সালাতের ওয়াক্তসমূহ
৯/১. অধ্যায়ঃ
সালাতের সময় ও তার গুরুত্ব।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا وَهْوَ بِالْعِرَاقِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " بِهَذَا أُمِرْتُ ". فَقَالَ عُمَرُ لِعُرْوَةَ اعْلَمْ مَا تُحَدِّثُ أَوَإِنَّ جِبْرِيلَ هُوَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الصَّلاَةِ. قَالَ عُرْوَةُ كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ.
বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ)
উমর ইবন আবদুল আজিজ (রহঃ) একদা কোন এক সালাত আদায়ে বিলম্ব করলেন। তখন উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) তাঁর নিকট গেলেন এবং তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন যে, ইরাকে অবস্থানকালে মুগিরা ইবন শু’আবা (রাঃ) একদা এক সালাত আদায়ে বিলম্ব করছিলেন। ফলে আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেনঃ হে মুগিরা! একী? তুমি কি অবগত নও যে, জিবরীল (আঃ) অবতরণ করে সালাত আদায় করলেন আর, আল্লাহর রসূল (ﷺ)-ও সালাত আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত আদায় করলেন। আল্লাহর রসূল (ﷺ)-ও সালাত আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহর রসূল (ﷺ)-ও সালাত আদায় করলেন। আবার তিনি সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহর রসূল (ﷺ)-ও সালাত আদায় করলেন। পুনরায় তিনি সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহর রসূল (ﷺ)-ও সালাত আদায় করলেন। অতঃপর জিবরীল (আঃ) বললেন, আমি এজন্য আদিষ্ট হয়েছি।উমর (ইবন আবদুল আজিজ) (রহঃ) উরওয়া (রহঃ)-কে বললেন, “তুমি যা রিওয়ায়াত করছ তা একটু ভেবে দেখ। জিবরীলই কি আল্লাহর রসূল (ﷺ) এর জন্য সালাতের ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন?”উরওয়া (রহঃ) বললেন, বাশির ইবন আবু মাসউদ (রহঃ) তার পিতা হতে এমনই বর্ণনা করতেন।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২২
قَالَ عُرْوَةُ : وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ : «أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ».
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ (রহঃ)
অবশ্য আয়েশা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রসূল (ﷺ) এমন মুহূর্তে আসরের সালাত আদায় করতেন যে, সূর্যরশ্মি তখনও তাঁর হুজরার মধ্যে থাকত। তবে তা উপরের দিকে উঠে যাওয়ার পূর্বেই।
৯/২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার বাণী: “তোমরা আল্লাহ অভিমুখী হও এবং তাঁকে ভয় কর আর সালাত প্রতিষ্ঠা কর, এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না” (সূরা আর-রূম ৩০/৩১)
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبَّادٌ ـ هُوَ ابْنُ عَبَّادٍ ـ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّا مِنْ هَذَا الْحَىِّ مِنْ رَبِيعَةَ، وَلَسْنَا نَصِلُ إِلَيْكَ إِلاَّ فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ، فَمُرْنَا بِشَىْءٍ نَأْخُذْهُ عَنْكَ، وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا. فَقَالَ " آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ، وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعٍ الإِيمَانِ بِاللَّهِ ـ ثُمَّ فَسَّرَهَا لَهُمْ شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَأَنْ تُؤَدُّوا إِلَىَّ خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُقَيَّرِ وَالنَّقِيرِ
বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)
একবার আব্দুল কায়স গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর দরবারে এসে বললো, আপনার ও আমাদের মাঝে রাবীআ গোত্র থাকার কারণে শাহ্রে হারাম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) ছাড়া অন্য কোন সময় আমরা আপনার নিকট আসতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন যা আমরা নিজেরাও গ্রহণ করব এবং আমাদের যারা পিছনে রয়ে গেছে তাদের প্রতিও আহবান জানাব।আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের চারটি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি, আর চারটি বিষয় হতে তোমাদের নিষেধ করছি। নির্দেশিত বিষয়ের মাঝে একটি হল ঈমান বিল্লাহ (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা)। অতঃপর তিনি তাদেরকে ব্যাখ্যা করে বুঝালেন যে, ঈমান বিল্লাহর অর্থ হলো, এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, সত্যিকার অর্থে আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই আর আমি আল্লাহর রসূল; সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, আর গনীমতের মালের এক পঞ্চমাংশ দান করা। আর তোমাদেরকে নিষেধ করছি কদুর পাত্র, সবুজ রঙের মাটির পাত্র, বিশেষ ধরনের তৈলাক্ত পাত্র ও গাছের গুঁড়ি খোদাই করে তৈরি পাত্র ব্যবহার করতে।
৯/৩. অধ্যায়ঃ
সালাত কায়িমের ব্যাপারে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا قَيْسٌ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ.
