সালাত (নামাজ)
২/১. অধ্যায়ঃ
সালাত ফরজ হওয়ার বর্ণনা
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلاَ يُفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ " . قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُنَّ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّدَقَةَ . قَالَ فَهَلْ عَلَىَّ غَيْرُهَا قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لاَ أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلاَ أَنْقُصُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ " .
বর্ণনাকারী আবূ সুহাইল ইবনু মালিক থেকে তার পিতার
তিনি তালহা ইবন উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, উষ্কখুস্ক চুল বিশিষ্ট নাজদের জনৈক অধিবাসী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসল। তখন তার মুখ হতে গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু কথাগুলো বোঝা যাচ্ছিল না। এমতাবস্থায় সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ (ইসলাম হচ্ছে) দিবা-রাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। লোকটি বললো, এছাড়া আরও (সালাত) আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে তুমি নফল (সালাত) আদায় করতে পার।বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উদ্দেশে রমজান মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ করলেন। লোকটি বলল, আমার উপর এছাড়া আরও (সিয়াম) আছে কি? তিনি বললেনঃ না, তবে তুমি নফল (সিয়াম) পালন করতে পার।বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে যাকাতের কথাও বললেন। লোকটি বলল, আমাকে এছাড়াও কোন দান করতে হবে কি? তিনি বললেনঃ না, তবে নফল হিসেবে (দান) করতে পার।অতঃপর লোকটি এই বলতে বলতে চলে যেতে লাগল যে, আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়ে বেশিও করব না কমও করব না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন লোকটি সত্য বলে থাকলে অবশ্যই সফলকাম হয়ে গেল।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯২
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، نَافِعِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ " .
বর্ণনাকারী আবূ সুহাইল নাফি‘ ইবনু মালিক ইবনু আবূ ‘আমির
একই সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত আছে। তাতে রয়েছেঃ (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন) তার পিতার শপথ! সে অবশ্যই সফলকাম হবে যদি সত্য বলে থাকে। তার পিতার শপথ! সে সত্য বলে থাকলে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
শাযঃ “তার পিতার শপথ” কথাটি অতিরিক্ত যোগে।[১] ‘তার পিতার শপথ! সে অবশ্যই সফলকাম হবে’- এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগের কথা। হয়ত তৎকালীন আরবের প্রথানুসারে এরূপ বলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নামে শপথ করা নিষেধ করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোর নামে কসম করল সে শিরক করল”। (হাদীস)[৩৯২] মুসলিম (অধ্যায়ঃ ঈমান, অনুঃ ইসলামরে অন্যতম স্তম্ভ সলাত সম্পর্কে বর্ণনা), ইবনু খুযাইমাহ (অনুঃ পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফরয, হাঃ ৩০৬), বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ (২/৪৬৬), সকলেই আবূ সুহাইল সূত্রে।
২/২. অধ্যায়ঃ
সালাতের ওয়াক্তসমূহের বর্ণনা
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯৩
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ فُلاَنِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ - عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّنِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ عِنْدَ الْبَيْتِ مَرَّتَيْنِ فَصَلَّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَتْ قَدْرَ الشِّرَاكِ وَصَلَّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ وَصَلَّى بِيَ - يَعْنِي الْمَغْرِبَ - حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ وَصَلَّى بِيَ الْفَجْرَ حِينَ حَرُمَ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ عَلَى الصَّائِمِ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ صَلَّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ وَصَلَّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَيْهِ وَصَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَصَلَّى بِيَ الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَىَّ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَذَا وَقْتُ الأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ وَالْوَقْتُ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: বাইতুল্লাহর নিকট জিবরীল (আঃ) দুবার আমার সালাতে ইমামতি করেছেন।(১) প্রথমবার সূর্য (পশ্চিম আকাশে) ঢলে যাওয়ার পর আমাকে নিয়ে তিনি যুহর সালাত আদায় করলেন। তখন (পূর্ব দিকে) জুতার ফিতার সমান ছায়া দেখা গিয়েছিল।(২) অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে আসর সালাত আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া তার সমান হয়।(৩) এরপর আমাকে নিয়ে তিনি মাগরিব সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময় হয়।(৪) তিনি আমাকে নিয়ে ইশা সালাত আদায় করলেন যখন সন্ধ্যার আভা মিলিয়ে গিয়েছিল এবং ফজর সালাত আদায় করলেন যখন রোজাদারের জন্য খানা ও পানাহার হারাম হয়ে যায়।