পড়ে থাকা বস্তু উঠানো
৪৫/১. অধ্যায়ঃ
পড়ে থাকা জিনিসের মালিক এসে আলামতের বর্ণনা দিলে তাকে তা ফিরিয়ে দিবে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪২৬
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ،. وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، سَمِعْتُ سُوَيْدَ بْنَ غَفَلَةَ، قَالَ لَقِيتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ ـ رضى الله عنه ـ فَقَالَ أَخَذْتُ صُرَّةً مِائَةَ دِينَارٍ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " عَرِّفْهَا حَوْلاً". فَعَرَّفْتُهَا حَوْلَهَا فَلَمْ أَجِدْ مَنْ يَعْرِفُهَا، ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَقَالَ " عَرِّفْهَا حَوْلاً " فَعَرَّفْتُهَا فَلَمْ أَجِدْ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ ثَلاَثًا فَقَالَ " احْفَظْ وِعَاءَهَا وَعَدَدَهَا وَوِكَاءَهَا، فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا، وَإِلاَّ فَاسْتَمْتِعْ بِهَا ". فَاسْتَمْتَعْتُ فَلَقِيتُهُ بَعْدُ بِمَكَّةَ فَقَالَ لاَ أَدْرِي ثَلاَثَةَ أَحْوَالٍ أَوْ حَوْلاً وَاحِدًا.
বর্ণনাকারী উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)
আমি একটি থলে পেয়েছিলাম, যার মধ্যে একশ দীনার ছিল এবং আমি (এটা নিয়ে) নবী (ﷺ)-এর কাছে এলাম। তিনি (ﷺ) বললেন, এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দাও। আমি তাই করলাম। কিন্তু এটি সনাক্ত করার মতো লোক পেলাম না। তখন আবার তাঁর কাছে এলাম। তিনি (ﷺ) বললেন, আরো এক বছর ঘোষণা দাও। আমি তাই করলাম। কিন্তু কাউকে পেলাম না। আমি তৃতীয়বার তাঁর কাছে এলাম। তিনি (ﷺ) বললেন, থলে ও এর প্রাপ্ত বস্তুর সংখ্যা এবং এর বাঁধন স্মরণ রাখ। যদি এর মালিক আসে (তাকে দিয়ে দিবে) নতুবা তুমি তা ভোগ করবে। তারপর আমি তা ভোগ করলাম। [শু’বা (রহঃ) বলেছেন] আমি এরপর মক্কায় সালামা (রহঃ)-এর সঙ্গে দেখা করলাম, তিনি বললেন, তিন বছর কিংবা এক বছর তা আমার মনে নেই।
৪৫/২. অধ্যায়ঃ
হারিয়ে যাওয়া উষ্ট্র
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪২৭
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ رَبِيعَةَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ، مَوْلَى الْمُنْبَعِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَمَّا يَلْتَقِطُهُ فَقَالَ " عَرِّفْهَا سَنَةً، ثُمَّ احْفَظْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا، فَإِنْ جَاءَ أَحَدٌ يُخْبِرُكَ بِهَا، وَإِلاَّ فَاسْتَنْفِقْهَا ". قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَضَالَّةُ الْغَنَمِ قَالَ " لَكَ أَوْ لأَخِيكَ أَوْ لِلذِّئْبِ ". قَالَ ضَالَّةُ الإِبِلِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. فَقَالَ " مَا لَكَ وَلَهَا، مَعَهَا حِذَاؤُهَا وَسِقَاؤُهَا، تَرِدُ الْمَاءَ وَتَأْكُلُ الشَّجَرَ ".
