জানাজা
২৩/১. অধ্যায়ঃ
জানাজা সম্পর্কিত এবং যার শেষ কথা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু'।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৩৭
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ الأَحْدَبُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي فَأَخْبَرَنِي ـ أَوْ قَالَ بَشَّرَنِي ـ أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ ". قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ ".
বর্ণনাকারী আবূ যার্ (গিফারী) (রাঃ)
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ একজন আগন্তুক [জিবরীল (আঃ)] আমার প্রতিপালকের নিকট হতে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে। [২]
[২] কৃত কর্মের শাস্তি ভোগ অথবা ক্ষমা লাভের পরই সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। কারণ কবীরাহ্ গুনাহে লিপ্ত হলেই মানুষ ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না। হাদীসটি মুসলিম নামধারী চরমপন্থী দল খারিজীদের আকীদার প্রতিবাদে একটি মযবুত দলীল। ওদের ধারনা মানুষ কবীরাহ্ গুনাহে লিপ্ত হলেই কাফির হয়ে যায় (নাউযুবিল্লাহ)।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৩৮
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ ". وَقُلْتُ أَنَا مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস'ঊদ (রাঃ)
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যে আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুর শরীক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
২৩/২. অধ্যায়ঃ
জানাজায় অনুগমনের আদেশ।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৩৯
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَشْعَثِ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ الْبَرَاءِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِسَبْعٍ، وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ أَمَرَنَا بِاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، وَعِيَادَةِ الْمَرِيضِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي، وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ، وَإِبْرَارِ الْقَسَمِ، وَرَدِّ السَّلاَمِ، وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ. وَنَهَانَا عَنْ آنِيَةِ الْفِضَّةِ، وَخَاتَمِ الذَّهَبِ، وَالْحَرِيرِ، وَالدِّيبَاجِ، وَالْقَسِّيِّ، وَالإِسْتَبْرَقِ.
বর্ণনাকারী বারা’আ ইব্নু ‘আযিব (রাঃ)
নবী (ﷺ) সাতটি বিষয়ে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে আমাদের নিষেধ করেছেন।তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন-১. জানাজার অনুগমন করতে,২. রোগীর খোঁজ-খবর নিতে,৩. দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ করতে,৪. মজলুমকে সাহায্য করতে,৫. কসম পূর্ণ করতে,৬. সালামের জবাব দিতে এবং৭. হাঁচিদাতাকে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে) সন্তুষ্ট করতে।আর তিনি নিষেধ করেছেন-১. রুপার পাত্র [২],২. সোনার আংটি,৩. রেশম,৪. দীফাজ,৫. কাসসি (কেস রেশম),৬. ইস্তিবরাক (তসর জাতীয় রেশম) ব্যবহার করতে। [১] [৩]
[১] স্বর্ণের অলংকার ও রেশমের পোশাক পুরুষদের জন্য হারাম, নারীদের জন্যে বৈধ। তবে শরীরে চুলকানী বা ঘা ইত্যাদির কারণে পুরুষদের জন্যেও রেশমের পোশাক ব্যবহার বৈধ।[২] স্বর্ণ-রৌপ্যের পাত্র সকল মুসলমানদের জন্য হারাম। তবে কোন পাত্র ভেঙ্গে গেলে তা সোনা-রূপার তার দিয়ে জোড়া ও ঝালাই দেয়া জায়িয।[৩] এ হাদীসে নিষেধকৃত ছয়টির উল্লেখ করা আছে। সপ্তম বিষয়টি এই কিতাবের ‘সোনার আংটি’ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৪০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ رَدُّ السَّلاَمِ، وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ ". تَابَعَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ. وَرَوَاهُ سَلاَمَةُ عَنْ عُقَيْلٍ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি যে, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি:১. সালামের জবাব দেওয়া,২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেওয়া,৩. জানাজার পশ্চাদনুসরণ করা,৪. দাওয়াত কবুল করা এবং৫. হাঁচিদাতাকে খুশি করা (আলহামদুলিল্লাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)।আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) আমর ইবনে আবু সালামা (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আবদুর রাজ্জাক (রহঃ) বলেন, আমাকে মামার (রহঃ) এরূপ অবহিত করেছেন এবং এ হাদিস সালামা (রহঃ) উকাইল (রহঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন।
২৩/৩. অধ্যায়ঃ
কাফন পরানোর পর মৃত ব্যক্তির নিকট গমন করা
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৪১ - ১২৪২
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَعْمَرٌ، وَيُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ أَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ عَلَى فَرَسِهِ مِنْ مَسْكَنِهِ بِالسُّنْحِ حَتَّى نَزَلَ، فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ، فَلَمْ يُكَلِّمِ النَّاسَ، حَتَّى نَزَلَ فَدَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ فَتَيَمَّمَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُسَجًّى بِبُرْدِ حِبَرَةٍ، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ، ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ فَقَبَّلَهُ ثُمَّ بَكَى فَقَالَ بِأَبِي أَنْتَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، لاَ يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْكَ مَوْتَتَيْنِ، أَمَّا الْمَوْتَةُ الَّتِي كُتِبَتْ عَلَيْكَ فَقَدْ مُتَّهَا. قَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَأَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ خَرَجَ وَعُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ يُكَلِّمُ النَّاسَ. فَقَالَ اجْلِسْ. فَأَبَى. فَقَالَ اجْلِسْ. فَأَبَى، فَتَشَهَّدَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَمَالَ إِلَيْهِ النَّاسُ، وَتَرَكُوا عُمَرَ فَقَالَ أَمَّا بَعْدُ، فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم قَدْ مَاتَ، وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ فَإِنَّ اللَّهَ حَىٌّ لاَ يَمُوتُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلاَّ رَسُولٌ} إِلَى {الشَّاكِرِينَ} وَاللَّهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ الآيَةَ حَتَّى تَلاَهَا أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَتَلَقَّاهَا مِنْهُ النَّاسُ، فَمَا يُسْمَعُ بَشَرٌ إِلاَّ يَتْلُوهَا.
