আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়
৪/১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহভীতি ও সংযমশীলতা
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৮৮
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করা হল যে, ‘হে আল্লাহর রসূল! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে?” তিনি বললেন, “তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে আল্লাহ-ভীরু।” অতঃপর তাঁরা (সাহাবীরা) বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি না।’ তিনি বললেন, “তাহলে ইউসুফ (সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি), যিনি স্বয়ং আল্লাহর নবী, তাঁর পিতা নবী, পিতামহও নবী এবং প্রপিতামহও নবী ও আল্লাহর বন্ধু।” তাঁরা বললেন, “এটাও আমাদের প্রশ্ন নয়।” তিনি বললেন, “তাহলে তোমরা কি আমাকে আরবের বংশাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? (তবে শোনো!) তাদের মধ্যে যারা জাহেলী যুগে ভাল, তারা ইসলামেও ভাল; যদি দ্বীনী জ্ঞান রাখে।” (বুখারী ৩৩৫৩, মুসলিম ৬৩৩১নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৮৯
বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “নিশ্চয় দুনিয়া মধুর ও সবুজ (সুন্দর আকর্ষণীয়)। আর নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে এর প্রতিনিধি নিয়োজিত ক’রে দেখবেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ করছ? অতএব তোমরা (যদি সফলকাম হতে চাও তাহলে) দুনিয়ার ধোঁকা থেকে বাঁচ এবং নারীর (ফিৎনা থেকে) বাঁচ। কারণ, বানী ঈস্রাইলের সর্বপ্রথম ফিৎনা নারীকে কেন্দ্র করেই হয়েছিল।” (মুসলিম ৭১২৪নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০
বর্ণনাকারী ইবনে মাসঊদ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দুআ করতেন, `আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা অততুক্বা, অলআফা-ফা আলগিনা।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সৎপথ, সংযমশীলতা, চারিত্রিক পবিত্রতা ও অভাবশূন্যতা প্রার্থনা করছি। (মুসলিম ৭০৭৯নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯১
عَنْ أَبيْ طَرِيفٍ عَدِيِّ بنِ حَاتِمٍ الطَّائيِّ قَالَ : سَمِعْتُ رسولَ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُوْلُ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ رَأَى أتْقَى للهِ مِنْهَا فَليَأتِ التَّقْوَى رواه مسلم
বর্ণনাকারী আবূ ত্বারীফ আদী ইবনে হাতেম ত্বাই (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে (এ কথা) বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের উপর কসম খাবে অতঃপর তার চেয়ে বেশী আল্লাহ-ভীতির বিষয় দেখবে, তার উচিত আল্লাহ-ভীতির বিষয় গ্রহণ করা।” (মুসলিম ৪৩৬৪নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯২
عَنْ أَبيْ أُمَامَةَ صُدَيّ بنِ عَجْلَانَ البَاهِلِيِّ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ الله ﷺ يَخْطُبُ في حجةِ الودَاعِ فَقَالَ اتَّقُوا الله وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ وَصُومُوا شَهْرَكُمْ وَأَدُّوا زَكاةَ أَمْوَالِكُمْ وَأَطِيعُوا أُمَرَاءَكُمْ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح
বর্ণনাকারী আবূ উমামাহ সুদাই বিন আজলান বাহেলী (রাঃ)
আমি বিদায় হজ্জের অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ভাষণ দিতে শুনেছি, “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্তের (ফরয) নামায পড়, তোমাদের রমযান মাসের রোযা রাখ, তোমাদের মালের যাকাত আদায় কর এবং তোমাদের নেতা ও শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য কর (যদি তাদের আদেশ শরীয়ত বিরোধী না হয়), তাহলে তোমরা তোমাদের প্রভুর জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী ৬১৬নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯৩
عَنْ سَعْدٍ بْنِ أَبِيْ وَقَّاص قاَلَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خَيْرُ دِينِكُمْ الوَرَعُ
বর্ণনাকারী সা’দ বিন আবী অক্কাস
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন হল পরহেযগারী।” (আবুশ শাইখ, সহীহুল জামে’ ৩৩০৮নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯৪
عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِي الْمُتَّقُونَ مَنْ كَانُوا وَحَيْثُ كَانُواِِِِ
বর্ণনাকারী মুআয বিন জাবাল
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয় আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী মুত্তাক্বীনগণ; তারা যেই হোক, যেখানেই থাক।” (আহমদ ২২০৫২, সঃ জামে ২০১২নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯৫
وعَنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ أَهْلَ بَيْتِي هَؤُلاءِ يَرَوْنَ أَنَّهُمْ أَوْلَى النَّاسِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِنَّ أَوْلِيَائِيَ مِنْكُمُ الْمُتَّقُونَ
বর্ণনাকারী উক্ত সাহাবী
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমার পরিবারের লোক মনে করে, ওরা আমার বেশি ঘনিষ্ঠতম। অথচ আমার বেশি ঘনিষ্ঠ হল পরহেযগার লোকেরা, তারা যেই হোক, যেখানেই থাক। (ত্বাবারানীর কাবীর ২৪১, ইবনে হিব্বান ৬৪৭, যিলালুল জান্নাহ ২১২নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯৬
