জাহমিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ

৯৭/১. অধ্যায়ঃ

আল্লাহর তাওহীদের দিকে উম্মতের প্রতি নবী (ﷺ)-এর আহ্বান।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭১

أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ

বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)

নবী (ﷺ) মুয়ায (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন।

[মুসলিম ১৫/১৭, হাঃ ১২১৬, আহমাদ ১৪২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ০০০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬১)তাওহীদ [১][১] মূলতঃ ইমাম বুখারী এই পর্বটি জাহমিয়্যাদের আক্বীদাকে খন্ডন করার উদ্দেশ্যেই উল্লেখ করেছেন। কারণ জাহমিয়্যা এমন এক বিদ‘আতী দল যারা তাওহীদকে অস্বীকার করে থাকে। মুসতামলীর বর্ণনাতে পর্বটির নাম كتاب الرد على الجهمية وغيرهم। এখানে وغيرهم এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাদেরিয়া সম্প্রদায়।ইতঃপূর্বেও ইমাম বুখারী খারেজীদের আক্বীদাকে খন্ডন করার জন্য كتاب الفتن এবং রাফেজাদের (শি’আদের) আক্বীদাকে খন্ডন করার জন্য كتاب الاحكام নামে পর্ব উল্লেখ করেছেন। বলা বাহুল্য যে, এই চারটি দলই বিদ‘আতের চূঁড়া। জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করে, কুরআন সম্পর্কে বলে, এটা আল্লাহর কালাম নয় বরং এটা তার সৃষ্টি। আল্লাহ সম্পর্কে আরো বলে, তিনি বাতাসের ন্যায় প্রত্যেক বস্ত্তর সাথে আছেন। এদের সর্দারের নাম জাহাম বিন সাফওয়ান।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭২

و حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَيْفِيٍّ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ لَمَّا بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ إِلَى نَحْوِ أَهْلِ الْيَمَنِ قَالَ لَهُ إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللهَ تَعَالَى فَإِذَا عَرَفُوا ذ‘لِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ فَإِذَا صَلَّوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ غَنِيِّهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فَقِيرِهِمْ فَإِذَا أَقَرُّوا بِذَلِكَ فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاسِ

বর্ণনাকারী ইব্‌নু আব্বাসের মুক্ত গোলাম আবূ মা’বাদ (রহঃ)

আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যখন নবী (ﷺ) মু'আয ইবন জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামান পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি আহলে কিতাবদের একটি কওমের কাছে যাচ্ছ। অতএব, তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান হবে—তারা যেন আল্লাহর একত্ববাদ মেনে নেয়।তারা তা স্বীকার করার পর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ দিনে রাতে তাদের প্রতি পাঁচ বার সালাত ফরজ করে দিয়েছেন। যখন তারা সালাত আদায় করবে, তখন তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের ধন-সম্পদে আল্লাহ তাদের প্রতি যাকাত ফরজ করেছেন। তা তাদেরই ধনশালীদের থেকে গ্রহণ করা হবে। আবার তাদের ফকিরদেরকে তা দেয়া হবে। যখন তারা স্বীকার করে নেবে, তখন তাদের থেকে গ্রহণ কর। তবে লোকজনের ধন-সম্পদের উত্তম অংশ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাক।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৮

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭৩

مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي حَصِينٍ وَالأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ سَمِعَا الأَسْوَدَ بْنَ هِلاَلٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا مُعَاذُ أَتَدْرِي مَا حَقُّ اللهِ عَلَى الْعِبَادِ قَالَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا أَتَدْرِي مَا حَقُّهُمْ عَلَيْهِ قَالَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمْ

বর্ণনাকারী মু’আয ইব্‌নু জাবাল (রাঃ)

নবী (ﷺ) বললেনঃ হে মু’আয! তোমার কি জানা আছে, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ বান্দা আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। (আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন) আল্লাহর উপর বান্দার হক কী তা কি তুমি জান? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন। তিনি [নবী (ﷺ)] বললেনঃ তা হলো বান্দাদেরকে শাস্তি না দেয়া।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৯

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭৪

إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَجُلاً سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ} يُرَدِّدُهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ وَكَأَنَّ الرَّجُلَ يَتَقَالُّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ زَادَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَخْبَرَنِي أَخِي قَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ খুদ্রী (রাঃ)

এক লোক অন্য এক লোককে বারবার ‘ইখলাস’ সূরা তিলাওয়াত করতে শুনল। সকাল বেলা লোকটি নবী (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট এ বিষয়টি উল্লেখ করল; লোকটি যেন সূরা ইখলাসের গুরুত্বকে কম করছিল। এই প্রেক্ষিতে নবী (ﷺ) বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম করে বলছি! এ সূরাটি অবশ্যই কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ।ইসমাইল ইবন জাফর কাতাদাহ ইবন নুমান (রাঃ) নবী (ﷺ) থেকে (কিছুটা) বৃদ্ধি সহ বর্ণনা করেছেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭০৭

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭৫

أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَمْرٌو عَنْ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَكَانَتْ فِي حَجْرِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً عَلَى سَرِيَّةٍ وَكَانَ يَقْرَأُ لأَ÷صْحَابِهِ فِي صَلاَتِهِمْ فَيَخْتِمُ بِ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَلُوهُ لأيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ لأَ÷نَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللهَ يُحِبُّهُ

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

নবী (ﷺ) এক সাহাবীকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে অভিযানে পাঠালেন। সালাতে তিনি যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে ইমামত করতেন, তখন ইখলাস সূরাটি দিয়ে সালাত শেষ করতেন।তারা যখন অভিযান থেকে ফিরে আসল তখন নবী (ﷺ)-এর খেদমতে ব্যাপারটি আলোচনা করলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাঁকেই জিজ্ঞেস করো কেন সে এ কাজটি করেছে? এরপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সূরাটিতে আল্লাহর গুণাবলী রয়েছে। এ জন্য সূরাটি পড়তে আমি ভালোবাসি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাঁকে ভালোবাসেন।

[মুসলিম ৬/৪৫, হাঃ ৮১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭১)

৯৭/২. অধ্যায়ঃ

তুমি বলে দাও, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো। তোমরা যে নামেই ডাকো সকল সুন্দর নামই তাঁর। (সূরা ইসরা ১৭/১১০)

মূলত ইমাম বুখারী এই অধ্যায় (বাব) উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নাম ও সিফাত (صفات) কে প্রমাণ করার জন্য। সহীহ বুখারীর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেন: এ বাবটি যেন মূল আর পরবর্তী বাবগুলো শাখা-প্রশাখা।আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো: মুশরিকরা যখন শুনতে পেল যে রাসূল (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করেছেন ‘ইয়া আল্লাহ’, ‘ইয়া রাহমান’ বলে, তখন তারা বলল যে, মুহাম্মদ আমাদের এক আল্লাহকে আহ্বান করার নির্দেশ দেন অথচ তিনি দু’জন আল্লাহকে আহ্বান করছেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।সুতরাং বোঝা গেল যে, তিনি এক সত্তা, তিনি অদ্বিতীয়; কিন্তু তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী (صفات) রয়েছে।তাওহীদ তিন প্রকার: ১. তাওহীদ রুবূবিয়্যাত (সৃষ্টি ও পালনে আল্লাহর একত্ব), ২. তাওহীদে ইবাদাত বা উলূহিয়্যাত (ইবাদাত বা উপাসনায় একত্ব) এবং ৩. তাওহীদে আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলীর একত্ব)।এখানে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতকে স্থির করা হয়েছে যেমন তাঁর একটি নাম রহমান; ফলে তিনি রহমান সিফাতটি তাঁর জন্য স্থির করেছেন। এই সিফাতটি তাঁর যাত (ذات) এর অন্তর্গত। দয়া দ্বারা নেকী, ইচ্ছা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেওয়া যাবে না। অনুরূপ আল্লাহর রহমতের তুলনা কোনো মাখলূকের রহমতের সাথে দেওয়া যাবে না।সুতরাং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার ঐসব নাম ও গুণাবলীকে যথাযথভাবে মেনে নেওয়া যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্বন্ধে তাঁর কিতাবে এবং রাসূল (ﷺ) তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন।অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলা যে সমস্ত নাম ও গুণাবলীকে নিজ সম্বন্ধে কিতাবে নিষেধ করেছেন এবং রাসূল (ﷺ) তাঁর সহীহ হাদীসে আল্লাহ সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা।ঐ সমস্ত নাম ও গুণাবলীর কোনো অপব্যাখ্যা, উদাহরণ, অস্বীকার, পরিবর্তন অথবা কোনো স্বরূপ কল্পনা করা যাবে না। ফলে আল্লাহ তা‘আলার রহমত, আযাব, আনন্দ প্রকাশ, রাগ হওয়া, কথা বলা, দেখা, শোনা, দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা, আরশের ওপরে অবস্থান, হাত, পা, অন্তর ইত্যাদি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ঠিক যেভাবে বর্ণনায় এসেছে সেভাবেই মেনে নিতে হবে।অনুরূপ আল্লাহর অংশীদার নেই, পিতা-মাতা নেই, সন্তান-সন্ততি নেই, তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না, তাঁর মৃত্যু নেই ইত্যাদি যা নিষেধ এসেছে তা সাব্যস্ত করা যাবে না।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ وَأَبِي ظَبْيَانَ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَرْحَمُ اللهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ.

