ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব)

৪০/১. অধ্যায়ঃ

ভাগ বাঁটোয়ারা ইত্যাদির ক্ষেত্রে এক শরীক অন্য শরীকের ওয়াকিল হওয়া।

وَقَدْ أَشْرَكَ النَّبِيُّ ﷺ عَلِيًّا فِي هَدْيِهِ ثُمَّ أَمَرَهُ بِقِسْمَتِهَاনবী (ﷺ) তাঁর হজ্জের কুরবানীর পশুতে ‘আলী (রা.)-কে শরীক করেন। পরে তা বণ্টন করে দেয়ার আদেশ দেন।"

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২২৯৯

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَلِيٍّ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَتَصَدَّقَ بِجِلاَلِ الْبُدْنِ الَّتِي نُحِرَتْ وَبِجُلُودِهَا

বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)

আল্লাহর রসূল (ﷺ) আমাকে কুরবানিকৃত উটের গলার মালা ও তার চামড়া দান করার হুকুম দিয়েছেন।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২৩০০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيدَ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ أَعْطَاهُ غَنَمًا يَقْسِمُهَا عَلَى صَحَابَتِهِ فَبَقِيَ عَتُودٌ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ضَحِّ بِهِ أَنْتَ

বর্ণনাকারী ‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)

নবী (ﷺ) তাঁকে কিছু বকরী সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করতে দিলেন। বণ্টন করার পর একটি বকরির বাচ্চা বাকী থেকে যায়। তিনি তা নবী (ﷺ)-কে অবহিত করেন। তখন তিনি বললেন, তুমি নিজে এটাকে কুরবানি করে দাও।

৪০/২. অধ্যায়ঃ

মুসলমানের পক্ষে কোন মুসলমানকে মুসলমান দেশে কিংবা অমুসলিম দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২৩০১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ الْمَاجِشُونِ عَنْ صَالِحِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ كَاتَبْتُ أُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ كِتَابًا بِأَنْ يَحْفَظَنِي فِي صَاغِيَتِي بِمَكَّةَ وَأَحْفَظَهُ فِي صَاغِيَتِهِ بِالْمَدِينَةِ فَلَمَّا ذَكَرْتُ الرَّحْمَنَ قَالَ لاَ أَعْرِفُ الرَّحْمَنَ كَاتِبْنِي بِاسْمِكَ الَّذِي كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَكَاتَبْتُهُ عَبْدَ عَمْرٍو فَلَمَّا كَانَ فِي يَوْمِ بَدْرٍ خَرَجْتُ إِلَى جَبَلٍ لأُحْرِزَهُ حِينَ نَامَ النَّاسُ فَأَبْصَرَهُ بِلاَلٌ فَخَرَجَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى مَجْلِسٍ مِنْ الأَنْصَارِ فَقَالَ أُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ لاَ نَجَوْتُ إِنْ نَجَا أُمَيَّةُ فَخَرَجَ مَعَهُ فَرِيقٌ مِنْ الأَنْصَارِ فِي آثَارِنَا فَلَمَّا خَشِيتُ أَنْ يَلْحَقُونَا خَلَّفْتُ لَهُمْ ابْنَهُ لأَشْغَلَهُمْ فَقَتَلُوهُ ثُمَّ أَبَوْا حَتَّى يَتْبَعُونَا وَكَانَ رَجُلاً ثَقِيلاً فَلَمَّا أَدْرَكُونَا قُلْتُ لَهُ ابْرُكْ فَبَرَكَ فَأَلْقَيْتُ عَلَيْهِ نَفْسِي لأَمْنَعَهُ فَتَخَلَّلُوهُ بِالسُّيُوفِ مِنْ تَحْتِي حَتَّى قَتَلُوهُ وَأَصَابَ أَحَدُهُمْ رِجْلِي بِسَيْفِهِ وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ عَوْفٍ يُرِينَا ذَلِكَ الأَثَرَ فِي ظَهْرِ قَدَمِهِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ سَمِعَ يُوسُفُ صَالِحًا وَإِبْرَاهِيمُ أَبَاهُ

বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)

