ইসলামিক বাক্য গাইড

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম

এই সুন্দর ইসলামিক বাক্যের অর্থ, উচ্চারণ এবং ব্যবহার।

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (A'udhu billahi minash shaytanir rajim)

অর্থ
আমি বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম এর অর্থ

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম এর অর্থ হলো, আমি বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আরবিতে এটি লেখা হয় أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ। এই ছোট্ট বাক্যটি শয়তানের কুমন্ত্রণা, খারাপ চিন্তা, রাগ, অহংকার, সন্দেহ এবং সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন সবকিছু থেকে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চাওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। মুসলমানরা এটি পাঠ করে নিজেদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একমাত্র আল্লাহই প্রকৃত রক্ষাকারী। এই বাক্যটিকে ইসলামি পরিভাষায় ইস্তিয়াজা বা তাআউয বলা হয়, যার অর্থ হলো আশ্রয় বা সুরক্ষা প্রার্থনা করা।

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম এর সঠিক উচ্চারণ

সহজভাবে এর উচ্চারণ হলো আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। বাক্যটিকে ধীরে ধীরে ভেঙে এভাবে পড়া যায়: 1. আউযু যার অর্থ আমি আশ্রয় চাই। 2. বিল্লাহি যার অর্থ আল্লাহর কাছে। 3. মিনাশ শাইতান যার অর্থ শয়তান থেকে। 4. আর রাজিম যার অর্থ বিতারিত বা অভিশপ্ত। যারা আরবি জানেন না, তাদের জন্য মূল বিষয় হলো আন্তরিকতা ও সম্মানের সাথে এটি পাঠ করা। শাইতান উচ্চারণের সময় তালব্য শ এবং আল্লাহ উচ্চারণের সময় একটু টেনে পড়ার চেষ্টা করা উচিত।

কখন আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পড়তে হয়?

যখন কোনো মুসলিম শয়তানের ধোঁকা ও ক্ষতিকর চিন্তা থেকে আল্লাহর সুরক্ষা চান, তখন তিনি আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পাঠ করেন। বিশেষ করে কোরআন তেলাওয়াত শুরু করার আগে এটি পড়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ আল্লাহ তাআলা তেলাওয়াতের পূর্বে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। এছাড়া যখন কেউ রেগে যান, ভয় পান, খারাপ চিন্তায় পড়েন বা নামাজে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন, তখন এটি পড়া সুন্নত। দৈনন্দিন জীবনে এর সাধারণ ব্যবহারগুলো হলো: 1. কোরআন পড়ার আগে: তেলাওয়াত শুরুর ঠিক আগে এটি পড়া উচিত। 2. রেগে গেলে: নিজের রাগ কমাতে এবং শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচতে এটি পড়ুন। 3. খারাপ চিন্তা আসলে: এটি পাঠ করে নিজের অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনুন। 4. আধ্যাত্মিক দুর্বলতা অনুভব করলে: শয়তান যে একটি প্রকাশ্য শত্রু এবং আল্লাহই যে একমাত্র রক্ষাকারী, তা স্মরণ করতে এটি পড়ুন। 5. ইবাদতের সময়: নামাজ বা জিকিরে মনোযোগ নষ্ট হলে মনে মনে এটি পড়ে আবার মনোযোগ দিন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ ধৈর্য হারিয়ে ফেলার উপক্রম হন, তবে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পড়ে একটি দীর্ঘশ্বাস নিলে খারাপ কিছু বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম এর ফজিলত

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম পড়ার নির্দেশ সরাসরি পবিত্র কোরআনে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, অতএব যখন তুমি কোরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। তথ্যসূত্র: সূরা আন নাহল, আয়াত ৯৮। এই আয়াত থেকে আমরা শিখতে পারি যে, কোরআন তেলাওয়াতের আগে শয়তান থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত। কোরআন মুমিনদের শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা পাওয়ার শিক্ষাও দেয়। আল্লাহ বলেন, হে আমার পালনকর্তা, আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং হে আমার পালনকর্তা, আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তথ্যসূত্র: সূরা মুমিনুন, আয়াত ৯৭ থেকে ৯৮। একটি সহিহ হাদিসে এসেছে, নবী মুহাম্মদ সা. এর সামনে দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদের মধ্যে একজন খুব রেগে গেল। তখন রাসূল সা. বললেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, যদি এই লোকটি তা পড়ে তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে। আর তা হলো আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি ৬১১৫ এবং সহিহ মুসলিম ২৬১০। এটি প্রমাণ করে যে, এই বাক্যটি শুধু কোরআন তেলাওয়াতের জন্যই নয়, বরং অতিরিক্ত রাগ বা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতেও এটি একটি পরীক্ষিত সুন্নাহ আমল।

সম্পর্কিত শব্দ ও অন্যান্য ব্যবহার

আরবি শব্দগুলো বাংলায় ঠিকমতো উচ্চারণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বলে মানুষ একে বিভিন্ন বানানে লিখে থাকে। যেমন আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম, আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বা আউযুবিল্লাহ। তবে সবগুলোর দ্বারাই একই আরবি বাক্যকে বোঝানো হয়। এর সাথে সম্পর্কিত একটি শব্দ হলো ইস্তিয়াজা, যার অর্থ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং আরেকটি শব্দ হলো তাআউয, যা এই বাক্যটি পড়ার আমলকে বোঝায়। আরেকটি পরিচিত বাক্য হলো বিসমিল্লাহ, যার অর্থ আল্লাহর নামে শুরু করছি। অনেক মুসলিম কোরআন তেলাওয়াতের শুরুতে আউযুবিল্লাহ পড়েন এবং সূরা তওবা ছাড়া অন্য যেকোনো সূরা শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ পড়ে থাকেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা