খবরে ওয়াহিদ

৯৫/১. অধ্যায়ঃ

সত্যবাদী বর্ণনাকারীর খবরে ওয়াহিদ আযান, সালাত, সওম, ফরজ ও অন্যান্য আহ্কামের বিষয়ে অনুমোদনযোগ্য।

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى : ﴿فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ﴾ وَيُسَمَّى الرَّجُلُ طَائِفَةً لِقَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا﴾ فَلَوِ اقْتَتَلَ رَجُلَانِ دَخَلَ فِي مَعْنَى الْآيَةِ وَقَوْلُهُ تَعَالَى: ﴿إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا﴾ وَكَيْفَ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمَرَاءَهُ وَاحِدًا بَعْدَ وَاحِدٍ فَإِنْ سَهَا أَحَدٌ مِنْهُمْ رُدَّ إِلَى السُّنَّةِআল্লাহর বাণী: “তাদের প্রত্যেক দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দীন সম্পর্কে জ্ঞানের অনুশীলন করতে পারে এবং ফিরে আসার পর তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে যাতে তারা (অসদাচরণ) থেকে বিরত হয়?” (সূরা আত-তাওবাহ ৯/১২২)।طَائِفَةٌশব্দটি এক ব্যক্তিকেও বোঝায়। কেননা, আল্লাহর বাণী: “মু’মিনদের দু’দল লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর একটি দল অপরটির ওপর বাড়াবাড়ি করলে যে দলটি বাড়াবাড়ি করে, তার বিরুদ্ধে তোমরা লড়াই করো যতক্ষণ না সে দলটি আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। অতঃপর যদি দলটি ফিরে আসে, তাহলে তাদের মধ্যে ইনসাফের সঙ্গে ফায়সালা করো আর সুবিচার করো; আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন” (সূরা আল-হুজরাত ৪৯/৯)।অতএব যদি দু’ব্যক্তি দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় তবে তা এ আয়াতের অর্থের মধ্যে শামিল হবে। আল্লাহর বাণী: “যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে তোমরা তা পরখ করে দেখবে যাতে অজ্ঞতার কারণে তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করো...” (সূরা আল-হুজরাত ৪৯/৬)। নবী (ﷺ) কীভাবে তাঁর আমীরদেরকে পর্যায়ক্রমে এক এক করে পাঠাতেন—যাতে তাদের কেউ ভুল করলে তাকে সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে আনা হয়।বিশেষত যারা আকীদার ক্ষেত্রে খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد)-কে গ্রহণ করে না, তাদের জন্য আকীদার অনেক বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করা অনিবার্য হয়ে পড়ে যা আখবারুল আহাদ (أخبار الآحاد) হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। যেমন:১. সমস্ত নবী-রাসূলদের ওপর মুহাম্মদ (ﷺ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব।২. কিয়ামত দিবসে তাঁর শাফা‘আতে কুবরা।৩. কবীরা গুনাহগারদের জন্য তাঁর শাফা‘আত।৪. কুরআন ব্যতীত নবী (ﷺ)-এর সমস্ত মু‘জিযা।৫. ফেরেশতা, জিন, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা যা কুরআনে উল্লেখ হয়নি।৬. কবরে মুনকার ও নাকীরের প্রশ্ন।৭. মৃতকে কবরের চাপ দেওয়া।৮. প্রত্যেক ব্যক্তির তার মায়ের গর্ভের মধ্যেই ভালো-মন্দ, রিযিক ও মৃত্যু আল্লাহ লিপিবদ্ধ করেন—তার প্রতি ঈমান আনয়ন।৯. পুলসিরাত (الصراط), হাউজ, দু’ পাল্লা বিশিষ্ট মীযান (দাঁড়িপাল্লা)। (ফাতহুল বারী)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৪৬

مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ قَالَ أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَفِيقًا فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّا قَدْ اشْتَهَيْنَا أَهْلَنَا أَوْ قَدْ اشْتَقْنَا سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا بَعْدَنَا فَأَخْبَرْنَاهُ قَالَ ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ وَذَكَرَ أَشْيَاءَ أَحْفَظُهَا أَوْ لاَ أَحْفَظُهَا وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي فَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ.

