হজ্জ
২৫/১. অধ্যায়ঃ
হজ্জ ফরজ হওয়া ও এর ফজিলত।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫১৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ الْفَضْلُ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَتِ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ، فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا، لاَ يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ، أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ " نَعَمْ ". وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
ফজল ইবন আব্বাস (রাঃ) একই বাহনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর পিছনে আরোহণ করেছিলেন। এরপর খাসআম গোত্রের জনৈক মহিলা উপস্থিত হল। তখন ফযল (রাঃ) সেই মহিলার দিকে তাকাতে থাকে এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাতে থাকে। আর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিতে থাকে। মহিলাটি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর বান্দার উপর ফরজকৃত হজ্জ আমার বয়োবৃদ্ধ পিতার উপর ফরজ হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করব?’ তিনি বললেনঃ হ্যাঁ (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হজ্জের সময়ের।
২৫/২. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ “তারা তোমার নিকট আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রে আরোহণ করে, তারা আসবে দূর-দুরান্তের পথ অতিক্রম করে যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোয় উপস্থিত হতে পারে।” (আল-হাজ্জঃ ২৭)
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫১৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْكَبُ رَاحِلَتَهُ بِذِي الْحُلَيْفَةِ ثُمَّ يُهِلُّ حَتَّى تَسْتَوِيَ بِهِ قَائِمَةً.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘উমর (রাঃ)
আমি দেখেছি, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) 'যুলহুলাইফা' নামক স্থানে তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করেন, বাহনটি সোজা হয়ে দাঁড়ালেই তিনি তালবিয়া উচ্চারণ করতে থাকেন।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫১৫
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، سَمِعَ عَطَاءً، يُحَدِّثُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ إِهْلاَلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ حِينَ اسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ. رَوَاهُ أَنَسٌ وَابْنُ عَبَّاسٍ رضى الله عنهم.
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর তালবিয়া পাঠ 'যুল-হুলাইফা' হতে আরম্ভ হত যখন তাঁর বাহন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াত। হাদীসটি আনাস ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ)-এর সূত্রে জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি।
২৫/৩. অধ্যায়ঃ
উটের হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫১৬
وَقَالَ أَبَانُ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مَعَهَا أَخَاهَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ، فَأَعْمَرَهَا مِنَ التَّنْعِيمِ، وَحَمَلَهَا عَلَى قَتَبٍ. وَقَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ شُدُّوا الرِّحَالَ فِي الْحَجِّ، فَإِنَّهُ أَحَدُ الْجِهَادَيْنِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়েশা (রাঃ)
নবী (ﷺ) আয়েশা (রাঃ) এর সাথে তাঁর ভাই আবদুর রহমান (রাঃ) কে প্রেরণ করেন। তিনি আয়েশা (রাঃ) কে 'তানঈম' নামক স্থান হতে ছোট একটি হাওদায় বসিয়ে উমরা করতে নিয়ে যান। উমর (রাঃ) বলেন, তোমরা হজ্জে (গমনের উদ্দেশ্যে) উটের পিঠে হাওদা মজবুত করে বাঁধ (সফর কর)। কেননা, হজ্জও এক প্রকারের জিহাদ।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫১৭
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا عَزْرَةُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ، قَالَ حَجَّ أَنَسٌ عَلَى رَحْلٍ، وَلَمْ يَكُنْ شَحِيحًا، وَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَجَّ عَلَى رَحْلٍ وَكَانَتْ زَامِلَتَهُ.
বর্ণনাকারী সুমামা ইব্নু ‘আবদুল্লাহ ইব্নু আনাস (রাঃ)
আনাস (রাঃ) হাওদায় আরোহণ অবস্থায় হজ্জে গমন করেছেন, অথচ তিনি কৃপণ ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, নবী (ﷺ) হাওদায় আরোহণ করে হজ্জে গমন করেন এবং সেই উটটিই তাঁর মালের বাহন ছিল।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫১৮
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا أَيْمَنُ بْنُ نَابِلٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، اعْتَمَرْتُمْ وَلَمْ أَعْتَمِرْ. فَقَالَ " يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ اذْهَبْ بِأُخْتِكَ فَأَعْمِرْهَا مِنَ التَّنْعِيمِ ". فَأَحْقَبَهَا عَلَى نَاقَةٍ فَاعْتَمَرَتْ.
বর্ণনাকারী ‘আয়েশা (রাঃ)
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনারা উমরাহ করলেন, আর আমি উমরাহ করতে পারলাম না! নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবদুর রহমান! তোমার বোন (আয়েশা) কে সাথে করে নিয়ে তানঈম হতে গিয়ে উমরাহ করিয়ে নিয়ে এসো। তিনি আয়েশা (রাঃ) কে উটের পিঠে ছোট একটি হাওদার পশ্চাদ্ভাগে বসিয়ে দেন এবং তিনি উমরাহ আদায় করেন।
২৫/৪. অধ্যায়ঃ
হজ্জে মাবরুর কবুলকৃত হজ্জের ফজিলত।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫১৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌّ مَبْرُورٌ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হল, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হল, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ হজ্জে মাবরূর (মাকবূল হজ্জ)।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫২০
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ أَخْبَرَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ أَفَلاَ نُجَاهِدُ قَالَ لاَ لَكِنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُورٌ
বর্ণনাকারী উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়েশা (রাঃ)
হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করব না? তিনি বললেন: না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হজ্জে মাবরূর।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫২১
حَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَازِمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ حَجَّ للهِ÷ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরা (রাঃ)
আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করল এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও গুনাহ হতে বিরত রইল, সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে হজ্জ হতে ফিরে আসবে যেদিন তার মা জন্ম দিয়েছিল।
২৫/৫. অধ্যায়ঃ
হজ্জ ও উমরার মীকাত (ইহরাম বাঁধার স্থান) নির্ধারণ।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১৫২২
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ أَنَّهُ أَتَى عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ فِي مَنْزِلِهِ وَلَهُ فُسْطَاطٌ وَسُرَادِقٌ فَسَأَلْتُهُ مِنْ أَيْنَ يَجُوزُ أَنْ أَعْتَمِرَ قَالَ فَرَضَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لأَ÷هْلِ نَجْدٍ قَرْنًا وَلأهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلأَ÷هْلِ الشَّأْمِ الْجُحْفَةَ
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু জুবাইর (রহঃ)
তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর কাছে তাঁর অবস্থান স্থলে যান, তখন তাঁর জন্য তাঁবু ও চাঁদোয়া টানানো হয়েছিল। [যায়েদ (রাঃ) বলেন] আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন স্থান হতে উমরাহর ইহরাম বাঁধা জায়েয হবে? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নাজদবাসীর জন্য 'কারন', মদিনাবাসীর জন্য 'যুল-হুলাইফা' ও সিরিয়াবাসীদের জন্য 'জুহফা' (ইহরামের মীকাত) নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
(১৩৩) (আঃপ্রঃ ১৪২৩, ইঃফাঃ ১৪২৯)