উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা মুক্তির দোয়া: নবীজি (সা.)-এর শেখানো আমল

আব্দুর রহমান
আব্দুর রহমান
১২ জুল, ২০২৬মানসিক স্বাস্থ্য

মানবজীবনে সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনা পর্যায়ক্রমিক বিষয়। মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতি আসে যখন মানুষ তীব্র মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগে। ইসলামে এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং তা থেকে উত্তরণের জন্য আত্মিক ও ব্যবহারিক উভয় মাধ্যমের সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। মানসিক প্রশান্তির জন্য দোয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং গ্রহণ করা ইসলামেরই শিক্ষা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এমন কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, যা নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার হৃদয়কে শান্ত করেন এবং দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে একটি বিশেষ দোয়া খুব বেশি পাঠ করতেন।

উদ্বেগ ও দুঃখ দূর করার বিখ্যাত দোয়া

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খিদমত করতাম। যখনই তিনি কোনো স্থানে অবতরণ করতেন, তখনই তাকে এই দোয়াটি খুব বেশি পড়তে শুনতাম। দোয়াটি নিচে দেওয়া হলো:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ REG_EXP_SPLIT وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দলাইদ দইনি ওয়া গলাবাতির রিজাল।

অনুবাদ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের দমন-পীড়ন থেকে।

দোয়ার গভীর তাৎপর্য ও শর্তাবলী

এই দোয়ায় আটটি অত্যন্ত ক্ষতিকর বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। 'হাম' বলতে ভবিষ্যতের এমন চিন্তা যা মানুষকে উদ্বিগ্ন করে এবং 'হাজান' বলতে অতীতের কোনো ঘটনার দুঃখ বা বিষাদকে বোঝায়। এ ছাড়া অলসতা ও অক্ষমতা মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন উন্নতির প্রধান অন্তরায়।

তবে মনে রাখতে হবে, দোয়া কবুলের জন্য কিছু মৌলিক শর্ত রয়েছে। প্রথমত, হালাল উপার্জন নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দোয়ার ফল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয়, যতক্ষণ না সে পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া করে এবং যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে।

দোয়াটি পড়ার নিয়ম ও আদব

এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল এবং সন্ধ্যায় নিয়মিত পাঠ করতেন। তাই প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পর যে সকাল-সন্ধ্যার জিকির রয়েছে, তার সঙ্গে এটি ৩ বার বা তার বেশি পাঠ করা উত্তম। দোয়া করার সময় মনকে উপস্থিত রাখা, কিবলামুখী হওয়া এবং অত্যন্ত আকুতি নিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা দোয়ার অন্যতম আদব।

তথ্যসূত্র

References

কুরআন

  • সূরা নূহ, ৭১:১০ — আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও ইস্তিগফারের নির্দেশ যা দুশ্চিন্তা মুক্তির অন্যতম মাধ্যম।

হাদিস

এই দোয়াটি দিনে কতবার পড়া উচিত?

হাদিস অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত এই দোয়াটি পড়তেন। নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বাধ্যতামূলক না হলেও সকাল ও সন্ধ্যায় অন্তত ৩ বার করে পূর্ণ মনোযোগ ও অর্থ বুঝে পড়া উত্তম।

মানসিক রোগের চিকিৎসায় কি শুধু দোয়াই যথেষ্ট?

ইসলাম আত্মিক ও শারীরিক উভয় চিকিৎসার নির্দেশ দেয়। তীব্র উদ্বেগ বা বিষণ্নতার ক্ষেত্রে দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার পাশাপাশি পেশাদার মানসিক চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
আব্দুর রহমান

আব্দুর রহমান

এসইও স্পেশালিস্ট ও কনটেন্ট রাইটার

আব্দুর রহমান একজন এসইও স্পেশালিস্ট এবং ইসলামিক কনটেন্ট রাইটার। তিনি ফিকহ, দৈনন্দিন ইবাদত, নামাজ, পারিবারিক দিকনির্দেশনা এবং বাস্তব মুসলিম জীবনধারা নিয়ে সহজ প্রবন্ধ লেখেন, যাতে পাঠকরা প্রতিদিনের জীবনে ইসলাম অনুসরণ করতে পারেন।

আপডেট থাকুন

আমাদের সর্বশেষ আপডেট ও রিলিজ মিস করবেন না