সালাতে সিজদার দোয়া: ১৫+ সহীহ দোয়া, আরবির অর্থ ও আমলের নিয়ম

আব্দুর রহমান
আব্দুর রহমান
১২ জুল, ২০২৬সালাত

নামাজ বা সালাতের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো সিজদা। সিজদা হচ্ছে আল্লাহর সামনে বান্দার পরম আত্মসমর্পণ ও চরম বিনয়ের বহিঃপ্রকাশ। এই অবস্থায় বান্দা তার শরীরের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ (কপাল ও নাক) মাটির সাথে লুটিয়ে দিয়ে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের সিজদায় বিভিন্ন ধরনের তাসবিহ ও অর্থপূর্ণ দোয়া পাঠ করতেন, যা বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এই নিবন্ধে সালাতে সিজদার দোয়া, এগুলোর সঠিক উচ্চারণ, অর্থ, ফজিলত এবং আমলের সঠিক নিয়মাবলী বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।

সিজদার গুরুত্ব ও দোয়া কবুলের শর্তাবলী

ইসলামী শরিয়তে সিজদার সময়কে দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও উপযুক্ত সময় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় যখন সে সিজদারত থাকে। অতএব তোমরা (সিজদায়) বেশি বেশি দোয়া করো" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৯)। তবে মনে রাখতে হবে, দোয়া কবুলের জন্য মৌলিক কিছু শর্ত রয়েছে; যেমন—উপার্জন হালাল হওয়া, অন্তরে ইখলাস বা একাগ্রতা থাকা, কোনো পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া না করা এবং তাড়াহুড়ো বা অধৈর্য না হওয়া।

প্রধান সিজদার দোয়াসমূহ (আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ)

রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতের সিজদাতে যেসকল দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত দোয়া পাঠ করতেন, তার মধ্য থেকে প্রধান কয়েকটি নিচে উপস্থাপন করা হলো:

১. প্রথম তাসবিহ (সর্বাধিক প্রচলিত)

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى


উচ্চারণ: সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ: আমি আমার মহিমান্বিত সর্বোচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

হাদিসের সূত্র: হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সিজদায় বলতেন ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৭৯৫)। ফরজ ও নফল উভয় নামাজের প্রতি সিজদায় এই তাসবিহটি কমপক্ষে ৩ বার পাঠ করা সুন্নাত।

২. দ্বিতীয় দোয়া (তাসবিহ ও ক্ষমা প্রার্থনা)

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي


উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলী।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।

হাদিসের সূত্র: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রুকু ও সিজদায় এই দোয়াটি প্রচুর পরিমাণে পাঠ করতেন (সহীহ বুখারী, হাদিস ৮১৭)।

৩. তৃতীয় দোয়া (মহিমান্বিত আত্মনিবেদন)

اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّרَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ


উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া লাকা আসলামতু; সাজাদা ওয়াজহি লিল্লাজী খালাকাহু ওয়া সাওওয়ারাহু ওয়া শাক্কা সাম‘আহু ওয়া বাসারাহু; তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই সিজদা করেছি, আপনার প্রতিই ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল সিজদায় অবনত হয়েছে সেই সত্তার স্মরণে যিনি একে সৃষ্টি করেছেন, সুবিন্যস্ত আকৃতি দিয়েছেন এবং এর কান ও চোখ উন্মোচিত করেছেন। সৃষ্টিউত্তম আল্লাহ কতই না বরকতময়!।

হাদিসের সূত্র: আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নামাজের সিজদায় যেতেন তখন এই দোয়াটি পাঠ করতেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৯৪)।

৪. চতুর্থ দোয়া (ফেরেশতা ও রুহের রবের তাসবিহ)

سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ


উচ্চারণ: সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

অর্থ: তিনি অতি পবিত্র, সব ত্রুটি থেকে মুক্ত; ফেরেশতাকুল এবং জিবরাঈল (আ.)-এর প্রতিপালক।

হাদিসের সূত্র: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) রুকু ও সিজদায় এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ দোয়াটি পাঠ করতেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯১)।

৫. পঞ্চম দোয়া (আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ


উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিরিদ্বাকা মিন সাখাতিকা, ওয়া বিমু‘আফাতিকা মিন ‘উকূবাতিকা, ওয়া আ‘উযু বিকা মিনকা, লা উহসী ছানা‘আন ‘আলাইকা, আনতা কামা আছনাইতা ‘আলা নাফসিকা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির অসিলায় আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই, আপনার ক্ষমার অসিলায় আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি আপনার অবাধ্যতা থেকে বাঁচতে আপনারই নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনার প্রশংসা গুনে আমি শেষ করতে পারব না; আপনি ঠিক তেমনই, যেমনটি আপনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন।

হাদিসের সূত্র: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক রাতে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বিছানায় না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে সিজদারত অবস্থায় এই দোয়াটি পড়তে শোনেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯০)।

৬. ষষ্ঠ দোয়া (পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি)

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ


উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দান করুন, পরকালেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন।

