অপরাধ প্রসঙ্গ
৯/০. অধ্যায়ঃ
মুসলিমের রক্তের মর্যাদা
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৫৮
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ; يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ, وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ, إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ: الثَّيِّبُ الزَّانِي, وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ, وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ; الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী ইবনু মাসউদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সত্যে বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও এর প্রতি স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে এমন কোন মুসলিমের জীবননাশ বৈধ নয়, তবে যদি সে তিনটি অপরাধের কোন একটি করে বসে(১) বিবাহিত হওয়ার পর যিনা (ব্যভিচার) করে(২) অন্যায়ভাবে কারো জীবননাশ করে,(৩) ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করতঃ মুসলমানের জামা’আত হতে যে দূরে চলে যায়। [১২৬১]
[১২৬১] বুখারী ৬৮৭৮, মুসলিম ১৬৭৬, তিরমিযী ১৪০২, নাসায়ী ৪০১৬, আবূ দাঊদ ৪৩৫২, ইবনু মাজাহ ২৫৩৪, আহমাদ ৩৬১৪, ৪০৫৫, দারেমী ২২৯৮, ২৪৪৭।
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৫৯
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا, عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا يَحِلُّ قَتْلُ مُسْلِمٍ إِلَّا فِي إِحْدَى ثَلَاثِ خِصَالٍ: زَانٍ مُحْصَنٌ فَيُرْجَمُ, وَرَجُلٌ يَقْتُلُ مُسْلِمًا مُتَعَمِّدًا فَيُقْتَلُ, وَرَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ الْإِسْلَامِ فَيُحَارِبُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ, فَيُقْتَلُ, أَوْ يُصْلَبُ, أَوْ يُنْفَى مِنَ الْأَرْضِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেয় যে , আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহ্র রাসূল, তবে তিন-তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। (যথা) বিবাহিত ব্যভিচারী, জানের বদলে জান, আর নিজের দ্বীন ত্যাগকারী মুসলিম জামাআত তেকে পৃথক হয়ে যাওয়া ব্যাক্তি। [১২৬২]
[১২৬২] আবূ দাঊদ ৪৩৫৩, নাসায়ী ৪০১৬, ৪০১৭, ৪০৪৮, আহমাদ ২৩৭৮৩, ২৫১৭২।
৯/০. অধ্যায়ঃ
রক্তের মর্যাদা
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬০
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিবসে মানুষের হক্ব প্রসঙ্গে সবার আগে খুনের বিচার করা হবে। [১২৬৩]
[১২৬৩] বুখারী ৬৮৬৪, মুসলিম ১৬৭৮,তিরমিযী ১৩৯৬, ১৩৯৭, নাসায়ী ৩৯৯১,৩৯৯২, ইবনু মাজাহ ২৬১৫, ২৬১৭,আহমাদ ৩৬৬৫, ৪১৮৮, ৪২০১।
৯/০. অধ্যায়ঃ
দাসের হত্যার বদলে মনিবকে হত্যা করার বিধান
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬১
وَعَنْ سَمُرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ, وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ سَمُرَةَ, وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي سَمَاعِهِ مِنْهُوَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ: «وَمَنْ خَصَى عَبْدُهُ خَصَيْنَاهُ». وَصَحَّحَ الْحَاكِمُ هَذِهِ الزِّيَادَةَ
বর্ণনাকারী সামুরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করবে আমরা তাকে হত্যা করব, যে তার দাসের নাক কান কাটবে আমরা তার নাক কান কেটে নেব। [১২৬৪]
