অপরাধ ও তার শাস্তি
৪০/১. অধ্যায়ঃ
মুরতাদ সম্পর্কে বিধান
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫১
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ عَلِيًّا، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَحْرَقَ نَاسًا ارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلاَمِ فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَمْ أَكُنْ لأَحْرِقَهُمْ بِالنَّارِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ " . وَكُنْتُ قَاتِلَهُمْ بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ " . فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ وَيْحَ ابْنَ عَبَّاسٍ .
বর্ণনাকারী ‘ইকরিমাহ (রাঃ)
আলী (রাঃ) কিছু সংখ্যক মুরতাদকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) তা জানতে পেরে বলেন, “আমি কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণী অনুসরণ করে এদের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাউকে আল্লাহর শাস্তির উপকরণ দ্বারা শাস্তি দিও না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বক্তব্য মোতাবেক এদের মৃত্যুদণ্ড দিতাম। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের ধর্ম (ইসলাম) পরিবর্তন করে তোমরা তাকে হত্যা করো।” ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদিস শুনে আলী (রাঃ) বলেন, “আহ! ইবনে আব্বাস (রাঃ) সত্য বলেছেন।”
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫২
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ دَمُ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ الثَّيِّبُ الزَّانِي وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল, তাকে হত্যা করা বৈধ নয় যদি না সে তিনটি অপরাধের কোন একটি করে থাকেঃ (১) বিবাহিত ব্যক্তি যেনা করলে; (২) কেউ কাউকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে হত্যা এবং (৩) সমাজের ঐক্য বিনষ্টকারী মুরতাদ।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ رَجُلٌ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانٍ فَإِنَّهُ يُرْجَمُ وَرَجُلٌ خَرَجَ مُحَارِبًا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِنَّهُ يُقْتَلُ أَوْ يُصْلَبُ أَوْ يُنْفَى مِنَ الأَرْضِ أَوْ يَقْتُلُ نَفْسًا فَيُقْتَلُ بِهَا " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম সাক্ষ্য দেয়- আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল, তাকে হত্যা করা বৈধ নয় তিনটি অপরাধের যে কোন একটিতে লিপ্ত না হলেঃ (১) বিবাহিত লোক ব্যভিচার করলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করবে, (২) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে অথবা ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলানো হবে অথবা তাকে দেশ হতে নির্বাসন দেয়া হবে, (৩) আর কাউকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে কিসাসসরূপ তাকেও হত্যা করা হবে।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - قَالَ مُسَدَّدٌ - حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بُرْدَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعِي رَجُلاَنِ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ أَحَدُهُمَا عَنْ يَمِينِي وَالآخَرُ عَنْ يَسَارِي فَكِلاَهُمَا سَأَلَ الْعَمَلَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاكِتٌ فَقَالَ " مَا تَقُولُ يَا أَبَا مُوسَى " . أَوْ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " . قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَطْلَعَانِي عَلَى مَا فِي أَنْفُسِهِمَا وَمَا شَعَرْتُ أَنَّهُمَا يَطْلُبَانِ الْعَمَلَ . قَالَ وَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى سِوَاكِهِ تَحْتَ شَفَتِهِ قَلَصَتْ قَالَ " لَنْ نَسْتَعْمِلَ - أَوْ لاَ نَسْتَعْمِلُ - عَلَى عَمَلِنَا مَنْ أَرَادَهُ وَلَكِنِ اذْهَبْ أَنْتَ يَا أَبَا مُوسَى أَوْ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " . فَبَعَثَهُ عَلَى الْيَمَنِ ثُمَّ أَتْبَعَهُ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَالَ فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ مُعَاذٌ قَالَ انْزِلْ . وَأَلْقَى لَهُ وِسَادَةً فَإِذَا رَجُلٌ عِنْدَهُ مُوثَقٌ قَالَ مَا هَذَا قَالَ هَذَا كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ ثُمَّ رَاجَعَ دِينَهُ دِينَ السُّوءِ . قَالَ لاَ أَجْلِسُ حَتَّى يُقْتَلَ قَضَاءُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ . قَالَ اجْلِسْ نَعَمْ . قَالَ لاَ أَجْلِسُ حَتَّى يُقْتَلَ قَضَاءُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِهِ فَقُتِلَ ثُمَّ تَذَاكَرَا قِيَامَ اللَّيْلِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ أَمَّا أَنَا فَأَنَامُ وَأَقُومُ - أَوْ أَقُومُ وَأَنَامُ - وَأَرْجُو فِي نَوْمَتِي مَا أَرْجُو فِي قَوْمَتِي .