বর্ণনাকারী জারীর ইবনু 'আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
আমি আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট সালাত আদায়, যাকাত প্রদান এবং প্রত্যেক মুসলিমকে নসীহত করার বায়াত গ্রহণ করেছি।
৯/৪. অধ্যায়ঃ
সালাত হল (গুনাহর) কাফফারা।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، قَالَ سَمِعْتُ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ قُلْتُ أَنَا، كَمَا قَالَهُ. قَالَ إِنَّكَ عَلَيْهِ ـ أَوْ عَلَيْهَا ـ لَجَرِيءٌ. قُلْتُ " فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ وَالنَّهْىُ ". قَالَ لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ، وَلَكِنِ الْفِتْنَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَا يَمُوجُ الْبَحْرُ. قَالَ لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْهَا بَأْسٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا. قَالَ أَيُكْسَرُ أَمْ يُفْتَحُ قَالَ يُكْسَرُ. قَالَ إِذًا لاَ يُغْلَقَ أَبَدًا. قُلْنَا أَكَانَ عُمَرُ يَعْلَمُ الْبَابَ قَالَ نَعَمْ، كَمَا أَنَّ دُونَ الْغَدِ اللَّيْلَةَ، إِنِّي حَدَّثْتُهُ بِحَدِيثٍ لَيْسَ بِالأَغَالِيطِ. فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ، فَأَمَرْنَا مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ الْبَابُ عُمَرُ
বর্ণনাকারী হুযাইফা (রাঃ)
একদা আমরা উমর (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ফিতনা-ফাসাদ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে মনে রেখেছ? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, ‘যেমনভাবে তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি।’ উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর বাণী মনে রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছ।আমি বললাম (রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন) মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয়—সালাত, সিয়াম, সদাকা (ন্যায়ের) আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়।উমর (রাঃ) বললেন, তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমি সেই ফিতনার কথা বলছি যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হবে।হুযাইফা (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে।উমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, সে দরজাটি কি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেওয়া হবে?হুযাইফা (রাঃ) বললেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে।উমর (রাঃ) বললেন, তাহলে তো আর কোনদিন তা বন্ধ করা যাবে না।[হুযাইফা (রাঃ)-এর ছাত্র শাকীক (রহঃ) বলেন,] আমরা জিজ্ঞেস করলাম, উমর (রাঃ) কি সে দরজাটি সম্বন্ধে জানতেন? হুযাইফা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা, আমি তাঁর কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ত্রুটিযুক্ত নয়। (দরজাটি কী) এ বিষয়ে হুযাইফা (রাঃ) এর নিকট জানতে ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরূক (রহঃ)-কে বললাম এবং তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি উমর (রাঃ) নিজেই।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَصَابَ مِنَ امْرَأَةٍ قُبْلَةً، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ {أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ}. فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي هَذَا قَالَ " لِجَمِيعِ أُمَّتِي كُلِّهِمْ ".