[১২৬৪] আবূ দাঊদ ৪৫১৫, ৪৫১৮, তিরমিযী ১৪১৪, নাসায়ী ৪৭৩৬, ৪৭৩৭, ইবনু মাজাহ ২৬৬৩, আহমাদ ১৯৫৯৮, ১৯৬১৪, দারেমী ২৩৫৮। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনানে কুবরায় ৮/৩৫ গ্রন্থে একে যঈফ বলেছেন। আর তিনি সুনানে সুগরার ৩/২১০ গ্রন্থে বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মুঈন ও শুবা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন সামুরা থেকে হাসান এর শ্রবণ করাকে। শাঈখ আলবানী তাঁর তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৪০৪ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। শাঈখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ৪/১৯৩ গ্রন্থে বলেন, হাসান পর্যন্ত সনদ সহীহ, মুহাদ্দিসগণ সামুরা থেকে হাসানের এ হাদিসটি শোনার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম শওকানী তাঁর আদদিরারী আল মাযীয়্যাহ ৪১১ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে, কেননা হাসান এটি সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি নাইলুল আওত্বর ৭/১৫৬ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ আবূ দাঊদ ৪৫১৫, যঈফ নাসায়ী ৪৭৬৭, যঈফ তিরমিযী ১৪১৪ গ্রন্থসমূহে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনে উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২২৯ গ্রন্থে বলেনঃ একে বিচ্ছিন্নতার দোষে দুষ্ট করা হয়েছে। সঠিক হলো মুত্তাসিল।
৯/০. অধ্যায়ঃ
সন্তানকে হত্যার বদলে পিতাকে হত্যা করার বিধান
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬২
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «لَا يُقَادُ الْوَالِدُ بِالْوَلَدِ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ الْجَارُودِ وَالْبَيْهَقِيُّ, وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: إِنَّهُ مُضْطَرِبٌ
বর্ণনাকারী উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, সন্তানের হত্যার বদলে পিতাকে হত্যা করা যাবে না। [১২৬৫]
[১২৬৫] তিরমিয়ী ১৪৮০, আর দাউদ ২৮৫৮। ইমাম তিরমিয়ী তাঁর সুনানে ১৪০০, ইমাম বাগাবী তাঁর শারহুস সুন্নাহ ৫/৩৯৪ গ্রন্থে এর সনদে ইযতিরাব সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাত্ত্বান তার আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম ৩/৩৬৪ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে হাজ্জাজ বিন আরত্বআহ নামক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। মুহাম্মাদ বিন আবদুল হাদী তার তানকীহ তাহকীকুত তালীক ৩/২৬০ গ্রন্থে বলেন,এর সনদে হাজ্জাজ সম্পর্কে ইবনুল মুবারক বলেন, সে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদলীস করত। ইমাম সনআনী তার সুবুলুস সালাম ৩/৩৬৪ গ্রন্থে উক্ত রাবীকে ইযতিরাবের দোষে অভিযুক্ত করেছেন। ইবনে উসাইমীন তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫ম খণ্ড ২৩০ পৃষ্ঠায় একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তার আত-তালখীসুল হাবীর ৪/১৩১৪ গ্রন্থে হাজ্জাজ বিন আরত্বআর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, এর আরো কয়েকটি সনদ রয়েছে। বিন বায তাঁর হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৬৫০ গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহ তিরমিয়ী ১৪০০ ও সহীহুল জামে ৭৭৪৪ গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। -
৯/০. অধ্যায়ঃ
কাফিরের হত্যার বদলে মুসলিম হত্যা করা প্রসঙ্গ এবং সকল মুমিনের রক্ত সমমর্যাদা সম্পন্ন
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬৩
وَعَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ: قُلْتُ لَعَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ مِنَ الْوَحْيِ غَيْرَ الْقُرْآنِ? قَالَ: لَا، وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النِّسْمَةَ, إِلَّا فَهْمٌ يُعْطِيهِ اللَّهُ رَجُلًا فِي الْقُرْآنِ, وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ. قُلْتُ: وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ قَالَ: الْعَقْلُ, وَفِكَاكُ الْأَسِيرِ, وَلَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