বর্ণনাকারী মালিক ইব্‌নু হুওয়ায়রিস (রাঃ)

আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে এলাম। আমরা সবাই এক বয়সী যুবক ছিলাম। আমরা বিশ রাত তাঁর কাছে অবস্থান করলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন কোমল হৃদয়ের। তিনি যখন অনুমান করলেন যে আমরা আমাদের স্ত্রী-পরিবারের প্রতি ঝুঁকে পরেছি, কিংবা আসক্ত হয়ে পড়েছি তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা বাড়িতে কাদেরকে রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে জানালাম।তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝে অবস্থান কর, আর তাদেরকে (দ্বীন) শিক্ষা দাও। আর তাদের হুকুম কর। তিনি [মালিক (রাঃ)] কিছু বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন, যা আমি মনে রেখেছি বা মনে রাখতে পারিনি। (নবী (ﷺ) বলেছিলেন) তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখছ সেভাবে সালাত আদায় কর। যখন সালাতের সময় হাজির হয়, তখন তোমাদের কোন একজন যেন তোমাদের জন্য আজান দেয়, আর তোমাদের মধ্যে যে বড় সে যেন তোমাদের ইমামত করে।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫২খবরে ওয়াহিদ গ্রহণযোগ্য [১][১] আযান, সলাত, সওম এবং অন্যান্য ফার্য ‘ইবাদাতের ব্যাপারে কোন বিশ্বস্ত ব্যক্তির একক সাক্ষ্যকে ‘খবরে ওয়াহিদ’ বলে। উসূলে হাদীসে এক, দু’ বা তিনজন রাবী’ (বর্ণনাকারী) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসকে খবরে ওয়াহিদ বলে।ইবাদাত, ফারায়েয ও আহকামের ক্ষেত্রে (خبر الواحد) খবরে ওয়াহেদ হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ জায়েজ। ইমাম বুখারী (রহ.) উক্ত তিনটি বিষয় উল্লেখ করলেও আক্বীদার বিষয়ে দ্ধخبر الواحد দলীল কি না তা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আক্বীদার ক্ষেত্রেও خبر الواحد হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ জায়েয এবং সে অনুযায়ী আমাল করা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে অনেক প্রমাণ বিদ্যমান। ড. আহমাদ আল আশকার উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ নাসিরদ্দীন আলবানী এর প্রমাণ স্বরূপ ২০টি কারণ বা দিক লিপিবদ্ধ করেছেন। এর মধ্য থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ দলীলগুলোর দু’-একটি এখানে উল্লেখ করলাম :কুরআন থেকে দলীল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ) (التوبة:১২২)উল্লেখিত আয়াতটিতে طائفة শব্দটির শাব্দিক অর্থ واحد এবং তার উপরের জন্য প্রয়োগ করা হয়। আর ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন যে, إن الرجل يسمى طائفةকারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন : (وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا)(الحجرات: من الآية৯) (হুজরাত : ৯)ফলে যদি দু’ব্যক্তি লড়াই করে তবুও তারা এই আয়াতের অর্থের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।সুতরাং আয়াত থেকে জানা যাচ্ছে যে, যদি কোন ব্যক্তি তার স্বজাতির কাছে ফিরে আসে তাহলে সে তাদেরকে সতর্ক করবে। আর انذار শব্দটি إعلام এর অর্থে যা ইলমের ফায়দা দেয়। আর তা হবে আক্বীদাহ ও অন্যান্য বিষয়ের তাবলীগের মাধ্যমে। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি দ্বীনের কোন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিলে তা গ্রহণীয় হয়, তাহলে তো এটাই প্রমাণ করে যে, তার সংবাদ দলীল। আর দ্বীনের পান্ডিত্য অর্জন আক্বীদা ও আহকাম উভয়কে শামিল করে। বরং আহকামের ব্যাপারে পান্ডিত্য অর্জনের চাইতে আক্বীদার ব্যাপারে পান্ডিত্য অর্জন করাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।[২] হাদীস থেকে দলীল :রসূল (সাঃ) মু‘আয বিন জাবালকে ইয়ামানে প্রেরণের প্রারম্ভে বলেন :إنك تقدم على قوم أهل كتاب فليكن أ,ل ما تدعوهم إليه عبادة الله، فإذا عرفوا الله فأخبرهم إن الله قد فرض عليهم خمس صلوات في يوم وليلتهم .................(সহীহ বুখারী ২/৫২৯ যাকাত অধ্যায়)হাদীসটিতে সুস্পষ্ট আহবান হচ্ছে তাওহীদের দিকে। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনা। আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনা আক্বাঈদের মৌলিক বিষয়ের অন্তর্গত। সুতরাং খবরু ওয়াহিদ আক্বীদার ক্ষেত্রে خبر الواحد দলীল।[৩] রসূল (সাঃ) এর বিভিন্ন গোত্রের ও রাজা বাদশার নিকট দূত প্রেরণের ধারাবাহিকতা- যেমন : দাহইয়া কালবীকে হিরাকল এর নিকট, আবদুল্লাহ ইবনু হুযাইফা সাহমীকে কিসরার নিকট, আমর ইবনু উমাইয়া জমরীকে হাবশায়, উসমান ইবনু আবিল আসকে তায়েফে, হাতেব বিন বালাতাহকে মুকাওকিস এর নিকট প্রেরণ করেন।এই দূত প্রেরণের একমাত্র কারণ হল যাতে করে তাদের উপর দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়। আর তাদেরকে প্রেরণের উদ্দেশ্যই ছিল তাওহীদের দিকে আহবান।বিশেষত: যারা আক্বীদার ক্ষেত্রে خبر الواحد কে গ্রহণ করে না তাদের জন্য আক্বীদার অনেক বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে যা أخبار الآحاد হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত।যেমন :১. সমস্ত নাবী রসূলদের উপর মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব।২. কিয়ামাত দিবসে তার শাফা‘আতে কুবরা।৩. কাবীরা গুনাহগারদের জন্য তাঁর শাফা‘আত।৪. কুরআন ব্যতীত নাবী (সাঃ)’র সমস্ত মুজিযা।৫. ফেরেশতা, জ্বিন, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা যা কুরআনে উল্লেখ হয়নি।৬. কবরে মুনকার ও নাকীরের প্রশ্ন।৭. মৃতকে কবরের চাপ দেয়া।৮. প্রত্যেক ব্যক্তির তার মায়ের গর্ভের মধ্যেই ভাল-মন্দ, রিযিক ও মৃত্যু আল্লাহ লিপিবদ্ধ করেন তার প্রতি ঈমান আনয়ন।৯. পুলসিরাত (الصراط), হাউজ, দু পাল্লা বিশিষ্ট মীযান (দাঁড়িপাল্লা)। (ফাতহুল বারী)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৪৭

مُسَدَّدٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ مِنْ سَحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ أَوْ قَالَ يُنَادِي لِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ وَيُنَبِّهَ نَائِمَكُمْ وَلَيْسَ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَجَمَعَ يَحْيَى كَفَّيْهِ حَتَّى يَقُولَ هَكَذَا وَمَدَّ يَحْيَى إِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী ইব্‌নু মাস'ঊদ (রাঃ)

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে নিজ সেহরি খাওয়া থেকে বিরত না করে। কেননা, সে আযান দেয়, কিংবা বলেছিলেন আহ্বান জানায়, তোমাদের যারা সালাতরত তাদের ফিরিয়ে দিতে আর তোমাদের ঘুমন্তদের জাগিয়ে দিতে। এরূপ হলে ফজর হয় না- এই বলে ইয়াহিয়া উভয় হাতের তালু একত্র করলেন (অর্থাৎ আলো উপর-নিচে দীর্ঘ হলে), বরং এমন হলে ফজর হয়, এ বলে ইয়াহিয়া তাঁর দুই তর্জনী ডানে-বামে বিস্তৃত করলেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫৩

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৪৮

مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ بِلاَلاً يُنَادِي بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ.

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ)

আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। বিলাল (রাঃ) রাত থাকতে আযান দেন, অতএব তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না ইবন উম্মু মাকতূম (রাঃ) আযান দেন।

(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫৪)[১৮৬] যারা তাহাজ্জুদ সালাতে রত থাকতেন তাদেরকে সালাত হতে ফারেগ হওয়ার জন্য এবং সকলকে সাহরী খাওয়ার ব্যপারে জ্ঞাত করার জন্য বিলাল (রাঃ) আযান দিতেন। অতঃপর সুবহে সাদেক হলে ইব্নে উম্মে মাকতূম (রাঃ) ফজরের আযান দিতেন।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৪৯

حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ خَمْسًا فَقِيلَ أَزِيدَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ وَمَا ذَاكَ قَالُوا صَلَّيْتَ خَمْسًا فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ بَعْدَ مَا سَلَّمَ.

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)

নবী (ﷺ) আমাদের নিয়ে যুহর পাঁচ রাকাত আদায় করলেন। তাঁকে বলা হল, সালাত কি বাড়ানো হয়েছে? তিনি বললেনঃ তোমাদের কী হয়েছে? তাঁরা বললেন, আপনি পাঁচ রাকাত সালাত পড়েছেন। তখন তিনি সালামের পর দুটো সিজদা দিলেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫৫

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৫০

إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنْ اثْنَتَيْنِ فَقَالَ لَهُ ذُو الْيَدَيْنِ أَقَصُرَتْ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللهِ أَمْ نَسِيتَ فَقَالَ أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ ثُمَّ سَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ ثُمَّ رَفَعَ.