বর্ণনাকারী জারীর ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তার প্রতি রহম করেন না, যে মানুষের প্রতি রহম করে না।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭২অধ্যায়: তুমি বলে দাও, তোমরা আল্লাহ্ নামে ডাকো বা রাহমান নামে ডাকো। তোমরা যে নামেই ডাকো সকল সুন্দর নামই তাঁর।[১] (সূরাহ ইসরা ১৭/১১০)[১] মূলতঃ ইমাম বুখারী এই باب উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নাম صفات কে প্রমাণ করার জন্য। সহীহ বুখারীর কোন কোন ব্যাখ্যাকারী বলেন : এ باب টি যেন মূল আর পরবর্তী ابواب গুলো শাখা-প্রশাখা। আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো : মুশরিকরা যখন শুনতে পেল যে রসূল (সাঃ) আল্লাহ তা‘আলাকে আহবান করেছেন يا اللهু يارحمن বলে, তখন তারা বলল যে, মুহাম্মাদ আমাদেরকে এক আল্লাহকে আহবান করার নির্দেশ দেয় অথচ তিনি দু’জন আল্লাহকে আহবান করছেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।সুতরাং বুঝা গেল যে, তিনি এক সত্তা, তিনি অদ্বিতীয়, কিন্তু তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী (صفات) রয়েছে। তাওহীদ তিন প্রকার : যথা : ১. তাওহীদ রুবূবিয়্যাত- (সৃষ্টি ও পালনে আল্লাহর একত্ব), তাওহীদে ’ইবাদাত বা উলূহিয়্যাত- (’ইবাদাত বা উপাসনায় একত্ব) এবং ৩. তাওহীদে আসমা ও সিফাত- নামও গুণাবলীর একত্ব)।এখানে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতকে স্থির করা হয়েছে যথা তার একটি নাম رحمن ফলে তিনি رحمن সিফাতটি তার জন্য স্থির করেছেন। এই সিফাতটি তাঁর صفات ذات এর অন্তর্গত।رحمة দ্বারা নেকী, ইচ্ছা অন্য কোন উদ্দেশ্য নেয়া যাবে না। অনুরূপ আল্লাহর রহমতের তুলনা কোন মাখলূকের রহমতের সাথে দেয়া যাবে না। সুতরাং তাওহীদে আসমা ওয়াস্সিফাত হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার ঐ সব নাম ও গুণাবলীকে যথাযথভাবে মেনে নেয়া যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্বন্ধে তাঁর কিতাবে এবং রসূল (সাঃ) তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলা যে সমস্ত নাম ও গুণাবলীকে তার নিজ সম্বন্ধে কিতাবে নিষেধ করেছেন এবং রসূল (সাঃ) তাঁর সহীহ হাদীসে আল্লাহ সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন তা নিষেধ করা। ঐ সমস্ত নাম ও গুণাবলীর কোন অপব্যাখ্যা, উদাহরণ, অস্বীকার, পরিবর্তন অথবা কোন স্বরূপ (নিজস্ব) কল্পনা করা যাবে না। ফলে আল্লাহ তা‘আলার রহমাত, আযাব, আনন্দ প্রকাশ, রাগ হওয়া, কথা বলা, দেখা, শোনা, দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা, তিনি আরশের উপরে, তার হাত রয়েছে, পা রয়েছে, অন্তর রয়েছে ইত্যাদি কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই ঠিক যেভাবে বর্ণনায় এসেছে সেভাবেই মেনে নিতে হবে। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলার অংশীদার নেই, পিতা-মাত নেই, সন্তান-সন্ততি নেই, তাকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না, তার মৃত্যু নেই ইত্যাদি যা নিষেধ এসেছে তা সাব্যস্ত করা যাবে না।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭৭

أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ رَسُولُ إِحْدَى بَنَاتِهِ يَدْعُوهُ إِلَى ابْنِهَا فِي الْمَوْتِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ارْجِعْ إِلَيْهَا فَأَخْبِرْهَا أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَمُرْهَا فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ فَأَعَادَتْ الرَّسُولَ أَنَّهَا قَدْ أَقْسَمَتْ لَتَأْتِيَنَّهَا فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَامَ مَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ فَدُفِعَ الصَّبِيُّ إِلَيْهِ وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ كَأَنَّهَا فِي شَنٍّ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللهِ مَا هَذَا قَالَ هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللهُ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ

বর্ণনাকারী উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ)

এক সময় আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। এমন সময় নবী (ﷺ)-এর কোন এক কন্যার পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক এসে তাঁকে জানাল যে, তাঁর মেয়ের পুত্রের মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। নবী (ﷺ) সংবাদবাহককে বলে দিলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ যা নিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি যা দিয়ে রেখেছেন সবেরই তিনি মালিক। তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট। কাজেই তাকে গিয়ে ধৈর্য ধরতে এবং প্রতিফল পাওয়ার আশা করতে বল।নবী (ﷺ)-এর মেয়ে আবার সংবাদবাহককে পাঠালেন। সে এসে বলল, আপনাকে তাঁর কাছে যাবার জন্য তিনি কসম দিয়ে বলেছেন। এরপর নবী (ﷺ) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তাঁর সঙ্গে সাদ ইবন উবাদা (রাঃ), মুয়াজ ইবন জাবাল (রাঃ)-ও দাঁড়ালেন। এরপর শিশুটিকে নবী (ﷺ)-এর নিকট দেয়া হল। তখন শিশুটির শ্বাস এভাবে দুর্বল হয়ে আসছিল, যেন তা একটি মশকে আছে। তখন নবী (ﷺ)-এর চোখ ভিজে গেল। সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা কী? তিনি বললেনঃ এটিই রহম-দয়ামায়া, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর রহম-দিল বান্দাদের উপরই দয়া করে থাকেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭৩

৯৭/৩. অধ্যায়ঃ

আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই আমি তো রিজিক দাতা, প্রবল, পরাক্রান্ত। (সূরা আয-যারিয়াত ৫১/৫৮)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭৮

عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا أَحَدٌ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى سَمِعَهُ مِنْ اللهِ يَدَّعُونَ لَهُ الْوَلَدَ ثُمَّ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ.

