চিঠিপত্রের আদান-প্রদান

১৭/১. অধ্যায়ঃ

চিঠিপত্রের উত্তর দেয়া।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১২৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ ذَرِيحٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنِّي لَأَرَى لِجَوَابِ الْكِتَابِ حَقًّا كَرَدِّ السَّلَامِ

বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাঃ)

আমার মতে চিঠিপত্রের উত্তর দেয়া সালামের উত্তর দেয়ার মতই বাধ্যকর। -(ইবনে আবু শায়বাহ, বাযযার, তাবাকাত ইবনে সাদ)

১৭/২. অধ্যায়ঃ

মহিলাদের নিকট চিঠিপত্র লেখা এবং তাদের জবাবী পত্র।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১২৮

حَدَّثَنَا أَبُو رَافِعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَتْنَا عَائِشَةُ بِنْتُ طَلْحَةَ قَالَتْ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ - وَأَنَا فِي حِجْرِهَا - وَكَانَ النَّاسُ يَأْتُونَهَا مِنْ كُلِّ مِصْرٍ، فَكَانَ الشُّيُوخُ يَنْتَابُونِي لِمَكَانِي مِنْهَا، وَكَانَ الشَّبَابُ يَتَأَخَّوْنِي فَيُهْدُونَ إِلَيَّ، وَيَكْتُبُونَ إِلَيَّ مِنَ الْأَمْصَارِ، فَأَقُولُ لِعَائِشَةَ: يَا خَالَةُ، هَذَا كِتَابُ فُلَانٍ وَهَدِيَّتُهُ، فَتَقُولُ لِي عَائِشَةُ: أَيْ بُنَيَّةُ، فَأَجِيبِيهِ وَأَثِيبِيهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَكِ ثَوَابٌ أَعْطَيْتُكِ، فَقَالَتْ: فَتُعْطِينِي

বর্ণনাকারী আয়েশা বিনতে তালহা (র)

আমি আয়েশা (রাঃ)-র তত্ত্বাবধানাধীন থাকাকালে বিভিন্ন শহর থেকে লোকজন তার কাছে আসতো। তার সঙ্গে আমার সম্পর্কের কারণে প্রবীণগণ আমাকে কন্যা বলে সম্বোধন করতো এবং যুবকরা আমাকে বোন বলতো। তারা আমাকে উপহারাদিও দিতো এবং বিভিন্ন শহর থেকে আমাকে চিঠিপত্রও লিখতো। আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বলতাম, হে খালা! এটা অমুকের চিঠি এবং তার উপহার। আয়েশা (রাঃ) আমাকে বলতেন, হে বেটি! তার চিঠির উত্তর দাও এবং তাকেও উপহারাদি পাঠাও। তোমার কাছে দেয়ার মত কিছু না থাকলে আমি তোমাকে দিবো। আয়েশা (র) বলেন, অতএব আয়েশা (রাঃ) আমাকে সেই ব্যবস্থা করে দিতেন।

১৭/৩. অধ্যায়ঃ

চিঠিপত্রের শিরোনাম কিভাবে লিখতে হবে।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১২৯

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَتَبَ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ يُبَايِعُهُ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِعَبْدِ الْمَلِكِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: سَلَامٌ عَلَيْكَ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، وَأُقِرُّ لَكَ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ عَلَى سُنَّةِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ، فِيمَا اسْتَطَعْتُ

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনে দীনার (র)

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নিকট বায়আত হওয়ার জন্য তাকে পত্র লিখেন। তিনি তাকে লিখেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আবদুল্লাহ ইবনে উমারের পক্ষ থেকে আমীরুল মুমিনীন আবদুল মালেককে। আপনাকে সালাম। আমি আপনার নিকট আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই এবং আমি যথাসাধ্য আপনার (নির্দেশ) শোনা ও মানার স্বীকারোক্তি করছি—আল্লাহর বিধান ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত মোতাবেক। -(বুখারী, মুয়াত্তা মালিক)

১৭/৪. অধ্যায়ঃ

অতঃপর।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১৩০

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ: أَرْسَلَنِي أَبِي إِلَى ابْنِ عُمَرَ، فَرَأَيْتُهُ يَكْتُبُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، أَمَّا بَعْدُ

