বলপ্রয়োগে বাধ্য করা
৮৯/১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী : তবে তার জন্য নয় (যাকে সত্য অস্বীকার করতে) বাধ্য করা হয়। কিন্তু তার অন্তর বিশ্বাসে অবিচলিত। আর যে সত্য অস্বীকারে অন্তর উন্মুক্ত রাখল তার উপর পতিত হবে আল্লাহ্র গযব..... (সূরাহ নাহল ১৬/১০৬)। আল্লাহ্ বলেন : তবে যদি তোমরা তাদের কাছ থেকে কোন ভয়ের আশংকা কর আর التَّقِيَّةُ একই অর্থ (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/২৮)। আল্লাহ্ আরো বলেন: যারা নিজেদের উপর জুলুম করে, তাদের প্রাণ নেয়ার সময় ফেরেশতাগণ বলে, তোমরা কী অবস্থায় ছিলে। তারা বলে, দুনিয়ায় আমরা দুর্বল ছিলাম। তারা বলে, তোমরা নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে বসবাস করতে পারতে আল্লাহ্র দুনিয়া কি এমন প্রশস্ত ছিল না?.....আল্লাহ্ পাপ মোচনকারী ও ক্ষমাশীল- (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৯৭-৯৯)। আল্লাহ্ বলেন: এবং অসহায় নর-নারী ও শিশুদের জন্য? যারা বলে....সহায়-পর্যন্ত (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৭৫)।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪০
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ عَنْ هِلاَلِ بْنِ أُسَامَةَ أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلاَةِ اللهُمَّ أَنْجِ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَالْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ اللهُمَّ أَنْجِ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ اللهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَابْعَثْ عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
নবী (ﷺ) সালাতে দোয়া করতেন। “হে আল্লাহ! আইয়াশ ইবন আবু রাবীআ, সালামা ইবন হিশাম, ওয়ালিদ ইবন ওয়ালিদকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের উপর তোমার পাঞ্জা কঠোর করে দাও এবং তাদের ওপর ইউসুফের দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর মত বছর পাঠিয়ে দাও।”
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭১
৮৯/২. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি কুফরি গ্রহণ করার বদলে দৈহিক নির্যাতন, নিহত ও লাঞ্ছিত হওয়াকে বেছে নেয়।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪১
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَوْشَبٍ الطَّائِفِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلاَوَةَ الإِيمَانِ أَنْ يَكُونَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إِلاَّ لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তিনটি জিনিস এমন যার মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে, সে ঈমানের স্বাদ পাবে।১. আল্লাহ ও তাঁর রসূল (ﷺ) তার কাছে সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হওয়া।২. কাউকে কেবল আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।৩. জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে যেভাবে অপছন্দ করে, তেমনি পুনরায় কুফরীর দিকে ফিরে যাওয়াকে অপছন্দ করা।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭২
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪২
سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا عَبَّادٌ عَنْ إِسْمَاعِيلَ سَمِعْتُ قَيْسًا سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ يَقُولُ لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَإِنَّ عُمَرَ مُوثِقِي عَلَى الإِسْلاَمِ وَلَوْ انْقَضَّ أُحُدٌ مِمَّا فَعَلْتُمْ بِعُثْمَانَ كَانَ مَحْقُوقًا أَنْ يَنْقَضَّ
বর্ণনাকারী কায়স (রহঃ)
