মাগাজি
৬৪/৩৯. অধ্যায়ঃ
খাইবারের যুদ্ধ
সহিহ বুখারী
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ يَزِيْدَ بْنِ أَبِيْ عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى خَيْبَرَ فَسِرْنَا لَيْلًا فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ لِعَامِرٍ يَا عَامِرُ أَلَا تُسْمِعُنَا مِنْ هُنَيْهَاتِكَ وَكَانَ عَامِرٌ رَجُلًا شَاعِرًا فَنَزَلَ يَحْدُوْ بِالْقَوْمِ يَقُوْلُ :اللهُمَّ لَوْلَا أَنْـتَ مَا اهْتَدَيْنـَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَـافَاغْفِرْ فِدَاءً لَـكَ مَا أَبْقَيْـنَا وَأَلْقِيَنْ سَكِيْنَـةً عَلَـيْـنَاوَثَبِّتْ الْأَقْـدَامَ إِنْ لَاقَـيْـنَا إِنَّا إِذَا صِيْحَ بِنَـا أَبَـيْنَـاوَبِالصِّيَاحِ عَوَّلُوْا عَلَيْنَافَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ هَذَا السَّائِقُ قَالُوْا عَامِرُ بْنُ الْأَكْوَعِ قَالَ يَرْحَمُهُ اللهُ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ وَجَبَتْ يَا نَبِيَّ اللهِ لَوْلَا أَمْتَعْتَنَا بِهِ فَأَتَيْنَا خَيْبَرَ فَحَاصَرْنَاهُمْ حَتَّى أَصَابَتْنَا مَخْمَصَةٌ شَدِيْدَةٌ ثُمَّ إِنَّ اللهَ تَعَالَى فَتَحَهَا عَلَيْهِمْ فَلَمَّا أَمْسَى النَّاسُ مَسَاءَ الْيَوْمِ الَّذِيْ فُتِحَتْ عَلَيْهِمْ أَوْقَدُوْا نِيْرَانًا كَثِيْرَةً فَقَالَ النَّبِيُّ مَا هَذِهِ النِّيرَانُ عَلَى أَيِّ شَيْءٍ تُوْقِدُوْنَ قَالُوْا عَلَى لَحْمٍ قَالَ عَلَى أَيِّ لَحْمٍ قَالُوْا لَحْمِ حُمُرِ الإِنْسِيَّةِ قَالَ النَّبِيُّ أَهْرِيْقُوْهَا وَاكْسِرُوْهَا فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَوْ نُهَرِيْقُهَا وَنَغْسِلُهَا قَالَ أَوْ ذَاكَ فَلَمَّا تَصَافَّ الْقَوْمُ كَانَ سَيْفُ عَامِرٍ قَصِيْرًا فَتَنَاوَلَ بِهِ سَاقَ يَهُوْدِيٍّ لِيَضْرِبَهُ وَيَرْجِعُ ذُبَابُ سَيْفِهِ فَأَصَابَ عَيْنَ رُكْبَةِ عَامِرٍ فَمَاتَ مِنْهُ قَالَ فَلَمَّا قَفَلُوْا قَالَ سَلَمَةُ رَآنِيْ رَسُوْلُ اللهِ وَهُوَ آخِذٌ بِيَدِيْ قَالَ مَا لَكَ قُلْتُ لَهُ فَدَاكَ أَبِيْ وَأُمِّيْ زَعَمُوْا أَنَّ عَامِرًا حَبِطَ عَمَلُهُ قَالَ النَّبِيُّ كَذَبَ مَنْ قَالَهُ إِنَّ لَهُ لَأَجْرَيْنِ وَجَمَعَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ إِنَّهُ لَجَاهِدٌ مُجَاهِدٌ قَلَّ عَرَبِيٌّ مَشَى بِهَا مِثْلَهُ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ قَالَ نَشَأَ بِهَا
বর্ণনাকারী সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ)
আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে খাইবার অভিযানে বেরোলাম। আমরা রাতের বেলা চলছিলাম, তখন দলের এক ব্যক্তি আমির (রাঃ)-কে বলল, ‘হে আমির! তোমার সমর সঙ্গীত থেকে আমাদের কিছু শোনাবে না কি?’ আমির (রাঃ) ছিলেন একজন কবি। তখন তিনি সাওয়ারী থেকে নামলেন এবং সঙ্গীতের তালে তালে কাফেলাকে এগিয়ে নিয়ে চললেন। তিনি গাইলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি না হলে আমরা হিদায়াত লাভ করতাম না, সাদাকা দিতাম না, সালাত আদায় করতাম না। তাই আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, যতদিন আপনার প্রতি সমর্পিত হয়ে থাকব। আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন এবং শত্রুর মুকাবালায় আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন। আমাদেরকে যখন (কুফরের দিকে) ডাকা হয় আমরা তখন তা প্রত্যাখ্যান করি। আর এ কারণে তারা চিৎকার করে আমাদের বিরুদ্ধে লোক-লস্কর জমা করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘এ সঙ্গীতের গায়ক কে?’ তাঁরা বললেন, ‘আমির ইবনুল আকওয়া’। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘আল্লাহ তাকে রহম করুন।’ কাফেলার একজন বললঃ ‘হে আল্লাহর নবী! তার (শাহাদাত) নিশ্চিত হয়ে গেল। (হায়) আমাদেরকে যদি তার নিকট হতে আরো উপকার লাভের সুযোগ দিতেন!’ অতঃপর আমরা খাইবারে পৌঁছলাম এবং তাদেরকে অবরোধ করলাম। এক সময় আমরা ভীষণ ক্ষুধায় আক্রান্ত হলাম। কিন্তু পরেই মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করলেন। বিজয়ের দিন সন্ধ্যায় মুসলিমগণ (রান্নার জন্য) অনেক আগুন জ্বালালেন। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন: ‘এ সব কিসের আগুন? তোমরা কী রান্না করছ?’ তারা জানালেন, গোশত। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন: ‘কিসের গোশত?’ লোকেরা বললেন, ‘গৃহপালিত গাধার গোশত।’ নবী (ﷺ) বললেন, ‘এগুলি ঢেলে দাও এবং ডেকচিগুলো ভেঙে ফেল।’ একজন বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! গোশতগুলো ঢেলে দিয়ে যদি পাত্রগুলো ধুয়ে নেই?’ তিনি বললেন, ‘তাও করতে পার।’ এরপর যখন সবাই যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন, আর আমির ইবনুল আকওয়া (রাঃ)-এর তলোয়ারটা ছিল ছোট, তা দিয়ে তিনি জনৈক ইহুদির পায়ের গোছায় আঘাত করলে তরবারির তীক্ষ্ণ ভাগ ঘুরে এসে তাঁর নিজের হাঁটুতে লেগে যায়। এতে তিনি মারা যান। সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) বলেন: তারপর লোকেরা খাইবার থেকে ফিরতে শুরু করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখে আমার হাত ধরে বললেন, ‘কী খবর?’ আমি বললাম: ‘আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। লোকজন ধারণা করছে, (নিজ আঘাতে মারা যাওয়ায়) আমির (রাঃ)-এর আমল নষ্ট হয়ে গেছে।’ নবী (ﷺ) বললেন, ‘এ কথা যে বলেছে সে মিথ্যা বলেছে। বরং আমিরের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব,’ নবী (ﷺ) তাঁর দুটি আঙুল একত্রিত করে দেখালেন। ‘অবশ্যই সে একজন সচেষ্ট ব্যক্তি ও আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ। তাঁর মত গুণের অধিকারী আরব খুব কমই আছে।’ আমাদের নিকট হাতিম কুতাইবাহর মাধ্যমে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮৭৬, ই. ফা ৩৮৭৯)