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই রাকাত আদায় করেই সালাত শেষ করে দিলেন। তখন যুল ইয়াদাইন (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, না আপনি ভুলে গেছেন? তিনি বললেনঃ যুল ইয়াদাইন কি ঠিক বলছে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং অবশিষ্ঠ দুই রাকাত পড়লেন। তারপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং তাকবীর বলে তাঁর সিজদার মত কিংবা তার চেয়ে দীর্ঘ সিজদা করলেন এবং মাথা তুললেন, তারপর আবার তাকবীর বলে তাঁর সিজদার মত সিজদা করলেন ও মাথা তুললেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫৬

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৫১

إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ بَيْنَا النَّاسُ بِقُبَاءٍ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ إِذْ جَاءَهُمْ آتٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوهَا وَكَانَتْ وُجُوهُهُمْ إِلَى الشَّأْمِ فَاسْتَدَارُوا إِلَى الْكَعْبَةِ.

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ)

লোকেরা কুবার মসজিদে ফজরের সালাতে ছিলেন, এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, রাতে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তোমরা কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়াও। তখন তাদের মুখ ছিল সিরিয়ার দিকে, অতঃপর তারা কাবার দিকে ঘুরলেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫৭

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৫২

يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ صَلَّى نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يُوَجَّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَآءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا} فَوُجِّهَ نَحْوَ الْكَعْبَةِ وَصَلَّى مَعَهُ رَجُلٌ الْعَصْرَ ثُمَّ خَرَجَ فَمَرَّ عَلَى قَوْمٍ مِنْ الأَنْصَارِ فَقَالَ هُوَ يَشْهَدُ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَّهُ قَدْ وُجِّهَ إِلَى الْكَعْبَةِ فَانْحَرَفُوا وَهُمْ رُكُوعٌ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ.

বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)

যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আসলেন, তখন ষোল অথবা সতের মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত পড়লেন। আর তিনি কাবার দিকে মুখ করতে খুবই ভালবাসতেন।অতঃপর আল্লাহ ওহী নাযিল করলেনঃ "নিশ্চয়ই আমি তোমার আকাশের দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখাকে লক্ষ্য করেছি, যে কিবলা তুমি পছন্দ কর" - (সূরা আল-বাকারা ২/১৪৪)। তখন তাঁকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।তাঁর সঙ্গে এক ব্যক্তি আসরের সালাত পড়ছিল। এরপর সে বেরিয়ে আনসারীদের এক গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করল এবং সে সাক্ষ্য দিয়ে বলল যে, সে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে সালাত পড়ে এসেছে আর কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তখন তাঁরা দিক পরিবর্তন করলেন। এ সময় তাঁরা আসরের সালাতে রুকুর হালতে ছিলেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫৮

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৫৩

يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَسْقِي أَبَا طَلْحَةَ الأَنْصَارِيَّ وَأَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ شَرَابًا مِنْ فَضِيخٍ وَهُوَ تَمْرٌ فَجَاءَهُمْ آتٍ فَقَالَ إِنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ يَا أَنَسُ قُمْ إِلَى هَذِهِ الْجِرَارِ فَاكْسِرْهَا قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى مِهْرَاسٍ لَنَا فَضَرَبْتُهَا بِأَسْفَلِهِ حَتَّى انْكَسَرَتْ.

বর্ণনাকারী আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)

আমি আবু তালহা আনসারি (রাঃ), আবু উবাইদা ইবনু জাররাহ (রাঃ) ও উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-কে আধাপাকা খেজুরের তৈরি শরাব পান করাচ্ছিলাম। তখন তাদের কাছে একজন আগন্তুক এসে বলল, শরাব হারাম করে দেয়া হয়েছে। আবু তালহা (রাঃ) বললেন, হে আনাস (রাঃ)! তুমি উঠে গিয়ে মটকাগুলো ভেঙ্গে ফেল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি উঠে গিয়ে আমাদের ঘটি দিয়ে ওগুলোর তলায় আঘাত করে ভেঙ্গে ফেললাম।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৫৯

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৫৪

سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ صِلَةَ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّصلى الله عليه وسلم قَالَ لأهْلِ نَجْرَانَ لأبْعَثَنَّ إِلَيْكُمْ رَجُلاً أَمِينًا حَقَّ أَمِينٍ فَاسْتَشْرَفَ لَهَا أَصْحَابُ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم فَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ.

বর্ণনাকারী হুযাইফা (রাঃ)

হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাজরানের অধিবাসীদের উদ্দেশে বললেনঃ আমি তোমাদের জন্য অবশ্যই এমন একজন লোক পাঠাব, যিনি পুরোপুরি বিশ্বস্ত। নবী (ﷺ)-এর সাহাবীরা এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অতঃপর তিনি আবু উবাইদাকে পাঠালেন।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৬০

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৭২৫৫

سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينٌ وَأَمِينُ هَذِهِ الأُمَّةِ أَبُو عُبَيْدَةَ.

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মতে একজন বিশ্বস্ত লোক থাকে আর এ উম্মতের বিশ্বস্ত লোক হলেন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)।

আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৬১

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18