তায়াম্মুম

৭/১. অধ্যায়ঃ

وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ}.আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও- মাসেহ করবে স্বীয় মুখমণ্ডল ও হাত।” (সূরা আন-নিসা ৪/৪৩, সূরা আল-মায়িদা ৫/৬)"

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৩৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ ـ أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ ـ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي، فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْتِمَاسِهِ، وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالُوا أَلاَ تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسِ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ‏.‏ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسَ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ‏.‏ فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ، وَجَعَلَ يَطْعُنُنِي بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي، فَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلاَّ مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخِذِي، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا‏.‏ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ الْحُضَيْرِ مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ‏.‏ قَالَتْ فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ، فَأَصَبْنَا الْعِقْدَ تَحْتَهُ‏.‏

বর্ণনাকারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রাঃ)

আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হয়েছিলাম। যখন আমরা ‘বায়দা’ অথবা ‘যাতুল জয়শ’ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন একখানা হার হারিয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেখানে হারের খোঁজে থেমে গেলেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে থেমে গেলেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে ছিলেন না। তখন লোকেরা আবু বকর (রাঃ) এর নিকট এসে বললেন: ‘আয়িশা কি করেছেন আপনি কি দেখেননি? তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও লোকদের আটকিয়ে ফেলেছেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে নেই এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই।’আবু বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। আবু বকর (রাঃ) বললেন: ‘তুমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর লোকদের আটকিয়ে ফেলেছ! অথচ আশেপাশে কোথাও পানি নেই এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই।’আয়েশা (রাঃ) বলেন: আবু বকর আমাকে খুব তিরস্কার করলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি যা খুশি তাই বললেন। তিনি আমার কোমরে আঘাত দিতে লাগলেন। আমার উরুর উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর মাথা থাকায় আমি নড়তে পারছিলাম না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ভোরে উঠলেন, কিন্তু পানি ছিল না। তখন আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর সবাই তায়াম্মুম করে নিলেন। উসাইদ ইবন হুযায়র (রাঃ) বললেন: ‘হে আবু বকরের পরিবারবর্গ! এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়।’ আয়েশা (রাঃ) বলেন: তারপর আমি যে উটে ছিলাম তাকে দাঁড় করালে দেখি আমার হারখানা তার নিচে পড়ে আছে।

(৩৩৬, ৩৬৭২, ৩৭৭৩, ৪৫৮৩, ৪৬০৭, ৪৬০৮, ৫১৬৪, ৫২৫০, ৫৮৮২, ৬৮৪৪, ৬৮৪৫; মুসলিম ৩/২৮, হাঃ ৩৬৭, আহমাদ ২৫৫১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২২,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩২৭)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ النَّضْرِ، قَالَ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ ـ هُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ الْفَقِيرُ ـ قَالَ أَخْبَرَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ فَلْيُصَلِّ، وَأُحِلَّتْ لِيَ الْمَغَانِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لأَحَدٍ قَبْلِي، وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً، وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً ‏"‏‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)

নবী (ﷺ) বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকেও দান করা হয়নি।(১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়;(২) সমস্ত জমিন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে;(৩) আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি;(৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফা’আতের অধিকার দেওয়া হয়েছে;(৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য।

(৪৩৮, ৩১২২; মুসলিম ৫/১, হাঃ ৫২১ আহমাদ ১৪২৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৩,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩২৮)

৭/২. অধ্যায়ঃ

পানি ও মাটি না পাওয়া গেলে।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৩৬

حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا اسْتَعَارَتْ مِنْ أَسْمَاءَ قِلاَدَةً فَهَلَكَتْ، فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً، فَوَجَدَهَا فَأَدْرَكَتْهُمُ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَصَلَّوْا، فَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ‏.‏ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ لِعَائِشَةَ جَزَاكِ اللَّهُ خَيْرًا، فَوَاللَّهِ مَا نَزَلَ بِكِ أَمْرٌ تَكْرَهِينَهُ إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ ذَلِكِ لَكِ وَلِلْمُسْلِمِينَ فِيهِ خَيْرًا‏.‏