বর্ণনাকারী আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেন: এমন কেউই নাই যে কষ্টদায়ক কিছু শোনার পর, সে ব্যাপারে আল্লাহর চেয়ে বেশি সবর করতে পারে। লোকেরা আল্লাহর সন্তান আছে বলে দাবি করে, কিন্তু এরপরও তিনি তাদেরকে শান্তিতে রাখেন এবং রিজিক দেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭৪

৯৭/৪. অধ্যায়ঃ

আল্লাহর বাণী: তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না- (সূরা জ্বিন ৭২/২৬)। কেয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে- (সূরা লুকমান ৩১/৩৪)। তা তিনি জেনে শুনে নাযিল করেছেন- (সূরা আন-নিসা ৪/১৬৬)। তাঁর অবগতি ব্যতীত কোন নারী গর্ভ ধারণ করে না বা (তার বোঝা) হালকা করে না- (সূরা ফাতির ৩৫/১১)। কেয়ামাতের জ্ঞান কেবল তাঁরই আছে- (সূরা ফুসসিলাত ৪১/৪৭)।

আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [(বুখারী) (রহ.)] বলেন, ইয়াহইয়া (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ জ্ঞানের আলোকে সমস্ত সৃষ্টির ওপর প্রকাশমান, আবার তিনি জ্ঞানের আলোকেই অপ্রকাশিত।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৭৯

خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَفَاتِيحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ اللهُ لاَ يَعْلَمُ مَا تَغِيضُ الأَرْحَامُ إِلاَّ اللهُ وَلاَ يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ إِلاَّ اللهُ وَلاَ يَعْلَمُ مَتَى يَأْتِي الْمَطَرُ أَحَدٌ إِلاَّ اللهُ وَلاَ تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِلاَّ اللهُ وَلاَ يَعْلَمُ مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ اللهُ

বর্ণনাকারী উমার (রাঃ)

উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) সূত্রে বর্ণিত। গায়েবের চাবি পাঁচটি, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।(১) মায়ের পেটে কী লুকিয়ে আছে তা জানেন একমাত্র আল্লাহ।(২) আগামীকাল কী ঘটবে তাও জানেন একমাত্র আল্লাহ।(৩) বৃষ্টিপাত কখন হবে তাও আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।(৪) কে কোন ভূমিতে মারা যাবে তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।(৫) কেয়ামত কখন ঘটবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭৫

হাদিস নং
৭৩৭৯
অধ্যায়
আল্লাহর বাণী: তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না- (সূরা জ্বিন ৭২/২৬)। কেয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে- (সূরা লুকমান ৩১/৩৪)। তা তিনি জেনে শুনে নাযিল করেছেন- (সূরা আন-নিসা ৪/১৬৬)। তাঁর অবগতি ব্যতীত কোন নারী গর্ভ ধারণ করে না বা (তার বোঝা) হালকা করে না- (সূরা ফাতির ৩৫/১১)। কেয়ামাতের জ্ঞান কেবল তাঁরই আছে- (সূরা ফুসসিলাত ৪১/৪৭)।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭৩৮০

مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ وَهُوَ يَقُولُ {لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ} وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ الْغَيْبَ فَقَدْ كَذَبَ وَهُوَ يَقُولُ لاَ يَعْلَمُ الْغَيْبَ إِلاَّ اللهُ

বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)

যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ (ﷺ) স্বীয় রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘চক্ষু তাকে দেখতে পায় না’। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ (ﷺ) গায়েব জানেন, সে-ও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘গায়েব জানেন একমাত্র আল্লাহ’।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৬৬

হাদিস নং
৭৩৮০
অধ্যায়
আল্লাহর বাণী: তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না- (সূরা জ্বিন ৭২/২৬)। কেয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছে রয়েছে- (সূরা লুকমান ৩১/৩৪)। তা তিনি জেনে শুনে নাযিল করেছেন- (সূরা আন-নিসা ৪/১৬৬)। তাঁর অবগতি ব্যতীত কোন নারী গর্ভ ধারণ করে না বা (তার বোঝা) হালকা করে না- (সূরা ফাতির ৩৫/১১)। কেয়ামাতের জ্ঞান কেবল তাঁরই আছে- (সূরা ফুসসিলাত ৪১/৪৭)।
সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18