(আল্লাহর পথে) জিহাদ অধ্যায়
২০/১. অধ্যায়ঃ
জিহাদ ওয়াজেব এবং তাতে সকাল-সন্ধ্যার মাহাত্ম্য
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৮৯৯
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أُمِرْتُ أنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أنْ لاَ إلهَ إلاَّ الله وَأنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ الله وَيُقيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءهُمْ وَأمْوَالَهُمْ إلاَّ بحَقِّ الإسْلاَمِ وَحِسَابُهُمْ عَلَى الله تَعَالَى متفقٌ عليه
বর্ণনাকারী ইবনে উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আমাকে লোকেদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে; যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর তারা নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত প্রদান করবে। যখন তারা এ কাজগুলো সম্পাদন করবে, তখন তারা আমার নিকট থেকে তাদের রক্ত (জান) এবং মাল বাঁচিয়ে নেবে; কিন্তু ইসলামের হক ব্যতীত (অর্থাৎ সে যদি কাউকে হত্যা করে, তবে তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাকে হত্যা করা হবে।) আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত হবে।” (বুখারী ২৫, মুসলিম ১৩৮ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০০
عَنِ ابنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بُعِثْتُ بِالسَّيْفِ حَتَّى يُعْبَدَ اللهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَجُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ ظِلِّ رُمْحِي وَجُعِلَ الذِّلَّةُ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي وَمَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
বর্ণনাকারী ইবনে উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমি (কিয়ামতের পূর্বে) তরবারি-সহ প্রেরিত হয়েছি, যাতে শরীকবিহীনভাবে আল্লাহর ইবাদত হয়। আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (আহমাদ ৫১১৪-৫১১৫, ৫৬৬৭, শুআবুল মান ৯৮, সঃ জামে’ ২৮৩১ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০১
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: سُئِلَ رَسُول اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أيُّ العَمل أفْضَلُ ؟ قَالَ إيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ قيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ الجهادُ في سَبيلِ اللهِ قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ حَجٌّ مَبْرُورٌ متفقٌ عليه
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা হল, ‘সর্বোত্তম কাজ কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল, ‘অতঃপর কী?’ তিনি বললেন, “মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী ২৬, ১৫১৯, মুসলিম ২৫৮ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০২
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ؟ قَالَ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا قُلْتُ : ثُمَّ أيُّ ؟ قَالَبِرُّ الوَالِدَيْنِ قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ ؟ قَالَ الجِهَادُ فِي سَبيلِ اللهِ متفقٌ عليه
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহর নিকট কোন্ কাজটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে নামায আদায় করা।” আমি নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোন্টি?’ তিনি বললেন, “মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোন্টি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” (বুখারী ৫২৭, ২৭৮২ নং, মুসলিম ২৬২ নং, তিরমিযী, নাসাঈ)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০৩
وَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ العَمَلِ أَفْضلُ ؟ قَالَ الإِيمَانُ بِاللهِ وَالجِهَادُ في سَبِيلهِ متفقٌ عليه
বর্ণনাকারী আবূ যার্র (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! সর্বোত্তম আমল কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখা ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা।” (বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ২৬০ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০৪
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَلَغَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا متفقٌ عليه
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর পথে এক সকাল বা এক সন্ধ্যা অতিক্রান্ত করা, পৃথিবী ও তন্মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা উত্তম।” (বুখারী ২৭৯২, মুসলিম ৪৯৮১ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০৫
عن أبي أَيُّوبَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم غَدْوَةٌ فِى سَبِيلِ اللهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ وَغَرَبَتْ
বর্ণনাকারী আবু আইয়ুব (রাঃ)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের) একটি সকাল অথবা সন্ধ্যা সেই (বিশ্বজাহান) অপেক্ষা উত্তম যার উপর সূর্য উদিত ও অস্তমিত হয়েছে।” (মুসলিম ৪৯৮৫ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০৬
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِي قَالَ : أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ : أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ ؟ قَالَمُؤْمنٌ يُجَاهِدُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبيلِ اللهِ قَالَ : ثُمَّ مَنْ ؟ قَالَ مُؤْمِنٌ فِي شِعبٍ مِنَ الشِّعَابِ يَعْبُدُ اللهَ وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ متفقٌ عليه
বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে এই নিবেদন করল যে, ‘সব চাইতে উত্তম ব্যক্তি কে?’ তিনি বললেন, “সেই মু’মিন ব্যক্তি, যে নিজ জান-মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে।” সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, “সেই মু’মিন, যে পার্বত্য ঘাঁটির মধ্যে কোন ঘাঁটিতে আল্লাহর উপাসনায় প্রবৃত্ত থাকে ও জনগণকে নিজের মন্দ থেকে মুক্ত রাখে।” (বুখারী ২৭৮৬, ৬৪৯৪, মুসলিম ৪৯৯৪-৪৯৯৫ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০৭
عَنْ نُعَيْمِ بْنِ هَمَّارٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قال أفْضَلُ الشُّهَدَاءِ الَّذِينَ يُقاتِلُونَ في الصَّفِّ الأَوَّلِ فلا يَلْفِتُونَ وُجُوهَهُمْ حَتَّى يُقْتَلُوا أُولَئِكَ يَتَلبَّطُونَ في الغُرَفِ العُلَى مِنَ الجَنَّةِ يَضْحَكُ إلَيْهِمْ رَبُّكَ فإذا ضَحِكَ رَبُّكَ إلى عَبْدٍ في مَوْطِنٍ فلا حِسابَ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী নুআইম বিন হাম্মার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদ হল তারা, (সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ হল তাদের), যারা প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে এবং মুখ ফিরিয়ে দেখেও না। পরিশেষে তারা নিহত হয়। তারা বেহেশ্তের কক্ষে গড়াগড়ি দেবে। প্রতিপালক তাদেরকে দেখে হাসবেন। আর যে সম্প্রদায়কে দেখে তিনি হাসবেন, তাদের কোন হিসাব হবে না।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৪১৩১, আবূ য়্যা’লা ৬৮৫৫, ইবনে আবী শাইবা ১৯৩৫৩, সঃ তারগীব ১৩৭২ নং)
হাদিস সম্ভার
হাদিস নং ১৯০৮
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ أَنْ يُعْقَرَ جَوَادُكَ وَيُهَرَاقَ دَمُكَ
বর্ণনাকারী জাবের (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করল, ‘কোন্ জিহাদ সর্বশ্রেষ্ঠ?’ উত্তরে তিনি বললেন, “যাতে তোমার ঘোড়ার পা কেটে ফেলা হয় এবং তোমার রক্ত বহানো হয়।” (ইবনে হিব্বান ৪৬৩৯, সঃ তারগীব ১৩৬৫ নং)