আমি উমাইয়া ইবন খালফের সঙ্গে এ মর্মে একটা চুক্তিনামা করলাম যে, সে মক্কায় আমার মাল-সামান হিফাজত করবে আর আমি মদিনায় তার মাল-সামান হিফাজত করব। যখন আমি চুক্তি নামায় আমার নামের শেষে রহমান শব্দটি উল্লেখ করলাম তখন সে বলল, আমি রহমানকে চিনি না। জাহিলি যুগে তোমার যে নাম ছিল সেটা লিখ। তখন আমি তাতে আবদু আমর লিখে দিলাম। বদর যুদ্ধের দিন যখন লোকজন ঘুমিয়ে পড়ল তখন আমি উমাইয়াকে রক্ষা করার জন্য একটি পাহাড়ের দিকে গেলাম। বিলাল (রাঃ) তাকে দেখে ফেললেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে আনসারদের এক মজলিসে বললেন, এই যে উমাইয়া ইবন খালফ। যদি উমাইয়া বেঁচে যায়, তবে আমার বেঁচে থাকায় লাভ নেই। তখন আনসারদের একদল তার সাথে আমাদের পিছে পিছে ছুটলেন। যখন আমার আশঙ্কা হল যে, তারা আমাদের নিকট এসে পড়বেন, তখন আমি উমাইয়ার পুত্রকে তাঁদের জন্য পেছনে রেখে এলাম, যাতে তাঁদের দৃষ্টি তার উপর পড়ে। তাঁরা তাকে হত্যা করলেন। তারপরেও তাঁরা ক্ষান্ত হলেন না, তাঁরা আমাদের পিছু ধাওয়া করলেন। উমাইয়া ছিল স্থূলদেহী। যখন আনসাররা আমাদের কাছে পৌঁছে গেলেন, তখন আমি তাকে বললাম, বসে পড়। সে বসে পড়ল। আমি তাকে বাঁচানোর জন্য আমার দেহখানা দ্বারা তাকে আড়াল করে রাখলাম। কিন্তু তাঁরা আমার নিচ দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলল। তাঁদের একজনের তরবারির আঘাত আমার পায়েও লাগল। রাবী বলেন, আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) তাঁর পায়ের সে আঘাত আমাদেরকে দেখাতেন। আবু আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন ইউসুফ (রহঃ) সালিহ (রহঃ) হতে এবং ইব্রাহিম (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা শুনেছেন।

৪০/৩. অধ্যায়ঃ

স্বর্ণ-রৌপ্য বেচা-কেনা ও ওজনে বিক্রয়যোগ্য বস্তুসমূহে প্রতিনিধি নিয়োগ করা।

وَقَدْ وَكَّلَ عُمَرُ وَابْنُ عُمَرَ فِي الصَّرْفِ‘উমার ও ইবন ‘উমার (রা.) সোনা-রূপার ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন।"

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২৩০২ - ২৩০৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ سُهَيْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَ رَجُلاً عَلَى خَيْبَرَ فَجَاءَهُمْ بِتَمْرٍ جَنِيبٍ فَقَالَ أَكُلُّ تَمْرِ خَيْبَرَ هَكَذَا فَقَالَ إِنَّا لَنَأْخُذُ الصَّاعَ مِنْ هَذَا بِالصَّاعَيْنِ وَالصَّاعَيْنِ بِالثَّلاَثَةِ فَقَالَ لاَ تَفْعَلْ بِعْ الْجَمْعَ بِالدَّرَاهِمِ ثُمَّ ابْتَعْ بِالدَّرَاهِمِ جَنِيبًا وَقَالَ فِي الْمِيزَانِ مِثْلَ ذَلِكَ

বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ খুদরী ও আবূ হুরায়রা (রাঃ)

আল্লাহর রসূল (ﷺ) এক ব্যক্তিকে খায়বারের কর্মচারী নিয়োগ করলেন। সে বেশ কিছু উন্নতমানের খেজুর তাঁর নিকটে নিয়ে আসল। নবী (ﷺ) বললেন, খায়বারের সব খেজুরই কি এরকম? সে বলল, আমরা দুসার বদলে এর এক সা নিয়ে থাকি কিংবা তিন সার বদলে দুসা নিয়ে থাকি। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এরূপ কর না। মিশ্রিত খেজুর দিরহাম দিয়ে বিক্রি কর। তারপর এ দিরহাম দিয়েই উন্নতমানের খেজুর ক্রয় কর। ওজনে বিক্রয়যোগ্য বস্তুসমূহের ব্যাপারেও তিনি একই কথা বলেছেন।

৪০/৪. অধ্যায়ঃ

যখন রাখাল অথবা প্রতিনিধি দেখে যে, কোন বকরী মারা যাচ্ছে কিংবা কোন জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তখন সে বকরিটাকে যবেহ করে দিবে এবং যে জিনিসটা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, সেটাকে ঠিক রাখার ব্যবস্থা করবে।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২৩০৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ سَمِعَ الْمُعْتَمِرَ أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ نَافِعٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَتْ لَهُمْ غَنَمٌ تَرْعَى بِسَلْعٍ فَأَبْصَرَتْ جَارِيَةٌ لَنَا بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِنَا مَوْتًا فَكَسَرَتْ حَجَرًا فَذَبَحَتْهَا بِهِ فَقَالَ لَهُمْ لاَ تَأْكُلُوا حَتَّى أَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَوْ أُرْسِلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَنْ يَسْأَلُهُ وَأَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَاكَ أَوْ أَرْسَلَ فَأَمَرَهُ بِأَكْلِهَا قَالَ عُبَيْدُ اللهِ فَيُعْجِبُنِي أَنَّهَا أَمَةٌ وَأَنَّهَا ذَبَحَتْ تَابَعَهُ عَبْدَةُ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ

বর্ণনাকারী ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)

তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তাঁর কতকগুলো ছাগল-ভেড়া ছিল, যা সাল্‌‘ নামক স্থানে চরে বেড়াতো। একদিন আমাদের এক দাসী দেখলো যে, আমাদের ছাগল ভেড়ার মধ্যে একটি মারা যাচ্ছে। তখন সে একটি পাথর ভেঙে তা দিয়ে ছাগলটাকে যবেহ করে দিল। কা‘ব তাদেরকে বললেন, তোমরা এটা খেয়ো না, যে পর্যন্ত না আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করে আসি অথবা কাউকে নবী (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করতে পাঠাই। তিনি নিজেই নবী (ﷺ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন অথবা কাউকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি [নবী (ﷺ)] তা খাওয়ার হুকুম দিয়েছিলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন, এ কথাটা আমার কাছে খুব ভাল লাগল যে, দাসী হয়েও সে ছাগলটাকে যবেহ করল।

হাদিস নং
২৩০৪
অধ্যায়
যখন রাখাল অথবা প্রতিনিধি দেখে যে, কোন বকরী মারা যাচ্ছে কিংবা কোন জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তখন সে বকরিটাকে যবেহ করে দিবে এবং যে জিনিসটা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, সেটাকে ঠিক রাখার ব্যবস্থা করবে।

৪০/৫. অধ্যায়ঃ

উপস্থিত ও অনুপস্থিত ব্যক্তিকে ওয়াকিল নিয়োগ করা বৈধ।

وَكَتَبَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو إِلَى قَهْرَمَانِهِ وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهُ أَنْ يُزَكِّيَ عَنْ أَهْلِهِ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِইবন ‘আমর (রা.) তাঁর পরিবারের উকিলকে লিখে পাঠান, যেন সে তাঁর ছোট-বড় সকলের তরফ হতে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করে দেয়, অথচ সে অনুপস্থিত ছিল।"

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২৩০৫

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ لِرَجُلٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سِنٌّ مِنْ الإِبِلِ فَجَاءَهُ يَتَقَاضَاهُ فَقَالَ أَعْطُوهُ فَطَلَبُوا سِنَّهُ فَلَمْ يَجِدُوا لَهُ إِلاَّ سِنًّا فَوْقَهَا فَقَالَ أَعْطُوهُ فَقَالَ أَوْفَيْتَنِي أَوْفَى اللهُ بِكَ قَالَ النَّبِيُّ إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

নবী (ﷺ)-এর নিকট কোন এক ব্যক্তির একটি বিশেষ বয়সের উট পাওনা ছিল। সে পাওয়ার জন্য আসলে তিনি সাহাবীদের বললেন, তার পাওনা দিয়ে দাও। তাঁরা সে উটের সমবয়সী উট অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন। কিন্তু তা পেলেন না। কিন্তু তা থেকে বেশি বয়সের উট পেলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তাই দিয়ে দাও। তখন লোকটি বলল, আপনি আমার প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করেছেন; আল্লাহ আপনাকেও পুরোপুরি প্রতিদান দিন। নবী (ﷺ) বললেন, যে পরিশোধ করার বেলায় উদার সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি।

৪০/৬. অধ্যায়ঃ

ঋণ পরিশোধ করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ।

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২৩০৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَقَاضَاهُ فَأَغْلَظَ فَهَمَّ بِهِ أَصْحَابُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَعُوهُ فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالاً ثُمَّ قَالَ أَعْطُوهُ سِنًّا مِثْلَ سِنِّهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ أَمْثَلَ مِنْ سِنِّهِ فَقَالَ أَعْطُوهُ فَإِنَّ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحْسَنَكُمْ قَضَاءً

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে পাওনার জন্য তাগাদা দিতে এসে রূঢ় ভাষায় কথা বলতে লাগলেন। এতে সাহাবীগণ তাঁকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তখন আল্লাহর রসূল (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারদের কড়া কথা বলার অধিকার রয়েছে।তারপর তিনি বললেন, তার উটের সমবয়সী একটি উট তাকে দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! এটা নেই। এর চেয়ে উত্তম উট রয়েছে। তিনি বললেন, তাই দিয়ে দাও। তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোৎকৃষ্ট, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় উত্তম।