বর্ণনাকারী আবু জুহাইফাহ (রাঃ)
আমি আলী (রাঃ)-কে বললাম, আপনাদের নিকট কি কিছু লিপিবদ্ধ আছে? তিনি বললেনঃ না, শুধুমাত্র আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আর একজন মুসলিমকে যে জ্ঞান দান করা হয় সেই বুদ্ধি ও বিবেক। এছাড়া কিছু এ সহীফাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি [আবু জুহাইফাহ (রাঃ)] বলেন, আমি বললাম, এ সহীফাটিতে কী আছে? তিনি বললেন, ক্ষতিপূরণ ও বন্দী মুক্তির বিধান, আর এ বিধানটিও যে, ‘কোন মুসলিমকে কাফির হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না’। [১২৬৬]
[১২৬৬] বুখারী:১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৮০,৬৭৫৫, মুসলিম ১৩৭০ তিরমিয়ী ১৪১২, ২১২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৫৫, আৰু দাউদ ২০৩৪, ৪৫৩০, ইবনু মাজাহ ২৬৫৮, আহমাদ ৬০০-৬১৬, ৭৮৪, ৮০০, দারেমী ২৩৫৬।
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬৪
وَأَخْرَجَهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ: مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ عَلِيٍّ وَقَالَ فِيهِ: «الْمُؤْمِنُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ, وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ, وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ, وَلَا يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ, وَلَا ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ». وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
বর্ণনাকারী আলী (রাঃ)
মু'মিন মুসলিমগণ তাদের রক্তের বদলার ব্যাপারে সমান। একজন অতি সাধারণ মুসলিমের (কোন কাফির শক্রকে) আশ্রয় দান সকল মুসলিমের নিকটে সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমের হাত অন্য সকল মুসলমানেরও হাত; (অর্থাৎ তারা একটি সংঘবদ্ধ শক্তি) কোন মুমিনকে কাফির হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না, আর কোন চুক্তিবদ্ধ (অমুসলিমকেও) চুক্তি বহাল থাকা পর্যন্ত হত্যা করা যাবে না। [১২৬৭]
[১২৬৭] বুখারী ১১১, ১৮৭০, ৩০৪৭, ৩১৭২, ৩১৮০,.৬৭৫৫, মুসলিম ১৩৭০ তিরমিয়ী ১৪১২, ২১:২৭, নাসায়ী ৪৭৩৪, ৪৭৩৫, ৪৭৫৫, আর দাউদ ২০৩৪, ৪৫৩০, ইবনু মাজাহ ২৬৫৮, আহমাদ ৬০০, ৬১৬, ৭৮৪, ৮০০, দারেমী ২৩৫৬। নাসায়ীর বর্ণনায় আরো রয়েছে, যে ব্যক্তি কোন বিদ'আত বা দ্বীনের মধ্যে নতুন বিষয় আবিষ্কার করবে বা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকূল ও সকল মানুষের লা'নত ।
৯/০. অধ্যায়ঃ
ভারী জিনিস দ্বারা হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া এবং মহিলার খুনের দায়ে পুরুষকে হত্যা করা
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬৫
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ جَارِيَةً وُجِدَ رَأْسُهَا قَدْ رُضَّ بَيْنَ حَجَرَيْنِ, فَسَأَلُوهَا: مَنْ صَنَعَ بِكِ هَذَا? فُلَانٌ. فُلَانٌ. حَتَّى ذَكَرُوا يَهُودِيًّا. فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا, فَأُخِذَ الْيَهُودِيُّ, فَأَقَرَّ, فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنْ يُرَضَّ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
কোন এক দাসীর মস্তক দুটি পাথরের মধ্যে থেতলানো পাওয়া যায়, তাকে জিজ্ঞেস করা হল, কে তোমাকে এরূপ করেছে? অমুক ব্যক্তি, অমুক ব্যক্তি? যখন জনৈক ইয়াহূদীর নাম বলা হল- তখন সে দাসী মাথার দ্বারা হ্যা সূচক ইশারা করল। ইয়াহুদীকে ধরে আনা হল । সে অপরাধ স্বীকার করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। তখন তার মাথা দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে পিষে দেয়া হল। [১২৬৮]