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
জনৈক বেদুঈন এসে নবী (ﷺ)-কে পড়ে থাকা বস্তু গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি (ﷺ) বললেন, “এক বছর যাবৎ এর ঘোষণা দিতে থাক। এরপর থলে ও তার বাঁধন স্মরণ রাখ। এর মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি আসে এবং তোমাকে তার বিবরণ দেয় (তবে তাকে দিয়ে দিবে), নতুবা তুমি তা ব্যবহার করবে।”সে বলল, “হে আল্লাহর রসূল! হারানো বস্তু যদি বকরী হয়?” তিনি (ﷺ) বললেন, “সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ের জন্য।”সে আবার বলল, “হারানো বস্তু উট হলে?” নবী (ﷺ)-এর চেহারায় রাগের ভাব ফুটে উঠল। তিনি (ﷺ) বললেন, “এতে তোমার কী প্রয়োজন? তার সাথেই (জুতার ন্যায়) ক্ষুর ও পানির পাত্র রয়েছে, সে পানি পান করবে এবং গাছের পাতা খাবে।”
৪৫/৩. অধ্যায়ঃ
হারিয়ে যাওয়া ছাগল।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪২৮
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى الْمُنْبَعِثِ أَنَّهُ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ اللُّقَطَةِ فَزَعَمَ أَنَّهُ قَالَ " اعْرِفْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا، ثُمَّ عَرِّفْهَا سَنَةً ". يَقُولُ يَزِيدُ إِنْ لَمْ تُعْتَرَفِ اسْتَنْفَقَ بِهَا صَاحِبُهَا وَكَانَتْ وَدِيعَةً، عِنْدَهُ. قَالَ يَحْيَى فَهَذَا الَّذِي لاَ أَدْرِي أَفِي حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ أَمْ شَىْءٌ مِنْ عِنْدِهِ ـ ثُمَّ قَالَ كَيْفَ تَرَى فِي ضَالَّةِ الْغَنَمِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خُذْهَا فَإِنَّمَا هِيَ لَكَ أَوْ لأَخِيكَ أَوْ لِلذِّئْبِ ". قَالَ يَزِيدُ وَهْىَ تُعَرَّفُ أَيْضًا. ثُمَّ قَالَ كَيْفَ تَرَى فِي ضَالَّةِ الإِبِلِ قَالَ فَقَالَ " دَعْهَا فَإِنَّ مَعَهَا حِذَاءَهَا وَسِقَاءَهَا، تَرِدُ الْمَاءَ وَتَأْكُلُ الشَّجَرَ، حَتَّى يَجِدَهَا رَبُّهَا ".
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)
পড়ে থাকা বস্তু সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো। রাবীর বিশ্বাস যে, নবী (ﷺ) বললেন, থলেটি এবং তার বাঁধন চিনে রাখ। এরপর এক বছর যাবৎ এর ঘোষণা দিতে থাক। ইয়াজিদ (রহঃ) বলেন, যদি এর সনাক্তকারী না পাওয়া যায়, তবে যে এটা উঠিয়েছে সে খরচ করবে। কিন্তু তার কাছে সেটা আমানত স্বরূপ থাকবে।ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, আমার জানা নেই যে, এ কথাটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত ছিল, না তিনি নিজ হতে বলেছেন। এরপর সে জিজ্ঞেস করল, হারিয়ে যাওয়া বকরী সম্পর্কে আপনি কী বলেন? নবী (ﷺ) বললেন, এটি নিয়ে নাও। তা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ে বাঘের। ইয়াজিদ (রহঃ) বলেন, এটাও ঘোষণা দেয়া হবে।তারপর আবার সে জিজ্ঞেস করল, হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে আপনি কী বলেন? বর্ণনাকারী বলেন, তখন নবী (ﷺ) বলেছেন, এটা ছেড়ে দাও। এর সাথেই রয়েছে পায়ের ক্ষুর ও তার পানির পাত্র। সে নিজেই পানি পান করবে এবং গাছপালা খাবে, যতক্ষণ না এর মালিক একে ফিরে পায়।
৪৫/৪. অধ্যায়ঃ
এক বছরের মধ্যে যদি পড়ে থাকা জিনিসের মালিকের দেখা পাওয়া না যায় তবে সেটা যে পেয়েছে তারই হবে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪২৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى الْمُنْبَعِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنِ اللُّقَطَةِ. فَقَالَ " اعْرِفْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا، ثُمَّ عَرِّفْهَا سَنَةً، فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا، وَإِلاَّ فَشَأْنَكَ بِهَا ". قَالَ فَضَالَّةُ الْغَنَمِ قَالَ " هِيَ لَكَ أَوْ لأَخِيكَ أَوْ لِلذِّئْبِ ". قَالَ فَضَالَّةُ الإِبِلِ قَالَ " مَا لَكَ وَلَهَا، مَعَهَا سِقَاؤُهَا وَحِذَاؤُهَا، تَرِدُ الْمَاءَ وَتَأْكُلُ الشَّجَرَ، حَتَّى يَلْقَاهَا رَبُّهَا ".