পরদিন তিনি আমাকে নিয়ে যুহর সালাত আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া তার সমান হয় এবং আসর সালাত আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া তার দ্বিগুণ হয়। মাগরিব সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময় হয় এবং ইশা সালাত আদায় করলেন রাতের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এবং ফজর সালাত আদায় করলেন, তখন চারিপাশ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।অতঃপর জিবরীল (আঃ) আমার দিকে ফিরে বললেন, হে মুহাম্মদ (ﷺ)! এটাই হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী নবীদের সালাতের ওয়াক্ত এবং ওয়াক্তসমূহ এ দু সময়ের মাঝেই নিহিত।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ قَاعِدًا عَلَى الْمِنْبَرِ فَأَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَخْبَرَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِوَقْتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ . فَقَالَ عُرْوَةُ سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " نَزَلَ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَنِي بِوَقْتِ الصَّلاَةِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ " . يَحْسُبُ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حِينَ يَشْتَدُّ الْحَرُّ وَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ قَبْلَ أَنْ تَدْخُلَهَا الصُّفْرَةُ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ مِنَ الصَّلاَةِ فَيَأْتِي ذَا الْحُلَيْفَةِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ حِينَ تَسْقُطُ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ حِينَ يَسْوَدُّ الأُفُقُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّاسُ وَصَلَّى الصُّبْحَ مَرَّةً بِغَلَسٍ ثُمَّ صَلَّى مَرَّةً أُخْرَى فَأَسْفَرَ بِهَا ثُمَّ كَانَتْ صَلاَتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ التَّغْلِيسَ حَتَّى مَاتَ وَلَمْ يَعُدْ إِلَى أَنْ يُسْفِرَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ مَعْمَرٌ وَمَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُهُمْ لَمْ يَذْكُرُوا الْوَقْتَ الَّذِي صَلَّى فِيهِ وَلَمْ يُفَسِّرُوهُ وَكَذَلِكَ أَيْضًا رَوَاهُ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي مَرْزُوقٍ عَنْ عُرْوَةَ نَحْوَ رِوَايَةِ مَعْمَرٍ وَأَصْحَابِهِ إِلاَّ أَنَّ حَبِيبًا لَمْ يَذْكُرْ بَشِيرًا وَرَوَى وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الْمَغْرِبِ قَالَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ - يَعْنِي مِنَ الْغَدِ - وَقْتًا وَاحِدًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ يَعْنِي مِنَ الْغَدِ وَقْتًا وَاحِدًا وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ مِنْ حَدِيثِ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী উসামাহ ইবনু যায়িদ আল-লাইসী
ইবনু শিহাব (রহঃ) তাঁকে অবহিত করেছেন যে, একদা উমর ইবনু আবদুল আজিজ (রহঃ) মিম্বারের উপর বসে (কর্মব্যস্ত) ছিলেন। ফলে তিনি আসরের সালাত আদায়ে কিছুটা বিলম্ব করলেন। তখন উরওয়া ইবনুয যুবাইর (রহঃ) তাঁকে বললেন, আপনি জানেন না, জিবরীল (আঃ) মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সালাতের সময় সম্পর্কে অবহিত করেছেন? উমর (রহঃ) বললেন, আপনি যা বলছেন, বুঝে শুনে বলুন। উরওয়া বললেন, আমি বশীর ইবনু আবু মাসউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ জিবরীল (আঃ) অবতরণ করে আমাকে সালাতের সময় সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি, অতঃপর আবার তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছি। এভাবে তিনি আঙ্গুলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত গণনা করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথেই যুহরের সালাত আদায় করতে দেখেছি। প্রচণ্ড গরমের দিনে তিনি কখনো দেরিতে ও আদায় করেছেন। আমি তাঁকে ঐ সময় আসরের সালাত আদায় করতে দেখেছি যখন সূর্য উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় থাকত, তখনও তাতে হলুদ রং আসেনি। কোন ব্যক্তি আসরের সালাত আদায় করে সূর্য ডোবার পূর্বেই যুলহুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছে যেত। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করতেন সূর্য ডোবার পরপরই, আর ইশার সালাত আদায় করতেন যখন (পশ্চিম আকাশ) কালো রঙে আচ্ছাদিত হত, অবশ্য তিনি কখনো লোকজনের একত্র হওয়ার আশায় তা বিলম্বেও আদায় করতেন। একবার তিনি ফজরের সালাত অন্ধকারে আদায় করেন, অতঃপর পরের বার আদায় করেন ভোরের আলো প্রকাশ হওয়ার পর। পরবর্তীতে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদা ফজরের সালাত অন্ধকারেই আদায় করেন, পুনরায় আর কখনোই তিনি ভোরের আলো প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষা করেননি। হাসান। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদিসটি যুহরী (রহঃ) সূত্রে মাআমার, মালিক, ইবনু উয়াইনাহ, শুআইব ইবনু আবু হামজাহ ও লাইস ইবনু সাদ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা সালাত আদায়ের সময় উল্লেখ করেননি, এবং তার কোন ব্যাখ্যাও দেননি। وَرَوَى وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم وَقْتَ الْمَغْرِبِ قَالَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ - يَعْنِي مِنَ الْغَدِ - وَقْتًا وَاحِدًا . - صحيح . ওয়াহাব ইবনু কায়সান (রহঃ) জাবির (রাঃ) হতে নবী (ﷺ)-এর সূত্রে মাগরিবের সময় সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। পরের দিন সূর্যাস্তের পরে একই সময়ে জিবরীল (আঃ) মাগরিবের সালাত আদায় করতে আসলেন। সহীহ। قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم قَالَ ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ يَعْنِي مِنَ الْغَدِ وَقْتًا