বর্ণনাকারী আবূ সালামা (রহঃ)
নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর খবর পেয়ে) আবু বকর (রাঃ) 'সুন্হ' -এ অবস্থিত তাঁর বাড়ি হতে ঘোড়ায় চড়ে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকজনদের সঙ্গে কোন কথা না বলে আয়েশা (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ‘হিবারা’ ইয়ামানী চাদরে আবৃত ছিলেন। আবু বকর (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করে তাঁর উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, অতঃপর ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্র করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য অবধারিত ছিল তা তো আপনি কবূল করেছেন।قَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَأَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَرَجَ وَعُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُكَلِّمُ النَّاسَ فَقَالَ اجْلِسْ فَأَبَى فَقَالَ اجْلِسْ فَأَبَى فَتَشَهَّدَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَالَ إِلَيْهِ النَّاسُ وَتَرَكُوا عُمَرَ فَقَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللهَ فَإِنَّ اللهَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ قَالَ اللهُ تَعَالَى (وَمَا مُحَمَّدٌ إِلاَّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ إِلَى الشَّاكِرِينَ) وَاللهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَكُونُوا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللهَ أَنْزَلَهَا حَتَّى تَلاَهَا أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَتَلَقَّاهَا مِنْهُ النَّاسُ فَمَا يُسْمَعُ بَشَرٌ إِلاَّ يَتْلُوهَاআবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছিলেন যে, (তারপর) আবু বকর (রাঃ) বাহিরে এলেন। তখন উমর (রাঃ) লোকজনের সাথে বাক্যালাপ করছিলেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন। তিনি তা মানলেন না। আবু বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, বসে পড়ুন, তিনি তা মানলেন না। তখন আবু বকর (রাঃ) কালিমা-ই-শাহাদাতের দ্বারা (বক্তব্য) আরম্ভ করলেন। লোকেরা উমর (রাঃ)-কে ছেড়ে তাঁর দিকে আকৃষ্ট হন।আবু বকর (রাঃ) বললেন, আম্মা বাদু, তোমাদের মাঝে যারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ইবাদত করতে, মুহাম্মাদ (ﷺ) সত্যই মারা গেছেন। আর যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করতে, নিশ্চয় আল্লাহ চিরঞ্জীব, অমর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ(যার অর্থ) মুহাম্মাদ একজন রসূল মাত্র আর কিছু নন। তার পূর্বেও অনেক রসূল চলে গেছেন। অতএব যদি তিনি মারা যান অথবা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পায়ের গোড়ালিতে ভর করে পেছনে ফিরে যাবে? আর যদি কেউ সেরূপ পেছনে ফিরেও যায়, তবে সে কখনও আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ অতি সত্বর কৃতজ্ঞদের পুরস্কার দিবেন। (সূরা আল ইমরানঃ ১৪৪)।আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছিল যেন আবু বকর (রাঃ)-এর তিলাওয়াত করার পূর্বে লোকদের জানাই ছিল না যে, আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন। এখনই যেন লোকেরা আয়াতখানি তার কাছ থেকে পেলেন। প্রতিটি মানুষকেই তখন ঐ আয়াত তিলাওয়াত করতে শোনা গেল।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৪৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ أُمَّ الْعَلاَءِ ـ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ ـ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّهُ اقْتُسِمَ الْمُهَاجِرُونَ قُرْعَةً فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَغُسِّلَ وَكُفِّنَ فِي أَثْوَابِهِ، دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ ". فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللَّهُ فَقَالَ " أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ، وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي ـ وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ مَا يُفْعَلُ بِي ". قَالَتْ فَوَاللَّهِ لاَ أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا.