[১২৬৮] বুখারী ২৪১৩, ২৭৪৬, ৬৮৭৬, ৬৮৭৭, মুসলিম ১৬৭২, তিরমিয়ী ১৩৯৪, নাসায়ী ৪৭৪০, ৪৭৪১, আর দাউদ ৪৫২৭,৪৫২৮, ৪৫২৯, ইবন মাজাহ ২৬৬৫, ২৬৬৬; আহমাদ ১২২৫৬, ১২৩৩০, দারেমী ২৩৫৫ ।
৯/০. অধ্যায়ঃ
গরীব পরিবারের বালকের অপরাধের বিধান
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬৬
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ - رضي الله عنه: أَنَّ غُلَامًا لِأُنَاسٍ فُقَرَاءَ قَطَعَ أُذُنَ غُلَامٍ لِأُنَاسٍ أَغْنِيَاءَ, فَأَتَوا النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمْ شَيْئًا. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالثَّلَاثَةُ, بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
বর্ণনাকারী ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
গরীব লোকেদের কোন এক ছেলে ধনী লোকেদের কোন এক বালকের কান কেটে ফেলে। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে বিচার প্রার্থী হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য কোন দিয়াত দেয়ার ব্যবস্থা করেননি। (তাদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ সম্ভব ছিল না বলে)। [১২৬৯]
[১২৬৯] আর দাউদ ৪৫৯০, নাসায়ী ৪৭৫১, নাসায়ী ৪৭৫১, দারেমী ২৩৬৮।
৯/০. অধ্যায়ঃ
ক্ষত সেরে উঠার পূর্বে কিসাস বা প্রতিশোধ নেওয়া নিষেধ
বুলুগুল মারাম
হাদিস নং ১১৬৭
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ; - رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلًا طَعَنَ رَجُلًا بِقَرْنٍ فِي رُكْبَتِهِ, فَجَاءَ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: أَقِدْنِي. فَقَالَ: «حَتَّى تَبْرَأَ». ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: أَقِدْنِي, فَأَقَادَهُ, ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عَرِجْتُ, فَقَالَ: «قَدْ نَهَيْتُكَ فَعَصَيْتَنِي, فَأَبْعَدَكَ اللَّهُ, وَبَطَلَ عَرَجُكَ». ثُمَّ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «أَنْ يُقْتَصَّ مِنْ جُرْحٍ حَتَّى يَبْرَأَ صَاحِبُهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَأُعِلَّ بِالْإِرْسَالِ
বর্ণনাকারী শুআইব (রাঃ)
কোন এক লোক অন্য এক লোকের হাঁটুতে শিং দ্বারা আঘাত করে । সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে বললোঃ আমার বদলা নিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি ক্ষত সেরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। লোকটি কিন্তু (সেরে যাওয়ার আগেই) আবার এসে বললোঃ আমার জখমের মূল্য বা খেসারত আদায় করে দিন। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার খেসারত আদায় করে দেন। তারপর লোকটি এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো খোড়া হয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম তুমি তা মাননি। ফলে আল্লাহ তোমাকে (তাঁর রহমাত হতে) দূর করে দিয়েছেন এবং তোমার খোড়াত্ব বাতিল হয়ে গেছে। (দিয়াত আদায়ের যোগ্য রাখেননি)। এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন জখম আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত জখমী লোকের পক্ষে কোন বদলা আদায়ের ফয়সালা দিতে নিষেধ করেছেন। [১২৭০]
[১২৭০] আহমাদ ২১৭, দারাকুতনী ৩/৮৮ এর সনদে ইরসালের দোষ থাকলেও তা ক্ষতিকর নয়, কেননা অনেকগুলো শাহেদ থাকার কারণে এটি সহীহর পর্যায়ভুক্ত। ইমাম সনআনী বলেন, এর সমার্থক হাদীস থাকার কারণে এটিকে শক্তিশালী করেছে। ইবনু তুর্কমান বলেন, ৮৬৭, অনেক সনদে বর্ণিত বলে একে অপরকে শক্তিশালী করেছে।