হাদিসের সূত্র: এটি মূলত পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২০১-এর অংশ। তবে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুসারে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন এবং সিজদা কিংবা নামাজের শেষ বৈঠকেও এটি দোয়ার নিয়তে পড়া জায়েজ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৮৫৪, আল-অ্যালবানি কর্তৃক সহিহgraded)।

অন্যান্য সহীহ সংক্ষিপ্ত দোয়ার তালিকা

রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আরও কিছু সংক্ষিপ্ত সিজদার দোয়া ও জিকর নিচে উপস্থাপন করা হলো, যা সহজেই মুখস্থ করে সালাতে আমল করা যায়:

  • গুনাহ মাফের দোয়া:
    اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ
    আল্লাহুম্মাগফিরলী যামবী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আউওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু ওয়া আলানিয়াতাহু ওয়া সিররাহু। (অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করুন—তার ছোট ও বড়, পূর্বের ও পরের, প্রকাশ্য ও গোপন)। [সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৮০]
  • অন্তর হেদায়েতের দোয়া:
    رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً
    রাব্বানা লা তুযিগ কুলূবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ। (অর্থ: হে আমাদের রব! হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে সত্যচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন)। [সূরা আলে ইমরান, ৩:৮]
  • প্রশংসামূলক জিকর:
    سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
    সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি। (অর্থ: আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসাসহ)। [সহীহ বুখারী, হাদিস ৬৪০৫]
  • ক্ষমা ও দয়ার আরজি:
    رَبِّ اغْفِرْ لِي
    রাব্বিগফিরলী। (অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন)। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৮৭৪]

সিজদায় দোয়া পাঠের সঠিক পদ্ধতি ও নিয়মাবলী

নামাজে সিজদার সুন্নাতসমূহ ও আদব সঠিকভাবে প্রতিপালন করা অত্যন্ত জরুরি। সিজদা দেওয়ার সময় এবং দোয়া পড়ার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে:

  • শারীরিক স্থিরতা (তুমানিনাহ): সিজদায় গিয়ে শরীর পুরোপুরি স্থির হওয়ার পর তাসবিহ বা দোয়া পড়া শুরু করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে সিজদা দেওয়া বা ওঠার কারণে নামাজ ত্রুটিযুক্ত হতে পারে।
  • সঠিক অঙ্গবিন্যাস: সিজদার সময় সাতটি অঙ্গ মাটিতে ঠেকানো ফরজ—কপাল ও নাক (একত্রে একটি), দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলের ভেতরের অংশ। দুই পায়ের গোড়ালি একসাথে মিলিয়ে রাখা এবং আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখা সুন্নাত।
  • নফল ও ফরজ সালাতের পার্থক্য: ফরজ সালাতে সাধারণত সুন্নাত তাসবিহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা) ৩, ৫ বা ৭ বার বিজোড় সংখ্যায় পড়া উত্তম। তবে নফল, তাহাজ্জুদ বা একাকী সালাত আদায়ের সময় সিজদাকে দীর্ঘ করে অন্যান্য সহীহ মাসনুন দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
  • ভাষার ব্যবহার: নামাজের ভেতরে যেকোনো দোয়া অবশ্যই আরবি ভাষায় পাঠ করতে হবে। নিজের তৈরি করা বা অনূদিত বাংলা ভাষায় নামাজের ভেতরে দোয়া পাঠ করা হানাফী মাজহাবসহ জমহুর ওলামাদের মতে জায়েজ নয়। তবে কোনো ব্যক্তি আরবির অর্থ মনে মনে কল্পনা করতে পারেন।

সিজদার সময় সাধারণ কিছু ভুলত্রুটি ও সতর্কতা

নামাজ আদায়ের সময় অনেক মুসল্লিই সিজদার মধ্যে কিছু ভুলত্রুটি করে ফেলেন, যা থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক:

  • পা মাটি থেকে তুলে ফেলা: সিজদা অবস্থায় দুই পা বা যেকোনো এক পা পুরোপুরি মাটি থেকে শূন্যে তুলে রাখা। পুরো সিজদায় অন্তত এক মুহূর্তের জন্যও পায়ের আঙুল মাটিতে লেগে থাকা ওয়াজিব।
  • কনুই মাটিতে বিছিয়ে দেওয়া: সিজদা করার সময় পুরুষদের জন্য দুই কনুই কুকুরের মতো মাটিতে পেতে রাখা বা পাঁজরের সাথে সেঁটে রাখা সুন্নাত পরিপন্থী। কনুই মাটি থেকে উঁচুতে এবং পাঁজর থেকে দূরে রাখতে হবে (তবে জামাতে পাশে মুসল্লি থাকলে কষ্ট দেওয়া যাবে না)।
  • কুরআন তিলাওয়াতের নিয়তে পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদা ও রুকুতে কুরআন তিলাওয়াত করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। অতএব, কুরআনে বর্ণিত দোয়াসমূহ (যেমন: রাব্বানা আতিনা...) পড়ার সময় তিলাওয়াতের নিয়তে নয়, বরং একান্তই দোয়ার নিয়তে পড়তে হবে।
  • উচ্চস্বরে দোয়া পড়া: জামাতে সালাত আদায়ের সময় ইমামের পেছনে মুক্তাদিদের উচ্চস্বরে সিজদার দোয়া বা তাসবিহ পড়া অনুচিত, এতে পাশের মুসল্লির মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। সিজদার তাসবিহ ও দোয়া নীরবে বা মৃদু স্বরে পড়তে হবে।