বর্ণনাকারী আনসারী মহিলা ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বাই’আতকারী উম্মুল ‘আলা (রাঃ)
(মদীনায় হিজরতের পর) লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদের বণ্টন করা হচ্ছিল। তাতে ‘উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ) আমাদের অংশে পড়লেন, আমরা (সাদরে) তাঁকে আমাদের গৃহে স্থান দিলাম। এক সময়ে তিনি সেই রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তাঁর মৃত্যু হল। যখন তাঁর মৃত্যু হল এবং তাঁকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হল, তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবা-সায়িব! আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক! আপনার ব্যাপারে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন?" আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাঁর ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তাঁর মৃত্যু হচ্ছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তাঁর জন্য কল্যাণ কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হবে [১], অথচ আমি আল্লাহর রসূল।" সেই আনসারী মহিলা বলেন, আল্লাহর কসম! অতঃপর এরপর হতে কোন দিন আমি কোন ব্যক্তিকে সম্বন্ধে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না। সা’ঈদ ইবনু ‘উফাইর (রহঃ) লায়স (রহঃ) সূত্রে ঐরূপ বর্ণনা করেন। আর নাফি’ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ‘উকাইল (রহঃ) সূত্রে বলেন। তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হবে? শু’আইব, ‘আম্র ইবনু দীনার ও মা’মার (রহঃ) ‘উকাইল (রহঃ)-কে সমর্থন করেছেন।
(২৬৮৭, ৩৯২৯, ৭০০৩, ৭০০৪, ৭০১৮) (ই.ফা. ১১৭১)[১] অর্থাৎ প্রথম বর্ণনায় রয়েছে ‘ مَا يُفْعَلُ بِلىْ’- আমর সংগে কি ব্যবহার করা হবে ? আর দ্বিতীয় বর্ণনায় রয়েছে ‘مَا يُفْعَلُ بِهِ ’- তাঁর সংগে কি ব্যবহার করা হবে ?
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৪৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ لَمَّا قُتِلَ أَبِي جَعَلْتُ أَكْشِفُ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ أَبْكِي، وَيَنْهَوْنِي عَنْهُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَنْهَانِي، فَجَعَلَتْ عَمَّتِي فَاطِمَةُ تَبْكِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَبْكِينَ أَوْ لاَ تَبْكِينَ، مَا زَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ ". تَابَعَهُ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ الْمُنْكَدِرِ سَمِعَ جَابِرًا ـ رضى الله عنه ـ.
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আব্দুল্লাহ্ (আঃ)
(উহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) শহীদ হয়ে গেলে আমি তাঁর মুখমণ্ডল হতে কাপড় সরিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলাম। লোকজন আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু নবী (ﷺ) আমাকে নিষেধ করেননি। আমার ফুফি ফাতিমা (রাঃ)-ও ক্রন্দন করতে লাগলেন। এতে নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান), তোমরা তাঁকে তুলে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাঁদের ডানা দিয়ে ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন। ইবনু জুরাইয (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় শু'বা (রাঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
২৩/৪. অধ্যায়ঃ
মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের নিকট তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছানো।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৪৫
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَعَى النَّجَاشِيَّ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، خَرَجَ إِلَى الْمُصَلَّى، فَصَفَّ بِهِمْ وَكَبَّرَ أَرْبَعًا.
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
নাজ্জাশী যেদিন মারা যান সেদিনই আল্লাহর রসূল (ﷺ) তাঁর মৃত্যুর খবর দেন এবং জানাযার স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবন্দী করে চার তাকবীর আদায় করলেন।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ১২৪৬
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَخَذَ الرَّايَةَ زَيْدٌ فَأُصِيبَ، ثُمَّ أَخَذَهَا جَعْفَرٌ فَأُصِيبَ، ثُمَّ أَخَذَهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ ـ وَإِنَّ عَيْنَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَتَذْرِفَانِ ـ ثُمَّ أَخَذَهَا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ مِنْ غَيْرِ إِمْرَةٍ فَفُتِحَ لَهُ "
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
আল্লাহর রসূল (ﷺ) (মুতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেন: যায়দ (রাঃ) পতাকা বহন করেছেন অতঃপর শহীদ হয়েছেন। অতঃপর জা'ফর (রাঃ) (পতাকা) হাতে নিয়েছেন, তিনিও শহীদ হন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ) (পতাকা) ধারণ করেন এবং তিনিও শহীদ হন। এ খবর বলছিলেন এবং আল্লাহর রসূল (ﷺ)-এর দু'চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর খালিদ ইবন ওয়ালিদ (রাঃ) পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেন এবং তাঁর দ্বারাই বিজয় লাভ হয়।