ.) হতে হাদীসের শেষাংশে ‘সদাকাহ’ শব্দের উল্লেখ করেননি। ইব্নু জুরাইজ (রহ.) বলেন, আ‘রাজ (রহ.) হতে অনুরূপ হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৪৯, হাঃ ১৪৬৮; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ২, হাঃ ৯৮৩
১২/৪. অধ্যায়ঃ
মুসলিমদের উপর যাকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর ও যব প্রদান।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৭০
حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ، ذَكَرٍ أَوْ أُنْثى، مِنَ الْمُسْلِمِينَ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
মুসলিমদের প্রত্যেক আযাদ, গোলাম পুরুষ ও নারীর পক্ষ হতে সদাকাতুল ফিত্র হিসেবে খেজুর অথবা যব-এর এক সা‘আ পরিমাণ* আদায় করা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফারয করেছেন।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৭১, হাঃ ১৫০৪; মুসলিম, পর্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৪, হাঃ ৯৮৪
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৭১
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ؛ قَالَ: أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِزَكَاةِ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ قَالَ عَبْدُ اللهِ رضي الله عنه: فَجَعَلَ النَّاسُ عِدْلَهُ مُدَيْنِ مِنْ حِنْطَةٍ[ص: 199] أخرجه البخاري في: 24 كتاب الزكاة: 74 باب صدقة الفطر صاعًا من تمر
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সদাকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা‘আ পরিমাণ খেজুর বা এক সা‘আ পরিমাণ যব দিয়ে আদায় করতে নির্দেশ দেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা যবের সমপরিমাণ হিসেবে দুই মুদ (অর্ধ সা‘) গম আদায় করতে থাকে।
সহীহুল বুখারী, পূর্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৭৪, হাঃ ১৫০৭; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৪, হাঃ ৯৮৪
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৭২
حديث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
আমরা এক সা‘আ পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা‘আ পরিমাণ যব অথবা এক সা‘আ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা‘আ পরিমাণ পনির অথবা এক সা‘আ পরিমাণ কিসমিস দিয়ে সদাকাতুল ফিত্র আদায় করতাম।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪ : যাকাত, অধ্যায় ৭৩, হাঃ ১৫০৬; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৪, হাঃ ৯৮৫
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৭৩
حديث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا نُعْطِيَهَا، فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمَّا جَاءَ مُعَاوِيَةُ وَجَاءَتِ السَّمْرَاءُ، قَالَ: أَرَى مُدًّا مِنْ هذَا يَعْدِلُ مُدَّيْنِ
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদ্রী (রাঃ)
আমরা নবী (ﷺ)-এর যুগে এক সা‘আ খাদ্যদ্রব্য বা এক সা‘আ খেজুর বা এক সা‘আ যব বা এক সা‘আ কিসমিস দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করতাম। মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর যুগে যখন গম আমদানী হল তখন তিনি বললেন, এক মুদ গম (পূর্বোক্তগুলোর) দুই মুদ-এর সমপরিমাণ বলে আমার মনে হয়।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৭৫, হাঃ ১৫০৮; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৪, হাঃ ৯৮৫
১২/৬. অধ্যায়ঃ
যাকাত অমান্যকারীর গুনাহ।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৭৪
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْخَيْلُ لِثَلاَثَةٍ: لِرَجُلٍ أَجْرٌ، وَلِرَجُلٍ سِتْرٌ، وَعَلَى رَجُلٍ وِزْرٌ فَأَمَّا الَّذِي لَهُ أَجْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ فَأَطَالَ فِي مَرْجٍ أَوْ رَوْضَةٍ، فَمَا أَصَابَتْ فِي طِيَلِهَا ذَلِكَ مِنَ الْمَرْجِ أَوِ الرَّوْضَةِ كَانَتْ لَهُ حَسَنَاتٍ، وَلَوْ أَنَّهَا قَطَعَتْ طِيَلَهَا فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ كَانَتْ أَرْوَاثُهَا وَآثَارُهَا حَسَنَاتٍ لَهُ، وَلَوْ أَنَّهَا مَرَّتْ بِنَهَرٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلَمْ يُرِدْ أَنْ يَسْقِيَهَا كَانَ ذَلِكَ حَسَنَاتٍ لَهُ؛ [ص: 200] وَرَجُلٌ رَبَطَهَا فَخْرًا وَرِئَاءً وَنِوَاءً لأَهْلِ الإِسْلاَمِ فَهِيَ وِزْرٌ عَلَى ذلِكَوَسُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْحُمُرِ، فَقَالَ: مَا أُنْزِلَ عَلَيَّ فِيهَا إِلاَّ هذِهِ الآيَةُ الْجَامِعَةُ الْفاذَّةُ (مَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ)