عَنْ جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَلَا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى عَجَمِيٍّ وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَى
বর্ণনাকারী জাবের বিন আব্দুল্লাহ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায়ী হজ্জের ভাষণে বলেছেন, “হে লোক সকল! শোনো, তোমাদের প্রতিপালক এক, তোমাদের পিতা এক। শোনো, আরবীর উপর অনারবীর এবং অনারবীর উপর আরবীর, কৃষ্ণকায়ের উপর শ্বেতকায়ের এবং শ্বেতকায়ের উপর কৃষ্ণকায়ের কোন শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নেই। শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা আছে তো কেবল ‘তাক্বওয়ার’ কারণেই।” (আহমাদ ২৩৪৮৯, শুআবুল ঈমান, বাইহাক্বী ৫১৩৭নং)
৪/২. অধ্যায়ঃ
দৃঢ়-প্রত্যয় ও (আল্লাহর প্রতি) ভরসা
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯৭
عَن ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عُرِضَتْ عَلَيَّ الأُمَمُ فَرَأيْتُ النَّبيَّ ومَعَهُ الرُّهَيطُ وَالنَّبِيَّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالرَّجُلانِ وَالنبيَّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ إِذْ رُفِعَ لي سَوَادٌ عَظيمٌ فَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِي فقيلَ لِي : هَذَا مُوسَى وَقَومُهُ ولكنِ انْظُرْ إِلَى الأُفُقِ فَنَظَرتُ فَإِذا سَوادٌ عَظِيمٌ فقيلَ لي : انْظُرْ إِلَى الأفُقِ الآخَرِ فَإِذَا سَوَادٌ عَظيمٌ فقيلَ لِي : هذِهِ أُمَّتُكَ وَمَعَهُمْ سَبْعُونَ ألفاً يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ بِغَيرِ حِسَابٍ ولا عَذَابٍ ثُمَّ نَهَضَ فَدخَلَ مَنْزِلَهُ فَخَاضَ النَّاسُ في أُولئكَ الَّذِينَ يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ ولا عَذَابٍ فَقَالَ بَعْضُهُمْ : فَلَعَلَّهُمْ الَّذينَ صَحِبوا رسولَ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَقالَ بعْضُهُمْ : فَلَعَلَّهُمْ الَّذِينَ وُلِدُوا في الإِسْلامِ فَلَمْ يُشْرِكُوا بِالله شَيئاً - وذَكَرُوا أشيَاءَ - فَخَرجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ مَا الَّذِي تَخُوضُونَ فِيهِ ؟ فَأَخْبَرُوهُ فقالَ هُمُ الَّذِينَ لاَ يَرْقُونَ وَلا يَسْتَرقُونَ وَلا يَتَطَيَّرُونَ وعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوكَّلُون فقامَ عُكَّاشَةُ ابنُ محصنٍ فَقَالَ : ادْعُ الله أنْ يَجْعَلني مِنْهُمْ فَقَالَ أنْتَ مِنْهُمْ ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ : ادْعُ اللهَ أنْ يَجْعَلنِي مِنْهُمْ فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আমার কাছে সকল উম্মত পেশ করা হল। আমি দেখলাম, কোন নবীর সাথে কতিপয় (৩ থেকে ৭ জন অনুসারী) লোক রয়েছে। কোন নবীর সাথে এক অথবা দুইজন লোক রয়েছে। কোন নবীকে দেখলাম তাঁর সাথে কেউ নেই। ইতোমধ্যে বিরাট একটি জামাআত আমার সামনে পেশ করা হল। আমি মনে করলাম, এটিই আমার উম্মত। কিন্তু আমাকে বলা হল যে, ‘এটি হল মূসা ও তাঁর উম্মতের জামাআত কিন্তু আপনি অন্য দিগন্তে তাকান।’ অতঃপর তাকাতেই আরও একটি বিরাট জামাআত দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হল যে, ‘এটি হল আপনার উম্মত। আর তাদের সঙ্গে রয়েছে এমন ৭০ হাজার লোক, যারা বিনা হিসাব ও আযাবে বেহেশ্ত প্রবেশ করবে।’এ কথা বলে তিনি উঠে নিজ বাসায় প্রবেশ করলেন। এদিকে লোকেরা ঐ বেহেশ্তী লোকদের ব্যাপারে বিভিন্ন আলোচনা শুরু ক’রে দিল, যারা বিনা হিসাব ও আযাবে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে। কেউ কেউ বলল, ‘সম্ভবতঃ ঐ লোকেরা হল তারা, যারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবা।’ কিছু লোক বলল, ‘বরং সম্ভবতঃ ওরা হল তারা, যারা ইসলামে জন্মগ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেনি।’ আরো অনেকে অনেক কিছু বলল। কিছু পরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট বের হয়ে এসে বললেন, “তোমরা কী ব্যাপারে আলোচনা করছ?” তারা ব্যাপার খুলে বললে তিনি বললেন, “ওরা হল তারা, যারা ঝাড়ফুঁক করে না [১], ঝাড়ফুঁক করায় না এবং কোন জিনিসকে অশুভ লক্ষণ মনে করে না, বরং তারা কেবল আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখে।”এ কথা শুনে উক্কাশাহ ইবনে মিহসান উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘(হে আল্লাহর রসূল!) আপনি আমার জন্য দুআ করুন, যেন আল্লাহ আমাকে তাদের দলভুক্ত ক’রে দেন!’ তিনি বললেন, “তুমি তাদের মধ্যে একজন।” অতঃপর আর এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনি আমার জন্যও দুআ করুন, যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের দলভুক্ত করে দেন।’ তিনি বললেন, “উক্কাশাহ (এ ব্যাপারে) তোমার অগ্রগমন করেছে।” (বুখারী ৫২৭০, মুসলিম ২২০নং)
[১] এ কথাটি বুখারীতে নেই। তাছাড়া জিবরীল (আঃ) ঝাড়ফুঁক করেছেন, ঝাড়ফুঁক করেছেন মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। পক্ষান্তরে অন্য বর্ণনায় উক্ত কথার স্থলে ‘দাগায় না’ কথা এসেছে।