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পড়ে থাকা জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, তিনি (ﷺ) বললেন, থলেটি এবং এর বাঁধন চিনে রাখ। তারপর এক বছর যাবৎ এর ঘোষণা দিতে থাক। যদি মালিক আসে (তবে তাকে তা দিয়ে দাও) আর যদি না আসে তবে তা তোমার দায়িত্বে।সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, যদি ছাগল হারিয়ে যায়? তিনি বললেন, সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের নতুবা সেটা নেকড়ের।তারপর সে হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি (ﷺ) বললেন, এতে তোমার কী? এর সাথেই এর পানির পাত্র ও পায়ের ক্ষুর রয়েছে। মালিক তাকে না পাওয়া পর্যন্ত সে পানি পান করবে এবং গাছপালা খাবে।
৪৫/৫. অধ্যায়ঃ
নদীতে শুকনা কাঠখণ্ড বা চাবুক অথবা এ জাতীয় কোন কিছু পাওয়া গেলে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪৩০
وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذَكَرَ رَجُلاً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ ـ وَسَاقَ الْحَدِيثَ ـ "فَخَرَجَ يَنْظُرُ لَعَلَّ مَرْكَبًا قَدْ جَاءَ بِمَالِهِ، فَإِذَا هُوَ بِالْخَشَبَةِ فَأَخَذَهَا لأَهْلِهِ حَطَبًا، فَلَمَّا نَشَرَهَا وَجَدَ الْمَالَ وَالصَّحِيفَةَ ".
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি বনি ইসরাইলের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করেন এবং সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। (শেষ পর্যায়ে বলেন) সে ব্যক্তি দেখার জন্য বের হল, হয়তো কোনো জাহাজ তার মাল নিয়ে এসেছে। তখন সে একটি কাঠ দেখতে পেল এবং তা পরিবারের জন্য জ্বালানি কাঠ হিসেবে নিয়ে এল। যখন তাকে চিরে ফেলল, তাতে সে তার মাল ও একটি চিঠি পেল।
৪৫/৬. অধ্যায়ঃ
রাস্তায় খেজুর পাওয়া গেলে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪৩১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِتَمْرَةٍ فِي الطَّرِيقِ قَالَ " لَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ أَنْ تَكُونَ مِنَ الصَّدَقَةِ لأَكَلْتُهَا ". وَقَالَ يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ وَقَالَ زَائِدَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ طَلْحَةَ حَدَّثَنَا أَنَسٌ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) রাস্তায় পড়ে থাকা খেজুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি (ﷺ) বললেন, “আমার যদি আশঙ্কা না হত যে এটি সদকার খেজুর তাহলে আমি এটা খেতাম।”
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪৩২
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنِّي لأَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِي، فَأَجِدُ التَّمْرَةَ سَاقِطَةً عَلَى فِرَاشِي فَأَرْفَعُهَا لآكُلَهَا، ثُمَّ أَخْشَى أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً فَأُلْفِيَهَا ".
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, “আমি আমার ঘরে ফিরে যাই, আমার বিছানায় খেজুর পড়ে থাকতে দেখি। খাওয়ার জন্য আমি তা তুলে নেই। পরে আমার ভয় হয় যে, হয়ত তা সদকার খেজুর হবে তাই আমি তা রেখে দেই।”
৪৫/৭. অধ্যায়ঃ
মক্কাবাসীদের পড়ে থাকা জিনিসের ঘোষণা কিভাবে দেয়া হবে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪৩৩
وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُعْضَدُ عِضَاهُهَا، وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا، وَلاَ تَحِلُّ لُقَطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ، وَلاَ يُخْتَلَى خَلاَهَا ". فَقَالَ عَبَّاسٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلاَّ الإِذْخِرَ. فَقَالَ " إِلاَّ الإِذْخِرَ ".