বর্ণনাকারী যায়েদ ইবনে আসলাম (র)

“আমার পিতা আমাকে (আমার দাদা) ইবনে উমার (রাঃ)-র নিকট পাঠান। আমি তাকে লিখতে দেখলাম, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। অতঃপর....। -(বুখারী, মুয়াত্তা মালিক)

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১৩১

حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ: رَأَيْتُ رَسَائِلَ مِنْ رَسَائِلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كُلَّمَا انْقَضَتْ قِصَّةٌ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ»

বর্ণনাকারী হিশাম ইবনে উরওয়া (র)

আমি নবী (সাঃ)-এর কতগুলো চিঠি দেখলাম। যেখানেই কোন বক্তব্য শেষ হয়েছে সেখানে তিনি বলেছেনঃ অতঃপর।

১৭/৫. অধ্যায়ঃ

চিঠিপত্রের শিরোনামে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১৩২

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ كُبَرَاءِ آلِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ كَتَبَ بِهَذِهِ الرِّسَالَةِ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِعَبْدِ اللَّهِ مُعَاوِيَةَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ، مِنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، سَلَامٌ عَلَيْكَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، أَمَّا بَعْدُ

বর্ণনাকারী যায়েদ (রাঃ)-র পরিবারের প্রবীণদের

যায়েদ ইবনে সাবিত (র) নিম্নোক্ত চিঠি লিখেনঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। যায়েদ ইবনে সাবিতের পক্ষ থেকে আমীরুল মুমিনীন আল্লাহর বান্দা মুআবিয়াকে। আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে সালাম এবং আল্লাহর রহমাত। আমি আপনার সমীপে আল্লাহর প্রশংসা করি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। অতঃপর..... ।(বাযযার)

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ الْجُرَيْرِيُّ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ الْحَسَنَ عَنْ قِرَاءَةِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ؟ قَالَ: تِلْكَ صُدُورُ الرَّسَائِلِ---[قال الشيخ الألباني] : صحيح الإسناد عن الحسن وهو البصري

বর্ণনাকারী আবু মাসউদ আল-জুরায়রী (র)

এক ব্যক্তি হাসান বসরী (র)-এর নিকট বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, তা চিঠিপত্রের শিরোনাম।

১৭/৬. অধ্যায়ঃ

চিঠির সূচনায় যা লিখবে।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১৩৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ قَالَ: كَانَتْ لِابْنِ عُمَرَ حَاجَةٌ إِلَى مُعَاوِيَةَ، فَأَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَيْهِ، فَقَالُوا: ابْدَأْ بِهِ، فَلَمْ يَزَالُوا بِهِ حَتَّى كَتَبَ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، إِلَى مُعَاوِيَةَ

বর্ণনাকারী নাফে (র)

মুআবিয়া (রাঃ)-র নিকট ইবনে উমার (রাঃ)-র একটি প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি তাকে চিঠি লিখতে মনস্থ করলেন। লোকজন বললো, শুরুতে তার নাম লিখুন এবং তারা একথাই বলতে থাকলো। তিনি লিখেন, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, মুআবিয়াকে।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১৩৫

وَعَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ: كَتَبْتُ لِابْنِ عُمَرَ، فَقَالَ: اكْتُبْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، أَمَّا بَعْدُ: إِلَى فُلَانٍ

বর্ণনাকারী আনাস ইবনে সীরীন (র)

আমি ইবনে উমার (রাঃ)-র চিঠি লিখে দিতাম। তিনিবলেন, তুমি লিখোঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, অতঃপর অমুককে।

আদাবুল মুফরাদ

হাদিস নং ১১৩৬

وَعَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ: كَتَبَ رَجُلٌ بَيْنَ يَدَيِ ابْنِ عُمَرَ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، لِفُلَانٍ، فَنَهَاهُ ابْنُ عُمَرَ وَقَالَ: قُلْ: بِسْمِ اللَّهِ، هُوَ لَهُ

বর্ণনাকারী আনাস ইবনে সীরীন (র)

এক ব্যক্তি ইবনে উমার (রাঃ)-র সামনে চিঠি লিখলো,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, অমুককে। ইবনে উমার (রাঃ) তাকে এভাবে লিখতে নিষেধ করেন এবং বলেন, বলো, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, এটি তাকে লিখিত।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18