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলাকে চুম্বন করে বসে। পরে সে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁর গোচরীভূত করে। তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেনঃ “দিনের দুই প্রান্তে- সকাল ও সন্ধ্যায় এবং রাতের প্রথম অংশে সালাত কায়েম কর। নিশ্চিতভাবে ভাল কাজ পাপকে মিটিয়ে দেয়” (সূরা হুদ ১১/১১৪)। লোকটি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! এ কি শুধু আমার জন্য? আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সকল উম্মতের জন্যই।
৯/৫. অধ্যায়ঃ
সঠিক সময়ে সালাত আদায়ের মর্যাদা।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২৭
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ الْوَلِيدُ بْنُ الْعَيْزَارِ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ، يَقُولُ حَدَّثَنَا صَاحِبُ، هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ " الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا ". قَالَ ثُمَّ أَىُّ قَالَ " ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ ". قَالَ ثُمَّ أَىُّ قَالَ " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ". قَالَ حَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي.
বর্ণনাকারী আবূ আমর শায়বানি (রহঃ)
তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর বাড়ির দিকে ইংগিত করে বলেন, এ বাড়ির মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথা সময়ে সালাত আদায় করা।ইবনু মাসউদ (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর কোনটি? আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেন, অতঃপর মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।ইবনু মাসউদ (রাঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর কোনটি? আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেন, অতঃপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ (আল্লাহর পথে জিহাদ)।ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, এগুলো তো আল্লাহর রসূল (ﷺ) আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও অধিক জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আমাকে আরও বলতেন।
৯/৬. অধ্যায়ঃ
পাঁচ ওয়াক্তের সালাত (গুনাহসমূহের) কাফফারা
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২৮
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، وَالدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ، يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا، مَا تَقُولُ ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ ". قَالُوا لاَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ شَيْئًا. قَالَ " فَذَلِكَ مِثْلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، يَمْحُو اللَّهُ بِهَا الْخَطَايَا ".
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
তিনি আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, “বলতো যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তাঁর দেহে কোনো ময়লা থাকবে? তারা বললেন, তাঁর দেহে কোনো ময়লা বাকী থাকবে না। আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেনঃ এ হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।”
৯/৭. অধ্যায়ঃ
নির্ধারিত সময় হতে দেরিতে সালাত আদায় করে তার হক নষ্ট করা।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫২৯
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مَا أَعْرِفُ شَيْئًا مِمَّا كَانَ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. قِيلَ الصَّلاَةُ. قَالَ أَلَيْسَ ضَيَّعْتُمْ مَا ضَيَّعْتُمْ فِيهَا.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
আজকাল কোনো জিনিসই সে অবস্থায় পাই না, যেমন নবী (ﷺ)-এর যুগে ছিল। প্রশ্ন করা হলো, সালাতও কি? তিনি বললেন, সে ক্ষেত্রেও যা হক নষ্ট করার তা-কি তোমরা করনি? [১]
[১] উওম ওয়াক্তে সালাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করা। যেমন সময় হয়ে যাওয়ার পরও ফজর, যুহর ও আসরের সালাত ইচ্ছাকৃতভাবে দেরীতে আদায় করা।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৫৩০
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ وَاصِلٍ أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، أَخِي عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، يَقُولُ دَخَلْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بِدِمَشْقَ وَهُوَ يَبْكِي فَقُلْتُ مَا يُبْكِيكَ فَقَالَ لاَ أَعْرِفُ شَيْئًا مِمَّا أَدْرَكْتُ إِلاَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ، وَهَذِهِ الصَّلاَةُ قَدْ ضُيِّعَتْ. وَقَالَ بَكْرٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ نَحْوَهُ.
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
আমি দামেস্কে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাকে কোন বিষয়টি কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর যুগে যা কিছু পেয়েছি তার মধ্যে কেবলমাত্র সালাত ছাড়া আর কিছুই বহাল নেই। কিন্তু সালাতকেও নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বকর (রহঃ) বলেন, আমার নিকট মুহাম্মাদ ইবনু বকর বুরসানি (রহঃ) এবং উসমান ইবনু আবু রাওয়াদ (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।