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “সেখানকার গাছ কাটা যাবে না, সেখানকার শিকারকে তাড়ানো যাবে না, ঘোষণা করা ব্যতীত অন্য কারো জন্য সেখানকার পড়ে থাকা বস্তু তুলে নেওয়া হালাল হবে না, সেখানকার ঘাস কাটা যাবে না।” তখন আব্বাস (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! ইযখির (এক প্রকার ঘাস) ছাড়া।” তখন তিনি (ﷺ) বললেন, “ইযখির ছাড়া (অর্থাৎ ইযখির ঘাস কাটা যাবে)।”
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪৩৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ قَامَ فِي النَّاسِ، فَحَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ، وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، فَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَإِنَّهَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، وَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لأَحَدٍ بَعْدِي، فَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا وَلاَ يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلاَ تَحِلُّ سَاقِطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ، وَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهْوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ، إِمَّا أَنْ يُفْدَى، وَإِمَّا أَنْ يُقِيدَ ". فَقَالَ الْعَبَّاسُ إِلاَّ الإِذْخِرَ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ لِقُبُورِنَا وَبُيُوتِنَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِلاَّ الإِذْخِرَ ". فَقَامَ أَبُو شَاهٍ ـ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ ـ فَقَالَ اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ ". قُلْتُ لِلأَوْزَاعِيِّ مَا قَوْلُهُ اكْتُبُوا لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هَذِهِ الْخُطْبَةَ الَّتِي سَمِعَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে মক্কা বিজয় দান করলেন, তখন তিনি (ﷺ) লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর হামদ ও সানা (প্রশংসা) বর্ণনা করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহ তা'আলা মক্কায় (আবরাহার) হস্তী বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেননি এবং তিনি তাঁর রাসূল ও মুমিন বান্দাদেরকে মক্কার উপর আধিপত্য দান করেছেন। আমার আগে অন্য কারোর জন্য মক্কায় যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না, তবে আমার পক্ষে দিনের সামান্য সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল, আর তা আমার পরেও কারোর জন্য বৈধ হবে না। কাজেই এখানকার শিকার তাড়ানো যাবে না, এখানকার গাছ কাটা ও উপড়ানো যাবে না, ঘোষণাকারী ব্যক্তি ব্যতীত এখানকার পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেয়া যাবে না। যার কোন লোক এখানে নিহত হয় তবে দুটির মধ্যে তার কাছে যা ভাল বলে বিবেচিত হয়, তা গ্রহণ করবে—ফিদিয়া গ্রহণ অথবা কিসাস।আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইযখিরের অনুমতি দিন। কেননা এগুলো আমাদের কবরের উপর এবং ঘরের কাজে ব্যবহার করে থাকি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইযখির ব্যতীত (অর্থাৎ তা কাটা ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হল)।তখন ইয়ামানবাসী আবূ শাহ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা আবূ শাহকে লিখে দাও।(ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম বলেন) আমি আওযাঈকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে লিখে দিন তাঁর এ উক্তির অর্থ কী? তিনি বলেন, এ ভাষণ যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ হতে তিনি শুনেছেন তা লিখে দিন।
৪৫/৮. অধ্যায়ঃ
অনুমতি ছাড়া কারো পশু দোহন করবে না।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ২৪৩৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحْلُبَنَّ أَحَدٌ مَاشِيَةَ امْرِئٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِ، أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تُؤْتَى مَشْرُبَتُهُ فَتُكْسَرَ خِزَانَتُهُ، فَيُنْتَقَلَ طَعَامُهُ فَإِنَّمَا تَخْزُنُ لَهُمْ ضُرُوعُ مَوَاشِيهِمْ أَطْعِمَاتِهِمْ، فَلاَ يَحْلُبَنَّ أَحَدٌ مَاشِيَةَ أَحَدٍ إِلاَّ بِإِذْنِهِ ".
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অনুমতি ব্যতীত কারো পশু কেউ দোহন করবে না। তোমাদের কেউ এটা কি পছন্দ করবে যে, তার (তোশাখানায়) ভান্ডারে কোন ব্যক্তি এসে ভান্ডার ভেঙ্গে ফেলে এবং ভান্ডারের শস্য নিয়ে যায়? তাদের পশুগুলোর স্তন তাদের খাদ্য সংরক্ষিত রাখে। কাজেই কারো পশু তার অনুমতি ব্যতীত কেউ দোহন করবে না।