আমি সাঈদ ইবনে যায়দ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি মনে করি উমর (রাঃ)-এর কঠোরতা আমাকে ইসলামের উপর সুদৃঢ় করে দিয়েছে। তোমরা উসমান (রাঃ)-এর সঙ্গে যা করেছ তাতে যদি উহুদ পর্বত ফেটে যেত, তা হলে ফেটে যাওয়া ন্যায়সঙ্গত হত।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৩মুসলমানদের একটি দল চরম অন্যায়ভাবে ইসলামের মহান খলীফা ওসমান (রাঃ)-কে শহীদ করেছিল। মুসলমানদের মধ্যে সেই যে হত্যার সূত্রপাত হল, তা আর থামেনি, আজও চলছে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪৩
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا قَيْسٌ عَنْ خَبَّابِ بْنِ الأَرَتِّ قَالَ شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً لَهُ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ فَقُلْنَا أَلاَ تَسْتَنْصِرُ لَنَا أَلاَ تَدْعُو لَنَا فَقَالَ قَدْ كَانَ مَنْ قَبْلَكُمْ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ فَيُحْفَرُ لَهُ فِي الأَرْضِ فَيُجْعَلُ فِيهَا فَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُجْعَلُ نِصْفَيْنِ وَيُمْشَطُ بِأَمْشَاطِ الْحَدِيدِ مَا دُونَ لَحْمِهِ وَعَظْمِهِ فَمَا يَصُدُّهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ وَاللهِ لَيَتِمَّنَّ هَذَا الأَمْرُ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضْرَمَوْتَ لاَ يَخَافُ إِلاَّ اللهَ وَالذِّئْبَ عَلَى غَنَمِهِ وَلَكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ
বর্ণনাকারী খাব্বাব ইব্নু আরাত্ (রাঃ)
আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে কোন বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলাম। তখন তিনি কাবা ঘরের ছায়ায় তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম, (আমাদের জন্য কি) সাহায্য চাইবেন না? আমাদের জন্য কি দোয়া করবেন না?তিনি বললেনঃ তোমাদের আগের লোকদের মাঝে এমন ব্যক্তিও ছিল, যাকে ধরে নিয়ে তার জন্য যমিনে গর্ত করা হত। তারপর করাত এনে মাথায় আঘাত হেনে দুই টুকরা করে ফেলা হত। লোহার শলাকা দিয়ে তার গোশত ও হাড় খসানো হত। তা সত্ত্বেও তাকে তার দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারত না।আল্লাহর কসম! এ দ্বীন অবশ্যই পূর্ণতা লাভ করবে। এমন হবে যে সানআ থেকে হাজরামাওত পর্যন্ত ভ্রমণকারী ভ্রমণ করবে। অথচ সে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না এবং নিজের মেষপালের জন্য নেকড়ে বাঘের ভয় থাকবে, কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছ।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৪
৮৯/৩. অধ্যায়ঃ
জোর করে কাউকে দিয়ে তার নিজের সম্পদ বা অপরের সম্পদ বিক্রয় করানো।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪৪
عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَا بَيْتَ الْمِدْرَاسِ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُمْ يَا مَعْشَرَ يَهُودَ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ فَقَالَ ذَلِكَ أُرِيدُ ثُمَّ قَالَهَا الثَّانِيَةَ فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ ثُمَّ قَالَ الثَّالِثَةَ فَقَالَ اعْلَمُوا أَنَّ الأَرْضَ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعْهُ وَإِلاَّ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا الأَرْضُ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
একবার আমরা মসজিদে ছিলাম। হঠাৎ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বেরিয়ে এসে বললেনঃ তোমরা ইয়াহুদীদের কাছে চল। আমি তাঁর সঙ্গে বের হয়ে গেলাম এবং বায়তুল-মিদরাস নামক শিক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে ইয়াহুদি সম্প্রদায়! তোমরা মুসলিম হয়ে যাও, নিরাপদ থাকবে। তারা বলল, হে আবুল কাসিম! আপনি (আপনার দায়িত্ব) পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ এটাই আমি চাই। তারপর দ্বিতীয়বার কথাটি বললেন। তারা বলল, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। এরপর তিনি তৃতীয়বার তা আবার বললেন। আর বললেনঃ তোমরা জেনে রেখো যে, জমিন কেবল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের। [১] আমি তোমাদেরকে দেশান্তর করতে মনস্থ করেছি। তাই তোমাদের যার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে, তা যেন সে বিক্রি করে ফেলে। তা না হলে জেনে রেখো, জমিন কেবল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের। [১]
