ঈমান অধ্যায়

১/১৪. অধ্যায়ঃ

পরকালের প্রতি ঈমান

হাদিস সম্ভার

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)

একদা সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব?’ তিনি বললেন, “তোমরা কি মেঘহীন দিন-দুপুরে সূর্য দেখতে কোন অসুবিধা বোধ কর?” তাঁরা বললেন, ‘জী না।’ তিনি বললেন, “তোমরা কি মেঘহীন রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কোন অসুবিধা বোধ কর?” তাঁরা বললেন, ‘জী না।’ তিনি বললেন, “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন আছে! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে কোন অসুবিধা বোধ করবে না, যেমন ঐ দু’টির একটিকে দেখতে কোন অসুবিধা বোধ কর না। আল্লাহ বান্দার সাথে সাক্ষাৎ ক’রে বলবেন, ‘হে অমুক! তোমাকে কি সম্মানিত করিনি, তোমাকে কি নেতা বানাইনি? তোমাকে কি বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ করিনি? তোমার জন্য কি ঘোড়া ও উটকে বশীভূত ক’রে দিইনি?’ তোমাকে কি নেতৃত্ব করতে ও ধন-মালে হুকুম চালাতে ছেড়ে দিইনি?’ বান্দা বলবে, ‘অবশ্যই।’ আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি কি ধারণা করতে যে, তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে?’ বান্দা বলবে ‘না’। আল্লাহ বলবেন, তাহলে আমি তোমাকে ভুলে যাব, যেমন তুমি আমাকে ভুলে ছিলে।’অতঃপর দ্বিতীয় এক বান্দার সাথে সাক্ষাৎ ক’রে অনুরূপ বলবেন। অতঃপর তৃতীয় এক বান্দার সাথে সাক্ষাৎ ক’রে অনুরূপ বলবেন। সে বলবে ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার প্রতি, তোমার কিতাব ও রসূলসমূহের প্রতি ঈমান এনেছি, নামায পড়েছি, রোযা করেছি, দান-খয়রাত করেছি।’ এই শ্রেণীর সে আরো যথাসাধ্য ভালো কাজের উল্লেখ করবে। আল্লাহ বলবেন, ‘সুতরাং থামো এখানে!’ অতঃপর বলবেন, ‘এখন তোমার বিরুদ্ধে আমার সাক্ষী খাড়া করব।’ সে তখন মনে মনে চিন্তা করবে, ‘আমার বিরুদ্ধে কে সাক্ষি দেবে?’ অতঃপর তার মুখে মোহর লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং তার জাং, মাংস ও হাড়কে বলা হবে, ‘কথা বল।’ সুতরাং তার জাং, মাংস ও হাড় তার কৃতকর্মের ব্যাপারে কথা বলবে; যাতে তার কোন ওযর অবশিষ্ট না থাকে। এ হবে মুনাফিক। এ হবে সেই ব্যক্তি, যার প্রতি আল্লাহ রাগান্বিত হবেন।” (মুসলিম ৭৬২৮নং)

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18