উপসংহার

সালাতে সিজদার দোয়া ও তাসবিহ বান্দার আধ্যাত্মিক উন্নতির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সহীহ দোয়াগুলো মুখস্থ করে অর্থ বুঝে সালাতে প্রয়োগ করলে নামাজের খুশু-খুজু বা একাগ্রতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এটি আত্মিক প্রশান্তির একটি অনন্য মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাত তরিকা মোতাবেক বিশুদ্ধ উচ্চারণে সিজদার দোয়া ও তাসবিহসমূহ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

রেফারেন্স

কুরআন

হাদিস

  • সহীহ বুখারী, হাদিস ৮১৭ — রুকু ও সেজদায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দোয়া।
  • সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৯ (অধ্যায়: সালাত) — সিজদাবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার বিবরণ।
  • সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৭৯৫ (অধ্যায়: মুসাফিরদের সালাত) — সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা' পাঠের প্রমাণ।
  • সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০৯১ — রুকু ও সিজদায় 'সুব্বুহুন কুদ্দুসুন' পাঠের মাসয়ালা।
  • সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৯৪ — সিজদায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক আত্মসমর্পণের দোয়া।
  • সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৮৫৪ — সালাতে কুরআনিক দোয়া পাঠের বৈধতা।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

সিজদায় নিজের ভাষায় (যেমন বাংলায়) কি নিজের মতো দোয়া করা যাবে?

নামাজের ভেতরে ফরজ, ওয়াজিব বা নফল যেকোনো সিজদাতেই হোক না কেন, মুখে উচ্চারণ করে বাংলা বা অন্য কোনো আঞ্চলিক ভাষায় দোয়া করা জমহুর ওলামা ও হানাফী ফিকহ মতে জায়েজ নয়; এতে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। তবে সালাতের বাইরে নফল সিজদা (যেমন শুকরিয়ার সিজদা বা সালাত বহির্ভূত সাধারণ সিজদা)-এ নিজের ভাষায় দোয়া করা নিয়ে ওলামাদের অবকাশ রয়েছে। নামাজের ভেতরে কেবল রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আরবি দোয়াই পড়তে হবে।

ফরজ নামাজের প্রতি সিজদাতেই কি ভিন্ন ভিন্ন দোয়া পড়া সুন্নাত?

ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে প্রতি সিজদায় মৌলিক তাসবিহ 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা' কমপক্ষে ৩ বার করে পাঠ করাই সুন্নাত এবং এটিই নিরাপদ। তবে কেউ যদি একাকী ফরজ নামাজ পড়ে এবং সিজদা দীর্ঘ করতে চায়, তবে তাসবিহ পাঠের পর অন্যান্য সহীহ মাসনুন দোয়া পড়তে পারে। তবে জামাতের ক্ষেত্রে ইমামের জন্য মুক্তাদিদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সিজদা অতিরিক্ত দীর্ঘ না করা সুন্নাত।

কুরআনের আয়াত কি সিজদার মধ্যে দোয়া হিসেবে পড়া বৈধ?

রাসুলুল্লাহ (সা.) রুকু ও সিজদায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন। তবে কুরআনের যেসব আয়াতে দোয়ার শব্দ রয়েছে (যেমন: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া...), সেগুলো যদি কেউ তিলাওয়াতের নিয়তে না পড়ে বরং আল্লাহর কাছে চাওয়ার বা দোয়ার নিয়তে পড়ে, তবে তা অধিকাংশ ওলামাদের মতে সিজদাতেও পড়া জায়েজ।

ভুলবশত সিজদায় রুকুর দোয়া পড়ে ফেললে কী করণীয়?

যদি কেউ সিজদায় গিয়ে ভুল করে রুকুর তাসবিহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম) মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে ফেলে, তবে মনে পড়ার সাথে সাথেই তা সংশোধন করে সিজদার তাসবিহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা) পড়া শুরু করবে। যদি সিজদার ওয়াজিব সময় বা রুকন সঠিক তাসবিহ বা স্থিরতার সাথে আদায় হয়ে যায়, তবে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। অতিরিক্ত বিলম্ব বা বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে নামাজের শেষে সাহু সেজদা দেওয়া লাগতে পারে।
আব্দুর রহমান

আব্দুর রহমান

এসইও স্পেশালিস্ট ও কনটেন্ট রাইটার

আব্দুর রহমান একজন এসইও স্পেশালিস্ট এবং ইসলামিক কনটেন্ট রাইটার। তিনি ফিকহ, দৈনন্দিন ইবাদত, নামাজ, পারিবারিক দিকনির্দেশনা এবং বাস্তব মুসলিম জীবনধারা নিয়ে সহজ প্রবন্ধ লেখেন, যাতে পাঠকরা প্রতিদিনের জীবনে ইসলাম অনুসরণ করতে পারেন।

আপডেট থাকুন

আমাদের সর্বশেষ আপডেট ও রিলিজ মিস করবেন না