وَاحِدًا. - حسن . আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতেও নবী (ﷺ)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আমাকে নিয়ে জিবরীল (আঃ) পরের দিন একই সময়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا بَدْرُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ سَائِلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ شَيْئًا حَتَّى أَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ لِلْفَجْرِ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ فَصَلَّى حِينَ كَانَ الرَّجُلُ لاَ يَعْرِفُ وَجْهَ صَاحِبِهِ أَوْ إِنَّ الرَّجُلَ لاَ يَعْرِفُ مَنْ إِلَى جَنْبِهِ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ حَتَّى قَالَ الْقَائِلُ انْتَصَفَ النَّهَارُ . وَهُوَ أَعْلَمُ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُرْتَفِعَةٌ وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ صَلَّى الْفَجْرَ وَانْصَرَفَ فَقُلْنَا أَطَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأَقَامَ الظُّهْرَ فِي وَقْتِ الْعَصْرِ الَّذِي كَانَ قَبْلَهُ وَصَلَّى الْعَصْرَ وَقَدِ اصْفَرَّتِ الشَّمْسُ - أَوْ قَالَ أَمْسَى - وَصَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ وَصَلَّى الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ ثُمَّ قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ الْوَقْتُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَغْرِبِ بِنَحْوِ هَذَا قَالَ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ قَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى شَطْرِهِ . وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি তার কোন জবাব না দিয়ে বিলালকে (ইকামতের) নির্দেশ দিলেন। বিলাল সুবহে সাদিক হওয়ার পরপরই ফজর সালাতের জন্য ইকামত দিলেন। তারপর তিনি এমন সময় ফজর সালাত আদায় করলেন যখন (অন্ধকারের কারণে) একজন আরেকজনকে চিনতে পারত না অথবা একজন তার পার্শ্ববর্তী লোককে চিনতে পারত না। অতঃপর সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়লে তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলে বিলাল যুহর সালাতের জন্য ইকামত দিলেন। তখন কেউ বলল, দুপুর হয়েছে। অথচ (সূর্য ঢলে পড়া সম্পর্কে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিক জ্ঞাত। অতঃপর তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলে বিলাল আসর সালাতের জন্য ইকামত দিলেন। তখন সূর্য সাদা ও উঁচুতে ছিল। অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে তিনি বিলালকে মাগরিব সালাতের জন্য ইকামতের নির্দেশ দিলে বিলাল ইকামত দিলেন। অতঃপর পশ্চিমাকাশের লাল আভা (শাফাক) দূরীভূত হলে তিনি বিলালকে ইশা সালাত আদায়ের জন্য ইকামত দেয়ার নির্দেশ দিলে বিলাল ইকামত দিলেন। পরের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় শেষে প্রত্যাবর্তন করলে আমরা বললাম, সূর্য উদয় হয়েছে কি? (এ দিন) তিনি যুহর সালাত আদায় করলেন পূর্বের দিনের আসরের ওয়াক্তে। তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন যখন সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করে। তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন আকাশের লালিমা (শাফাক) দূরীভূত হওয়ার পূর্বে। আর তিনি ইশার সালাত আদায় করলেন রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর। অতঃপর বললেন, সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? এই দু’ সময়সীমার মধ্যবর্তী সময়ই হচ্ছে সালাতের ওয়াক্ত (অর্থাৎ পূর্বের দিন ও পরের দিন যে যে সময়ে সালাত আদায় করা হয়েছে তার মাঝামাঝি সময়)। সহীহ: মুসলিম। قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم فِي الْمَغْرِبِ بِنَحْوِ هَذَا قَالَ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ قَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى شَطْرِهِ .وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم . - صحيح . ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর সূত্রে মাগরিব (সালাতের ওয়াক্ত) সম্পর্কে এরূপই বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, কারো মতে তিনি (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করেছেন রাতের এক তৃতীয়াংশে, আবার কারো মতে অর্ধরাতে। সহীহ
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯৬
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعَ أَبَا أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " وَقْتُ الظُّهْرِ مَا لَمْ تَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَسْقُطْ فَوْرُ الشَّفَقِ وَوَقْتُ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আসরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যুহরের সময় অবশিষ্ট থাকে। সূর্য হলুদ রং ধারণ না করা পর্যন্ত আসরের সময় থাকে। মাগরিবের সময় অবশিষ্ট থাকে (পশ্চিমাকাশে) লাল রংয়ের আভা বিলোপ না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সময় অবশিষ্ট থাকে অর্ধরাত পর্যন্ত। আর ফজরের নামাজের সময় অবশিষ্ট থাকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।
২/৩. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ)-এর সালাতের ওয়াক্ত ও তাঁর সালাত আদায় করার নিয়ম
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯৭
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - قَالَ - سَأَلْنَا جَابِرًا عَنْ وَقْتِ، صَلاَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا كَثُرَ النَّاسُ عَجَّلَ وَإِذَا قَلُّوا أَخَّرَ وَالصُّبْحَ بِغَلَسٍ .