বর্ণনাকারী আবূ বুরদাহ (রহঃ)
আবু মূসা আশআরি (রাঃ) গোত্রের দুজন লোককে সঙ্গে নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট যাই। তাদের একজন আমার ডানপাশে এবং অপরজন বামপাশে ছিল। তারা উভয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট চাকুরি (সরকারি পদ) চাইল। তিনি নীরব রইলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আবু মূসা অথবা আবদুল্লাহ ইবন কাইস! তুমি কি বলো? আমি বললাম, সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! এরা এদের মনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেনি এবং আমি জানতাম না যে, তারা চাকুরি চাইবে।আবু মূসা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর ঠোঁটের নীচে মিসওয়াকের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তা যেন ফুলে আছে। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি সরকারি পদে নিয়োগের প্রার্থনা করে আমরা তাকে কখনো তাতে নিয়োগ করি না।তুমি বরং চলে যাও হে আবু মূসা অথবা আবদুল্লাহ ইবন কাইস! অতঃপর তিনি তাকে ইয়ামানে পাঠিয়ে দেন এবং তার পরে মুয়ায ইবন জাবাল (রাঃ)-কে পাঠালেন।বর্ণনাকারী বলেন, মুয়ায (রাঃ) তার নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, নেমে আসুন এবং তাঁর জন্য একটি বালিশ পেতে দিলেন। তার নিকট ছিল একটা বাঁধা লোক। তিনি প্রশ্ন করলেন, লোকটি কে? তিনি বললেন, লোকটি ছিল ইহুদি, পরে ইসলাম গ্রহণ করে। পরে আবারো সে তার খারাপ ধর্মে ফিরে যায়।মুয়ায (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা মোতাবেক তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি বসবো না। হাঁ আপনি বসুন। মুয়ায (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা মোতাবেক তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমিও বসবো না। একথা তিনি তিনবার বলেন। অতঃপর তার হুকুমে তাকে হত্যা করা হলো।পরে তারা দুজন রাত জেগে ইবাদত করা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের একজন মুয়ায ইবন জাবাল (রাঃ) বলেন, আমিতো রাতে ঘুমাই ও জেগে ইবাদত করি, অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদত করি, ঘুমাই এবং ইবাদতের মধ্যে আমি যা কামনা করি, ঘুমের মধ্যেও তাই কামনা করি।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫৫
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا الْحِمَّانِيُّ، - يَعْنِي عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، وَبُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَدِمَ عَلَىَّ مُعَاذٌ وَأَنَا بِالْيَمَنِ، وَرَجُلٌ، كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ فَارْتَدَّ عَنِ الإِسْلاَمِ، فَلَمَّا قَدِمَ مُعَاذٌ قَالَ لاَ أَنْزِلُ عَنْ دَابَّتِي حَتَّى يُقْتَلَ . فَقُتِلَ . قَالَ أَحَدُهُمَا وَكَانَ قَدِ اسْتُتِيبَ قَبْلَ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)
আমি ইয়ামানে অবস্থানকালে মুয়ায (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। একটি লোক ইহুদি ছিল, সে মুসলিম হয়ে আবার ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়। মুয়ায (রাঃ) এসে বলেন, একে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি আমার জন্তুযান হতে নামবো না। অতঃপর তাকে হত্যা করা হলো। তালহা ও বুরাইদা উভয়ের একজন বলেন, হত্যা করার পূর্বে তাকে ইসলামে ফিরে আসার আহবান জানানো হয়েছিল।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَأُتِيَ أَبُو مُوسَى بِرَجُلٍ قَدِ ارْتَدَّ عَنِ الإِسْلاَمِ، فَدَعَاهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً أَوْ قَرِيبًا مِنْهَا فَجَاءَ مُعَاذٌ فَدَعَاهُ فَأَبَى فَضُرِبَ عُنُقُهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ لَمْ يَذْكُرْ الاِسْتِتَابَةَ وَرَوَاهُ ابْنُ فُضَيْلٍ عَنِ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مُوسَى وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الاِسْتِتَابَةَ .