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ঘোড়া তিন শ্রেণীর লোকের জন্য। একজনের জন্য পুরস্কার; একজনের জন্য আবরণ এবং একজনের জন্য (পাপের) বোঝা। যার জন্য পুরস্কার, সে হলো, ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহ্র রাস্তায় ঘোড়া বেঁধে রাখে এবং রশি কোন চারণভূমি বা বাগানে লম্বা করে দেয়, আর ঘোড়াটি সে চারণভূমি বা বাগানে ঘাস খায়, তবে এর জন্য তার পুণ্য রয়েছে। আর ঘোড়াটি যদি রশি ছিঁড়ে এক বা দুইটি টিলা অতিক্রম করে তাহলেও তার গোবর ও পদক্ষেপসমূহের বিনিময়ে তার জন্য পুণ্য রয়েছে। এমনকি ঐ ঘোড়া যদি কোন নহরে গিয়ে তা থেকে পানি পান করে, অথচ তার মালিক পানি পান করানোর ইচ্ছে করেনি, তবে এর ফলেও তার জন্য পুণ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি অহংকার, লৌকিকতা প্রদর্শন এবং মুসলিমদের সঙ্গে শত্রুতা করার জন্য ঘোড়া বেঁধে রাখে তবে তার জন্য তা (পাপের) বোঝা।আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কে আমার উপর আর কিছু অবতীর্ণ হয়নি, ব্যাপক অর্থপূর্ণ এই একটি আয়াত ব্যতীত। (আল্লাহ্র বাণীঃ) কেউ অণু পরিমাণ নেক কাজ করে থাকলে, সে তা দেখতে পাবে; আর কেউ অণু পরিমাণ বদ কাজ করে থাকলে, সে তাও দেখতে পাবে।। (যিলযালঃ ৭-৮)
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৫৬ : জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান, অধ্যায় ৪৮, হাঃ ২০৬০; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৬, হাঃ ৯৮৭
১২/৮. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করে না তার শাস্তির ভয়াবহতা।
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৭৫
حديث أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: انْتَهَيْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ، فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ: هُمُ الأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، هُمُ الأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ قُلْتُ: مَا شَأْنِي أَيُرَى فِيَّ شَيْءٌ مَا شَأْنِي فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ، فَمَا اسْتَطَعْتُ أَنْ أَسْكُتَ، وَتَغَشَّانِي مَا شَاءَ اللهُ، فَقُلْتُ: مَنْ هُمْ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: الأَكْثَرُونَ أَمْوَالاً إِلاَّ مَنْ قَالَ هكَذَا وَهكَذَا وَهكَذَا
বর্ণনাকারী আবূ যর গিফারী (রাঃ)
একদা আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি কাবা গৃহের ছায়ায় বসে বলেছিলেনঃ কাবাগৃহের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। কাবাগৃহের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আমি বললাম, আমার অবস্থা কী? আমার মাঝে কি কিছু (ত্রুটি) পরিলক্ষিত হয়েছে? তিনি বলছিলেন, এমন অবস্থায় আমি তাঁর কাছে বসে পড়লাম। আমি তাঁকে থামাতে পারলাম না। যতক্ষণের জন্য আল্লাহ্ চাইলেন আমি চিন্তায় আচ্ছন্ন রইলাম। এরপর আমি আরয করলাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান ঐ সমস্ত লোক কারা হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! তিনি বললেনঃ এরা হল ঐ সকল লোক যারা অধিক সম্পদের অধিকারী। তবে হাঁ, ঐ সমস্ত লোক স্বতন্ত্র যারা এরূপ, এরূপ ও এরূপ (ক্ষেত্রে খরচ করে)।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৮৩: অঙ্গীকার ও নয়র, অধ্যায় ৮, হাঃ ৬৬৩৮; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৮, হাঃ ৯৯০
আল লু'লু ওয়াল মারজান
হাদিস নং ৫৭৬
حديث أَبِي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَوْ وَالَّذِي لاَ إِلهَ غَيْرُهُ أَوْ كَمَا حَلَفَ مَا مِنْ رَجُلٍ تَكُونُ لَهُ إِبِلٌ أَوْ بَقَرٌ أَوْ غَنَمٌ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا إِلاَّ أُتِيَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا تَكُونُ وَأَسْمَنهُ، تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، كُلَّمَا جَازَتْ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে গমন করলাম। তিনি বললেনঃ শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ (বা তিনি বললেন) শপথ সেই সত্তার, যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই, অথবা অন্য কোন শব্দে শপথ করলেন, উট, গরু বা বকরী থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এদের হক আদায় করেনি সেগুলো যেমন ছিল তার চেয়ে বৃহদাকার ও মোটা তাজা করে কিয়ামাতের দিন হাযির করা হবে এবং তাকে পদপিষ্ট করবে এবং শিং দিয়ে গুঁতো দিবে। যখনই দলের শেষটি চলে যাবে তখন পালাক্রমে আবার প্রথমটি ফিরিয়ে আনা হবে। মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে এরূপ চলতে থাকবে। হাদীসটি বুকায়র (রহ.) আবূ সারিহ (রহ.)-এর মাধ্যমে হুরায়রাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ২৪ : যাকাত, অধ্যায় ৪৩, হাঃ ১৪৬০; মুসলিম, পৰ্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৮, হাঃ ৯৯০