৪০/৭. অধ্যায়ঃ

কোন প্রতিনিধিকে কিংবা কোন কওমের সুপারিশকারীকে কোন দ্রব্য হিবা করা বৈধ।

لِقَوْلِ النَّبِيِّ ﷺ لِوَفْدِ هَوَازِنَ حِينَ سَأَلُوهُ الْمَغَانِمَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ نَصِيبِي لَكُمْকেননা, নবী (ﷺ) হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দলকে যখন তারা গনীমতের মাল ফেরত চেয়েছিল বলেছিলেন, আমি আমার অংশ তোমাদেরকে দিয়ে দিচ্ছি।"

সহিহ বুখারী

হাদিস নং ২৩০৭ - ২৩০৮

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ وَزَعَمَ عُرْوَةُ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ حِينَ جَاءَهُ وَفْدُ هَوَازِنَ مُسْلِمِينَ فَسَأَلُوهُ أَنْ يَرُدَّ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ وَسَبْيَهُمْ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ الْحَدِيثِ إِلَيَّ أَصْدَقُهُ فَاخْتَارُوا إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ إِمَّا السَّبْيَ وَإِمَّا الْمَالَ وَقَدْ كُنْتُ اسْتَأْنَيْتُ بِهِمْ وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْتَظَرَهُمْ بِضْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً حِينَ قَفَلَ مِنْ الطَّائِفِ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ رَادٍّ إِلَيْهِمْ إِلاَّ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ قَالُوا فَإِنَّا نَخْتَارُ سَبْيَنَا فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُسْلِمِينَ فَأَثْنَى عَلَى اللهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ إِخْوَانَكُمْ هَؤُلاَءِ قَدْ جَاءُونَا تَائِبِينَ وَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَرُدَّ إِلَيْهِمْ سَبْيَهُمْ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يُطَيِّبَ بِذَلِكَ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَكُونَ عَلَى حَظِّهِ حَتَّى نُعْطِيَهُ إِيَّاهُ مِنْ أَوَّلِ مَا يُفِيءُ اللهُ عَلَيْنَا فَلْيَفْعَلْ فَقَالَ النَّاسُ قَدْ طَيَّبْنَا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ لَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّا لاَ نَدْرِي مَنْ أَذِنَ مِنْكُمْ فِي ذَلِكَ مِمَّنْ لَمْ يَأْذَنْ فَارْجِعُوا حَتَّى يَرْفَعُوا إِلَيْنَا عُرَفَاؤُكُمْ أَمْرَكُمْ فَرَجَعَ النَّاسُ فَكَلَّمَهُمْ عُرَفَاؤُهُمْ ثُمَّ رَجَعُوا إِلَى رَسُولِ اللهِ فَأَخْبَرُوهُ أَنَّهُمْ قَدْ طَيَّبُوا وَأَذِنُوا

বর্ণনাকারী মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ)

হাওয়াজিন গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে এলেন, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন। প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে তাদের ধন-সম্পদ ও বন্দী ফেরত চাইলেন। তখন তিনি বললেন, আমার নিকট সত্য কথাই অধিকতর পছন্দনীয়। কাজেই তোমরা দুটোর মধ্যে একটা বেছে নাও— হয় বন্দী, নয় সম্পদ। আমি তো এদের আগমনের অপেক্ষায় প্রতীক্ষমান ছিলাম। (বর্ণনাকারী বলেন) তায়েফ হতে প্রত্যাবর্তন করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দশ রাতেরও বেশি তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। যখন (প্রতিনিধি দল) বুঝতে পারলেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দুটোর মধ্যে একটি ফেরত দেবেন, তখন তারা বললেন, আমরা আমাদের বন্দীদেরকে গ্রহণ করছি। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলিমগণের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তা’আলার যথাযথ প্রশংসা করে বললেন, তোমাদের এই ভাইয়েরা তাওবা করে আমার কাছে এসেছে এবং আমার অভিপ্রায় এই যে, আমি তাদের বন্দীদের ফেরত দিই। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজ খুশিতে স্বেচ্ছায় ফেরত দিতে চায়, সে দিক। আর তোমাদের মধ্যে যে এর বিনিময়ে গ্রহণ পছন্দ করে, আমরা সেই গনীমতের মাল হতে তা দিব যা আল্লাহ প্রথম আমাদের দান করবেন। সে তা করুক অর্থাৎ বিনিময় নিয়ে ফেরত দিক। সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা স্বেচ্ছায় তাদেরকে ফেরত দিলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিল আর কে দিল না, তা আমরা বুঝতে পারছি না। কাজেই তোমরা ফিরে যাও এবং তোমাদের নেতারা তোমাদের মতামত আমাদের নিকট পেশ করুক। সাহাবীরা ফিরে গেলেন। তাদের নেতা তাঁদের সাথে আলাপ-আলোচনা করলেন। তারপর তাঁরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে জানালেন যে, সাহাবীরা সন্তুষ্টচিত্তে অনুমতি দিয়েছেন।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18