বর্ণনাকারী একই ঘটনা প্রসঙ্গে আবূ বুরদাহ (রহঃ)
আবু মুসা (রাঃ) নিকট ইসলাম ত্যাগী একটি লোককে নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে বিশ দিন অথবা এর কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ইসলামে ফিরে আসার আহবান জানান। অতঃপর মুয়ায (রাঃ) এসেও তাকে আহবান জানালেন; কিন্তু সে অস্বীকার করলো। সুতরাং তাকে হত্যা করা হলো। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আবু বুরদা হতে আবদুল মালিক ইবন উমাইরের বর্ণিত হাদীসে ‘ইসলামে ফিরে আসার’ কথা উল্লেখ নেই। আর ইবন ফুযাইল শাইবানীর সূত্রে সাঈদ ইবন আবু বুরদা হতে তার পিতা আবু মুসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাতেও ‘ইসলামে ফিরে আসার’ জন্য আহবান করার কথা উল্লেখ নেই।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫৭
حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَلَمْ يَنْزِلْ حَتَّى ضُرِبَ عُنُقُهُ وَمَا اسْتَتَابَهُ .
বর্ণনাকারী ক্বাসিম (রহঃ)
কাসিম (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত। তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত তিনি (মু’আয) অবতরণ করেননি। আর তাকে ইসলামে ফিরে আসার আহ্বানও করা হয়নি।
[৪৩৫৬] এর পূর্বেরটি দেখুন
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ يَكْتُبُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَزَلَّهُ الشَّيْطَانُ فَلَحِقَ بِالْكُفَّارِ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقْتَلَ يَوْمَ الْفَتْحِ فَاسْتَجَارَ لَهُ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَأَجَارَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু সাদ ইবনু আবু সারহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওহী লেখকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে এবং সে কাফিরদের সঙ্গে মিশে যায়। মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। কিন্তু উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) তার জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৫৯
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ زَعَمَ السُّدِّيُّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ اخْتَبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ عِنْدَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَجَاءَ بِهِ حَتَّى أَوْقَفَهُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْ عَبْدَ اللَّهِ . فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْبَى فَبَايَعَهُ بَعْدَ ثَلاَثٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ " أَمَا كَانَ فِيكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ يَقُومُ إِلَى هَذَا حَيْثُ رَآنِي كَفَفْتُ يَدِي عَنْ بَيْعَتِهِ فَيَقْتُلَهُ " . فَقَالُوا مَا نَدْرِي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا فِي نَفْسِكَ أَلاَّ أَوْمَأْتَ إِلَيْنَا بِعَيْنِكَ قَالَ " إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لِنَبِيٍّ أَنْ تَكُونَ لَهُ خَائِنَةُ الأَعْيُنِ " .
বর্ণনাকারী সা’দ (রাঃ)
মক্কা বিজয়ের দিন আবদুল্লাহ ইবনু সা’দ ইবনু আবু সারহ উসমান ইবন আফফান (রাঃ) এর নিকট আত্মগোপন করেন। তিনি তাকে নিয়ে এসে নবী (ﷺ) এর সামনে দাঁড় করিয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবদুল্লাহকে বাইয়াত করুন। তিনি (ﷺ) মাথা তুলে তিনবার তার দিকে তাকান এবং প্রতিবারই বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনবারের পর তাকে বাইয়াত করেন।অতঃপর তিনি সাহাবীদের দিকে ফিরে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কি সঠিক নির্দেশ উপলব্ধি করার মত কেউ ছিল না, যে এর সামনে গিয়ে দাঁড়াত, আর যখন দেখত আমি তার বাইয়াত গ্রহণ না করার জন্য হাত গুটিয়ে নিচ্ছি, তখন সে তাকে হত্যা করতো?সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার মনের ইচ্ছা উপলব্ধি করতে পারিনি। আপনি কেন আমাদের চোখ দিয়ে ইশারা করলেন না? তিনি বললেনঃ কোন নবীর পক্ষে চোখের খেয়ানতকারী হওয়া শোভা পায় না।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪৩৬০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أَبَقَ الْعَبْدُ إِلَى الشِّرْكِ فَقَدْ حَلَّ دَمُهُ " .
বর্ণনাকারী জাবীর (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ ক্রীতদাস পালিয়ে গিয়ে যদি মুশরিক হয়ে যায়, তবে তাকে হত্যা করা বৈধ।
দুর্বল, আর সহীহ হলো এ শব্দেঃ (فقد برئت منه الذمة) নাসায়ী।[৪৩৫৯] মুসলিম, আহমাদ