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু "আমর ইবনু হাসান ইবনু "আলী ইবনু আবূ ত্বালিব
আমরা জাবির (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি যুহরের সালাত আদায় করতেন ঠিক দ্বিপ্রহরের পরপরই। আর আসরের সালাত আদায় করতেন ঐ সময় যখন সূর্য জীবন্ত থাকত। মাগরিবের সালাত আদায় করতেন সূর্যাস্তের পরপরই। লোকজন জড়ো হলে ইশার সালাত তাড়াতাড়ি (প্রথম সময়ে) আদায় করতেন, আর লোকজনের উপস্থিতি কম হলে বিলম্বে আদায় করতেন। তিনি ফজরের সালাত অন্ধকারে আদায় করতেন।
সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯৮
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعَصْرَ وَإِنَّ أَحَدَنَا لَيَذْهَبُ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَيَرْجِعُ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَنَسِيتُ الْمَغْرِبَ وَكَانَ لاَ يُبَالِي تَأْخِيرَ الْعِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ . قَالَ ثُمَّ قَالَ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ . قَالَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يُصَلِّي الصُّبْحَ وَمَا يَعْرِفُ أَحَدُنَا جَلِيسَهُ الَّذِي كَانَ يَعْرِفُهُ وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا مِنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ .
বর্ণনাকারী আবূ বারযা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লে যুহরের সালাত আদায় করতেন, আসরের সালাত আদায় করতেন ঐ সময় যখন আমাদের কেউ মদিনার শেষ প্রান্তে গিয়ে ফিরে আসতে পারত এবং সূর্যের প্রখরতা বিদ্যমান থাকত। মাগরিবের কথা আমি ভুলে গেছি। ইশার সালাত রাতের তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতে তিনি পরোয়া করতেন না, কখনো বা অর্ধরাত পর্যন্ত। ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথাবার্তা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। তিনি ফজরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যখন আমাদের কেউ তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত না। ফজরের সালাতে তিনি ষাট আয়াত থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।
সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।
২/৪. অধ্যায়ঃ
যুহরের সালাতের ওয়াক্ত
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৩৯৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي الظُّهْرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَآخُذُ قَبْضَةً مِنَ الْحَصَى لِتَبْرُدَ فِي كَفِّي أَضَعُهَا لِجَبْهَتِي أَسْجُدُ عَلَيْهَا لِشِدَّةِ الْحَرِّ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যুহরের সালাত আদায় করতাম। আমি এক মুঠো পাথর কণা তুলে নিতাম, যেন সেগুলো আমার হাতে ঠান্ডা হয়ে যায়। আমি সিজদার সময় প্রচণ্ড গরমের কারণে সেগুলো কপালের নিচে রেখে সেগুলোর উপর সিজদা করতাম।
সুনানে আবু দাউদ
হাদিস নং ৪০০
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَتْ قَدْرُ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّيْفِ ثَلاَثَةَ أَقْدَامٍ إِلَى خَمْسَةِ أَقْدَامٍ وَفِي الشِّتَاءِ خَمْسَةَ أَقْدَامٍ إِلَى سَبْعَةِ أَقْدَامٍ .
বর্ণনাকারী আসওয়াদ
আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, গ্রীষ্মকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (যুহর) সালাত আদায়ের সময় ছিল (ছায়ার) তিন কদম থেকে পাঁচ কদম পর্যন্ত। আর শীতকালে ছিল পাঁচ কদম থেকে সাত কদম পর্যন্ত।