বর্ণনাকারী ‘আয়িশা (রাঃ)

তিনি একদা (তাঁর বোন) আসমা (রাঃ) এর হার ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। (পথিমধ্যে) হারখানা হারিয়ে গেল। আল্লাহর রসূল (ﷺ)-সেটির অনুসন্ধানে লোক পাঠালেন। তিনি হারটি এমন সময় পেলেন, যখন তাঁদের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল, অথচ তাঁদের কাছে পানি ছিল না। তাঁরা সালাত আদায় করলেন। তারপর বিষয়টি তাঁরা আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করেন। সেজন্য উসাইদ ইবনু হুযায়র (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আল্লাহর কসম! আপনি যে কোন অপছন্দনীয় অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন, তাতেই আল্লাহ তাআলা আপনার ও সমস্ত মুসলিমের জন্য মঙ্গল রেখেছেন।

(৩৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩২৯)

৭/৩. অধ্যায়ঃ

মুকীম অবস্থায় পানি না পেলে এবং সালাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে তায়াম্মুম করা।

وَبِهِ قَالَ عَطَاءٌ وَقَالَ الْحَسَنُ فِي الْمَرِيضِ عِنْدَهُ الْمَاءُ وَلَا يَجِدُ مَنْ يُنَاوِلُهُ يَتَيَمَّمُ وَأَقْبَلَ ابْنُ عُمَرَ مِنْ أَرْضِهِ بِالْجُرُفِ فَحَضَرَتِ الْعَصْرُ بِمِرْبَدِ النَّعَمِ فَصَلَّى ثُمَّ دَخَلَ الْمَدِينَةَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ فَلَمْ يُعِدْ.‘আত্বা (রহ.)-এর মতামতও তাই। হাসান বাসরী (রহ.) বলেন: যে রোগীর নিকট পানি আছে কিন্তু তার নিকট তা পৌঁছাবার কোনো লোক না থাকে, তবে সে তায়াম্মুম করবে। ইবন ‘উমার (রা.) তাঁর জুরুফ নামক স্থানের জমি হতে ফেরার সময় ‘মিরবাদুল গনাম’-এ পৌঁছলে আসরের সময় হয়ে যায়। তখন তিনি (তায়াম্মুম করে) সালাত আদায় করলেন। পরে তিনি মদীনা পৌঁছলেন। তখনও সূর্য উপরে ছিল। কিন্তু তিনি সালাত পুনরায় আদায় করলেন না।"

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৩৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الأَعْرَجِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَيْرًا، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَقْبَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَسَارٍ، مَوْلَى مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبِي جُهَيْمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الصِّمَّةِ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ أَبُو الْجُهَيْمِ أَقْبَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَحْوِ بِئْرِ جَمَلٍ، فَلَقِيَهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الْجِدَارِ، فَمَسَحَ بِوَجْهِهِ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ জুহায়ম (রাঃ)

নবী (ﷺ) মদীনার কাছে অবস্থিত ‘বিরে জামাল’ হতে আসছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাত হলো। লোকটি তাঁকে সালাম করলো। নবী (ﷺ) জবাব না দিয়ে দেয়ালের নিকট অগ্রসর হয়ে তাতে (হাত মেরে) নিজের চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসহ করে নিলেন, তারপর সালামের জবাব দিলেন।

(মুসলিম ৩/২৮, হাঃ ৩৬৯ আহমদ ১৭৫৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৫,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩০)

৭/৪. অধ্যায়ঃ

তায়াম্মুমের জন্য মাটিতে হাত মারার পর উভয় হাতে ফুঁ দেয়া।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৩৮

حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أُصِبِ الْمَاءَ‏.‏ فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَفَرٍ أَنَا وَأَنْتَ فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ، وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ، فَذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا ‏"‏‏.‏ فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِكَفَّيْهِ الأَرْضَ، وَنَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ‏.‏

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

জনৈক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইল : একবার আমার গোসলের দরকার হল অথচ আমি পানি পেলাম না।তখন আম্মার ইবনু ইয়াসার (রাঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা মনে আছে যে, একদা আমরা দুজন সফরে ছিলাম এবং দুজনেরই গোসলের প্রয়োজন দেখা দিল। আপনি তো সালাত আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার জন্য তো এতটুকুই যথেষ্ট ছিল- এ বলে নবী (ﷺ) দুই হাত মাটিতে মারলেন এবং দুই হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসহ করলেন।

(৩৩৯, ৩৪০, ৩৪১, ৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৫, ৩৪৬, ৩৪৭; মুসলিম ৩/২৮, হাঃ ৩৬৮, আহমাদ ১৮৩৫৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৬,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩১)

৭/৫. অধ্যায়ঃ

মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৩৯

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي الْحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَمَّارٌ بِهَذَا، وَضَرَبَ شُعْبَةُ بِيَدَيْهِ الأَرْضَ، ثُمَّ أَدْنَاهُمَا مِنْ فِيهِ، ثُمَّ مَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ‏.‏ وَقَالَ النَّضْرُ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ ذَرًّا يَقُولُ عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى قَالَ الْحَكَمُ وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ عَمَّارٌ‏.‏

বর্ণনাকারী ‘আম্মার (রাঃ)

আম্মার (রাঃ)-ও এ কথা (যা পূর্বের হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে তা) বর্ণনা করেছেন। শু’বা (রহঃ) নিজের হস্তদ্বয় মাটিতে মেরে মুখের নিকট নিলেন (ফুঁ দিলেন)। তারপর নিজের চেহারা ও উভয় হাত মাসহ করলেন। নাযর (রহঃ) শু’বা (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

(৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৭,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩২)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৪০

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ شَهِدَ عُمَرَ وَقَالَ لَهُ عَمَّارٌ كُنَّا فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا، وَقَالَ تَفَلَ فِيهِمَا

বর্ণনাকারী ইব্‌নু ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু আব্‌যা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে

তিনি (আবদুর রহমান) উমর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন, আর আম্মার (রাঃ) তাঁকে বলছিলেনঃ আমরা এক অভিযানে গিয়েছিলাম, আমরা উভয়ই জুনুব হয়ে পড়লাম। উক্ত রিওয়াতে হাত দুটোতে ফুঁ দেয়ার বর্ণনা تَفَلَ فِيهِمَا -এর স্থলে تَفَلَ فِيهِمَا বলেছেন। উভয়ই সমার্থক।

(৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৮,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৩)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ قَالَ عَمَّارٌ لِعُمَرَ تَمَعَّكْتُ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ يَكْفِيكَ الْوَجْهُ وَالْكَفَّانِ ‏"‏‏.‏

বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমান (রাঃ)

আম্মার (রাঃ) উমর (রাঃ)-কে বলছিলেনঃ আমি (তায়াম্মুমের জন্য) মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে নবী (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি বলেছিলেন: চেহারা ও হাত দুটো মাসহ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।

(৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২৯,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৪)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৪২

حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ شَهِدْتُ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ عَمَّارٌ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ‏

বর্ণনাকারী আবদুর রহমান (রাঃ)

আমি উমর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, আম্মার (রাঃ) তাঁকে বললেন, .... এরপর রাবী পূর্বের হাদীসটি বর্ণনা করেন।

(৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৫)

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ৩৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ عَمَّارٌ فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ الأَرْضَ، فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা তাঁর পিতা (‘আবদুর রহমান)

আম্মার (রাঃ) বলেছেন: নবী (ﷺ) মাটিতে হাত মারলেন এবং তাঁর চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসহ করলেন।

(৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩০,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৬)

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18