ওসিয়ত
২২/১. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি ওসিয়াত করেছিলেন?
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৬৯৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَلاَ شَاةً وَلاَ بَعِيرًا وَلاَ أَوْصَى بِشَىْءٍ .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীনার-দিরহাম (নগদ অর্থ) বা উট-ছাগল কিছুই রেখে যাননি এবং তিনি কোন কিছুর ওসিয়তও করেননি।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৬৯৫] মুসলিম ১৬৩৫, নাসায়ী ৩৬২১, ৩৬২২, ৩৬২৩, আবূ দাউদ ২৮৬৩, আহমাদ ২৪৫৩, ২৪৯৯২, ২৫০১১, সহীহ আবু দাউদ ২৫৪৯, মুখতাসারুশ শামাইল ৩৪২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৬৯৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى أَوْصَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَىْءٍ قَالَ لاَ . قُلْتُ فَكَيْفَ أَمَرَ الْمُسْلِمِينَ بِالْوَصِيَّةِ قَالَ أَوْصَى بِكِتَابِ اللَّهِ .قَالَ مَالِكٌ وَقَالَ طَلْحَةُ بْنُ مُصَرِّفٍ قَالَ الْهُزَيْلُ بْنُ شُرَحْبِيلَ أَبُو بَكْرٍ كَانَ يَتَأَمَّرُ عَلَى وَصِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَّ أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ وَجَدَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَهْدًا فَخَزَمَ أَنْفَهُ بِخِزَامٍ .
বর্ণনাকারী তালহাহ বিন মুসাররিফ (রাঃ)
আমি আব্দুল্লাহ বিন আবু আওফা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ওসিয়াত করেছিলেন? তিনি বলেন, না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে তিনি মুসলিমদের কিভাবে ওসিয়াতের নির্দেশ দিলেন? তিনি বলেন, তিনি আল্লাহর কিতাব অনুসারে ওসিয়াত করেছেন। হুযাইল বিন শুরাহবীল বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওসিয়াতকৃত ব্যক্তির (ওসী) উপর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা আবু বকর (রাঃ)-এর ছিল না। আবু বকর (রাঃ)-এর অবস্থা এই ছিল যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ পেলে অনুগত উটের ন্যায় নিজের নাকে লাগাম পরিয়ে দিতেন।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৬৯৬] সহীহুল বুখারী ২৭৪০, ৪৪৬০, ৫০২২, মুসলিম ১৬৩৪, তিরমিযী ২১১৯, নাসায়ী ৩৬২০, আহমাদ ১৮৬৪৪, ১৮৬৫৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৬৯৭
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَتْ عَامَّةُ وَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ وَهُوَ يُغَرْغِرُ بِنَفْسِهِ " الصَّلاَةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ " .
বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অন্তিম মুহূর্তে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁর ওসিয়ত এই ছিল যে, “নামাজ পড়বে এবং তোমাদের দাস-দাসীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে”।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৬৯৭] আহমাদ ১১৭৫৯, ইরওয়া ২১৭৮, ফিকহুস সিরাহ ৫০১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৬৯৮
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوسَى، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ كَانَ آخِرُ كَلاَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " الصَّلاَةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ " .
বর্ণনাকারী আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শেষ কথা ছিলঃ “নামাজ পড়বে এবং তোমাদের দাস-দাসীর সাথে সদাচার করবে”।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৬৯৮] আবূ দাউদ ৫১৫৬, আহমাদ ৫০৮৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি শীয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৫৪৮, ২৬/২৯৩ নং পৃষ্ঠা)
২২/২. অধ্যায়ঃ
ওসিয়াত করতে উৎসাহিত করা
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৬৯৯
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ أَنْ يَبِيتَ لَيْلَتَيْنِ وَلَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ " .
বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন মুসলমানের নিকট ওসিয়ত করার মত জিনিস থাকলে তার ওসিয়তনামা তার নিকট লিপিবদ্ধ আকারে না রেখে দুটি রাতও অতিবাহিত করা তার জন্য বৈধ নয়।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৬৯৯] সহীহুল বুখারী ২৭৩৮, মুসলিম ১৬২৭, তিরমিযী ৯৭৪, ২১১৮, নাসায়ী ৩৬১৫, ৩৬১৬, ৩৬১৮, ৩৬১৯, আবূ দাউদ ২৮৬২, আহমাদ ৪৪৫৫, ৪৫৬৪, ৫০৯৭, ৪৮৮৪, ৫১৭৫, ৫৪৮৭, ৫৮৯৪, ৬০৬৫, মুয়াত্তা মালেক ১৪৯২, দারেমী ৩১৭৫, সহীহ আবু দাউদ ২৫৪৮, ইরওয়া ১৬৫২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৭০০
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا دُرُسْتُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ الرَّقَاشِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمَحْرُومُ مَنْ حُرِمَ وَصِيَّتَهُ " .
বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বঞ্চিত সেই ব্যক্তি যে ওসিয়ত করা থেকে বঞ্চিত থাকে।
তাহকীক আলবানী: দঈফ।[২৭০০] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৪/১৬৬, যইফ আল-জামি' ৫৯১৬। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. দুরুসত বিন যিয়াদ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। আবুল হাসায়ন বলেন, তিনি সিকাহ। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৭৯৮, ৮/৮৪০ নং পৃষ্ঠা) ২. ইয়াযীদ আর-রাকশী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু বকার আল-বুরকানী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৫৮, ৩২/৬৪ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৭০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ مَاتَ عَلَى وَصِيَّةٍ مَاتَ عَلَى سَبِيلٍ وَسُنَّةٍ وَمَاتَ عَلَى تُقًى وَشَهَادَةٍ وَمَاتَ مَغْفُورًا لَهُ " .
বর্ণনাকারী জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ওসিয়ত করে মারা গেলো সে সঠিক পথে ও সুন্নাতের উপরই মারা গেলো, তাকওয়া ও শহীদী দরজা পেয়ে মারা গেলো এবং গুনাহ মাফ পেয়ে মারা গেলো।
তাহকীক আলবানীঃ দঈফ।[২৭০১] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ৩০৭৬, যইফ আল-জামি ৫৮৪৮। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা) ২. ইয়াযীদ বিন আওফ সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী ও ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি মাজহুল অপরিচিত। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭০৩৪, ৩২/২২১ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৭০২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عَوْفٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ وَلَهُ شَىْءٌ يُوصِي بِهِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ " .
বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির নিকট ওসিয়তযোগ্য জিনিস থাকা সত্ত্বেও তার ওয়াসিয়তনামা তার কাছে লিখিত আকারে না রেখে দুইটি রাতও অতিবাহিত করার অধিকার তার নেই।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।[২৭০২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৯/১৮, ইবনু হিব্বান ৬০২৪, দারাকুতনী ৪/১৫০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
২২/৩. অধ্যায়ঃ
ওসিয়াতের মধ্যে জুলুম করা
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৭০৩
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ فَرَّ مِنْ مِيرَاثِ وَارِثِهِ قَطَعَ اللَّهُ مِيرَاثَهُ مِنَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার ওয়ারিসকে মিরাস দেয়া থেকে পশ্চাদপসরণ করে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে জান্নাতের অংশীদার হওয়া থেকে বঞ্চিত করবেন।
তাহকীক আলবানী: দঈফ।[২৭০৩] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ফিস সুনান ৬/২৬৪, মিশকাত ৩০৭৮। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুর রহীম যায়দ আল-আম্মী সম্পর্কে আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী তার হাদিস বর্জন করেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। ইমাম যাহাবী তাকে বর্জন করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪০৬, ১৮/৩৪ নং পৃষ্ঠা) ২. যায়দ আল-আম্মী সম্পর্কে আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী তার মাওদুআত গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য হবে না, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু নুমায়র আল-আসবাহানী বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২১০২, ১০/৫৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নং ২৭০৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْخَيْرِ سَبْعِينَ سَنَةً فَإِذَا أَوْصَى حَافَ فِي وَصِيَّتِهِ فَيُخْتَمُ لَهُ بِشَرِّ عَمَلِهِ فَيَدْخُلُ النَّارَ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الشَّرِّ سَبْعِينَ سَنَةً فَيَعْدِلُ فِي وَصِيَّتِهِ فَيُخْتَمُ لَهُ بِخَيْرِ عَمَلِهِ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ} إِلَى قَوْلِهِ {عَذَابٌ مُهِينٌ}
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি একাধারে সত্তর বছর যাবত উত্তম কাজ করলো, অতঃপর ওসিয়াতের মাধ্যমে যুলুম করলো, ফলে খারাপ কাজের দ্বারা তার জীবনের সমাপ্তি হলো, সে জাহান্নামে যাবে।আবার কোন লোক একাধারে সত্তর বছর ধরে খারাপ কাজ করলো, অতঃপর ওসিয়াতের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত কাজ করলো, ফলে ভালো কাজের দ্বারা তার জীবনের সমাপ্তি হলো, সে জান্নাতে যাবে।আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে (কুরআনের এ আয়াত) পড়তে পারো (অনুবাদ) : “এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এটা এক মহাসাফল্য। আর কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লংঘন করলে তিনি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে, তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি”। (সূরা নিসা: ১৩-১৪)।
তাহকীক আলবানী: দঈফ।২৭০৪] আবূ দাউদ ২৮৬৭, যইফ আবু দাউদ ৪৯৫, মিশকাত ৩০৭৫। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী শাহর বিন হাওশাব সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইয়াকুব বিন সুফইয়ান এবং আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তাকে বর্জন করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, কোন সমস্যা নেই। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৭৮১, ১২/৫৭৮ নং পৃষ্ঠা)