[৩১৬৭; মুসলিম ৩২/২০, হাঃ ১৭৬৫, আহমাদ ৯৮৩৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৫)[১৩৪] মদীনা সনদ- তথা মুসলমান ও ইয়াহূদী সবাই মিলে একত্রিত শান্তিতে বসবাস করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও ইয়াহূদীরা চুক্তি লঙ্ঘন করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে গিয়েছিলেন।
৮৯/৪. অধ্যায়ঃ
যার উপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এমন ব্যক্তির বিয়ে জায়েয হয় না।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪৫
يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ وَمُجَمِّعٍ ابْنَيْ يَزِيدَ بْنِ جَارِيَةَ الأَنْصَارِيِّ عَنْ خَنْسَاءَ بِنْتِ خِذَامٍ الأَنْصَارِيَّةِ أَنَّ أَبَاهَا زَوَّجَهَا وَهِيَ ثَيِّبٌ فَكَرِهَتْ ذَلِكَ فَأَتَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ نِكَاحَهَا
বর্ণনাকারী খান্সা বিন্ত খিযাম আনসারী (রাঃ)
তাকে তার পিতা (অনুমতি ছাড়া) বিয়ে দিলেন। আর সে ছিল বিধবা। এ বিয়ে সে অপছন্দ করল। তাই সে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে জানাল। ফলে তিনি তার এ বিয়ে বাতিল করে দিলেন। [১]
(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৬)[১৩৫] যে বিয়ে পুত্র কন্যার অসম্মতিতে হয়েছে তা বাতিলযোগ্য।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪৬
مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ أَبِي عَمْرٍو هُوَ ذَكْوَانُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ يُسْتَأْمَرُ النِّسَاءُ فِي أَبْضَاعِهِنَّ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ فَإِنَّ الْبِكْرَ تُسْتَأْمَرُ فَتَسْتَحْيِي فَتَسْكُتُ قَالَ سُكَاتُهَا إِذْنُهَا
বর্ণনাকারী আয়িশা (রাঃ)
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! মহিলাদের বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নিতে হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কুমারীর কাছে অনুমতি চাইলে তো লজ্জাবোধ করে; ফলে সে নীরব থাকে। তিনি বললেনঃ তার নীরবতাই তার অনুমতি।
[৫১৩৭; মুসলিম ১৬/৮, হাঃ ১৪২০, আহমাদ ২৪২৪০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৭)
৮৯/৫. অধ্যায়ঃ
কাউকে যদি বাধ্য করা হয়, যার কারণে সে গোলাম দান করে ফেলে অথবা বিক্রি করে দেয় তবে তা কার্যকর হবে না।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪৭
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلاً مِنْ الأَنْصَارِ دَبَّرَ مَمْلُوكًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ النَّحَّامِ بِثَمَانِ مِائَةِ دِرْهَمٍ قَالَ فَسَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ عَبْدًا قِبْطِيًّا مَاتَ عَامَ أَوَّلَ
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)
এক আনসারী লোক তার এক গোলামকে মুদাব্বার বানিয়ে দেয়। অথচ তার এছাড়া অন্য কোন মাল ছিল না। এ সংবাদ নবী (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেনঃ কে আমার নিকট হতে এ গোলাম কিনে নিবে? নু‘আইম ইবনু নাহ্হাম (রাঃ) আটশো দিরহামে তাকে ক্রয় করলেন। রাবী বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ঐ গোলামটি কিবতী গোলাম ছিল এবং (ক্রয়ের) প্রথম বছরই মারা যায়।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৮
৮৯/৬. অধ্যায়ঃ
ইকরাহ (বাধ্য করা) শব্দ থেকে কারহান ও কুরহান নির্গত, দু’টি অর্থ একই।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪৮
حُسَيْنُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ سُلَيْمَانُ بْنُ فَيْرُوزٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ الشَّيْبَانِيُّ وَحَدَّثَنِي عَطَاءٌ أَبُو الحَسَنِ السُّوَائِيُّ وَلاَ أَظُنُّهُ إِلاَّ ذَكَرَهُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ اٰمَنُوا لاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا} الْآيَةَ قَالَ كَانُوا إِذَا مَاتَ الرَّجُلُ كَانَ أَوْلِيَاؤُهُ أَحَقَّ بِامْرَأَتِهِ إِنْ شَاءَ بَعْضُهُمْ تَزَوَّجَهَا وَإِنْ شَاءُوا زَوَّجَهَا وَإِنْ شَاءُوا لَمْ يُزَوِّجْهَا فَهُمْ أَحَقُّ بِهَا مِنْ أَهْلِهَا فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي ذَلِكَ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি এ আয়াতঃ “হে মুমিনগণ! নারীদেরকে জোরপূর্বক তোমাদের উত্তরাধিকার মনে করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়...”-(সূরা আন-নিসা ৪/১৯)। এর ব্যাখ্যায় বলেন, তাদের নিয়ম ছিল, যখন কোন লোক মারা যেত তখন তার অভিভাবকগণই তার স্ত্রীর ব্যাপারে অধিক হকদার বলে মনে করত। ইচ্ছা করলে তাদের মধ্যে কেউ তাকে বিয়ে করত, ইচ্ছা করলে তাকে (অন্যত্র) বিয়ে দিত, আর ইচ্ছা করলে তাকে বিয়ে দিত না। স্ত্রীর অভিভাবকদের তুলনায় নিজেদেরকে অধিক হকদার তারাই মনে করত। এ সম্পর্কেই উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭৯
৮৯/৭. অধ্যায়ঃ
যখন কোন মহিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয় তখন তার উপর কোন হদ আসে না। কেননা, আল্লাহ বলেন: তবে কেউ যদি তাদেরকে বাধ্য করে সে ক্ষেত্রে জবরদস্তির পর আল্লাহ তো তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা আন-নূর ২৪/৩৩)
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৯৪৯
وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي نَافِعٌ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عَبْدًا مِنْ رَقِيقِ الإِمَارَةِ وَقَعَ عَلَى وَلِيدَةٍ مِنْ الْخُمُسِ فَاسْتَكْرَهَهَا حَتَّى اقْتَضَّهَا فَجَلَدَهُ عُمَرُ الْحَدَّ وَنَفَاهُ وَلَمْ يَجْلِدْ الْوَلِيدَةَ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ اسْتَكْرَهَهَا قَالَ الزُّهْرِيُّ فِي الأَمَةِ الْبِكْرِ يَفْتَرِعُهَا الْحُرُّ يُقِيمُ ذَلِكَ الْحَكَمُ مِنْ الأَمَةِ الْعَذْرَاءِ بِقَدْرِ قِيمَتِهَا وَيُجْلَدُ وَلَيْسَ فِي الأَمَةِ الثَّيِّبِ فِي قَضَاءِ الأَئِمَّةِ غُرْمٌ وَلَكِنْ عَلَيْهِ الْحَدُّ
বর্ণনাকারী লায়স (রহঃ) নাফি‘ (রহঃ)
লায়স (রহঃ) নাফি (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সুফিয়া বিনত আবু উবায়দ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সরকারি মালিকানাধীন এক গোলাম গনীমতের পঞ্চমাংশে পাওয়া এক দাসীর সঙ্গে জবরদস্তি করে যিনা করে। তাতে তার কুমারীত্ব মুছে যায়। উমর (রাঃ) উক্ত গোলামকে কশাঘাত করলেন ও নির্বাসন দিলেন। কিন্তু দাসীটিকে সে বাধ্য করেছিল বলে কশাঘাত করলেন না। যুহরী (রহঃ) কুমারী দাসীর ব্যাপারে বলেন, যার কুমারীত্ব কোন আজাদ ব্যক্তি ছিন্ন করে ফেলল, বিচারক ঐ কুমারী দাসীর মূল্য অনুপাতে তার জন্য ঐ আজাদ ব্যক্তির নিকট হতে কুমারীত্ব মুছে ফেলার দিয়াত গ্রহণ করবেন এবং তাকে কশাঘাত করবেন। আর বিবাহিতা দাসীর ক্ষেত্রে ইমামদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন জরিমানা নেই। কিন্তু তার উপর ‘হদ’ জারি হবে।
(আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)[১৩৬] জোর জবরদস্তি করে যে সকল মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় তাদের উপর হাদ্দ জারী না করার প্রতি হাদীসটিতে ইঙ্গিত বহন করছে। সুতরাং ধর্ষিতা নারীকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা অসম্মানের দৃষ্টিতে না দেখাই ইসলামের শিক্ষা।