হজ্জ
২৫/১. অধ্যায়ঃ
হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮২
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَأَبُو مُصْعَبٍ الزُّهْرِيُّ وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ نَوْمَهُ وَطَعَامَهُ وَشَرَابَهُ فَإِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ نَهْمَتَهُ مِنْ سَفَرِهِ فَلْيُعَجِّلِ الرُّجُوعَ إِلَى أَهْلِهِ " .حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: সফর শাস্তিরই একটি টুকরা। তা তোমাদের যে কোন ব্যক্তির ঘুম ও পানাহারকে বাধাগ্রস্ত করে। তোমাদের যে কেউ সফরে নিজ প্রয়োজন পূরণ হওয়ার সাথে সাথে যেন অবিলম্বে বাড়ি ফিরে আসে। আবু হুরাইরা (রাঃ) নবী (ﷺ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৮২] সহীহুল বুখারী ১৮০৪, মুসলিম ১৯২৭, আহমাদ ৭১৮৪, ৯৪৪৭, ১০০৬৮, মুওয়াত্তা’ মালিক ১৮৩৫, দারিমী ২৬৭০। রাওদুন নাদীর ৭৭৪। উক্ত হাদীসের রাবী ১. ইয়া’কূব বিন হুমায়দ বিন কাসিব সম্পর্কে আবু জা’ফার উকায়লী বলেন, তার হাদীসের অনুসরণ করা যাবে না। আবূ হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৮৬, ৩২.৩১৮ নং পৃষ্ঠা) ২. আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা’দ বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী ব্লেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা) ৩. সুহায়ল বিন আবূ সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উইয়ায়নাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তার বর্ণিত হাদীস সহীহ নয়। ইমাম নাসায়ী বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তার খবর মাকবূল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদীসটির ১৩৮টি শাওয়াহিদ রয়েছে। তন্মধ্যে ১টি জাল, ১১টি খুবই দুর্বল, ৪৮টি দুর্বল, ৬৩টি হাসান, ১৫টি সহীহ হাদীস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ বুখারী ১৮০৪, ৩০০১, ৫৪২৯, মুসলিম ৭১৫, দারিমী ২৬৭০, মুওয়াত্তা’ মালিক ১৮৩৫, আহমাদ ৭১৮৪, ৯৪৪৭, ১০০৬৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৭০৮, আল-ফাওয়াইদ ১১৩৫, ১১৩৬. শারহুস সুন্নাহ ২৬৮৭, ২৬৮৮।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَبُو إِسْرَائِيلَ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ، - أَوْ أَحَدِهِمَا عَنِ الآخَرِ، - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ فَإِنَّهُ قَدْ يَمْرَضُ الْمَرِيضُ وَتَضِلُّ الضَّالَّةُ وَتَعْرِضُ الْحَاجَةُ " .
বর্ণনাকারী ইবনুল আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং কখনও অপরিহার্য প্রয়োজন সামনে এসে যায়।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান।[২৮৮৩] আবূ দাউদ ১৭৩২ আহমাদ ১৮৩৬, ১৯৭৪, ২৯৬৬, ৩৩৩০, দারেমী ১৭৮৪, মিশকাত ৯৯০, ইরওয়া ৯৯০, সহিহ আবু দাউদ ১৫২২। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।
২৫/২. অধ্যায়ঃ
হজ্জ ফারদ হওয়ার বিবরণ
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ وَرْدَانَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً}. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ عَامٍ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالُوا أَفِي كُلِّ عَامٍ فَقَالَ " لاَ وَلَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ " . فَنَزَلَتْ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ }.
বর্ণনাকারী আলী (রাঃ)
যখন এ আয়াত নাজিল হলো (অনুবাদ) : “মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য” (সূরা আল ইমরান : ৯৭), তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরজ? তিনি নিরুত্তর থাকলেন। পুনরায় তারা বলেন, প্রতি বছরই কি? তিনি বলেন, না। কিন্তু আমি যদি বলতাম, হ্যাঁ, তবে তদ্রূপই ওয়াজিব হতো। অতঃপর নিম্নোক্ত আয়াত নাজিল হয় (অনুবাদ) : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে” (সূরা মায়িদা: ১০১)।
তাহকীক আলবানীঃ দঈফ।[২৮৮৪] তিরমিযী ৮১৪, ইরওয়া ৪/১৫০। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন আবদুল আ'লা সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম বুখারী তাকে সিকাহ বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪০৯৯, ২০/৪৯৬ নং পৃষ্ঠা) ২. আবদুল আ'লা সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, যারা হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী ও যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আবদুর রহমান বিন মাহদী তাকে বর্জন করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৮৪, ১৯/১৫৭ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ عَامٍ قَالَ " لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَوْ وَجَبَتْ لَمْ تَقُومُوا بِهَا وَلَوْ لَمْ تَقُومُوا بِهَا عُذِّبْتُمْ " .
বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)
সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরজ? তিনি বলেনঃ আমি যদি বলি হাঁ, তবে তা অবশ্যই ফরজ হতো। আর যদি তা ফরজ হতো তবে তোমরা তা আদায় করতে অক্ষম হয়ে পড়তে। আর তোমরা যদি তা আদায় করতে না পারতে তবে তোমাদের শাস্তি দেওয়া হতো।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৮৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ৪/১৫১, মিশকাত ২৫২০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮৬
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ سَنَةٍ أَوْ مَرَّةً وَاحِدَةً قَالَ " بَلْ مَرَّةً وَاحِدَةً فَمَنِ اسْتَطَاعَ فَتَطَوُّعٌ " .
বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)
আল আকরা বিন হাবিস (রাঃ) মহানবী (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কি প্রতি বছর, না মাত্র একবার? তিনি বলেনঃ বরং একবার মাত্র। অতঃপর এর অধিক করার কারো সামর্থ্য থাকলে তা নফল।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৮৬] নাসায়ী ২৬২০, আবূ দাউদ ১৭২১, আহমাদ ২৩০৪, ২৬৩৭, ৩৫০০ ৩৪১০, দারেমী ১৭৮৮, ইরওয়া ১৪৯-১৫০, সহীহ আবু দাউদ ১৫১৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
২৫/৩. অধ্যায়ঃ
হজ্জ ও ‘উমরার ফযিলত
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّ الْمُتَابَعَةَ بَيْنَهُمَا تَنْفِي الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ " .حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী উমার (রাঃ)
মহানবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা ধারাবাহিকভাবে হজ্জ ও উমরা আদায় করো। কেননা এ দুটি ধারাবাহিকভাবে আদায় করলে তা দারিদ্র ও গুনাহ দূরীভূত করে, যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৮৭] আহমাদ ১৬৮, মিশকাত ২৫২৪, ২৫২১৫, সহীহাহ ১২০০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয় এবং তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন সা'দ বলেন, তার দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করা যাবে না। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করাও যাবে না দলীল হিসেবেও গ্রহন করা যাবে না। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০১৪, ১৩/৫০০ নং পৃষ্ঠা)উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু আসিম বিন উবায়দুল্লাহ এর কারণে সানাদটি দুর্বল। উক্ত হাদিসটির ৮৮ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ২৪ টি খুবই দুর্বল, ২৩ টি দুর্বল, ১৭ টি হাসান, ২৪ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিযি ৮১০, আহমাদ ১৬৮, ৩৬৬০, ১৫২৬৭, ১৫২৭০, ১৫২৭১, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮৭৯৬, মুজামুল আওসাত ৩৮১৪, ৪৯৭৭, ৪৯৯৭, ৫৫২৯, শারহুস সুন্নাহ ১৮৪৩।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ سُمَىٍّ، - مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةُ مَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন: এক উমরা থেকে অপর উমরা মাঝখানের সময়ের জন্য কাফ্ফারাস্বরূপ এবং জান্নাতই হলো মাবরূর (ত্রুটিমুক্ত) হজ্জের প্রতিদান।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৮৮] সহীহুল বুখারী ১৭৭৩, মুসলিম ১৩৪৯, তিরমিযী ৯৩৩, নাসায়ী ২৬২২, ২৬২৩, ২৬২৯, আহমাদ ৭৩০৭, ৯৬২৪, ৯৬৩২, মুয়াত্তা মালেক ৭৭৬, দারেমী ১৭৯৫, সহীহাহ ৩/১৯৭, ১৯৯। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৮৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَنْ حَجَّ هَذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ্জ করেছে এবং তাতে অশালীন কথাবার্তা বা আচরণ করেনি, সে এমন অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে যেমন তার মা তাকে (নিষ্পাপ) প্রসব করেছে।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৮৯] সহীহুল বুখারী ১৫২১, মুসলিম ১৩৫০, তিরমিযী ৮১১, নাসায়ী ২৬২৭, আহমাদ ৭০৯৬, ৭৩৩৪, ৯০৫৬, ৯৯০৪, ১০০৩৭, দারেমী ১৭৯৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
২৫/৪. অধ্যায়ঃ
যানবাহনে চড়ে হজ্জ আদায় করা
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৯০
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صَبِيحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ حَجَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَلَى رَحْلٍ رَثٍّ وَقَطِيفَةٍ تُسَاوِي أَرْبَعَةَ دَرَاهِمَ أَوْ لاَ تُسَاوِي ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ حِجَّةٌ لاَ رِيَاءَ فِيهَا وَلاَ سُمْعَةَ " .
বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) (উটের পিঠে) একটি পুরাতন জিন ও পালানে উপবিষ্ট অবস্থায় হজ্জ করেন। তাঁর পরিধানে ছিল একটি চাদর যার মূল্য চার দিরহাম বা তারও কম। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! এ এমন হজ্জ, যাতে কোন প্রদর্শনেচ্ছা বা প্রচারেচ্ছা নেই।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৯০] সহীহুল বুখারী ১৫১৭, আত-তালীকুর রাগীব ২/১১৫, সহীহাহ ২৬১৭, মুখতাসারুশ শামাইল ২৮৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী রাবী' বিন সাবীহ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি ব্যাক্তি হিসেবে সালিহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তা মাঝে কোন সমস্যা নেই তিনি একজন সালিহ ব্যাক্তি। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-জাওযুজানী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ২. ইয়াযীদ বিন আবান সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু বাকর আল-বুরকানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৫৮, ৩২/৬৪ নং পৃষ্ঠা)উক্ত হাদিসটি সহিহ কিন্তু রাবী' বিন সাবীহ ও তার উসতায ইয়াযীদ বিন আবান এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৩১ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ১৭ টি দুর্বল, ১১ টি হাসান, ৩ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ মু'জামুল আওসাত ১৩৭৮, মুসান্নাফ ইবনু আবু শায়বাহ ১৬০৩৭, সহিহ ইবনু খুযাইমাহ ২৬৬২।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৮৯১
حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَمَرَرْنَا بِوَادٍ فَقَالَ " أَىُّ وَادٍ هَذَا " . قَالُوا وَادِي الأَزْرَقِ . قَالَ " كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى ـ صلى الله عليه وسلم ـ - فَذَكَرَ مِنْ طُولِ شَعَرِهِ شَيْئًا لاَ يَحْفَظُهُ دَاوُدُ - وَاضِعًا إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ لَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي " . قَالَ ثُمَّ سِرْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى ثَنِيَّةٍ فَقَالَ " أَىُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ " . قَالُوا ثَنِيَّةُ هَرْشَى أَوْ لَفْتٍ . قَالَ " كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ عَلَيْهِ جُبَّةُ صُوفٍ وَخِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي مُلَبِّيًا " .
বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মক্কা ও মদীনার মাঝপথে ছিলাম। আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করাকালে তিনি বলেন: এটা কোন উপত্যকা? সাহাবীরা বলেন, 'আল-আযরাক' উপত্যকা। তিনি বলেন: আমি মূসা (আঃ)-কে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি নিজের দুই আঙুল কর্ণদ্বারে স্থাপন করে তাঁর দীর্ঘ কেশের কিছুটা বর্ণনা দেন, যা রাবী দাউদ পূর্ণ মনে রাখতে পারেননি। তিনি উচ্চৈঃস্বরে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করতে করতে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় এ উপত্যকা অতিক্রম করেন।রাবী বলেন, অতঃপর আমরা পথ অতিক্রম করে একটি টিলার উপর আসলাম। তিনি বলেন, এটা কোন টিলা? সাহাবীরা বলেন, এটা 'হারশা' অথবা 'লিফত' নামীয় টিলা। তিনি বলেন, আমি যেন ইউনুস (আঃ)-কে একটি লাল বর্ণের উষ্ট্রীর উপর পশমী জুব্বা পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি, যার নাসারন্ধ্রের রশি ছিল খেজুর পাতার তৈরী এবং তিনি তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় এ উপত্যকা অতিক্রম করেন।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৮৯১] সহীহুল বুখারী ১৫৫৫, মুসলিম ১৬৬, আহমাদ ১৮৫৭, ২৪৯৭, আত-তালীকুর রাগীব ২/১১৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।